ফেসবুক ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট কি? আপনি শিকার হলে কি করবেন?

ডিজিটাল এই যুগের বড় একটি সমস্যা হচ্ছে, বিখ্যাত কিংবা সমাজে পরিচিত বা সুনাম রয়েছে, এমন অথবা কোন মেয়ের নামে ফেসবুকে ভূয়া অ্যাকাউন্ট খুলে প্রতারণা করে থাকে। অনেকেই এই অভিযোগ নিয়ে আইন শৃঙ্খলার বাহীনির দ্বারস্থ হয়ে থাকেন। কিন্তু আপনার নামে কেউ ভূয়া অ্যাকাউন্ট খুলে অপরাধ করে, আর সেই অপরাধ সমাজে ছড়িয়ে পড়ে তখন কিন্তু সামাজিকভাবে আপনি নিজেই হেয় হয়ে থাকবেন। তাই “ফেসবুক ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট কি? আপনি শিকার হলে কি করবেন?” এটি বর্তমান সময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা।

ফেসবুক ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট কি? আপনি শিকার হলে কি করবেন?

ভূয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট দিয়ে শুধু যে কোন ব্যাক্তি প্রতারিত হতে পারে তা নয়, কোন প্রতিষ্ঠানও প্রতারিত হতে পারেন। কোন একজন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান সেজে অন্যকে ধোকা দেয় বা প্রতারণা করে অন্য কেউ।

 

ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট কি?

একই নামে অনেক ব্যক্তি থাকতে পারে, এটা একটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু একই মত চেহেরা অর্থাৎ ব্যক্তির বায়োমেট্রিক তথ্যগুলো কোনভাবে এক হওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু ফেসবুকে দেখা যায় একই মত প্রোফাই ছবি, নাম, পোস্ট কিংবা বন্ধু লিস্ট হুবহু একই রয়েছে অগণিত প্রোফাইলে।

ফেসবুকে এই রকম ভূয়া অ্যাকাউন্টগুলোকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি বলছে “ইমপাসোনেটিং” বা ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট।

 

ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট দিয়ে কিভাবে প্রতারিত হয়ে থাকে? 

ছদ্মবেশী ফেসবুক একাউন্টগুলো বিভিন্ন ব্যাক্তি কিংবা কোন প্রতিষ্ঠানকে টার্গেট করে সামাজিকভাবে হেয় বা সামাজিক ক্ষতি সাধন করে থাকে। পত্র-পত্রিকার বিভিন্ন প্রতিবেদনে এমন খবর পাওয়া যায় প্রতিনিয়ত।

যেমন ধরেন, হঠাৎ আপনার বাড়িতে এক ব্যাক্তি এসে প্রেমিকার নাম ধরে ডাকতেছে। এক্ষেত্রে যাকে প্রেমিকা বলছে সে হয়তো জানেই না, উনি কে? বাড়িতে না ঘটলেও অন্য কোথাও হয়তো এমন ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এক্ষেত্রে হয়তো প্রেম না করেও কারো সম্মান সামাজিক ভাবে নষ্ট হতে পারে।

কারণ তার ছবি ও নাম ব্যবহার করে অন্য কেউ হয়তো প্রেম করে তাকে এই বিপদে ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভুগি ব্যক্তিকে সরাসরি থানায় গিয়ে অভিযোগ করতে হবে।

কোন সুনামধারী এবং খুবই পরিচিত ব্যক্তির সম্মান সামাজিক ভাবে নষ্ট করার জন্য কেউ প্রতারণা করতে পারে। এমন খবরও বিভিন্ন মিডিয়ার মাধ্যমে পাওয়া যায়।

মিডিয়া প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, পুলিশ দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফেসবুকের ভুয়া একাউন্ট থেকে সাধারণত যৌন হয়রানি, অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হয়ে থাকে বেশি।

যেমন কোন প্রতিষ্ঠানের নামে ভূয়া পেজ খুলে চাকরির দেওয়ার নাম করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বেশ পুরানো হয়ে গেছে।

ফেসবুকের মাধ্যমে যে কোন ধরণের প্রতারণা হোক না কেন তা পুলিশকে জানালে পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এধরণে প্রতারণা বন্ধ করার সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে।

তবে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার আগে মানুষের বড় ক্ষতি হতে পারে। কেননা ফেসবুকের প্রতারণা, আগে থেকে জানার কোন উপায় নেই। অর্থাৎ আগে থেকে কেউ জানতে পারবে না যে, তাকে কেউ প্রতারিত করবে বা ফেসবুকের মাধ্যমে সামাজিকভাবে সে হেয় প্রতিপন্ন হবে।


আরো জানুন:

আপনার ফেসবুক প্রোফাইলে গোপনে কে কে প্রবেশ করছে কিভাবে জানবেন?

ফেসবুক ইন্সট্যান্ট আর্টিকেল কি? কিভাবে এখান থেকে আয় হয়?

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? বাংলাদেশে এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন?

ফেসবুক ভিডিও ডাউনলোড করবেন কিভাবে?

 

কিভাবে সতর্ক থাকবেন?

আগেই আলোচনা করা হয়েছে যে, কোনভাবেই আপনি প্রতারণা কিংবা ক্ষতি হওয়ার বিষয় সম্পর্কে আগে জানতে পারবেন না। তাই ডিজিটাল প্লাটফরমে আগে থেকে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে।

আপনার ছবি, নাম কিংবা প্রতিষ্ঠানের নামে কেউ আইডি খুলছে কিনা নজর রাখা এবং ব্যবহারকারীকেও সচেতন হতে হবে আইডি আসল কিনা? এজন্য ব্যক্তির সাথে আলোচনা করা যেতে পারে।

কিছু দিন পর পর আপনার নাম দিয়ে সার্চ করে দেখুন, আপনার ছবি ব্যবহার করে কেউ আইডি খুলছে কি না? যদি খুলে থাকে তাহলে নজরে রাখুন।

আপনার ওয়ালে থাকা সকল বুন্ধুদের সাথে বিষয়টি শেয়ার করে দিন। অর্থাৎ আপনার ফেসবুক বন্ধুদেরকেও সর্তক থাকতে বলেন এবং আপনার ছবি যে ব্যবহার করছে তার ব্যপারে নজর রাখতে এবং রিপোর্ট করতে বলুন।

 

প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা কিংবা প্রতারিত হলে কি করবেন?

আপনি যদি দেখেন যে, আপনার ছবি ও নাম ব্যবহার করে কেউ আইডি খুলছে, তাহলে থানায় গিয়ে জিডি করতে হবে।

গুরুতর কিংবা আশঙ্কিত হলে মামলাও করতে পারেন। আর প্রতারিত হয়ে থাকলে অবশ্যই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এছাড়াও কোন ব্যক্তির কাছ থেকে অনিয়ম, বার্তা কিংবা হুমকি পেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করুন।

নিশ্চিত না হওয়া পর্যান্ত তাকে জিজ্ঞাসা করতে পারেন, আপনার মনে থাকা সকল প্রশ্ন।

 

ভূয়া অ্যাকাউন্ট গুলোর বিরুদ্ধে ফেসবুক কি ব্যবস্থা গ্রহণ করে?

ইমপার্সনেটেড অ্যাকাউন্ট গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ফেসবুকের নিজস্ব ব্যবস্থা রয়েছে। এটি ব্যবহার করে আপনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

এর জন্য ফেসবুক প্রোফাইলের সেটিংসে গিয়ে হেল্প অ্যান্ড সাপোর্ট অপশনে যান। এখানে হেল্প সেন্টার ক্লিক করলে কয়েকটি অপশন পাবেন।

এর মধ্যে একটি অপশন হলো “পলিসিস অ্যান্ড রিপোটিং”। এই অপশনে ক্লিক করলে পাবেন “হ্যাকড অ্যান্ড ফেইক অ্যাকাউন্ট” বিভাগ।

এখানে রয়েছে ইমপার্সনেশন অ্যাকাউন্টস, এখানে গেলে আপনি বিস্তারিত জানতে পারবেন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বা মেসেঞ্জার কোন ছদ্মবেশীর দখলে চলে গেলে কি করতে হবে।

ফেসবুকের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করুন।

 

ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট দেখলে রিপোর্ট করবেন কিভাবে? 

ফেসবুকে যদি ভূয়া একাউন্ট চোখে পড়ে তাহলে সাথে সাথে রিপোর্ট করা প্রয়োজন। ফলে ভূয়া একাউন্টগুলো আর মাথাচারা দিয়ে উঠতে পারবে না।

আপনার নামে কিংবা আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে যদি ভূয়া একাউন্ট থাকে তাহলে সেটি খুজে বের করুন।

এরপর সেটি প্রোফাইল ওপেন করুন। কভার ফটোর উপরে তিনটি (…) চিহ্ন রয়েছে সেখানে ক্লিক করুন।

পেজ বা প্রোফাইল রিপোর্ট করার নির্দেশনা মেসেজ ভেসে উঠবে। নির্দশনা অনুযায়ী রিপোর্ট করুন।

ফেসবুক কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট করা পেজ বা প্রোফাইলটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে।


Home BD info এর অন্যান্য ইনফো

ঘরে বসে জমির যে কোন খতিয়ান পাবেন কিভাবে?

ব্যাংকে না গিয়ে ঘরে বসে সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট খুলবেন কিভাবে?

ঘরে বসে কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করবেন কিভাবে?

অনলাইনে ভোটার হবেন কিভাবে? ইন্টরনেট থেকে NID ডাউনলোড করবেন কিভাবে?

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.