জমির খতিয়ান কত প্রকার? ও তাদের সংজ্ঞা কি? ভূমি জরিপ এবং খতিয়ান কি?

2

ভূমি বা জমি কার না প্রয়োজন। সবাই চায় কমপক্ষে নিজের এক টুকরা জমিতে বসবাস করবে। সমাজে যারা ধনী লোক তাদের কথা ভিন্ন। তারা অনেক ধন সম্পদের মালিক হওয়ার পরও আরো সম্পদ কিভাবে বাড়ানো যায় অর্থাৎ কিভাবে আরো জমির মালিক হওয়া যায় সেই চিন্তায় মগ্ন।যাই হোক জমি-জমা থাকলে তার মালিকানা প্রমাণের জন্য ভূমি বা জমির কাগজ সঠিক থাকা চাই।আজকের ইনফোতে জমির খতিয়ান কত প্রকার? ও তাদের সংজ্ঞা কি? ভূমি জরিপ এবং খতিয়ান কি? অর্থাৎ ভূমি জরিপ ও খতিয়ান কি সেই বিষয়ে আলোচনা করা হলো।

Learn the types of land ledgers and their definitions: What are land surveys and ledgers?

ভূমি জরিপ এবং খতিয়ান কি?


ভূমি জরিপ এবং খতিয়ান ওতপ্রতভাবে জড়িত। ভূমি জরিপ করার পর যে কাগজে রেকর্ড ভূমি মালিকদের প্রদান করা হয় তাকে খতিয়ান বলে। ভূমি জরিপের সংজ্ঞা এভাবে বলা হয়- নির্দিষ্ট কোন এলাকার প্রত্যেক ভূখন্ড সরে জমিন পরিমাপ করে নির্দিষ্ট স্কেল দিয়ে এর অবস্থান এবং আয়তন সম্বলিত একটি মৌজা নকশা তৈরি করে প্রত্যেক ভূখন্ডের মালিক, দখলদার, জমির পরিমান, মালিকানার অংশ, জমির প্রকার বা শ্রেণী ইত্যাদি সম্বলিত ভূমি রেকর্ড বা খতিয়ান প্রস্তুত করাই হচ্ছে ভূমি জরিপ।

আরো জানুন:

দলিল রেজিস্ট্রার করার আগে ও পরে করণীয় কি?

বিভিন্ন প্রকার দলিল ও তাদের সংজ্ঞা এবং দলিল করার নিয়ম


এক কথায়, মৌজা নকশা তৈরি এবং স্বত্বলিপি (RoR) প্রনয়ন কাজকে ভূমি জরিপ বলা হয়। বাংলাদেশে এ যাবৎকাল তিনটি জরিপ সংঘটিত হয়। জরিপগুলো হচ্ছে- সিএস জরিপ, এসএ জরিপ, আরএস জরিপ। আরএস জরিপের অন্তর্ভুক্ত বি, এস জরিপ; মহানগর জরিপ বা সিটি জরিপ যা এখনো চলমান রয়েছে।  

       

খতিয়ান কি?

ভূমি জরিপ হওয়ার পর জমির মালিকানা প্রমাণের জন্য ভূমি মালিকদের যে রেকর্ড দলিল প্রদান করা হয় তাকে জমির খতিয়ান বা পর্চা বলা হয়।

 

মাঠ পর্চা কি?

ভূমি জরিপকালে ভূমি মালিকদের খসরা খতিয়ান প্রদান করা হয়। চুড়ান্ত খতিয়ান প্রকাশিত হওয়ার আগে খসরা খতিয়ানে কোন ভূল ত্রুটি থাকলে তা সংশোধন করে নেওয়া যায়। এই খসরা খতিয়ানকে মাঠ পর্চা বলা হয়।

আরো জানুন:

যে কোন খতিয়ান অনলাইন থেকে ডাউনলোড করার ওয়েবসাইট

অনলাইনে জমির খাজনা পরিশোধ করার নিয়ম

অনলাইনে জমি খারিজ করার নিয়ম

খতিয়ানে একধিক অংশ এর বিভিন্ন ধরণের হিসাব


খতিয়ানের প্রকারভেদ

ভূমি জরিপগুলোর সাথে খতিয়ানের সম্পর্ক। বাংলাদেশে যতটি জরিপ সংঘটিত হয়েছে ততটি খতিয়ানও তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে এ যাবৎ তিনটি জরিপ অনুষ্ঠিত হয়। তাই খতিয়ানও তিন প্রকার।যথাঃ

১) সি. এস জরিপ (Cadestral survey) বা সি. এস. খতিয়ান

২) এস. এ. জরিপ বা এস. এ. খতিয়ান

৩) আর. এস. জরিপ বা আর. এস. খতিয়ান

 নিচে খতিয়ান বা জরিপের বিস্তারিত দেওয়া হলো।

 

সি. এস জরিপ (Cadestral survey) বা সি. এস. খতিয়ান

সি. এস. জরিপ হচ্ছে ব্রিটিশ সরকার ১৮৮৮ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত বাংলায় সর্বপ্রথম যে জরিপ পরিচালনা করেন তাকে সি. এস. জরিপ বলা হয়। এই জরিপের ফলে জমির যে রেকর্ড তৈরি করা হয় তাকে সি.এস. খতিয়ান বলে।

সি.এস. জরিপ শুরু হয় কক্সবাজারের রামু থানা থেকে এবং শেষ হয় দিনাজপুরে। এই জরিপ প্রথম হলেও বিচার শালিস কিংবা আদালতে নির্ভুল হিসাবে বিবেচনা করা হয়। এর জরিপের মাধ্যমে তৈরি নকশাকে সিএস নকশা এবং পর্চাকে সিএস খতিয়ান বলা হয়। মামলা-মোকদ্দমায় কিংবা বিবাদ মিমাংশার ক্ষেত্রে এই খতিয়ানকে ভিত্তি হিসাবে ধরা হয়ে থাকে।

 

এস. এ. জরিপ বা এস.এ. খতিয়ান

ব্রিটিশ আমলে জমিদারী প্রথা চালু হয়।ব্রিটিশ সরকার চলে যাওয়ার পর রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর মাধ্যমে জমিদারী প্রথা উচ্ছেদ করা হয়। ফলে জমিদারদের নিকট থেকে অধিগ্রহনকৃত জমির হিসাব নির্নয়, বিলুপ্তি জমিদারীর ক্ষতিপূরন প্রদান, জমির দখলদার বায়তদের জমির মালিক হিসাবে সরকারের অধীনে আনয়ন ও মালিকানার স্বীকৃতি প্রদান প্রভৃতি কারণে ভূমি জরিপ প্রয়োজন হয়।

সি.এস. রেকর্ড সংশোধন করার লক্ষে জমিদারদের নিকট থেকে কাগজপত্র সংগ্রহের পর যে জরিপ হয় তাকে এস. এ জরিপ বলে। এই জরিপে সরকারি আমিনগণ সরেজমিনে না গিয়ে টেবিলে বসে সি. এস. জরিপ সংশোধন করেন। তাই এই জরিপকে টেবিল জরিপও বলা হয়।

১৯৫৬ থেকে ১৯৬২ এর মধ্যে এই জরিপ পরিচালনা করা হয়। সংক্ষিপ্ত সময়ে জমিদারদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই জরিপ করে খতিয়ান প্রস্তত করা হয় বলে এতে প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হয়। এর খতিয়ান বাষষ্ট্রি খতিয়ান বা এস এ খতিয়ান বলে বিভিন্ন অঞ্চলে পরিচিতি লাভ করে।

 

আর. এস. জরিপ বা আর. এস. খতিয়ান

এস. এ. জরিপের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত খতিয়ানে প্রচুর ভুল-ভ্রান্তি পরিলক্ষিত হওয়ায় তা সংশোধনের লক্ষে গঠিত কমিটি সরে জমিন ঘুরে একটি জরিপ পরিচালনার সুপারিশ করে। তৎকালিন সরকার ১৯৫৬ সাল থেকে যে সংশোধনী জরিপ পরিচালনা করে, তাকে আর. এস. জরিপ বলে। আর. এস. জরিপের খতিয়ানকে আর.এস খতিয়ান বলা হয়।

ইতিমধ্যেই দেশের অধিকাংশ এলাকায় এ জরিপ শেষ হয়েছে এবং চূড়ান্ত খতিয়ানও প্রকাশিত হয়েছে। তবে কিছু এলাকায় এখনো এ জরিপ চলমান রয়েছে। মনে রাখবেন, বি.এস. জরিপ কিংবা মহানগর জরিপ মূলত আর. এস. জরিপের অন্তর্ভুক্ত।

নামজারি খতিয়ান কি?

পূর্বের কোন জমির মালিকের খতিয়ান থেকে তার নাম কর্তন করে নতুন কেউ জমির মালিক হলে তার নামে নতুন যে খতিয়ান খোলা হয়, তাকে নামজারি খতিয়ান বলে।

যেমন- আপনি যদি করিমের জমি ক্রয় করেন, তাহলে জমির খতিয়ান করিমের নামে থাকবে, সেই খতিয়ান যাচাই করে আপনি জমি ক্রয় করবেন।

ক্রয় করা হলে আপনার নামে নতুন যে, খতিয়ান করবেন, তাই মূলত নামজারি বা মিউটেশন খতিয়ান।

 

শেষকথাঃ

জমি ক্রয়-বিক্রয় করার ক্ষেত্রে জমির খতিয়ান সম্পর্কে ভাল ধারণা থাকা আবশ্যক। কেননা অনেকে জমি ক্রয় করার পর অনেক হয়রানির স্বীকার হয়ে থাকেন। এমনকি অনেকে ক্রয়কৃত জমি দখল বুঝে পান না। আশাকরি এই ইনফো থেকে আপনি জমির খতিয়ান সম্পর্কে যথাযথ ধারণা পাবেন। আপনার কাছে এই ইনফোটি প্রয়োজনীয় মনে হলে নিজের ওয়ালে শেয়ার করে রেখে দিন।যতে প্রয়োজনের সময় নিজের ওয়াল থেকে সহজেই খুজে পান।


Home BD info এর অন্যান্য ইনফো জানুন:

বিভিন্ন আকৃতির জমি পরিমাপ করার সুত্র ও পদ্ধতি

অনলাইনে ভূমি মামলার শুনানিতে কিভানে যোগ দিবেন?

অনলাইনে ভূমি তথ্য সেবা কিভাবে নিবেন?

ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সিস্টেম কি?

জমি পরিমাপ করার বিভিন্ন এককের তুলনা

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

2 মন্তব্যসমূহ
  1. একই জমির একাধিক খতিয়ান হতে পারে কি?

    উত্তরমুছুন
    উত্তরগুলি
    1. জী, এক দাগে বিভিন্ন খতিয়ান হতে পারে। সাধারণত এক দাগের জমিতে যখন যৌত মালিক থাকে তখন বিভিন্ন মালিকের নামে আলাদা খতিয়ান হতে পারে।

      মুছুন
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !