ভূমি তথ্য ব্যাংক কি? কিভাবে এটি আপনার কাজে লাগবে বা কাজে লাগাবেন কিভাবে?

0

বহু আগে থেকেই ভূমি অফিসে হয়রানি, অনিয়ম, কোন সেবা পেতে অনেক সময়, দুর্নীতি ছাড়াও দীর্ঘসূত্রিতা চলে আসছে। কিছু অফিসে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রুপ লাভ করেছে। দেখা গেছে দলিল নিবন্ধন খরচের দুর্নীতি হয়েছে ১০০০ টাকা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা। অল্প কিছু দিন আগে আমি একটি জমির খতিয়ান উঠানোর জন্য সেটেলমেন্ট অফিসে যাই। কর্মরত পেশকারকে বললে তিনি একজন ব্যক্তিকে দেখিয়ে দিলেন। তার কাছে গেলে তিনি খতিয়ানের জন্য পেমেন্ট দিতে বলেন। সরকারি ভাবে একটি খতিয়ানের মূল্য ১০০/- (একশত) টাকা। আর এখানে ৫০০ টাকা দিতে হবে। এমন পরিস্থিতি আপনার হলে আজকের ইনফো “ভূমি তথ্য ব্যাংক কি? কিভাবে এটি আপনার কাজে লাগবে বা কাজে লাগাবেন কিভাবে?” আপনার জন্য।

ভূমি তথ্য ব্যাংক কি? কিভাবে এটি আপনার কাজে লাগবে বা কাজে লাগাবেন কিভাবে?
 

বেশিরভাগ লোকজন হয়রানির শিকার হয় সঠিক তথ্য না জানার জন্য। যেমন- আপনি যদি খতিয়ান উঠানোর সঠিক তথ্য না জানেন তাহলে সহজেই প্রতারিত হতে পারেন। দালাল আপনার এই না জানা সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিবে।

ভূমি অফিসগুলোর বারান্দায় দালালদের আনাগোনা দেখা যায় বহুকাল থেকেই। বর্তমানে ভূমি মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ”ভূমি সেবা” অনলাইনে ঘরে বসে গ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে। ফলে হয়রানি কিংবা ভোগান্তি ছাড়াই ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করতে পারেন। যেমন-

 

ভূমি তথ্য ব্যাংক কি?

ভূমি তথ্য ব্যাংক হচ্ছে বাংলাদেশে জমি বা জায়গা সংক্রান্ত সমস্যার জটিলতা অবসান ঘটাতে সব ভূমি মালিকের তথ্য নিয়ে ভূমি তথ্য ব্যাংক চালু হয়েছে।

এই ব্যাংকে দেশের সকল ভূমি মালিকদের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ফলে জমি নিয়ে জালিয়াতি, দুর্নীতি কিংবা বিভিন্ন রকম হয়রানির মত অপকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে। কেননা এই ব্যাংক থেকে যে কেউ ভূমি তথ্য জেনে নিতে পারবে। ফলে জালিয়াতির কোন সুযোগ থাকবে না।

যে কোন নাগরিক দেশের যে কোন স্থান থেকে তার জমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই বা সংগ্রহ করতে পারবে। আপনি এখন ভূমি অফিসে না গিয়েও ভূমি সংক্রান্ত সকল সেবা অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই পেতে পারেন।


ভূমি তথ্য ব্যাংক আপনার কি কাজে লাগবে?

আপনার যদি এক খন্ড জমি থাকে তাহলে আপনার জানা আছে ভূমি অফিসে হয়রানি, অনিয়ম ও দালালদের দুর্নীতি এবং সেবা গ্রহণে সময় ক্ষেপন ইত্যাদি।

এসব হয়রানি কমাতে এবং দ্রুত গ্রাহক সেবা দিতে ভূমি তথ্য ব্যাংক চালু করা হয়েছে। এসব সেবা দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে গ্রহণ করা যাবে।

ভূমি তথ্য ব্যাংক বা তথ্য ভান্ডারে সরকারি জমির তথ্য, খস জমি, অর্পিত সম্পত্তি, পরিত্যক্ত সম্পত্তি, হাটবাজার, বালমহাল, জলমহাল, চা বাগান, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত জমির সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

তথ্য ব্যাংকে পুরাতন রেকর্ডসহ বর্তমান অবস্থা ও এসএ এবং আর এস খতিয়ানের বর্ণনা দেখা যাবে। ফলে বহু পুরাতন দলিলদস্তাবেজ হারিয়ে গেলে বা নষ্ট হয়ে গেলেও সরকারি রেকর্ড নিয়ে কোন জটিলতা হওয়া সমস্যা সৃষ্টি হবে না।

ভূমি বা জমির এসব রেকর্ড নথিপত্র অনলাইনে সংরক্ষিত থাকায় কেউ জালিয়াতি করতে পারবে না।

আপনার জমির কাগজপত্র নষ্ট কিংবা হারিয়ে গেলেও বিপদে পড়তে হবে না আগের মতো। যে কোন সময় যে কোন মুহুর্তে দেশের যে কোন স্থান থেকে জমির খতিয়ান, মৌজা ম্যাপ কিংবা অন্য কোন বিষয় তথ্য ব্যাংক থেকে দেখতে পারবেন এবং সংরক্ষণও করতে পারবেন।

এই ভূমি তথ্য ব্যাংক আপনাকে তথা মানুষের ভোগান্তি, হয়রানি, মামলা-মোকদ্দমা, জমির কাগজপত্র ডুবলিকেট কিংবা জাল-জালিয়াতির হাত থেকে রক্ষা করবে।


আরো জানুন:

খতিয়ানের বিভিন্ন ধরণের অংশিদার হিসাব

বিভিন্ন আকৃতির জমি পরিমাপ করার সূত্র ও পদ্ধতি

অনলাইনে জমির মালিকানা বের করার উপায়

জমির খতিয়ারেন কত প্রকার ও কি কি?

 

অনলাইনে ভূমি উন্নয়ণ কর

যাদের জমি আছে কিংবা ফ্লাট বা বাড়ির মালিকানার অংশ হিসাবে জমি পেয়েছেন তাদের সবার জন্য ভূমি উন্নয়ণ কর পরিশোধ করা বাধ্যতামূল।

আপনার জমি থাকলে প্রতি বছর সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসে কর পরিশোধ করে রশিদ গ্রহণ করতে হবে। তবে এই কাজটি এখন আপনি বাসায় বসে অনলাইনের মাধ্যমে করতে পারেন।

আগে ভূমি কর বা জমির খাজনা পরিশোধ করার জন্য ভূমি অফিসে যাওয়া লগতো এবং অনেক ক্ষেত্রে দালালদের খপ্পরে পড়ে হয়রানি কিংবা ভোগান্তি শিকার হতে হতো। তাই

বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় ভূমি উন্নয়ণ কর পরিশোধ করতে মানুষের ভোগান্তি কমানো ও দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে চালু করেছে “অনলাইন ভূমি উন্নয়ণ কর সিস্টেমঅ্যাপলিকেশন”।

 

কিভাবে ঘবে বসে ভূমি উন্নয়ণ কর পরিশোধ করবেন?

বাংলাদেশ ভূমি মন্ত্রণালয় সকল নাগরিকদের কথা চিন্তা করে কর পরিশোধ করা যে অনলাইন অ্যাপনিকেশন তৈরি করেছে তা অত্যান্ত সহজ ইন্টারফেস। যে কেউ সহজেই এই অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই খাজনা পরিশোধ করতে পারবে।

প্রথমে এই অ্যাপে নিবন্ধ করে নিতে হবে। নিবন্ধন করার জন্য আপনার ভোটার আইডি নাম্বার লাগবে। এছাড়াও জন্ম তারিখ, মোবাইল নাম্বার প্রয়োজন হবে।

নিজে অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে পারেন আবার কোন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়েও ভূমি উন্নয়ণ করের জন্য নিবন্ধন করতে পারেন।

আপনার জমির খতিয়ান নাম্বার, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নাম্বার, জন্ম তারিখ ভূমি মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ৩৩৩ কিংবা ১৬১২২ এ প্রদান করে নিবন্ধ করতে পারবেন।

আপনার আবেদন অনুমোদন হলে এসএমএসের মাধ্যমে জানতে পারবেন এবং আপনার একটি হোল্ডিং নাম্বারও পাবেন।

কিভাবে ভূমি কর পরিশোধ করবেন সেই বিষয় নিয়ে আগে একটি ইনফো শেয়ার করা হয়েছে। সেটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

 

অনলাইনে কর পরিশোধ করলে রশিদ বা দাখিলা কিভাবে পাবেন? 

আপনার নিবন্ধন অনুমোদন হয়ে গেলে আপনার হোল্ডিং নাম্বার পেয়ে যাবেন। এই হোল্ডিং নাম্বারে জমির যাবতীয় করা পরিশোধ করতে হবে। নিবন্ধনের পর অনলাইনে লগইন করে নিজে কিংবা ইউনিয়ন ডিজিটাল অফিসে গিয়ে ভূমির উন্নয়ণ করা পরিশোধ করতে পারবেন।

বিকাশ, রকেট কিংবা নগদের মতো মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে টাকা পরিশোধ করতে পারবেন।

কর পরিশোধের সময় আপনাকে একটি সচল ইমেইল নাম্বার দিতে হবে। এই ইমেইলে অটোমেটিক কর পরিশোধের রশিদ বা দাখিলা চলে আসবে।

এছাড়াও ওয়েবপোর্টালে লগইন করে যে কোন সময়ের রশিদ সংগ্রহ করা যাবে।

 

দেশের সব ভূমি অফিসগুলোতে কি কর পরিশোধ করা যাবে?

এখন যারা অনলাইনে ভূমি কর দিবেন, সেটা তার জমির অনুকূলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালিকাবদ্ধ হয়ে যাবে।তাই আপনি নিশ্চিন্তে ভূমি কর অনলানে পরিশোধ করতে পারেন। সারা দেশের সকল গ্রাম-তৃণমূলের ভূমি অফিস এই নেটওয়ার্কের আওতায় চলে এসেছে।

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে যেভাবে বিদ্যুৎ, পানি বা গ্যাস বিল কিংবা অন্যান্য বিল পরিশোধ করি, ঠিক একই রকম ভূমি কর পরিশোধের অনলাইন পদ্ধতিটি।

 

কর পরিশোধের ব্যপারে ভবিষ্যতে কোন কারণে কোন রকম সমস্যা সৃষ্টি হলে ইমেইলে যে ভূমি কর পরিশোধের রশিদ আসবে সেটি কাজে দিবে। অর্থাৎ বর্তমান দাখিলা যে কাজের সমাধান দেয়, ইমেইলে আসা রশিদটি একই কাজ করবে।

 

আপনি ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন ভূমি সংক্রান বিভিন্ন অনলাইন সেবা। ২০০৯ সালে শুরু হয়েছে জমির নামজারি ও নামজারি বিষয়ক আপত্তি সমাধানের অনলাইন পদ্ধতি। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে ই-রেজিস্ট্রেশন ও ই-মিউটেশন চলমান রয়েছে। শীঘ্রই সারা দেশে চালু হওয়ার কথা রয়েছে।

 

উপসংহাঃ

প্রিয় পাঠক আশাকরি আপনি ভূমি তথ্য ব্যাংক সম্পর্কে জেনে গেছেন। এছাড়া ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন সেবা সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে আমাদের জানান। আপনাদের যে কোন কমেন্ট গুরুত্বের সাথে আমরা বিবেচনা করি।

এই ইনফোটি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করে নিজের ওয়ালে রেখে দিন। প্রয়োজনের সময় যাতে নিজের ওয়াল থেকেই সহজেই খুজে নিতে পারেন। এই বিষয়ে অন্যজনদের উৎসাহিত করতে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপে শেয়ার করে দিতে পারেন।


Home BD info এর অন্যান্য ইনফো

বিভিন্ন প্রকার দলিল ও তাদের সংজ্ঞা কি? 

দলিল রেজিস্টার করার আগে ও পরে করণীয় কি?

অনলাইনে ভূমি তথ্য সেবা কিভাবে নিবেন?

যে কোন প্রত্যায়ন অনলাইনের মাধ্যমে কিভাবে নিবেন?

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)


#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !