জমি মাপার নিয়ম জানুন: ভূমি পরিমাপ করার বিভিন্ন এককের তুলনা ও ব্যবহার ইনফো

জমি আছে এমন কেউ ঝামেলার মধ্যে পড়ে নাই এটা খুবই দুষ্কর ব্যপার। বিভিন্ন সময় জমিজমা মাপার প্রয়োজন হয়ে থাকে। তাই ঝামেলা এড়াতে নিজেই নিজের জমি মাপুন নিয়ম জেনে। আজকের ইনফোতে জমি মাপার নিয়ম জানুন: ভূমি পরিমাপ করার বিভিন্ন এককের তুলনা ও ব্যবহার ইনফো নিয়ে আলোচনা করা হলো।

জমি মাপার পদ্ধতি: ভূমি পরিমাপের বিভিন্ন একক

ঝামেলা এড়ানোর জন্য বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, খামার কিংবা বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করার আগে জমি মাপা অতি জরুরী হয়ে পড়ে।

আপনার যদি জমি মাপার নিয়ম জানা থাকে তাহলে সহজেই এই কাজটি সেরে নিতে পারেন। এজন্য আমিন ডেকে অতিরিক্ত টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই।

এছাড়াও আপনার জমি মাপের বিভিন্ন পদ্ধতি জানা থাকলে কেউ প্রতারিত হলে সহযোগিতা করতে পারবেন এবং আপনাকেও কেউ প্রতারিত করতে পারবে না।

আরো জানুন: 

জমির খতিয়ানের বিভিন্ন অংশিদার হিসাব

অনলাইনে ভূমি মামলার শুনানিতে ঘরে বসে যোগ দিবেন কিভাবে?

ইন্টারনেটের মাধ্যমে জমির মালিকানা যাচাই করবেন কিভাবে?


জমি জমা পরিমাপ করার বিভিন্ন পদ্ধতি

ভূমি পরিমাপের পদ্ধতি বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। আমাদের দেশেও বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম পদ্ধতি চালু দেখা যায়। পদ্ধতি যত রকম থাকুক না কেন সুত্র একই। 

এই সুত্র ধরে বিভিন্ন এককের সাথে তুলনা করলে সহজেই বিভিন্ন রকম পরিমাপ সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। আবার বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমি পরিমাপের ভিন্নতা থাকলেও সরকারিভাবে দুই প্রকার পদ্ধতি চালু রয়েছে। 

শতাংশের হিসাব ও কাঠার হিসাব। এই দুই প্রকার হিসাবে দলিল লেখনসহ ভূমি সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম সরকারিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

শতাংশ ও কাঠার মধ্যে সম্পর্ক হচ্ছে একশত ভাগের এক ভাগকে বলা হয় “এক শতাংশ” জমি। অধিক প্রচলিত শব্দ হচ্ছে “এক ডেসিমাল জমি” । অপরদিকে কাঠার উর্দ্ধতর একক হচ্ছে বিঘা এবং বিঘার উর্দ্ধতর একক হচ্ছে একর।

২০ কাঠা সমান এক বিঘা জমি এবং তিন বিঘা সমান এক একর জমি। এই হিসাবটি সার্বজনীন হিসাবে স্বীকৃত এবং “প্রমিত মান” (Standard Measurement) হিসাবে সরকারিভাবে অনুমোদিত।

এছাড়াও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারিভাবে হেক্টর পদ্ধতিও ব্যবহৃত হয়ে থাকে।


 বাংলাদেশে জমি পরিমাপ করার পদ্ধতি

আমাদের দেশে ভূমি বা জমি পরিমাপ করার জন্য দু ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এক. চেইন (গান্টার শিকল) পদ্ধতি এবং দুই. ফিতা অর্থাৎ জমির বর্গফুট কিংবা বর্গগজ কিংবা বর্গমিটার বার করতে হলে ফিতা দিয়ে জমি পরিমাপ করা হয়।

সরকারি ভাবে ভূমি পরিমাপ করা হলে চেইন ব্যবহার করা হয়। অপরদিকে আমিন বা সার্ভেয়ার ইত্যাদি ব্যাক্তিগণ জমি পরিমাপ করার সময় ফিতা ব্যবহার করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জমির পরিমাণ বেশি হলে চেইন এবং ভূমির পরিমান কম হলে ফিতা ব্যবহার করা সুবিধাজনক।


ভূমি পরিমাপ করার সুত্রঃ

আপনি যে পদ্ধতি ব্যবহার করে ভূমি পরিমাপ করুন না কেন প্রথমেই আপনাকে জমির ক্ষেত্রফল বার করতে হবে। জমির আঁকারভেদে ক্ষেত্রফল বার করার নিয়ম আলাদা হয়ে থাকে।

যেমন- বর্গক্ষেত্রের ক্ষেত্রফল = বাহু X বাহু

কর্ণ = এক বাহু X ১.৪১৪

পরীসিমা = এক বাহু X ৪

উদাহরণঃ 

মনে করি, বর্গক্ষেত্রের বাহুগুলোর দৈর্ঘ ১২০ বর্গ লিংক। তাহলে ক্ষেত্রফল হবে,

ক্ষেত্রফল = বাহু X বাহু
                = ১২০ x ১২০
                = ১৪৪০০ বর্গ লিংক।

গান্টার শিকল ভূমি পরিমাপ অনুসারে আমরা জানি,

১ শতাংশ = ১০০০ বর্গ লিংক।

তাহলে জমির পরিমাণ,

১০০০ বর্গ লিংক = ১ শতাংশ

১ বর্গ লিংক = ১০০০ ভাগের এক ভাগ শতাংশ

সুতরাং ১৪৪০০ বর্গ লিংক = ১৪.৪০ শতাংশ। (অর্থাৎ জমির মোট বর্গ লিংক ক্ষেত্রফলকে ১০০০ দিয়ে ভাগ দিলে শতাংশ পাওয়া যায়)

দৃষ্টিপাত: 

এখানে একটি আয়তকার বা বর্গাকার জমির উদাহরণ দেওয়া হলো। কিন্তু বাস্তবে আপনাকে বিভিন্ন আকৃতির জমি পরিমাপ করার প্রয়োজন হতে পারে। বিভিন্ন আকৃতির জমির ক্ষেত্রফল বের করার সূত্র আলাদা। তাই যে কোন আকৃতির জমি সঠিকভাবে ক্ষেত্রফল বের করার নিয়ম জানতে বিভিন্ন আকৃতির জমি পরিমাপ করার সূত্র ও পদ্ধতি ইনফোটি দেখুন। 


ভূমি পরিমাপের গান্টার শিকল এর লিংক/জরীপ/কড়ি পদ্ধতি

ভূমি পরিমাপ করার বহুল ব্যবহৃত পদ্ধতি হচ্ছে গান্টার শিকল পদ্ধতি। ভূমি পরিমাপের সঠিক ও সহজ করার লক্ষে ইংরেজ বিজ্ঞানী এডমন্ড গান্টা যে পদ্ধতি আবিস্কার করেন তাকে গান্টার শিকল বলা হয়ে থাকে।

তিনি ভূমি পরিমাপের জন্য ইস্পাত দ্বারা এক ধরণের শিকল আবিস্কার করেন। তার নাম অনুসারে জমি মাপের এই পদ্ধতিকে নামকরণ করা হয় গান্টার শিকল। বর্তমানে এই পদ্ধতি বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে।

বাংলাদেশে জনপ্রিয় জমি পরিমাপের পদ্ধতি হচ্ছে গান্টার শিকল। একর, শতক ও মাইলষ্টোন বসানোর জন্য এই পদ্ধতি অত্যান্ত উপযোগী।

গান্টার শিকলের দৈর্ঘ ২০.৩১ মিটার (প্রায়) বা ৬৬ ফুট। এই শিকলটি ১০০ টি ক্ষুদ্রভাগে বিভক্ত থাকে, তাই গান্টার শিকল দিয়ে জমি পরিমাপ করা সুবিধাজনক।

এই শিকলের প্রতিটি ভাগকে লিঙ্ক বা জরীপ বা কড়ি ইত্যাদি বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। দৈর্ঘ্য ১০ চেইন × প্রস্থে ১ চেইন = ১০ বর্গ চেইন = ১ একর

চেইন বা গান্টার শিকল নস বা ফুলি স্থাপন

গান্টার শিকলে ১০ লিংক বা ৭৯.২ ইঞ্চি পরপর নস বা ফুলি স্থাপন করা হয়। 

২০ লিংক বা ১৫৮.৪ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয় নস বা ফুলি

৩০ লিংক বা ২৩৭.৩ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয় নস বা ফুলি

৪০ লিংক বা ৩১৬.৮ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয় নস বা ফুলি

৫০ লিংক বা ৩৯৬.০ ইঞ্চি পর স্থাপিত হয় নস বা ফুলি

৮০ গান্টার বা ১৭৬০ গজ পর স্থাপিত হয় মাইল ষ্টোন

লিংক/ জরীপ বা কড়ি অনুযায়ী অনুযায়ী জমি পরিমাপ করার পদ্ধতি

গান্টার শিকল বা চেইন দিয়ে ভূমি পরিমাণ করে জমি মাপার যে হিসাব বাহির করা কয় তাকে শিকল বা চেইন পদ্ধতি বলা হয়। বাংলাদেশে এই পদ্ধতি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

চেইন বা শিকলের একক হচ্ছে লিংক। এক শিকল বা এক চেইনে একশত লিংক থাকে। সে অনুসারে হিসাবগুলো নিম্নরুপ:

১ লিংক = ৭.৯ ইঞ্চি

৫ লিংক = ৩ ফুট ৩.৬ ইঞ্চি

১০ লিংক = ৬ ফুট ৭.২ ইঞ্চি

১৫ লিংক = ৯ ফুট ১০.৮ ইঞ্চি 

২০ লিংক = ১৩ ফুট ২.৪ ইঞ্চি

২৫ লিংক = ১৬ ফুট ৬.০ ইঞ্চি

৪০ লিংক = ২৬ ফুট ৪.৮ ইঞ্চি

৫০ লিংক = ৩৩ ফুট

১০০ লিংক = ৬৬ ফুট

১০০ লিংক = ১ গান্টার শিকল বা ১ চেইন

১০০০ বর্গলিংক = এক শতক

১,০০,০০০ বর্গলিংক = এক একর

ফিতা পদ্ধতি (বর্গগজ, বর্গফুট হিসাবে ভূমি পরিমাপের নিয়ম)

ফিতা দিয়ে জমি মেপে এর বর্গগজ বা বর্গফুট বের করে জমি পরিমাপ করা হয় বলে একে ফিতা পদ্ধতি বলা হয়।

জমি মাপার সুত্রানুাসারে ক্ষেত্রফল বের করে বিভিন্ন হিসাবে ভূমি পরিমাপ করা হয়। বর্গগজ বা বর্গফুট হিসাবে জমি মাপার হিসাব নিম্নরুপ:

১ একর = ৪৮৪০ বর্গগজ = ৪৩৫৬০ বর্গফুট 

অর্থাৎ ৪৮৪০ বর্গগজ বা ৪৩৫৬০ বর্গফুট জমির পরিমাণ হচ্ছে ১ একর।

১ বিঘা = ১৬১৩ বর্গগজ = ১৪৫২০ বর্গফুট

অর্থাৎ ১৬১৩ বর্গগজ বা ১৪৫২০ বর্গফুট জমির পরিমাণ হচ্ছে ১ বিঘা।

১ কাঠা = ৮০.১৬ বর্গগজ = ৭২১.৪৬ বর্গফুট

১ ছটাক = ৫.০১ বর্গগজ = ৪৫.০৯ বর্গফুট

১ বর্গমিটার = ১.১৯৬ বর্গগজ = ১০.৭৬ বর্গফুট

বর্গগজ বা বর্গফুট জমির ব্যাখ্যা

আমরা জানি, জমি পরিমাপ করার জন্য ভূমির ক্ষেত্রফল বের করে জমির পরিমান হিসাব করা হয়। তাই বর্গগজ বা বর্গফুট এর ক্ষেত্রে,

কোন জমির ক্ষেত্রফল যদি ৪৮৪০ বর্গগজ কিংবা ৪৩৫৬০ বর্গফুট হয় তাহলে জমির পরিমান হবে ১ একর।

একটি উদাহরণ: 


মনে করুন, একটি জমির দৈর্ঘ্য ২২০ গজ এবং প্রস্থ ২২ গজ হলে জমির পরিমান কত হবে?

সুত্রানুসারে ক্ষেত্রফল = দৈর্ঘ্য x প্রস্থ

                                    = ২২০ x ২২
                                    = ৪৮৪০ বর্গগজ = ১ একর


আরো জানুন:





কাঠা, বিঘা, একর অনুযায়ী জমি মাপার হিসাব

১ কাঠা = ১৬ ছটাক = ১.৬৫ শতাংশ = ১৬৫ অযুতাংশ

১ বিঘা = ৩৩ শতাংশ = ২০ কাঠা

১ একর = ১০০ শতাংশ = ৬০.৬ কাঠা = ৩.০৩ বিঘা

ব্যাখ্যাঃ ১০০ শতাংশ কিংবা এক হাজার সহস্রাংশ কিংবা ১০ হাজার অযুতাংশ পরিমান = ১ একর জমি। দশমিক বিন্দুর (.) পরে চার অংক হলে সাধারণত অযুতাংশ পড়া হয়।

কিলোমিটার, মিটার, সেন্টিমিটার, মিলিমিটার, মাইক্রোমিটার, মাইল, গজ, ফুট, ইঞ্চি ইত্যাদি হিসাবের সম্পর্ক

১ কিলোমিটার = ১০০০ মিটার = ১০৯৩.৬১ গজ

১ মিটার = ১০০ সেন্টিমিটার

১ সেন্টিমিটার = ১০ মিলিমিটার

১ মিলিমিটার = ১০০০ মাইক্রোমিটার

১ মাইক্রোমিটার = ১০০০ ন্যানোমিটার

১ মাইল = ১৭৬০ গজ = ১.৬ কিলোমিটার

১ গজ = ৩ ফুট

১ ফুট = ১২ ইঞ্চি

১ ইঞ্চি = ২.৫৪ সেন্টিমিটার

জমি পরিমাপ করার ক্ষেত্রে ছটাক, বিঘা ও কাঠার সম্পর্ক

১ ছটাক = ২০ গন্ডা = ৪৫ বর্গফুট

১ কাঠা = ১৬ ছটাক = ৭২০ বর্গফুট

১ বিঘা = ৬৪০০ বর্গহাত = ২০ কাঠা = ৩৩০০০ বর্গলিংক = ১৪৪০০ বর্গফুট

জমির পরিমাণ খুব বেশি হলে হেক্টর অনুযায়ী হিসাব করা হয। জমির পরিমানে হেক্টরের সম্পর্ক হচ্ছে-

১ হেক্টর = ২.৪৭ একর = ৭.৪৭ বিঘা

জমির পরিমান বের করার বিভিন্ন আঞ্চলিক পরিমাপ

অঞ্চলভেদে বিভিন্ন প্রকারে জমি পরিমাপ করার পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। বাংলাদেশ ও দেশেরে আশেপাশে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের জমির পরিমাপ করার হিসাব যেমন- কানি-গন্ডা, বিঘা-কাঠা ইত্যাতি প্রচলন আছে।

অঞ্চলভেদে এই পরিমাপগুলোর আয়তনও বিভিন্ন রকমের লক্ষ করা যায়।

বিভিন্ন অঞ্চলে জমির পরিমাপ করার বিভিন্ন হলেও সারা দেশে সরকারিভাবে জমি পরিমাপ করা হয় একর, শতক পদ্ধতিতে।

শতাংশের হিসাব সারা দেশে সমান অর্থাৎ অঞ্চলভেদে শতকের আয়তনের কোন পরিবর্তন হয় না।

কানি পরিমাপের প্রকারভেদ

কানি দুই প্রকার । যথা-

এক. কাচ্চা কানি

দুই. সাই কানি

কাচ্চা কানি: ৪০ শতকে এক কাচ্চা কানি। কাচ্চা কানি ৪০ শতাংশে হওয়ার কারণে একে ৪০ শতকের কানিও বলা হয়।

সাই কানি: অঞ্চলভেদে এটির তারতম্য রয়েছে। কোথাও ১২০ ধরা হয় আবার কোথাও ১৬০ শতকে এক সাই কানি ধরা হয়।

কানি গন্ডা হিসাবের সাথে বিভিন্ন হিসাবের সম্পর্ক

১ গন্ডা = ৪ কড়া = ৮৪৬ বর্গফুট

১ কড়া = ২১৬ বর্গফুট

১ কানি = ১৭২৮০ বর্গফুট = ১৯৩৬ বর্গগজ = ১৬১৯ বর্গমিটার = ৪০ বর্গলিংক

১ একর = ২ কানি ১০ গন্ডা = ১০ বর্গ চেইন = ১০০ শতক = ৪০৪৭ বর্গমিটার = ৩ বিঘা ৮ ছটাক।

এক একর জমির সাথে বিভিন্ন হিসাবের তুলনা ও সম্পর্ক

ভূমি পরিমাপ করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম পদ্ধতি চালু থাকলেও একর হিসাবে জমি পরিমাপ করা হয় প্রায় সব জায়গায়।

তাই এককের সাথে বিভিন্ন হিসাবের সম্পর্ক জানা থাকলে আপনি সহজেই যে কোন জায়গার জমির হিসাব সহজেই বুঝতে পারবেন।

নিচে এক একর জমির সাথে বিভিন্ন হিসাবের তুলনা বা সম্পর্ক দেয়া হলো-

১ একর = ১০০ শতক = ১০ বর্গ চেইন = ৬০.০৬ কাঠা (৩৩ শতাংশে এক বিঘা হিসাবে) = ৩ বিঘা ৯ ছটাক = ২ কানি ১০ গন্ডা (৪০ শতাংশে কানি ও ২ শতাংশে গন্ডা ধরে) = ৪০৪৭ বর্গমিটার = ৪৮৪০ বর্গগজ = ১৯৩৬০ বর্গহাত = ৪৩৫৬০ বর্গফুট = ১০০০০০ বর্গলিংক।

এক বিঘার জমির সাথে বিভিন্ন পরিমাপ এককের সম্পর্ক বা তুলনা

জমি পরিমাপ করার ক্ষেত্রে বিঘার প্রচলন প্রায় সারা দেশে রয়েছে। যদিও বিভিন্ন হিসাবে বিঘা ধরে হিসাব করা হয়।

সুতরাং বিঘার সাথে বিভিন্ন হিসাবের সম্পর্ক জানা থাকলে সহজেই যে কোন জমির পরিমাপ বুঝতে সহজ হয়ে যাবে।

নিচে এক বিঘা ভূমির সাথে বিভিন্ন পরিমাপের সাথে তুলনা বা সম্পর্ক দেওয়া হলো-

১ বিঘা = ২০ কাঠা =  ৩৩ শতাংশ = ১৬০০ বর্গগজ = ৬৪০০ বর্গহাত = ১৪৪০০ বর্গফুট = ৩৩০০০ বর্গলিংক = ১৬ গন্ডা, ২ কড়া, ২ ক্রান্তি


এক শতাংশ জমির সাথে বিভিন্ন হিসাবের তুলনা বা সম্পর্ক

সারা দেশে শতাংশের কোন পরিবর্তন হয় না। এছাড়াও এটি সরকারিভাবে দেশজুরে পরিমাপ করা হয়। এক শতাংশ জমির সাথে বিভিন্ন হিসাবের তুলনা বা সম্পর্ক জানা থাকলে সহজেই বিভিন্ন জায়গার জমির মাপ বুঝতে অনেক সহজ হবে।

নিচে ১ শতাংশ জমির সাথে বিভিন্ন ভূমি পরিমাপের সাথে তুলনা বা সম্পর্ক দেখানো হলো।

এক শতাংশ = ৪৩৫.৬০ বর্গফুট = ৪৮.৪০ বর্গগজ = ৪০.৪৬ বর্গমিটার = ১৯৪.৬০ বর্গহাত = ১০০০ বর্গলিংক 

কাঠার সাথে সতাংশের সম্পর্ক


১ কাঠা = ১.৬৫ শতাংশ ( ৩৩ এর মাপে)

১ কাঠা = ১.৫০ শতাংশ ( ৩০ এর মাপে)

 আধুনিক এককের অংশ লিখার নিয়ম ( অযুতাংশের নমুনা)

আধুনিক একর হিসাবে ভূমি অফিসে বিভিন্ন দলিল পত্রে বা খাজনা আদায়ের রশিদে একর বা এককের অংশ লেখা হয়। আপনার বুঝার সুবিধার্থে নিচে বিভিন্ন অংশের নমুনা দেওয়া হলো।

০.০০২৫ একর = কোয়ার্টার শতাংশ

০.০০৫ একর = আধা শতাংশ

০.০০৭৫ একর = পৌনে এক শতাংশ

০.০১ একর = এক শতাংশ

০.০১২৫ একর = সোয়া শতাংশ

০.০১৫০ একর = দেড় শতাংশ

০.০১৭৫ একর =  পৌনে দুই শতাংশ

০.০২ একর = দুই শতাংশ

০.১০ একর = দশ শতাংশ

১.০ একর = ১ একর = ১০০ শতাংশ


শেষকথাঃ

আমরা আশা করি এই ইনফোটি আপনাকে জমি মাপার কিংবা ভূমির পরিমাপ জানার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবে। ইনফোটিতে কোন প্রকার ভুল চোখে পড়লে আমাদের জানালে আমরা সংশোধন করে নিতে পারব সহজেই। এতে আমাদের ও অন্যান্য পাঠকদের উপকার হবে।

আপনার কাছে ইনফোটি প্রয়োজনীয় মনে হলে নিজের ওয়ালে শেয়ার করে রেখে দিতে পারেন। ফলে প্রয়োজনের সময় খুব সহজেই খুজে পাবেন এটি। এছাড়াও আরো সুবিধা হচ্ছে আপনার বন্ধরাও ইনফোটি সম্পর্কে জানতে পারবে।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.