Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

আমদানি (Import) রপ্তানি (Export) লাইসেন্স বা IRC ও ERC কিভাবে করবেন? এর জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে?

লাভজনক ব্যবসাগুলোর মধ্যে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা অন্যতম। এই ব্যবসায় মুনাফা অর্জনের প্রচুর সুযোগ রয়েছে। দেশ উন্নয়নের সাথে সাথে আমদানি রপ্তানি ব্যবসা প্রচুর পরিমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যারা আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় নতুন কিংবা এই ব্যবসা শুরু করার আগে প্রাথমিক কিছু ধারণা নিতে চান তাদের জন্য আজকের আয়োজন। মনে রাখবেন, যে কোন কাজে সফলতা পেতে হলে সেই কাজের সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। আজকের ইনফোতে জানুন আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স কিভাবে করবেন? এর জন্য কি কি কাগজপত্র লাগে?


বিদেশ থেকে বিভিন্ন পণ্য এনে দেশের বাজারে চাহিদা মেটাতে আপনাকে আমদানিকারক হতে হবে। আর এর জন্য সর্বপ্রথম আমদানি নিবন্ধন সনদপত্র (Import Registration Certificate) বা আইআরসি (IRC) লাইসেন্স নিতে হবে। আবার যদি দেশের বিভিন্ন পণ্য অন্যান্য দেশের বাজারে পাঠাতে চান তাহলে আপনাকে রপ্তানিকারক হতে হবে। এর জন্য সর্বপ্রথম রপ্তানি নিবন্ধন সনদপত্র (Export Registration Certificate) বা ইআরসি (ERC) লাইসেন্স নিতে হবে।

আমদানি ও রপ্তানি করতে অনুমতি নেওয়া কি আবশ্যক?

আপনি যদি আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স তথা আইআরসি ও ইআরসি করে থাকেন, তাহলে এর মাধ্যমে যে কোন আমদানি ও রপ্তানিযোগ্য পণ্য যে কোন পরিমান এবং মূল্যসীমা নির্বিশেষে আমদানি ও রপ্তানি করতে পারবেন। এর জন্য কোন সংস্থা বা বিভাগের আলাদা অনুমতি প্রয়োজন হবে না।

অর্থাৎ আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স করলেই এই ব্যবসা করতে পারবেন। তবে মনে রাখবেন, আমদানির জন্য IRC এবং রপ্তানির জন্য ERC — এই দুটো আলাদা লাইসেন্স। একটি দিয়ে অন্যটির কাজ হবে না।

আমদানি ও রপ্তানি লাইসেন্স করতে কত টাকা লাগে?

IRC ও ERC লাইসেন্স করতে নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ করতে হবে। ২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে সকল ফি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে এবং প্রতিটি ফি'র উপর ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য।

বিঃদ্রঃ এই ফি সরকার কর্তৃক যে কোন সময় পরিবর্তন হতে পারে। হালনাগাদ ফি জানতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করুন অথবা www.ccie.gov.bd ওয়েবসাইট দেখুন।

IRC ও ERC লাইসেন্সে ২০২৪-২৫ সালের নতুন নিয়ম

আর্টিকেলটি প্রথম প্রকাশের পর থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে যা জানা জরুরি:

১. ম্যানুয়াল চালান সম্পূর্ণ বন্ধ: এখন আর ম্যানুয়াল চালানে ফি জমা দেওয়া যাবে না। সমস্ত ফি অনলাইন ই-চালানের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় জমা দিতে হবে।

২. আয়কর রিটার্ন এখন বাধ্যতামূলক: IRC বা ERC নবায়ন করতে হলে সর্বশেষ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দিতে হবে। অর্থাৎ আয়কর প্রত্যয়নপত্র বা রিটার্ন স্লিপ কপি অনলাইনে আপলোড করতে হবে। CCI&E সিস্টেম এটি অনলাইনে যাচাই করবে।

৩. নবায়নের মেয়াদ নমনীয়: এখন ১ থেকে ৫ বছরের মধ্যে যে কোনো পূর্ণ মেয়াদে একসাথে নবায়ন করা যাবে।

৪. আগেভাগে নবায়ন করতে হবে: জরিমানা ছাড়া নবায়ন করতে হলে মেয়াদ শেষ হওয়ার কমপক্ষে ৬০ দিন আগে আবেদন করতে হবে। সময়মতো না করলে জরিমানা এবং ব্যাংকে LC প্রসেস ও কাস্টমস ডকুমেন্টেশনে সমস্যা হবে।

৫. আমদানি সীমা পরিবর্তন: চলতি অর্থবছরে নবায়ন সম্পন্ন হলেই শুধুমাত্র পরবর্তী অর্থবছরের জন্য আমদানি সীমা হ্রাস বা বৃদ্ধি করা যাবে।

আমদানি (IRC) ও রপ্তানি (ERC) লাইসেন্স করার জন্য কি কি লাগে?

আইআরসি ও ইআরসি দুটি ভিন্ন লাইসেন্স হলেও দুটিতে মূলত একই কাগজপত্র লাগে। একটি দিয়ে অন্যটির কাজ করা যায় না।

উভয় লাইসেন্স করতে যে সকল কাগজপত্রের প্রয়োজন তা নিম্নরূপ:

১) মালিকের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি (ব্যক্তি মালিকের ক্ষেত্রে) এবং সদ্যতোলা পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি

২) ট্রেড লাইসেন্স

যে কোন ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র। গুরুত্বপূর্ণ: ট্রেড লাইসেন্সে ব্যবসার ধরণে "আমদানি-রপ্তানি" উল্লেখ থাকতে হবে এবং ব্যাংক ঠিকানার সাথে ট্রেড লাইসেন্সের ঠিকানার মিল থাকতে হবে। বিস্তারিত জানতে ই-ট্রেড লাইসেন্স বা অনলাইনে ট্রেড লাইসেন্স কিভাবে করবেন? এবং ট্রেড লাইসেন্স কি? কোথায় ট্রেড লাইসেন্স নিবেন? ইনফো দুটি দেখুন।

৩) ব্যাংকের প্রত্যয়নপত্র অর্থাৎ ট্রেড লাইসেন্স ঠিকানায় ব্যাংক সলভেন্সি

ট্রেড লাইসেন্স করার পর ব্যবসার নামে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে নিন। লক্ষ রাখবেন, আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলবেন — কোনোভাবেই ভিন্ন নাম দিবেন না। কিছুদিন লেনদেন করার পর ব্যাংককে ব্যাংক সলভেন্সি সার্টিফিকেট দিতে বলুন।

৪) ই-টিন (TIN সার্টিফিকেট)

বর্তমানে অনলাইনে সহজেই ই-টিন বা TIN সার্টিফিকেট করা যায়। এর জন্য কোন ফি প্রয়োজন হয় না, অর্থাৎ নিজেই অনলাইনে বিনামূল্যে করতে পারবেন। নবায়নের ক্ষেত্রে শুধু TIN নয়, সর্বশেষ আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও আপলোড করতে হবে। টিন সার্টিফিকেট কিভাবে করবেন জানতে ই-টিন (E-TIN) কি? অনলাইনে টিন করবেন কিভাবে? ইনফোটি দেখুন।

৫) চেম্বার অথবা স্বীকৃত ট্রেড অ্যাসোসিয়েশনের বৈধ সদস্যতা সনদপত্র

আমদানি বা রপ্তানি ব্যবসা করার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক স্বীকৃত যে কোন একটি ব্যবসায়ী সংগঠনের সদস্য হতে হবে এবং সংঘ থেকে সনদ নিতে হবে। যে এসোসিয়েশনের মেম্বার হবেন সেটা দিয়ে যে কোন অনুমোদিত পণ্য আমদানি বা রপ্তানি করতে পারবেন — নির্দিষ্ট পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে না। মেম্বারশিপ না থাকলে নতুন নিতে অতিরিক্ত খরচ হবে।

৬) ভ্যাট সার্টিফিকেট (BIN)

প্রতিটি উৎপাদন বা সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যতামূলকভাবে ভ্যাট নিবন্ধন করতে হয়। অনলাইনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। অনলাইনে কিভাবে BIN সার্টিফিকেট নিবেন জানতে অনলাইনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন (মূল্য সংযোজন কর) বা Business Identification Number (BIN) করবেন কিভাবে? ইনফোটি দেখুন।

৭) লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে যা যা প্রয়োজন হবে

লিমিটেড কোম্পানির আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স করতে হলে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে। এর পাশাপাশি প্রয়োজন হবে কোম্পানির রেজিস্ট্রি, RJSC কর্তৃক অনুমোদিত মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন, আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন, ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট এবং ফর্ম-XII।

আমদানি ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে বিভিন্ন সেবার জন্য (শিল্প প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, বাণিজ্যিক IRC/ERC লাইসেন্স বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স) যে সকল ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয় তার বিস্তারিত চেকলিস্ট নিচে দেওয়া হলো।

কোথায় ও কিভাবে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স করবেন?

বর্তমানে সম্পূর্ণ অনলাইনে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স করতে হয়। অনলাইনে আবেদন করার ক্ষেত্রে সমস্ত ডকুমেন্ট স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে — কোথাও হার্ড কপি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সব ঠিকঠাক থাকলে সাধারণত ১০ থেকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে লাইসেন্স পাওয়া যায়।

ফি জমার বিষয়ে: অনলাইন ই-চালানের মাধ্যমে অথবা বাংলাদেশ ব্যাংক বা সোনালী ব্যাংকের নির্ধারিত শাখায় ট্রেজারি চালানে সরকারি ফি জমা দিতে হবে। অনলাইন আবেদনে চালান নম্বর যুক্ত করতে হয়। ম্যানুয়াল চালান এখন সম্পূর্ণ বন্ধ।

অনলাইনে কিভাবে IRC ও ERC করবেন বিস্তারিত জানতে অনলাইনে আমদানি রপ্তানি লাইসেন্স করার উপায় ইনফোটি দেখুন।

আমদানি ও রপ্তানি প্রধান নিয়ন্ত্রকের দপ্তর

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (NSC) ভবন, লেভেল-১৫
৬২/৩, পুরানা পল্টন, ঢাকা-১০০০
ইমেল: [email protected]
ফোন: 02-41050522
ওয়েবসাইট: www.ccie.gov.bd

Home BD info এর অন্যান্য ইনফো





এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.