দলিল কত প্রকার ও কী কী? ১২ ধরনের দলিলের সংজ্ঞা ও ব্যবহার
এই লেখাটি এক বছরের বেশি আগে হালনাগাদ হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
জমি কেনা, ভাই-বোনের মধ্যে ভাগ করা, বাবা-মায়ের কাছ থেকে সম্পত্তি পাওয়া—প্রতিটি কাজেই একটি দলিল লাগে। কিন্তু কোন কাজে কোন দলিল ব্যবহার হবে, তা না জানলে ভুল দলিলে টাকা আর সময় দুটোই নষ্ট হতে পারে।
প্রবাসীদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। আপনি দেশে নেই, অথচ দলিল সম্পাদন হচ্ছে—এমন পরিস্থিতিতে কাগজের ধরন বুঝতে না পারলে দালালের ওপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় থাকে না।
এই গাইডে সহজ ভাষায় জানবেন, দলিল কত প্রকার, প্রতিটির সংজ্ঞা কী, কখন কোনটি লাগে এবং রেজিস্ট্রেশনের সাম্প্রতিক নিয়মে কী পরিবর্তন এসেছে।
দ্রষ্টব্য: এখানে সাধারণ তথ্য দেওয়া হয়েছে। দলিল সম্পাদনের আগে অভিজ্ঞ আইনজীবী বা দলিল লেখকের পরামর্শ নিন।
দলিল কী এবং কেন রেজিস্ট্রেশন জরুরি?
ক্রয়-বিক্রয়সহ বিভিন্ন চুক্তি ও হস্তান্তরের জন্য যে লিখিত কাগজ তৈরি করা হয়, তাকে দলিল বলে। এটি মালিকানা হস্তান্তরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ।
নিবন্ধন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৮ সালের রেজিস্ট্রেশন আইনের ধারা ১৭ অনুসারে সাফ কবলা, এওয়াজ, দানপত্র, হেবা-বিল-এওয়াজ, হেবা বা দানের ঘোষণাপত্র, বায়না, বন্টননামা, বন্ধক ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নির মতো দলিল রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক।
বিক্রয় বলতে কী বোঝায়?
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৪ ধারায় বিক্রয়ের সংজ্ঞা দেওয়া আছে। এতে বলা হয়েছে, পরিশোধিত বা পরিশোধের প্রতিশ্রুত মূল্যের বিনিময়ে, কিংবা আংশিক পরিশোধিত ও আংশিক প্রতিশ্রুত মূল্যের বিনিময়ে মালিকানা হস্তান্তর করাকে বিক্রয় বলে।
অর্থাৎ টাকার বিনিময়ে মালিকানা অন্যের নামে চলে গেলে সেটি বিক্রয়। আর টাকা ছাড়া হস্তান্তর হলে সেটি দান বা হেবার মতো অন্য ধরনের দলিলের আওতায় পড়ে।
বিভিন্ন প্রকার দলিল ও তাদের সংজ্ঞা
১. সাব কবলা (সাফ কবলা) দলিল
ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে যে দলিল সম্পন্ন হয়, তাকে সাব কবলা বা সাফ কবলা দলিল বলে। পরিশোধিত বা আংশিক পরিশোধিত এবং আংশিক পরিশোধের প্রতিশ্রুত মূল্যের বিনিময়ে মালিকানা হস্তান্তরের জন্য এটি করা হয়।
জমি, বাড়ি, ফ্ল্যাট বা প্লট কেনার সময় সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত দলিল এটিই।
২. বায়নাপত্র বা বিক্রয়চুক্তি দলিল
সম্পত্তি কেনার উদ্দেশ্যে বায়না করার সময় যে দলিল হয়, তাকে বায়নাপত্র বলে। নির্ধারিত শর্তে ও ঠিক করা মূল্যের আংশিক টাকা পাওয়ার পর সম্পত্তি হস্তান্তর নিয়ে পক্ষগুলোর মধ্যে এটি সম্পাদিত হয়।
রেজিস্ট্রেশন আইনের ধারা ১৭ক অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক। আগে সম্পাদনের ৩০ দিনের মধ্যে এটি নিবন্ধনের জন্য দাখিল করতে হতো। নিবন্ধন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ কার্যকর হওয়ার পর এই সময়সীমা ৬০ দিন।
৩. হেবা ঘোষণাপত্র দলিল
মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী বিনিময়ে কিছু না নিয়ে সম্পত্তি দান করাকে হেবা বলে। কমপক্ষে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে আগে মৌখিকভাবে হেবা সম্পন্ন হয়, পরে তা স্বীকৃতি দিয়ে ঘোষণাপত্র নিবন্ধন করা হয়।
এই দলিল বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পরিবারের ঘনিষ্ঠ সদস্যদের মধ্যে হয়ে থাকে। যেমন স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা ও সন্তান, দাদা-দাদি বা নানা-নানি ও নাতি-নাতনি এবং সহোদর ভাই-বোন। হেবা যাচাইয়ের সময় সম্পর্ক ও পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ হলে জাল দলিল চেনার গাইড দেখে নিন।
৪. দান বিষয়ক ঘোষণাপত্র দলিল
হেবা ঘোষণাপত্রের মতোই এই দলিল হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের নিজ নিজ ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী দান ঘোষণার জন্য ব্যবহৃত হয়। সাধারণত পিতা-মাতা, স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও দাদা-দাদির মতো ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মধ্যেই এটি দেখা যায়।
৫. ভ্রম সংশোধন দলিল
মূল দলিলের মূল বিষয়বস্তু অপরিবর্তিত রেখে আগের দলিলের করণিক ভুল বা সরল বিশ্বাসে হওয়া ভুল শুধরে নেওয়ার জন্য যে দলিল করা হয়, তাকে ভ্রম সংশোধন বলে। এটি মূল দলিলের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।
উদাহরণ হিসেবে নাম, দাগ নম্বর বা চৌহদ্দিতে ছোট ভুল ধরা পড়লে এই দলিল লাগে।
৬. দানপত্র দলিল
কোনো ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও পণ ছাড়া অন্য কারও কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করলে এবং গ্রহীতা বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ তা গ্রহণ করলে সেই দলিলকে দানপত্র বলে।
৭. এওয়াজ বা বিনিময় দলিল
এই দলিলে এক পক্ষের কোনো জিনিসের মালিকানার বদলে অপর পক্ষের কোনো জিনিসের মালিকানা হস্তান্তর হয়। যেমন দুজন ব্যক্তি নিজেদের জমি পরস্পরের সঙ্গে বদল করলে এটি ব্যবহার হয়।
৮. হেবা-বিল-এওয়াজ দলিল
প্রতীকী কোনো বস্তুর বিনিময়ে সম্পত্তি দান করা হলে যে দলিল হয়, তাকে হেবা-বিল-এওয়াজ বলে। প্রতীকী বস্তু হিসেবে ধর্মীয় গ্রন্থ, জায়নামাজ বা তসবিহ ধরা হয়ে থাকে।
৯. বন্ধক দলিল
বর্তমান বা ভবিষ্যতের ঋণ পরিশোধের নিশ্চয়তা হিসেবে নির্দিষ্ট স্থাবর সম্পত্তির স্বার্থ হস্তান্তর করা হলে সেই দলিলকে বন্ধক দলিল বলে। ব্যাংক বা ব্যক্তির কাছ থেকে ঋণ নেওয়ার সময় এটি লাগে।
১০. পুনঃসমর্পণ দলিল
বন্ধকদাতা ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করলে বন্ধক গ্রহীতা বন্ধকী সম্পত্তি আবার বন্ধকদাতার কাছে ফিরিয়ে দিয়ে এই দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করে দেন।
১১. বন্টননামা দলিল
কোনো সম্পত্তির অংশীদার বা সহ-মালিকরা সম্পত্তি নিজেদের মধ্যে আলাদা করে ভাগ করে নিলে এই দলিল করা হয়। ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া জমি ভাগ করার সময় এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ভাগের হিসাব বুঝতে পড়ুন খতিয়ানের অংশীদার হিসাব গাইডটি।
১২. বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল
কোনো একক লেনদেন সংক্রান্ত এক বা একাধিক দলিল রেজিস্ট্রি করা বা সেসব দলিলের সম্পাদন স্বীকার করার ক্ষমতা অন্যকে দেওয়ার জন্য যে দলিল ব্যবহার হয়, তাকে বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি বলে।
প্রবাসীদের জন্য এই দলিল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ এখানে আপনি অন্যকে আপনার জমি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দিচ্ছেন। ক্ষমতা অর্পণের আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং কখনো ফাঁকা কাগজে স্বাক্ষর করবেন না।
এক নজরে: কোন কাজে কোন দলিল
| আপনার প্রয়োজন | সাধারণত যে দলিল |
|---|---|
| টাকার বিনিময়ে জমি কেনা বা বিক্রি | সাব কবলা দলিল |
| কেনার আগে বায়না করা | বায়নাপত্র |
| টাকা ছাড়া পরিবারের সদস্যকে সম্পত্তি দেওয়া | হেবা ঘোষণাপত্র, দান ঘোষণাপত্র বা দানপত্র |
| দুজনের মধ্যে জমি বদল | এওয়াজ বা বিনিময় দলিল |
| ঋণের জন্য জমি জামানত রাখা | বন্ধক দলিল |
| ঋণ শোধের পর জমি ফেরত নেওয়া | পুনঃসমর্পণ দলিল |
| ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি ভাগ | বন্টননামা দলিল |
| আগের দলিলের ছোট ভুল ঠিক করা | ভ্রম সংশোধন দলিল |
| অন্যকে দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষমতা দেওয়া | বিশেষ পাওয়ার অব অ্যাটর্নি |
দলিল রেজিস্ট্রেশন: সাম্প্রতিক পরিবর্তন
দলিল সাধারণত সংশ্লিষ্ট এলাকার সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি করা হয়। রেজিস্ট্রেশনের ধাপ ও কাগজপত্রের পূর্ণ তালিকা আমরা আলাদা গাইডে বিস্তারিত দিয়েছি। সেটি পড়তে দেখুন দলিল রেজিস্টার করার আগে ও পরে করণীয়।
নিবন্ধন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ১৪ নং আইন) ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়েছে। এই আইনের বেশিরভাগ ধারা ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে, আর ফি-সংক্রান্ত শব্দ সংশোধনের দুটি ধারা কার্যকর ধরা হয়েছে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে। এতে এর আগে জারি হওয়া দুটি অধ্যাদেশ রহিত হয়েছে।
সরকারি আইন-সংকলনে প্রকাশিত আইন অনুযায়ী প্রধান পরিবর্তনগুলো এ রকম:
- বিক্রয়ের চুক্তি (ধারা ১৭ক): নিবন্ধনের জন্য দাখিলের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে বেড়ে ৬০ দিন।
- বিদেশে সম্পাদিত দলিল (ধারা ২৬): স্বাভাবিক সময়সীমার পরে দাখিল করা হলে দেশে পৌঁছানোর পর দলিল নিবন্ধনের জন্য উপস্থাপনের সময় চার মাস থেকে ছয় মাস। প্রবাসীদের জন্য এটি জানা জরুরি।
- হেবা ও দানের ঘোষণা (ধারা ৫২ক): বিক্রয়ের পাশাপাশি হেবা ঘোষণা এবং দানের ঘোষণার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট তথ্য-সংক্রান্ত বিধান যুক্ত হয়েছে। এখানে ‘বিক্রেতা’র সঙ্গে ‘দাতা’ শব্দও যুক্ত হয়েছে।
- ফি-শুল্ক আদায় (ধারা ৮০ ও ৬৮): দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও শুল্ক আদায় করতে হবে। ভুলভাবে ফি আদায় করে নিবন্ধন করলে তা নিবন্ধন কর্মকর্তার অসদাচরণ বলে গণ্য হবে।
- আপিল ও আবেদন নিষ্পত্তি (ধারা ৭২ ও ৭৩): আপিল ৪৫ দিনের মধ্যে এবং নির্দিষ্ট আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে নিষ্পত্তি করতে হবে।
- ই-রেজিস্ট্রেশন (ধারা ৭৭ক): সরকার-অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল নিবন্ধনের আইনি ভিত্তি তৈরি হয়েছে। বিস্তারিত বিধি গেজেটের মাধ্যমে প্রণয়ন করা হবে।
ই-রেজিস্ট্রেশন বাস্তবে কোন অফিসে কবে চালু হচ্ছে এবং ফি-কর এখন কত, তা সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে জেনে নিন। ফি, স্ট্যাম্প শুল্ক ও করের হার বদলাতে পারে বলে নির্দিষ্ট হার এখানে উল্লেখ করা হয়নি।
প্রবাসীরা দলিল করার সময় যা মনে রাখবেন
- দলিলের প্রতিটি শব্দ নিজে বা বিশ্বস্ত আইনজীবীর মাধ্যমে পড়ে বুঝে নিন। না বুঝে স্বাক্ষর করবেন না।
- দলিলে জমির দাগ নম্বর, খতিয়ান নম্বর ও চৌহদ্দি সর্বশেষ খতিয়ান ও পর্চার সঙ্গে মিলিয়ে নিন। অনলাইনে খতিয়ান দেখতে ই-পর্চা গাইড অনুসরণ করুন।
- দলিল রেজিস্ট্রির পর অবশ্যই নামজারি করান। ধাপগুলো জানতে পড়ুন ই-নামজারি গাইড।
- আপনার হয়ে অন্য কেউ দলিল সম্পাদন করলে সে আপনার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কি না নিশ্চিত হোন।
- রেজিস্ট্রি শেষে দলিলের সত্যায়িত কপি নিজের কাছে ও দেশে বিশ্বস্ত স্বজনের কাছে রাখুন।
বিশেষ সতর্কতা
- ভুল ধরনের দলিল করলে পরে মামলা ও জটিলতা দেখা দিতে পারে। দলিলের ধরন ঠিক করার আগে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
- দালালের কথায় কম মূল্য দেখিয়ে দলিল করবেন না। এতে ভবিষ্যতে আইনি ঝুঁকি বাড়ে।
- ফাঁকা বা অসম্পূর্ণ কাগজে স্বাক্ষর বা টিপসই দেবেন না।
- দলিল জাল বা সন্দেহজনক মনে হলে যাচাই না করে টাকা দেবেন না। পুরোনো দলিল খোঁজার উপায় জানতে দেখুন জমির দলিল তল্লাশি।
জমি-জমা সংক্রান্ত আরও গাইড
দলিল ও জমির কাগজ নিয়ে আরও জানতে আমাদের নিচের গাইডগুলো কাজে আসবে। সব গাইড এক জায়গায় দেখুন জমি-জমা সংক্রান্ত সম্পূর্ণ গাইড ও সূচি পেজে।
- জমি ক্রয়ের আগে ও পরে করণীয়
- জমির মালিকানা যাচাইয়ের নিয়ম
- জমিতে অগ্রক্রয় কী
- অনলাইনে ভূমি তথ্য সেবা
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
দলিল কত প্রকার?
জমি-সংক্রান্ত লেনদেনে প্রধান দলিলগুলো হলো সাব কবলা, বায়নাপত্র, হেবা ঘোষণাপত্র, দান ঘোষণাপত্র, দানপত্র, এওয়াজ, হেবা-বিল-এওয়াজ, বন্ধক, পুনঃসমর্পণ, বন্টননামা, ভ্রম সংশোধন ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি।
সাব কবলা দলিল কী?
টাকার বিনিময়ে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তরের জন্য যে দলিল করা হয়, তাকে সাব কবলা বা সাফ কবলা দলিল বলে। জমি-বাড়ি কেনাবেচায় এটিই সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
বায়নাপত্র কি রেজিস্ট্রি করতে হয়?
হ্যাঁ। রেজিস্ট্রেশন আইনের ধারা ১৭ক অনুযায়ী স্থাবর সম্পত্তি বিক্রির চুক্তি লিখিত ও রেজিস্ট্রি করা বাধ্যতামূলক এবং সম্পাদনের ৬০ দিনের মধ্যে তা নিবন্ধনের জন্য দাখিল করতে হয়। ২০২৬ সালের সংশোধনের আগে এই সময় ছিল ৩০ দিন।
হেবা ও দানপত্রের মধ্যে পার্থক্য কী?
হেবা মুসলিম ব্যক্তিগত আইন অনুযায়ী দানের ঘোষণা, যেখানে সাক্ষীর উপস্থিতিতে আগে ঘোষণা হয় ও পরে ঘোষণাপত্র রেজিস্ট্রি করা হয়। দানপত্র সাধারণভাবে স্বেচ্ছায় ও পণ ছাড়া সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল। ঘটনাভেদে কোনটি প্রযোজ্য, তা আইনজীবী বলে দেবেন।
উপসংহার
সঠিক দলিল বেছে নেওয়া জমির নিরাপত্তার প্রথম ধাপ। কাজ অনুযায়ী দলিলের ধরন চিনে নিলে ভবিষ্যতের অনেক জটিলতা আগেই এড়ানো যায়।
দলিল রেজিস্ট্রির নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলায়, বিশেষ করে ২০২৬ সালের সংশোধনীর পর। তাই কাজ শুরুর আগে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন এবং আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
তথ্যসূত্র
- দলিল রেজিস্ট্রেশন (সাব-রেজিস্ট্রি অফিস, ফুলপুর, ময়মনসিংহ, নিবন্ধন অধিদপ্তরের সেবা তথ্য)
- নিবন্ধন (সংশোধন) আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ১৪ নং আইন), বাংলাদেশ আইন-সংকলন (বাংলাদেশ আইন ও বিচার বিভাগ)
- রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮: ধারা ১৭ক, বিক্রয়ের চুক্তির নিবন্ধন (বাংলাদেশ আইন-সংকলন)
- নিবন্ধন আইন সংশোধন, চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা)
- সম্পত্তির উইল ও হেবার মধ্যে পার্থক্য কী (দ্য ডেইলি স্টার বাংলা)
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই: