সে সকল খাবার শরীলে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে?

খাবার দেখলেই মন শুধু খেতেই ইচ্ছা করে! বিশেষ করে যদি মজাদার খাবার হয়ে থাকে তাহলে তো কথাই নাই । পেটে ধরুক বা না ধরুক খেতে খেতে অনেক সময় অতিরিক্ত খাওয়া হয়ে থাকে। আবার এমনও হতে পারে যে, খাবার আর পেটে সহ্য হচ্ছে না। গ্যাস জমে পেট ফুরে যাওয়া, পেটে ব্যাথা হওয়া, ডায়রিয়া অথবা কোষ্ঠকাঠিন্য এর মত সমস্যা সৃষ্টি হওয়া। খাবার ঠিকমত যদি হজম না হয়, তাহলে এ ধরণের সমস্যা হয়ে থাকে। সুতরাং আজকের বিষয় হচ্ছে- “সে সকল খাবার শরীলে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে?

সে সকল খাবার শরীলে হজম শক্তি বৃদ্ধি করে?


যারা প্রায় সময় পেটের হজম সমস্যা ভোগে থাকেন, তাদের এই সমস্যা থেকে আরও বড় কঠিন রোগের সৃষ্টি হওয়া সম্ভবনা তৈরি হয়। প্রতিদিনের খাবার সাধারণত আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী গ্রহণ করি না। কারণ নানা ব্যাস্ততার কারণে এটা অনেক সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না।

হজম সমস্যা সাধারণত অনিয়মিত অস্বাস্থকর খাবার এবং অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে হয়ে থাকে। এছাড়াও যাদের হজম শক্তি দুর্বল থাকে তাদের এই সমস্যা প্রায়ই লেগেই থাকে। খাদ্যতালিকায় মাত্রাতিরিক্ত জাংক ফুড ও আঁশহীন খাবার থাকলে হজম সমস্যা আরো বেড়ে যায়।

 

এই সমস্যা থেকে দেহে নানা ধরণের সমস্যা দেখা যেতে পারে। সাধারণত এর কারণে বেশি যেগুলো হয়ে থাকে তা নিম্নরুপ:

** পেটে গ্যাস বা গ্যাস্টিকের সমস্যা

** আলসার

** পেট ব্যাথা

** কোষ্ঠকাঠিন্য

** মলদ্বারে জ্বালা পোড়া

** ডায়রিয়া সহ বিভিন্ন প্রকার পেটের সমস্যা হতে পারে।

আমরা সাধারণত এসকল সমস্যার জন্য ঔষধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকি। এটা মোটেও ঠিক নয়। কেননা বেশি ঔষধ সেবণ করলে শরীলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই ঔষধের ওপর নির্ভর না হয়ে খাবারের প্রতি ভরসা করা উচিৎ।

এছাড়াও খাবারের মাধ্যমে হজম শক্তি বৃদ্ধি করার চেষ্ঠা করলে আপনার হজম প্রক্রিয়া প্রাকৃতিকভাবেই শক্তিশালী হয়ে উঠবে। কিছু খাবার রয়েছে যে গুলো নিয়মিত খেলে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি পাবে।


আরো জানুন:

মুখের দুর্গন্ধ কেন হয়? এর কারণগুলো কি কি?

ধুমপান ছাড়বেন কিভাবে? কেন ধুমপান ছাড়বেন?

খাঁটি মধু কিভাবে চিনবেন? মধু খাঁটি না ভেজাল কিভাবে পরীক্ষা করবেন?

যে সব খাবার যৌন শক্তি বৃদ্ধি করে তার তালিকা দেখুন

 

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এমন খাবারের তালিকা

কিভাবে প্রাকৃতিকভাবে আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করবেন সেই বিষয়ে আমরা আগে একটি ইনফো শেয়ার করছি। প্রয়োজন বোধ করলে “ প্রাকৃতিকভাবে হজম শক্তি বাড়ানোর উপায়” ইনফোটি দেখুন। আর এখানে সহজ লভ্য কিছু খাবার উল্লেখ করা হলো যা আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করবে।


হজম শক্তি বাড়াতে পেঁপের ভূমিকা

আপনার হজম শক্তি বাড়াতে খাদ্য তালিকায় নিয়মিত ভাবে পেঁপেকে স্থান দিন।বাজারে আপনি সারা বছরই পেঁপে পাবেন। পেঁপে দু’ধরণের হয়ে থাকে, কাছা পেঁপে ও পাকা পেঁপে, উভয় প্রকারই খুবই সুস্বাদু এবং পুস্টিকর খাবার।

পেঁপেতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে এনজাইম যা আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে দারুণভাবে কাজ করে। এনজাইম এমন একটি উপাদান যা খাদ্যে থাকা প্রোটিন ফাইবারকে ভেঙ্গে হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে।

গ্যাস্টিক বা পেটে গ্যাস জমে পেট ফুলে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়াসহ বিভিন্ন পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সহজলভ্য এই ফলটি নিয়মিত খেতে পারেন। তবে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে পেঁপে খেতে সতর্ক থাকতে হবে। গর্ভবতী নারীদের খাদ্য তালিকা কেমন হওয়া উচিৎ কিংবা কি কি খাওয়া যাবে এবং কি কি খাওয়া যাবে না তার বিস্তারিত জানতে “গর্ভবতী মায়ের খাবার তালিকা: প্রথম তিন মাসের গর্ববতী নারীর খাবার তালিকা” ইনফোটি দেখুন।

 

হজম শক্তি বাড়াতে আদার ভূমিকা

প্রাচীনকাল থেকেই পেটের সমস্যার জন্য আদা ঘরোয়া ঔষধ হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ঠান্ডার সমস্যা, বমি বমি ভাব ও হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য এই মসলা হিসাবে ব্যবহৃত খাবারটি দারুণ উপকার করে।

 

আপনার যদি বুক জ্বালাপোড়া করে, বমি বমি অনুভূত হয় কিংবা গ্যাস্টিকের সমস্যা থাকে তাহলে কাচা আদা খান। দেখবেন আপনার এই সমস্যাগুলো কমে গেছে।

চায়ের সাথে কাচা আদা খেতে পারেন কিংবা কুচি কুচি করে কেটে খাওয়াও যেতে পারে।

 

আপেল হজম প্রক্রিয়ায় যে ভূমিকা রাখে

আপেলে রয়েছে পেকটিন নামক আঁশ যা খাবার হজম হতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে তোলে কোষ্ঠকাঠিন্য, ডাইরিয়া ইত্যাদি সমস্যা হতে আপনাকে মুক্তি দিবে।

এছাড়াও আপেলে যে পেকটিন রয়েছে তা খাদ্য যন্ত্রের ইনফেকশন সমস্যার ঝুঁকিও কমে দিবে। খাবার ঠিকমতো হজম না হলে বুক জ্বালাপোতড়া শুরু হওয়া সহ নানা রকম পেটের সমস্যা তৈরি হয়। আর এই সমস্যা থেকে রক্ষা করবে আপেল।

নিয়মিত আপেল খেলে আপনার শরীলে পানি স্বল্পতাও দূর করবে এই ফলটি। আর এটি সারা বছরই বাজারে পাওয়া যায়। তাই আপেল সংগ্রহ করতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।

 

কলা আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলবে

পেটের সমস্যা সমাধান হতে পারে প্রতিদিন একটি করে কলা। কলা সংগ্রহ করতেও তেমন কোন কষ্ঠ করতে হবে আপনাকে। এই উপকারী খাদ্যটি সারা বছরই বাজারে পাবেন।

কলাতে রয়েছে অনেক উপকারী খনিজ। যেমন- পটাশিয়াম, ইলেকট্রোলাইটস ইত্যাদি। এই উপাদানগুলো আপনাকে ডায়রিয়া কিংবা পেটের হজম সমস্যা থেকে মুক্তি দিবে।

আপনার বুক কিংবা গলা জ্বালাপোড়া করলে নিয়মিত কলা খান। তাহলে এটি পেটে প্রদাহ, খাবার হজম বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সমস্যা থেকে রক্ষা করবে।

 

গাঢ় সবুজ শাক সবজি হজম প্রক্রিয়ার জন্য উপকারী কেন?

শাক-সবজিতে প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন খনিজ পাওয়া যায়। আর এই খনিজগুলো শরীলে মহৌষধের মত কাজ করে। বিশেষ করে হজম সমস্যার জন্য গাঢ় শাক-সবজি অত্যান্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

তাই আপনি পেটের সমস্যা দূর করতে নিয়মিত শাক-সবজি খাওয়া শুরু করতে পারেন। আঁশযুক্ত শাক-সবজি খাদ্য পরিপাক তন্ত্রে হজম প্রকিয়া শেষে পুরো বর্জ্য গেহের বাহিরে বের করে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

পালংক শাক, ব্যকোলির মতো সবুজ শাক-সবজিগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার ঝুঁকি কমায় এবং হজম শক্তি বৃদ্ধি করে শরীলকে সুস্থ রাখে।

একটি গবেষণা থেকে জানা যায়, সবুজ শাক-সবজির শর্করা উপাদান উপকারী ব্যাকটেরিয়া তৈরি করে যা খদ্য যন্ত্রের জন্য অনেক উপকারী এবং হজম প্রক্রিয়াকে সবর ও শক্তিশালী করে।

 

দই হজম প্রক্রিয়া শক্তিশালী করবে কেন?

অনেকেই দুধ খাওয়া পছন্দ না করলেও দুধ থেকে তৈরি হওয়া দই খুব মজা করে খেয়ে থাকেন। আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তুলতে নিয়মিত দই খেতে পারেন। কেননা দইয়ে অনেক উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে যা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং পকস্থলীর খাদ্য নালীকে সবল ও সুস্থ রাখে।

.পেটে গ্যাস হওয়া, পেট ফেপে উঠা কিংবা ডায়রিয়া সমস্যা সমাধের জন্য নিয়মিত দই খান। কিছুদিন নিয়মিত দই খেয়ে দেখেন আপনার হজম প্রক্রিয়া কি পরিবর্তন হয়েছে।

খেয়াল করে দেখবেন অনেক খাওয়ার অনুষ্ঠানে খাওয়া দাওয়া শেষে দই পরিবেশন করে থাকে। এটা মূলত করা হয়, যাতে খাওয়ার পর পেটে কোন সমস্যা সৃষ্টি না করে। অর্থাৎ হজম প্রক্রিয়া যাতে ঠিক রাখে।

তাই আজ থেকে হয়ে যাক দই একটি আপনার নিয়মিত খাদ্য। দইয়ের অপকারিতা ও উপকারি কি কি বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন।

 

গোল মরিচ পেটের জন্য ভাল কেন?

রান্নায় কাজে ব্যবহৃত একটি মশলা হচ্ছে গোল মরিচ। এই উপাদানটি আপনার পেটের সমস্যা সমাধান করতে সাহায্য করবে।

পেটের প্রদাহ কমাতে, হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে গোল মরিচের ভূমিকা যথেষ্ঠ রয়েছে। এছাড়াও গোলমরিচ বা পেপামমিন্টের পাতার নির্যাস থেকে তৈরি হয় পেপারমিন্ট অয়েল। এতে মেন্থল নামক একটি উপান পাওয়া যা পেটের প্রদাহ, পেট ফুলে যাওয়া ও অস্বস্তি হওয়া থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করবে।

নিয়মিত ভাবে একটি দুটি গোল মরিচ চিবিয়ে খেতে পারেন। ফলে আপনার মুখও পরিস্কার থাকবে এবং হজম শক্তিও বৃদ্ধি পাবে।

আপনার পরিপাক তন্ত্র থেকে খাদ্য যাতে সহজেই হজম হতে পারে সে জন্য পেপারমিন্ট অয়েল ব্যবহার করতে পারেন।

 

মিষ্টি আলু পেটকে ভাল রাখবে কিভাবে?

পেটের সমস্যায় খেতে পারেন মিষ্টি আলু। বাজারে এটি সব সময় না পেলেও অনেকেই এটি বাসার আঙ্গিনায় গাছ লাগিয়ে থাকেন।

মিষ্টি আলুতে রয়েছে শর্করা ও ম্যাঙ্গানিজ । এছাড়াও রয়েছে প্রচুর পরিমানে আঁশ যা আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করা এবং শক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করবে।

যারা আলসার রোগে ভোগেন তাদের জন্য মিষ্টি আলু অনেক উপকারী একটি খাদ্য। এটি গ্যাস্টিক থেকে আপনাকে রক্ষা করবে।

 

শসা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে পেটকে ভাল রাখার জন্য

শসাতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ফলেট, ও ভিটামিন সি সহ আরো অনেক উপাদান। সালাদ হিসাবে শসা বেশ জনপ্রিয় একটি খাবার।

শসাতে মিনারেল উপাদানও প্রচুর পরিমানে রয়েছে। ফলে এটি হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে তোলে। পেটের বিভিন্ন সমস্যা কমিয়ে আনে শসা।

খাবার হজম না হওয়ার ফলে পেটে গ্যাস জমে যাওয়া, অ্যাসিডিক হওয়া, গলা-বুক জ্বালাপোড়া করা ও পেটের অন্যান্য সমস্যায় শসা বেশ উপকারী এবং পেটের জন্য খুবই আরামদায়ক।

এটি দেহের পানি স্বল্পতা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। কেননা এটিতে প্রচুর পরিমানে পানি থাকে।

 

বীট  এর ভূমিকা কি?

বীট হচ্ছে সবজি জাতীয় একটি খাদ্য। এটি সবার কাছে পরিচিত না হলেও এটিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে উপকারী উপাদান। এটি অত্যান্ত আঁশযুক্ত হওয়ায় হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করার জন্য বেশ উপকারী।

বীট কিংবা বীটরুট অনেকটা শালগমের মতো। এর খনিজ উপাদান গুলো হচ্ছে- পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফাইবার। হজম প্রক্রিয়ার জন্য এই উপাদান গুলো বেশ উপকারী।

এটি আপনি সবজি, সালাদ অথবা ব্লেন্ড করে জুস বানিয়েও খেতে পারেন। সুতরাং হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে নিয়মিত বীটরুট খেতে পারেন।

 

দৃষ্টিপাত: আপনার পেটের সমস্যা যদি গুরুতর হয়ে থাকে , তাহলে অবশ্যই ডাক্তরের পরামর্শ নিবেন। যখন পেটের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে তখন খাদ্যের উপর নির্ভর করে চলতে পারেন।

 

শেষকথা:

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এমন কিছু খাবার এখানে উল্লেখ করা হলো যা আপনার পেটের সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। তবে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, সময়ের স্বল্পতার কারণেও দ্রুত খাবার খাওয়া, প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া পরিহার করতে হবে। কেননা এতে পেটের সমস্যা বাড়তে থাকে।


Home BD info এর অন্যান্য ইনফো

কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন নিবন্ধন করবেন কিভাবে?

ঘরে বসে কারিগরি শিক্ষা কিভাবে গ্রহণ করবেন?

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কি? বাংলাদেশে এটি গুরুত্বপূর্ণ কেন?

জমির যে কোন খতিয়ান অনলাইনে পাবেন কিভাবে?

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.