আগুন নেভানোর পদ্ধতি: আগুনের ধরন অনুযায়ী কীভাবে নিভাবেন (গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল)
এই লেখাটি এক বছরের বেশি আগে হালনাগাদ হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
বাংলাদেশে ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স ২৭ হাজার ৫৯টি অগ্নিকাণ্ডের হিসাব রেখেছে, অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ৭৫টি। এতে ৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত ২৬৭ জন। সবচেয়ে বেশি আগুন লেগেছে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে (৩৪.৭১ শতাংশ), তারপর বিড়ি-সিগারেট (১৫.৭৮ শতাংশ) ও চুলা (১০.৭৫ শতাংশ), আর গ্যাস সিলিন্ডার ও সরবরাহ লাইনের লিকেজও আছে। এই তথ্য দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে ফায়ার সার্ভিসের বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতিতে দেওয়া হয়েছে। আগুন বাড়িঘরেই সবচেয়ে বেশি লেগেছে (৩২.১৭ শতাংশ)।
আগুন লাগলে সবার আগে দরকার শান্ত থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া। কারণ আগুন নেভানোর পদ্ধতি আগুনের ধরনের ওপর নির্ভর করে। কাঠ বা কাগজের আগুনে পানি কাজ করে, কিন্তু তেল, গ্যাস বা বিদ্যুতের আগুনে ভুল পদ্ধতি পরিস্থিতিকে আরও ভয়ংকর করে দিতে পারে। এই লেখায় ধরন চেনার উপায়, প্রতিটির নেভানোর নিয়ম আর কী করবেন না, সবই সহজভাবে দেওয়া হলো।
- নিজে ও সবাইকে নিরাপদ জায়গায় সরান। ধোঁয়া হলে নিচু হয়ে বের হোন।
- ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ অথবা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করুন। ঠিকানা ও কীসে আগুন লেগেছে, জানান।
- আগুন ছোট ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলে, আর আপনার পেছনে বের হওয়ার পথ খোলা থাকলে তবেই ধরন চিনে নেভানোর চেষ্টা করুন। নইলে বেরিয়ে যান।
আগুন কীভাবে জ্বলে ও কীভাবে নেভে
আগুন জ্বলতে তিনটি জিনিস একসঙ্গে লাগে: দাহ্য বস্তু বা জ্বালানি, অক্সিজেন আর তাপ। একে ফায়ার ট্রায়াঙ্গল বলে। এর কোনো একটি সরিয়ে দিলে আগুন নিভে যায়:
- ঠান্ডা করে (তাপ সরিয়ে): পানি দিয়ে কাঠ বা কাগজের আগুন নেভানো।
- ঢেকে দিয়ে (অক্সিজেন বন্ধ করে): কড়াইয়ের আগুনে ঢাকনা বা ফায়ার ব্ল্যাংকেট দেওয়া।
- জ্বালানি সরিয়ে: গ্যাসের আগুনে সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া।
কোন আগুনে কোনটা কাজ করবে, সেটাই নির্ভর করে আগুনের ধরনের ওপর।
আগুনের ধরন ও নেভানোর উপায়
আগুনকে সাধারণত কী পুড়ছে তার ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। বাংলাদেশে প্রচলিত A থেকে E ভাগের সঙ্গে রান্নার তেলের আগুনও আলাদা করে দেখা জরুরি, কারণ ঘরের রান্নাঘরে এটাই সবচেয়ে বেশি ঘটে:
| শ্রেণি | কী পুড়ছে | কীভাবে নেভাবেন | যা করবেন না |
|---|---|---|---|
| A | কাঠ, কাগজ, কাপড়, খড়, প্লাস্টিক, চুলা-কয়েলের আগুন | পানি, ভেজা মোটা কাপড়, শুকনো বালি, ABC পাউডার, ফোম | আগুন বড় হলে নিজে ঝুঁকি নেওয়া |
| B | দাহ্য তরল: পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, রং, থিনার | ফোম, CO2, শুকনো রাসায়নিক পাউডার | পানি ঢালা |
| C | গ্যাস: এলপিজি, মিথেন, বিউটেন | আগে সরবরাহ বন্ধ করুন। বন্ধ না হলে নেভাবেন না, সরে যান | সরবরাহ চালু রেখে শিখা নেভানো, পানি ঢালা |
| D | দাহ্য ধাতু: ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, টাইটানিয়াম | বিশেষ D-শ্রেণির শুকনো পাউডার (প্রশিক্ষিত ব্যক্তি) | পানি, CO2 বা ফোম |
| E | চালু বিদ্যুৎ-যন্ত্র: তার, সুইচবোর্ড, মোটর, ফ্রিজ, এসি | আগে বিদ্যুৎ বন্ধ করুন, তারপর CO2 বা ABC পাউডার | পানি বা ফোম |
| F বা K | রান্নার তেল ও চর্বি | ঢাকনা, ফায়ার ব্ল্যাংকেট, ওয়েট কেমিক্যাল এক্সটিংগুইশার | পানি ঢালা, জ্বলন্ত পাত্র নাড়ানো |
একটা সতর্কতা: শ্রেণিবিভাগের অক্ষর সব দেশে একরকম নয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের NFPA মানে চালু বিদ্যুতের আগুনকে বলা হয় C, রান্নার তেলকে K, আর গ্যাস B-এর মধ্যে ধরা হয়। তাই নিজের এক্সটিংগুইশারে যে অক্ষর ও চিহ্ন লেখা আছে, সেটাই দেখে নিন। এক্সটিংগুইশার কীভাবে ব্যবহার করবেন, তা বিস্তারিত আছে আগুন নেভানোর যন্ত্র ব্যবহারের নিয়ম লেখায়।
কাঠ, কাগজ ও কাপড়ের আগুন
এটিই সবচেয়ে সাধারণ আগুন। কাঠ-কয়লার চুলা, মশার কয়েল, জ্বলন্ত সিগারেট, খড় বা ময়লা থেকে এর শুরু। ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে ২০২৫ সালে মশার কয়েল থেকেই ৪৯৩টি আগুন লেগেছে।
- প্রচুর পানি ঢেলে ঠান্ডা করুন। আগুন নিভে গেলেও ছাই-কয়লার ভেতরে তাপ থাকে, তাই আরেকবার পানি দিয়ে নিশ্চিত হোন।
- পানি না থাকলে শুকনো বালি বা ভেজা মোটা কাপড় বা বস্তা দিয়ে ঢেকে দিন।
- কাপড়ে আগুন ধরে গেলে ছুটবেন না। থেমে মাটিতে শুয়ে গড়াগড়ি দিন (স্টপ, ড্রপ, রোল) অথবা কম্বল দিয়ে চেপে ধরুন।
- পুড়ে গেলে ক্ষত বেশ কিছুক্ষণ (সাধারণত ২০ মিনিট) ঠান্ডা চলমান পানির নিচে রাখুন। বরফ, টুথপেস্ট বা তেল লাগাবেন না। গুরুতর পোড়ায় ডাক্তারের কাছে যান।
রান্নার তেল ও দাহ্য তরলের আগুন
কড়াইয়ে তেলে আগুন ধরে গেলে অনেকেই ভয়ে পানি ঢেলে দেন। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল। ফুটন্ত তেলে পানি পড়লে তা বাষ্প হয়ে জ্বলন্ত তেল ছিটকে চারপাশে ছড়িয়ে দেয়। সঠিক নিয়ম:
- নিরাপদে হাত পৌঁছালে চুলার আঁচ বা গ্যাসের সংযোগ বন্ধ করুন।
- কড়াইয়ের ঢাকনা বা বড় থালা দিয়ে আলতো করে ঢেকে দিন, যাতে আগুন অক্সিজেন না পায়।
- ঢাকনা না থাকলে পানি নিংড়ে নেওয়া ভেজা মোটা কাপড় বা ফায়ার ব্ল্যাংকেট দিয়ে ঢাকুন।
- জ্বলন্ত পাত্র নাড়াচাড়া বা সরানোর চেষ্টা করবেন না।
- আগুন বেড়ে গেলে ঘর থেকে বেরিয়ে ১০২ বা ৯৯৯-এ কল করুন।
পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন বা থিনারের মতো দাহ্য তরলের আগুনে পানি কাজ করে না। তরল পানির ওপর ভেসে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এখানে ফোম, CO2 বা শুকনো রাসায়নিক পাউডার ব্যবহার করা হয়। অল্প তরল ছড়ানোর ক্ষেত্রে শুকনো বালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া যেতে পারে। পাম্প, গ্যারেজ বা গুদামের মতো বড় ঝুঁকির জায়গায় প্রশিক্ষিত লোক ছাড়া নিজে নেভানোর চেষ্টা করবেন না।
গ্যাসের আগুন
পুরোনো লেখায় বলা ছিল গ্যাসের আগুনে বস্তা বা পানি দিয়ে বাড়ি দিতে। এটা বিপজ্জনক পরামর্শ। গ্যাস লাইনের আগুনে সবার আগে করণীয় সরবরাহ বন্ধ করা। সংযোগ চালু থাকা অবস্থায় আগুন নিভে গেলে বাতাসে জমা গ্যাস পরে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
- নিরাপদে পৌঁছানো গেলে চুলার নব, রেগুলেটর বা সিলিন্ডারের ভালভ বন্ধ করুন।
- বন্ধ করা না গেলে বা আগুন বড় হলে নেভানোর চেষ্টা করবেন না। সবাইকে নিয়ে দ্রুত বাইরে যান এবং ১০২ বা ৯৯৯-এ কল করুন।
- জ্বলন্ত সিলিন্ডার নিজে সরানোর চেষ্টা করবেন না। দূরে থাকুন।
- গ্যাসের গন্ধ পেলে বৈদ্যুতিক সুইচ, আগুন বা দিয়াশলাই ব্যবহার করবেন না। দরজা-জানালা খুলে দিন এবং নিরাপদ জায়গায় গিয়ে সাহায্য চান।
শেষ ধাপটি ফায়ার সার্ভিসের নিজস্ব নির্দেশনা। এতে আরও বলা আছে, চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলে বাতাস চলাচল নিশ্চিত করতে হবে, আর রান্না শেষে চুলায় ফুঁ না দিয়ে নব ভালোভাবে বন্ধ করতে হবে। সিলিন্ডার ও চুলা নিরাপদে ব্যবহারের নিয়ম আছে গ্যাস সিলিন্ডার ও চুলা দুর্ঘটনা এড়ানোর গাইডে।
বিদ্যুতের আগুন
তার, সুইচবোর্ড, প্লাগ, ফ্রিজ বা এসি থেকে আগুন লাগলে পানি দেবেন না। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী, তাই যিনি পানি ঢালবেন তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে পারেন। পুরোনো লেখায় "কারও মতে পানি দেওয়া যাবে" বলা হয়েছিল, কিন্তু নিরাপত্তার দিক থেকে এই পরামর্শ বাদ দেওয়াই উচিত।
- শুকনো হাতে ও নিরাপদে পৌঁছালে মেইন সুইচ বা সার্কিট ব্রেকার বন্ধ করুন। ভেজা মেঝেতে দাঁড়িয়ে বা ভেজা হাতে সুইচ ধরবেন না।
- বিদ্যুৎ বন্ধ হলে সামান্য আগুন CO2 বা ABC শুকনো পাউডার এক্সটিংগুইশার দিয়ে নেভান।
- বিদ্যুৎ বন্ধ না করা গেলে বা আগুন ছড়াতে শুরু করলে ঘর খালি করে ১০২ বা ৯৯৯-এ কল করুন।
ফায়ার সার্ভিসের তথ্যে বিদ্যুতের শর্টসার্কিটই আগুনের এক নম্বর কারণ। তাই ত্রুটিপূর্ণ তার ব্যবহার না করা, একই সংযোগে অতিরিক্ত লোড না দেওয়া এবং নিয়মিত তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা জরুরি। ওয়্যারিং করাতে হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান নিন। এ বিষয়ে ABC লাইসেন্স ও ইলেকট্রিক্যাল সুপারভাইজারের যোগ্যতা নিয়ে আলাদা লেখা আছে।
ধাতু ও রাসায়নিকের আগুন
ধাতুর আগুন (ম্যাগনেসিয়াম, সোডিয়াম, টাইটানিয়ামের মতো দাহ্য ধাতু) সাধারণত কারখানা বা ল্যাবে লাগে। এতে পানি, CO2 বা ফোম ব্যবহার করলে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে। এর জন্য বিশেষ D-শ্রেণির শুকনো পাউডার লাগে, যা ধাতুর ধরন অনুযায়ী আলাদা। ঘরের সাধারণ এক্সটিংগুইশার এখানে কাজ করে না।
রাসায়নিকের আগুনে উপাদানের ধরন অনুযায়ী পদ্ধতি বদলায়, আর ধোঁয়া বিষাক্ত হতে পারে। নিজে নেভানোর চেষ্টা না করে সবাইকে সরিয়ে ১০২ বা ৯৯৯-এ কল করুন এবং কোন রাসায়নিক আছে, তা ফায়ার সার্ভিসকে জানান। ২০২৫ সালে ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে ৩৮টি আগুন রাসায়নিক দুর্ঘটনা থেকে ঘটেছে, তবে আহত-নিহতের ঝুঁকির দিক থেকে রাসায়নিক দুর্ঘটনা আলাদাভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল।
কখন নেভাবেন, কখন পালাবেন
অগ্নিনির্বাপণ বিশেষজ্ঞদের সাধারণ নির্দেশনা হলো, শুধু এই তিন শর্ত একসঙ্গে মিললে নিজে নেভানোর চেষ্টা করুন:
- আগুন ছোট ও এখনো ছড়াচ্ছে না।
- আপনার পেছনে বের হওয়ার পথ খোলা আছে।
- আপনার কাছে ঠিক ধরনের এক্সটিংগুইশার বা উপকরণ আছে এবং কীভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা জানেন।
এর একটিও না মিললে সরাসরি বেরিয়ে যান। বের হওয়ার সময়:
- ধোঁয়া থাকলে নিচু হয়ে বা হামাগুড়ি দিয়ে এগোন, নাকে-মুখে ভেজা কাপড় চাপুন।
- লিফট ব্যবহার করবেন না, সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
- যেতে যেতে সম্ভব হলে দরজা বন্ধ করে দিন, এতে আগুন ও ধোঁয়ার গতি কমে।
- বেরিয়ে আর ভেতরে ফিরবেন না, মূল্যবান জিনিস আনতেও না।
কাকে কল করবেন
- ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২। ফায়ার সার্ভিসের জেলা কার্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী এটাই এখন জরুরি নম্বর। আগের হটলাইন ১৬১৬৩ বাতিলের কথা ফায়ার সার্ভিসের গাজীপুর কার্যালয়ের নোটিশে জানানো হয়েছে।
- জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯।
- ৩৩৩ নম্বরটি সরকারি তথ্য ও সেবার জন্য, জরুরি অগ্নিকাণ্ডের হটলাইন নয়। পুরোনো লেখায় ৩৩৩ দেওয়া ছিল, সেটা সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
কল করার সময় বলুন: সঠিক ঠিকানা ও কাছাকাছি পরিচিত জায়গা, কী ধরনের আগুন (গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেল বা রাসায়নিক), ভেতরে কেউ আটকা আছে কিনা। কল কেটে না দিয়ে লাইনে থাকুন, আর কাউকে রাস্তায় পাঠান ফায়ার সার্ভিসের গাড়িকে পথ দেখাতে। ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তর আগেই বলে রেখেছে, নিকটস্থ ফায়ার স্টেশনের নম্বর ফোনে সংরক্ষণ করে রাখুন।
আগুন এড়ানোর উপায়
ফায়ার সার্ভিস ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর যে ১৩টি নির্দেশনা দিয়েছে, তার মূল কথাগুলো ডেইলি বাংলা পোস্টের প্রতিবেদনে আছে:
- রান্না শেষে চুলা ও গ্যাসের সংযোগ বন্ধ রাখুন। চুলায় ফুঁ দিয়ে নেভাবেন না।
- চুলা জ্বালানোর আগে রান্নাঘরের দরজা-জানালা খুলুন।
- বিদ্যুতের তার, সুইচ ও যন্ত্রপাতি নিয়মিত পরীক্ষা করুন, অতিরিক্ত লোড এড়ান।
- বিড়ি-সিগারেটের জ্বলন্ত অংশ সম্পূর্ণ নিভিয়ে নিরাপদ জায়গায় ফেলুন।
- শিশুদের আগুন, দিয়াশলাই বা লাইটার নিয়ে খেলতে দেবেন না।
- দাহ্য জিনিসের গুদামে খোলা বাতি বা মশার কয়েল ব্যবহার করবেন না।
- বাসা, কারখানা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুযায়ী এক্সটিংগুইশার রাখুন এবং ব্যবহার শিখে নিন। নিয়মিত অগ্নিনিরাপত্তা মহড়া করুন।
- দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ফ্ল্যাট বা ঘরে ঢুকে আগে দরজা-জানালা খুলে দিন।
এই নির্দেশনায় অগ্নি প্রতিরোধ ও নির্বাপণ আইন, ২০০৩ মেনে চলার কথাও বলা আছে। যাঁরা ভবন বা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক, তাঁদের জন্য ফায়ার লাইসেন্স ও এনওসির আবেদন নিয়ে আলাদা গাইড আছে: ই-ফায়ার লাইসেন্স ও ফায়ার এনওসি।
আগুন ছাড়াও অন্য জরুরি দুর্যোগের প্রস্তুতি রাখা ভালো। ভূমিকম্পের সময় করণীয় জানতে ভূমিকম্পে কী করবেন লেখাটি পড়ুন। সম্পদের ঝুঁকি কমাতে বীমার বিকল্প জানতে চাইলে বীমা কী ও কত প্রকার লেখাটি দেখতে পারেন।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)
আগুন লাগলে প্রথমে কী করব?
নিজে ও সবাইকে নিরাপদ জায়গায় সরান, তারপর ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২ বা জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করুন। আগুন ছোট ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য হলে এবং বের হওয়ার পথ খোলা থাকলে আগুনের ধরন চিনে নেভানোর চেষ্টা করুন।
গ্যাসের আগুন কি পানি দিয়ে নেভানো যায়?
না। গ্যাসের আগুনে সবার আগে সংযোগ বা সিলিন্ডারের ভালভ বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করা না গেলে নেভানোর চেষ্টা না করে বাইরে গিয়ে ১০২ বা ৯৯৯-এ কল করুন। সংযোগ চালু রেখে শিখা নিভিয়ে ফেললে জমা গ্যাস বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।
বিদ্যুতের আগুনে কি পানি দেওয়া যায়?
না। পানি বিদ্যুৎ পরিবাহী, তাই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আগে মেইন সুইচ বন্ধ করুন, তারপর CO2 বা ABC শুকনো পাউডার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করুন।
রান্নার তেলে আগুন লাগলে কী করব?
পানি দেবেন না। চুলার আঁচ বন্ধ করে কড়াইয়ে ঢাকনা, থালা বা ফায়ার ব্ল্যাংকেট দিয়ে ঢেকে দিন। জ্বলন্ত পাত্র সরাবেন না। আগুন না নিভলে ঘর থেকে বেরিয়ে ১০২ বা ৯৯৯-এ কল করুন।
ফায়ার সার্ভিসের জরুরি নম্বর কত?
ফায়ার সার্ভিসের হটলাইন ১০২, আর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯। ফায়ার সার্ভিসের জেলা কার্যালয়ের নোটিশ অনুযায়ী আগের হটলাইন ১৬১৬৩ বাতিল করা হয়েছে। ৩৩৩ জরুরি অগ্নিকাণ্ডের নম্বর নয়।
আগুনের ধরন কয়টি?
সাধারণত A (কাঠ-কাগজ), B (দাহ্য তরল), C (গ্যাস), D (ধাতু) ও E (বিদ্যুৎ) ভাগে ধরা হয়, আর রান্নার তেল-চর্বির জন্য আলাদা F বা K শ্রেণি আছে। দেশ ও মানদণ্ডভেদে অক্ষর ও ভাগ আলাদা হতে পারে, তাই এক্সটিংগুইশারের লেবেল দেখে নিন।
উপসংহার
আগুন নেভানোর সবচেয়ে বড় নিয়ম হলো আগুনের ধরন চেনা আর নিজের নিরাপত্তাকে আগে রাখা। রান্নার তেলে বা বিদ্যুৎ-যন্ত্রে পানি নয়, গ্যাসে সংযোগ বন্ধ আগে, আর আগুন বড় হলে বা পথ বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা থাকলে সরে গিয়ে ১০২ বা ৯৯৯-এ কল। নম্বরটা এখনই আপনার ফোনে সেভ করে রাখুন, পরিবারের সবাইকে শিখিয়ে দিন। এই বিষয়ে আপনার প্রশ্ন বা অভিজ্ঞতা কমেন্টে জানান।
ডিসক্লেইমার: Home BD Info কোনো অগ্নিনির্বাপণ সংস্থা নয়। এই লেখা সাধারণ সচেতনতার জন্য, প্রশিক্ষণের বিকল্প নয়। প্রতিটি আগুন ভিন্ন, আর ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে নিজে নেভানোর চেষ্টার চেয়ে নিরাপদে সরে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। অগ্নিনিরাপত্তার প্রশিক্ষণ ও মহড়ার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬।
তথ্যসূত্র
এই লেখার তথ্য ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিচের সূত্রগুলো থেকে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই: