Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

বিকাশ দিয়ে NID ফি পরিশোধ করার নিয়ম ২০২৬: সংশোধন ও রি-ইস্যু ফি জমা দেওয়ার গাইড

এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) সংশোধন, নবায়ন বা হারানো কার্ড রি-ইস্যুর ফি এখন ব্যাংকে না গিয়ে মোবাইল থেকেই বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া যায়। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে বিকাশ দিয়ে এনআইডি ফি পরিশোধ করবেন কিভাবে, কোন সেবায় কত ফি এবং পেমেন্টের সময় কোন ভুলগুলো এড়াবেন।

বিকাশ দিয়ে NID ফি পরিশোধ করার নিয়ম

সংক্ষেপে জেনে নিন

  • বিকাশ অ্যাপের Pay Bill → Govt. Fees → NID Service থেকে এনআইডি ফি দেওয়া যায়।
  • এনআইডি নম্বর দিলে সেবার ধরন অনুযায়ী ফির পরিমাণ স্ক্রিনে দেখা যায়। ওই অঙ্কই পরিশোধ করতে হয়।
  • পেমেন্টের পর ডিজিটাল রসিদ ডাউনলোড করা যায়। এটি সংরক্ষণ করে রাখুন।
  • ফি দেওয়ার পর NID সার্ভিস পোর্টালে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। শুধু ফি দিলেই আবেদন হয় না।

বিকাশে এনআইডি ফি দেওয়ার সুবিধা

  • দিনের যেকোনো সময়, ঘরে বসেই ফি দেওয়া যায়।
  • পেমেন্টের সঙ্গে সঙ্গে ডিজিটাল রসিদ পাওয়া যায়।
  • ব্যাংকের চালান বা লাইনের ঝামেলা থাকে না।

বিকাশে কোন কোন এনআইডি সেবার ফি দেওয়া যায়?

বিকাশের NID Service অপশনে সাধারণত নিচের ধরনের সেবার ফি দেওয়ার সুযোগ থাকে। অ্যাপে অপশনের নাম কিছুটা ভিন্ন দেখাতে পারে।

  • NID Info Correction: কার্ডের তথ্য সংশোধন (যেমন নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ)
  • Other Info Correction: কার্ডে ছাপা নয় এমন অন্যান্য তথ্য সংশোধন
  • Duplicate Regular / Duplicate Urgent: হারানো বা নষ্ট কার্ডের জন্য সাধারণ বা জরুরি ডুপ্লিকেট (রি-ইস্যু)

সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়া জানতে দেখুন NID Card সংশোধন করার নিয়ম ২০২৬ গাইড।

বিকাশ অ্যাপে এনআইডি ফি পরিশোধের ধাপ

  1. বিকাশ অ্যাপে পিন দিয়ে লগইন করুন।
  2. Pay Bill (পে বিল) আইকনে ট্যাপ করুন।
  3. Govt. Fees (সরকারি ফি) অপশনে গিয়ে NID Service বেছে নিন।
  4. আপনি যে সেবা নেবেন (সংশোধন বা ডুপ্লিকেট) সেই ধরন নির্বাচন করুন।
  5. আপনার এনআইডি নম্বর দিন। ১৩ সংখ্যার নম্বর হলে শুরুতে জন্ম সাল যোগ করে ১৭ সংখ্যা করুন।
  6. Proceed to Pay ক্লিক করুন। স্ক্রিনে সেবা অনুযায়ী ফির পরিমাণ দেখাবে।
  7. অঙ্ক ও নম্বর আবার মিলিয়ে নিয়ে পিন দিয়ে পেমেন্ট নিশ্চিত করুন।
  8. পেমেন্ট সফল হলে ডিজিটাল রসিদ ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।

এনআইডি ফির তালিকা (মূল ফি)

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত মূল ফি নিচে দেওয়া হলো। পেমেন্টের সময় ভ্যাটসহ চূড়ান্ত অঙ্ক কিছুটা বেশি দেখাতে পারে। যেমন ২০০ টাকার ফি ২৩০ টাকা দেখাতে পারে। স্ক্রিনে দেখানো অঙ্কই চূড়ান্ত।

সেবাআবেদনসাধারণ ফিজরুরি ফি
কার্ডের তথ্য সংশোধনপ্রথমবার২০০ টাকা—
দ্বিতীয়বার৩০০ টাকা—
পরবর্তী যেকোনো বার৪০০ টাকা—
অন্যান্য তথ্য (তথ্য-উপাত্ত) সংশোধনপ্রথমবার১০০ টাকা—
দ্বিতীয়বার২০০ টাকা—
পরবর্তী যেকোনো বার৩০০ টাকা—
হারানো বা নষ্ট কার্ড (রি-ইস্যু / ডুপ্লিকেট)প্রথমবার২০০ টাকা৩০০ টাকা
দ্বিতীয়বার৩০০ টাকা৫০০ টাকা
পরবর্তী যেকোনো বার৫০০ টাকা১,০০০ টাকা
কার্ড নবায়ন—১০০ টাকা১৫০ টাকা

প্রতিটি সেবার ফির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেখুন NID সার্ভিস ফি: সংশোধন, নবায়ন ও হারানো কার্ডের ফি কত? পোস্টে। নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় ফি পরিবর্তন করতে পারে, তাই পেমেন্টের আগে নিজের ফি যাচাই করে নিন।

ইউএসএসডি (*২৪৭#) দিয়ে ফি দেওয়া যায় কি?

স্মার্টফোন বা ইন্টারনেট না থাকলে বিকাশের *২৪৭# মেনু থেকে Pay Bill অপশনে সরকারি ফি দেওয়ার সুযোগ আছে কি না দেখতে পারেন। তবে মেনুর ক্রম ও NID Service অপশন বিকাশের আপডেট অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট ধাপ না লিখে বলছি, নিশ্চিত না হলে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করুন বা বিকাশের হেল্পলাইন ১৬২৪৭-এ যোগাযোগ করুন।

অন্যান্য মাধ্যমে ফি দেওয়া

বিকাশ ছাড়াও অন্য মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপে এনআইডি ফি দেওয়ার সুবিধা থাকতে পারে। সংবাদে উপায়ের মাধ্যমেও এনআইডি ফি দেওয়ার কথা এসেছে। আপনার ব্যবহৃত অ্যাপের Bill Pay বা সরকারি ফি অংশে NID Service আছে কি না দেখে নিন। কোন মাধ্যম বর্তমানে চালু আছে তা পোর্টালের নির্দেশনায় দেখে নেওয়া ভালো।

হারানো কার্ডের ফি দেওয়ার নিয়ম

কার্ড হারিয়ে গেলে প্রথমে থানায় জিডি (সাধারণ ডায়েরি) করুন। এরপর বিকাশে Duplicate (রি-ইস্যু) ক্যাটাগরি বেছে ফি দিন এবং NID পোর্টালে আবেদন করে জিডির কপি আপলোড করুন। জিডি ও কাগজপত্র সংক্রান্ত শর্ত পোর্টালের বর্তমান নির্দেশনা দেখে মিলিয়ে নিন। আগের বারের সংখ্যা অনুযায়ী ফি বাড়ে, তাই ফি স্ক্রিনে দেখে নিন।

ফি দেওয়ার পর পরবর্তী ধাপ

  1. রসিদ বা কনফার্মেশন মেসেজ সংরক্ষণ করুন।
  2. NID সার্ভিস পোর্টালে লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করুন।
  3. প্রয়োজনীয় কাগজ (জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ বা জিডির কপি) আপলোড করুন।
  4. আবেদন সাবমিট করে অগ্রগতি পোর্টালে দেখুন।

আবেদন বাতিল বা দীর্ঘ সময় পেন্ডিং থাকলে দেখুন NID সংশোধনের আবেদন বাতিল হলে আপিলের সুযোগ। নতুন ভোটার হতে চাইলে পড়ুন অনলাইনে ভোটার হওয়ার নিয়ম।

পেমেন্টের সময় যে ভুলগুলো এড়াবেন

  • ভুল এনআইডি নম্বর: পেমেন্ট সফল হলে টাকা ফেরত পাওয়া সাধারণত কঠিন। নম্বর দুইবার মিলিয়ে নিন। ভুল হয়ে গেলে দ্রুত বিকাশ হেল্পলাইন ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।
  • ভুল সেবা নির্বাচন: সংশোধন ও ডুপ্লিকেটের ফি আলাদা। সঠিক ক্যাটাগরি বেছে নিন।
  • স্ক্রিনের অঙ্ক না মেলানো: পুরোনো তালিকা না দেখে পেমেন্টের স্ক্রিনের অঙ্ক যাচাই করুন।
  • দালাল ও ভুয়া সাইট: ফি সরকারি নির্ধারিত। অফিসিয়াল ছাড়া অন্য কোনো সাইট বা ব্যক্তিকে টাকা দেবেন না।
  • পিন ও ওটিপি শেয়ার করবেন না: বিকাশের পিন বা ওটিপি কাউকে জানাবেন না।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

বিকাশে কি এনআইডি ফি দেওয়া যায়?

হ্যাঁ। বিকাশ অ্যাপের Pay Bill থেকে সরকারি ফি অংশে NID Service বেছে এনআইডি নম্বর দিয়ে ফি দেওয়া যায়।

সংশোধন ফি আর রি-ইস্যু ফি কি একই?

না, আলাদা। কার্ডের তথ্য সংশোধনে প্রথমবার ২০০ টাকা মূল ফি, আর হারানো বা নষ্ট কার্ডের রি-ইস্যুতে প্রথমবার সাধারণ সেবায় ২০০ টাকা এবং জরুরি সেবায় ৩০০ টাকা। দ্বিতীয়বার থেকে ফি বাড়ে। চূড়ান্ত অঙ্ক পেমেন্টের স্ক্রিনে দেখা যায়।

ভুল এনআইডি নম্বরে ফি দিলে কী হবে?

পেমেন্ট সফল হলে ফেরত পাওয়া সাধারণত কঠিন। তাই নম্বর যাচাই করে পেমেন্ট করুন। ভুল হয়ে গেলে দ্রুত বিকাশ হেল্পলাইন ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

ফি দেওয়ার পর রসিদ কিভাবে পাব?

পেমেন্ট সফল হলে ডিজিটাল রসিদ ডাউনলোড করা যায়। এটি ভবিষ্যতে প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করে রাখুন।

ফি দিলেই কি আবেদন সম্পূর্ণ হয়ে যায়?

না। ফি দেওয়ার পর NID সার্ভিস পোর্টালে গিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজ আপলোড ও সাবমিট করতে হয়।

শেষকথা

বিকাশে এনআইডি ফি দেওয়া সহজ, তবে সঠিক সেবা বেছে নেওয়া এবং এনআইডি নম্বর ও ফির অঙ্ক মিলিয়ে নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি। পেমেন্টের পর রসিদ রেখে পোর্টালে আবেদন সম্পূর্ণ করুন। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি ফি ও নিয়ম যেকোনো সময় বদলাতে পারে, তাই চূড়ান্ত পেমেন্টের আগে অফিসিয়াল পোর্টাল বা স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। আমরা বিকাশ বা সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নই।

তথ্যসূত্র

অন্যান্য ইনফো পড়ুন


সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.