ব্যাংক একাউন্ট খোলা ও ব্যাংকের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, হিসাব খোলার আগেই জেনে নিতে হবে

0

বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব খোলা ও রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য বিভিন্ন ধরনের ফি নেয়। এই ফির পরিমান একেক ব্যাংকে একেক রকম হয়ে থাকে। তবে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতিকালে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। ফলে সব ব্যাংকের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ একই রকম হবে। আজকের ইনফোতে কেন্দীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ব্যাংকগুলোর চার্জ/ফি কি পরিমান তা নিয়ে আলোচনা করা হলো।

ব্যাংক একাউন্ট খোলাসহ রক্ষণাবেক্ষণ ও যাবতীয় ফি

বিভিন্ন ব্যাংক গ্রাহকদের কাছ থেকে কোন কোন খাত থেকে কি পরিমান চার্জ, ফি এবং কমিশন গ্রহণ করতে পারবে তার একটা নীতিমালা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নতুন এই ফি এবং চার্জ/কমিশন সকল ব্যাংকে কার্যকর করা হবে।

ফলে ব্যাংকের একজন গ্রাহক ব্যাক্তিগত ও অন্য ব্যাংক হিসাব খোলা এবং পরিচালনা ফি, ঋণের ফি, বিভিন্ন ধরণের সার্টিফিকেট নেওয়া এবং বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিটেন্স িইত্যাদি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কত টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে তা সহজেই জানতে পারবেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলোকে ফি নির্ধারণের সার্কুলার এমন স্থানে রাখতে হবে, যাথে গ্রাহকদের  চোখে পড়ে। আপনি এখান থেকে সকল তথ্য জেনে নিতে পারবেন।

এই সার্কুলার জেনে আপনার ব্যাংক হিসাব খোলা উচিৎ। এর বাইরে যদি ব্যাংক আপনার কাছ থেকে ফি বা অতিরিক্ত চার্জ নেয় তাহলে আপনি অভিযোগ করতে পারবেন।

আরো জানুন:

ঘরে বসে সোনালী ব্যাংকের একাউন্ট খোলার উপায়

ইসলামী ব্যাংকের “সেলফিন” হাতের মুঠোয় ব্যাংকিং সেবা কিভাবে ব্যবহার করবেন?

ডিজিটাল ব্যাংকিং বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং কি?

নগদ ব্যাংকিং এর অজানা তথ্য


ব্যাংকের ব্যাক্তিগত হিসাব পরিচালনা ফি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন অনুসারে ব্যাক্তিগত ও বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত একাউন্টের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যে সকল ফি আপনার কাছ থেকে আদায় করতে পারবে তা হচ্ছে-

১. আপনার সঞ্চায়ী একাউন্ট খোলার জন্য ৫০০ টাকা, চলিত একাউন্ট খোলার জন্য ১০০০ টাকা জমা করতে হবে। তবে বিশেষ একাউন্ট খোলার জন্য এই শর্ত প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ বিশেষ হিসাব খোলার জন্য কোন টাকা জমা করার প্রয়োজন হবে না।

২. সঞ্চায়ী একাউন্টে ১০ হাজার টাকা জমা থাকলে ব্যাংক রক্ষণাবেক্ষণ ফি নিতে পারবে না। তবে এর বেশি টাকা জমা থাকলে রক্ষণাবেক্ষণ ফি গ্রহণ করতে পারবে নির্দিষ্ট  হারে। সঞ্চায়ী হিসাবে ১০ হাজারের উপরে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা থাকলে ১০০ টাকা, দুই লাখ টাকা পর্যন্ত ২০০ টাকা, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ২৫০ টাকা এবং এর চেয়ে বেশি সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ ফি নিতে পারবে।

ব্যাংকগুলো চলিত একাউন্টের ক্ষেত্রে প্রতি ছয় মাসে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এবং স্পেশাল নোটিশ ডিপোজিট একাউন্টের ক্ষেত্রে প্রতি ছয় মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা ফি নিতে পারবে। তবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত একাউন্টের ক্ষেত্রে এই ফি নিতে পারবে না কোন ব্যাংক।

৩. আপনার একাউন্ট ব্যাংকের এক শাখা থেকে অন্য শাখায় ট্রান্সফার করার ক্ষেত্রে একই শহরে হলে ৫০ টাকা এবং অন্য জেলায় হলে ১০০ টাকা ফি দিতে হবে এর বেশি ব্যাংক নিতে পারবে না।

৪. সঞ্চায়ী একাউন্ট সক্রিয় করার জন্য কোন প্রকার ফি আদায় করতে পারবে না ব্যাংকগুলো।

৫.  আপনার বিভিন্ন মাসিক সঞ্চায়ী হিসাব ডিপিএস ও এফডিআর বা অন্য কোন মেয়াদী আমানত একাউন্টের মেয়াদ পূর্তির আগে নগদায়নে ব্যাংকগুলো কোন ধরণের নগদায়ন ফি গ্রহণ করতে পারবে না।

৬. আপনার ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সঞ্চায়ী একাউন্ট ২০০ টাকা, চলিত একাউন্ট ৩০০ টাকা এবং এসএনডি একাউন্ট বন্ধ করতে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা ফি গ্রহণ করতে পারবে।

৭. চেক বই ইর্স্যু খরচের ভিত্তিতে ফি নির্ধারণ করবে ব্যাংকগুলো।

৮. বিভিন্ন ধরণের একাউন্ট অর্থাৎ যেকোন চলিত ও সঞ্চায়ী হিসাবে ন্যূন্যতম ব্যালেন্স ফি, ইনসিডেন্টাল চার্জ, লেজার ফি, সার্ভিস চার্জ, কাউন্টার ট্রানজেকশন ফি কিংবা এইরুপ কোন প্রকার ফি ব্যাংকগুলো আপনার কাছ থেকে গ্রহণ করতে পারবে না।

৯. বছরের দুবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট ফ্রি অর্থাৎ বছরে দুবার একাউন্টের স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ বা ব্যালেন্স কনফার্মেশন সার্টিফিকেট নিতে কোন ফি নিতে পারবে না ব্যাংকগুলো। তবে দুবারের বেশি নিতে চাইলে প্রতিবার ১০০ টাকা করে ফি নিতে পারবে।

১০. ব্যাংক থেকে সচ্ছলতা সনদ বা সলভেন্সি সার্টিফিকেট নিতে প্রতিবার ২০০ টাকা ফি নির্ধারন করা হয়েছে। অর্থাৎ এই সনদ নিতে আপনাকে ২০০ টাকা ফি দিতে হবে।

১১. চেক ফেরতের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো সর্বোচ্চ ৫০ টাকা ফি নিতে পারবে।

১২. বিও একাউন্টধারীকে বিও সনদ প্রদান করতে ১০০ টাকা ফি নির্ধারন করা হয়েছে।

১৩. আপনার পেমেন্ট অর্ডার স্থগিত করলে প্রতিবার অনুরোধের জন্য ব্যাংক ৫০ টাকা ফি নিতে পারবে।

ব্যাংক থেকে ঋণ নেবার খরচ বা নির্ধারিত ফি

আপনি ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে ব্যাংক কোন কোন ক্ষেত্রে ফি নিতে পারবে এবং এই ফি সর্বোচ্চ পরিমান কত হবে সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-

১। ঋণ আবেদন ফি হিসাবে ব্যাংক কোন ফি গ্রহণ করতে পারবে না।

২। আপনার ঋণের পরিমান যদি ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত হয় তাহলে ঋণ প্রসেসিং ফি বাবদ মুঞ্জরি হওয়া ঋণের ০.৫০ % টাকা ব্যাংক আদায় করতে পারবে। তবে এর পরিমান ১৫ হাজার টাকার বেশি হতে পারবে না। অর্থাৎ ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ প্রসেসিং ফি ০.৫০% বা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা।

৫০ লাখ টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে ঋণ প্রসেসিং ফি ০.৩০% আদায় করতে পারবে। তবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকার বেশি ঋণ প্রসেসিং ফি আদায় করতে পারবে না কোন ব্যাংক।

৩। ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ, মাইক্রো, কটেজ, কিংবা কৃষি খাতে ঋণ প্রসেসিং বা পুনর্গঠন ফি ০.২৪ % হারে ব্যাংক আদায় করতে পারবে। তবে এর পরিমান কখনই ১০ হাজার টাকার বেশি হতে পারবে না।

৪। ব্যাংক থেকে যে কোন ধরণের ঋণ নেন না কেন সুদ বা মুনাফার হারের অতিরিক্ত কোন সার্ভিস চার্জ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ফি, মনিটরিং ফি, ঝুঁকি প্রিমিয়াম বা যে কোন নামে অতিরিক্ত কোন চার্জ, ফি, কমিশন ইত্যাদি ব্যাংক আদায় করতে পারবে না। 

৫। আপনি যদি নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে ঋণ পরিশোধ করতে চান সেক্ষেত্রে ব্যাংক বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ ০.৫০% অর্লি সেটেলমেন্ট ফি হিসাবে আদায় করতে পারবে। তবে কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতে ঋণ, চলিত বা ডিমান্ড লোনের ক্ষেত্রে এই শর্ত প্রযোজ্য হবে না।

উপরে উল্লেখিত ফি ছাড়াও স্থানীয় ও বৈদেশিক বানিজ্য এবং রেমিটেন্সের নির্ধারিত খাতে কত ফি দিতে হবে তা নির্দিষ্ট করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ কন্দ্রীয় ব্যাংক। প্রতিটি ব্যাংকের দৃশ্যমান এমন জায়গায় সার্কুলারটি দিতে হবে যাতে ব্যাংকের গ্রহকদের চোখে পরে।

ব্যাংকের এ সার্কুলার থেকে আপনি আরো বিস্তারিত জেনে নেতে পারেন।

ব্যাংক হিসাব খোলার আগে আপনার দায়িত্ব কি?

আপনি যে ব্যাংকেই হিসাব খোলেন না কেন সবার আগে ফি এবং চার্জ সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিবেন। এতে আপনার সুবিধা হবে এবং ব্যাংক কোন প্রকার অতিরিক্ত চার্জ কেটে নিলে অভিযোগ করতে পারবেন।

ব্যাংকগুরো কোন প্রকার হিডেন চার্জ যাতে আপনার কাছ থেকে গ্রহন করতে না পারে সে জন্য আপনাকেই সজাগ থাকতে হবে। কেননা অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় ব্যাংক একাউন্টে কোন লেনদেনই করা হয় না তবুও ব্যাংক বিভিন্ন প্রকার চার্জ কেটে নেয়।

সুতরাং ব্যাংক লেনদেন করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের নিয়ম বিশেষ করে চার্জ ও ফি সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে ব্যাংক একাউন্ট খোলা কিংবা ব্যাংকিং লেনদেন করা আপনার জন্য শ্রেয় ।

উপসংহার:

আশাকরি এই ইনফোটি আপনাকে ব্যাংকের বিভিন্ন ফি ও চার্জ সর্ম্পকে জানতে সাহায্য করবে। আপনার কাছে এটি প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করে নিজের ওয়ালে রেখে দিন পরবর্তীতে সহজেই খুজে পাওয়ার জন্য।

আরো মানুষকে এই বিষয়ে জানাতে শেয়ার করুন বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে। এতে কারো না কারো ইনফোটি কাজে লাগতে পারে।


Home BD info এর অন্যান্য ইনফো






একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)


#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !