আপনার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হলে কি করবেন?

যারা মোটরযান ব্যবহার করেন তাদের এই বিষয়ে জানা দরকার। কারণ সড়কে চলাচল করতে হলে ট্রফিক আইন নিয়মনীতি মেনে চলতে হবে। যদি কেউ ট্রাফিক আইন মেনে না চলেন তাহলে চালক কিংবা মোটরযানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয় ট্রাফিক পুলিশ। “আপনার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হলে কি করবেন?” এই সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে আজকে আমরা আলোচনা করবো।

আপনার মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হলে কি করবেন?

মোটরযান যারা ব্যবহার করেন তারাতো বটেও আপনার জন্যও জেনে থাকা অনেক ভাল। মুখের সামনে কেউ বিপদে পড়লে হয়তো তাকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করতে পারবেন।

পুলিশের ট্রফিক বিভাগ আইনগত ব্যবস্থার ক্ষেত্রে প্রথমেই মামলা করে। এই মামলায় নির্দিষ্ট অঙ্কের জরিমানা পরিশোধ করা লাগে । যদি জরিমানা পরিশোধ করা কয়, তাহলে পরবর্তীতে আর কোন ঝামেলা থাকে না।

আবার যদি জরিমানা পরিশোধ না করেন, তাহলে বিষয়টি আদালত পর্যান্ত গড়াবে। তাই কি কারণে মোটরযানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়? মামলা কে করেন? মামলা হলে করণীয় কি? এই বিষয়ে জানুন।

 

মোটরযান আইনি কি কি কারণে মামলা হতে পারে?

গাড়ি অবৈধ, যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ট্রাফিক আইন মেনে না চললে সাধারণত মামলা হয়ে থাকে। যেমন-

** মোটরযানের বৈধ কাগজপত্র না থাকলে

** রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট, ফিটনেস সার্টিফিকেট না থাকলে

** ট্যাক্স টোকেন ও ইন্সুরেন্স না থাকলে

** সাধারণ পরিবহনের জন্য রুট পারমিট না থাকলে

** চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে

এসকল কারণে মোটরযান কিংবা চালকের বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে।

এছাড়াও ভুল করে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ট্রাফিক আইন না মানা, যেমন- ট্রাফিক সিগন্যাল লাইট না মেনে গাড়ি চালানো, বিপজ্জনকভাবে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালালে, যখন তখন লেন পরিবর্তন করে গাড়ি চালালে, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোনে কথা বললে, হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালালে এই আইনে মামলা হতে পারে।

 

যনবাহনের কি ত্রুটির কারণে মামলা হতে পারে?

যান বাহনের বিভিন্ন ত্রুটির কারণে মামলা হতে পারে। যেমন- হেডলাইট না জ্বলা বা না থাকা, ইন্ডিকেটর লাইট না থাকা বা না জ্বলা।

সাধারণ পরিবহণে গাড়ির বডিতে পার্টিকুলার বা বিবরণ না থাকা, গাড়িতে অতিরিক্ত আসন সংযোজন কিংবা গাড়িতে বিআরটিএ অনুমোদন ছাড়া কোন সংযোগ বা পরিবর্তন করলে মোটরযান আইনে মামলা হতে পারে।

 

মামলা কখন কে করতে পারে?

গাড়ি চলাকালে কর্তব্যরত যেকোনো পুলিশ মামলা করার প্রয়োজন এবং যথাযথ মনে করলে মোটরযান আইনে মামলা করতে পারেন।

রাস্তায় তাৎক্ষণিক মামলা করার ক্ষেত্রে মামলা প্রদানকারী কর্মকর্তা যানবাহনের একটি ডকুমেন্ট জব্দ করে থাকেন।

তবে যদি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকেন, তাহলে মোটরযান আইন ছাড়াও নিয়মিত মামলা হতে পারে।


ঘরে বসে পুলিশের কি কি সেবা কিভাবে নিবেন? 

ডিজিটাল আইনের কি কি বিষয় আপনার জানা জরুরী?

মামলা করবেন কিভাবে? মামলা করার আগে কি জানা জরুরী?

মোটরসাইকেল চুরি হলে ফেরত পাবেন কিভাবে?


মামলা হলে কি করবেন বা করণীয় কি?

যে কোনো আইন ভাঙ্গার কারণে আপনার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। ডকুমেন্টারি বা অন্য কোন কারণে যদি মোটরযান আইনে মামলা হয়, তবে সেটা বিশেষ উদ্বেগজনক কিছু নয় এমনটিই বলে থাকেন আইনজীবীরা।

 

ঢাকা শহরের ক্ষেত্রে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের চারটি জোন বা এলাকা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ জোন। এসব ক্ষেত্রে ডেপুটি কমিশনার (ডিসি, ট্রাফিক) প্রতিটি জোনের দায়িত্বে থাকেন। যেকোনো মামলার ক্ষেত্রে সবার আগে বিবেচনা করুন আপনার মামলাটি কোন জোনের আওতায় হয়েছে।

আপনার মামলাটি কোন জোনের আওতায় হয়েছে তা জরিমানা করার সময় যে টিকেট দেওয়া হয় সেই টিকেটের পিছনে লেখা থাকে।

সংশ্লিষ্ট জোনের ডেপুটি কমিশনারের দপ্তরে গিয়ে কিছু দাপ্তরিক কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে খুব সহজেই মামলা নিষ্পত্তি করতে পারবেন। এক্ষেত্রে আপনাকে নির্দিষ্ট জরিমানা প্রদান করতে হবে। বিচারক অথবা ডিসি ট্রাফিক জরিমানার অঙ্ক নির্ধারণ করে থাকেন।

জরিমানা নির্ধারণকারী পূর্ণ জরিমানার চার ভাগের এক ভাগ পর্যান্ত জরিমানা করতে পারেন, আবার মওকুফও করে দিতে পারেন। জরিমানা প্রদানের পরপরই আপনার জব্দ হওয়া ডকুমেন্ট বুঝে নিবেন।


আদালতে বিচার

নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে যদি মামলা নিষ্পত্তি না করেন তাহলে ওয়ারেন্ট ইস্যুর জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা পাঠানো হয়ে থাকে। আদালত থেকে ওয়ারেন্ট ইস্যু হওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তারা সংশ্লিষ্ট গাড়িটি আটক করেন।

আদালতে জরিমানার টাকা দিলে আদালত গাড়িটি ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দিতে পারেন। অনেক সময় অভিযুক্ত চালক আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে পুলিশের করা মামলার বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন যদি তিনি মামলা হওয়ার মত অপরাধ না করে থাকেন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.