Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

সদকাতুল ফিতর কি? এবছর জনপ্রতি ফিতরার পরিমান কত?

ফিতরার পরিমান, কার উপর ওয়াজিব, কখন আদায় করতে হবে এবং ইসলামিক বিধান — সহজ বাংলায় সম্পূর্ণ গাইড।

ওয়াজিবনিসাব পরিমান সম্পদের মালিকদের জন্য
ঈদের আগেনামাজের পূর্বে আদায় করতে হবে
১ সাপ্রায় সাড়ে তিন কেজি খাদ্যবস্তু

ফেতরা বা সদকাতুল ফিতর ঐ নির্ধারিত সদকাকে বলা হয় যা ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে প্রদান করা হয়। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার শেষে এবং ঈদুল ফিতর নামাজের আগে এই সদকা প্রদান করা হয় বলে একে সদকাতুল ফিতর বা ফিতরাও বলা হয়।

সদকাতুল ফিতর কি এবছর জনপ্রতি ফিতরার পরিমান কত

📢 ২০২৬ সালে জনপ্রতি ফিতরার পরিমান

সর্বনিম্ন ১১৫৳ গম/আটার হিসাবে
সর্বোচ্চ ২৬৪০৳ কিশমিশের হিসাবে

* বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন নির্ধারিত পরিমান। প্রতি বছর খাদ্যমূল্য অনুযায়ী পরিবর্তন হতে পারে।

ফিতরা বা সদকাতুল ফিতর কী?

"সদকাতুল ফিতর" শব্দ দুটি আরবি। সদকা মানে দান, আর ফিতর মানে রোজার সমাপন বা ঈদুল ফিতর। অর্থাৎ ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যে দান করা হয় তাকেই সদকাতুল ফিতর বলা হয়। একে জাকাতুল ফিতর বা শুধু ফিতরাও বলা হয়।

📿

ফিতরার অর্থ

সদকাতুল ফিতর — ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রদত্ত দান বা সদকা।

⚖️

শরিয়তের বিধান

নিসাব পরিমান সম্পদের মালিকদের জন্য ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব।

🕌

কখন আদায়

ঈদুল ফিতর নামাজের আগে। ২৮ রমজান থেকে আদায় করা উত্তম।

🤲

কাকে দেবেন

যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায়, তাদেরকে ফিতরাও দেওয়া যায়।

ফিতরা আদায়ের শরয়ী বিধান

📖 হাদিস শরিফ

হযরত ইবনে ওমর (রা) বলেন, রাসূল (সাঃ) সদকাতুল ফিতর অপরিহার্য করেছেন। এর পরিমাণ হলো এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবার উপর ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।

— বুখারি হাদিস নং ১৫১২
✅ শরয়ী বিধান

ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। যারা নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক নন, তাদের জন্য এটি ওয়াজিব নয়, তবে আদায় করলে সওয়াব পাবেন।

ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত

যাকাতের মতোই ফিতরা ওয়াজিব হওয়ার শর্ত হচ্ছে নিসাব পরিমান সম্পদের মালিক হওয়া।

💡 নিসাব পরিমান সম্পদ

কারো কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা বা সমপরিমান ব্যবসায়িক নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ ঈদুল ফিতরের সময় বিদ্যমান থাকলে তার উপর ফিতরা ওয়াজিব।

ℹ️ বিশেষ বিধান

যার উপর ফিতরা আদায় করা ওয়াজিব, তিনি তার নিজের পাশাপাশি তার অধীনস্থদের পক্ষেও আদায় করতে পারবেন। ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, স্থাবর সম্পদ — ফিতরার ক্ষেত্রে এগুলোও নিসাবের অন্তর্ভুক্ত।

কোন খাদ্যবস্তু দিয়ে ফিতরা আদায় করবেন?

📖 হাদিস শরিফ

হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা) বলেন, রাসূল (সাঃ)-এর জামানায় আমরা সদকাতুল ফিতর দিতাম এক সা (প্রায় সাড়ে তিন কেজি) খাদ্যবস্তু। তখন আমাদের খাদ্য ছিল: যব, কিশমিশ, পনির ও খেজুর।

— বুখারি, খন্ড-১, পৃষ্ঠা ২০৪
খাদ্যবস্তুপরিমান (১ সা)আনুমানিক মূল্য ২০২৬
🌾 গম/আটাপ্রায় ১.৭৫ কেজি (অর্ধ সা)১১৫ টাকা
🌾 যবপ্রায় ৩.৫ কেজিনির্ধারিত হারে
🌴 খেজুরপ্রায় ৩.৫ কেজি১৬৫০ টাকা
🍇 কিশমিশপ্রায় ৩.৫ কেজি২৬৪০ টাকা
🧀 পনিরপ্রায় ৩.৫ কেজিনির্ধারিত হারে
✅ টাকায় আদায়

ফিতরার নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রীর পরিবর্তে তার সমপরিমান মূল্যের টাকাও আদায় করা যায়। ফিতরার টাকা দিয়ে কোনো বস্তু ক্রয় করে দেওয়াও জায়েজ।

ফিতরা কখন এবং কীভাবে আদায় করবেন?

  1. ১
    সময়: ঈদুল ফিতরের নামাজের আগে আদায় করুন। ২৮ রমজান থেকে আদায় শুরু করা উত্তম।
  2. ২
    পরিমান নির্ধারণ: পরিবারের মোট সদস্য সংখ্যা গণনা করুন এবং জনপ্রতি ফিতরার পরিমান হিসাব করুন।
  3. ৩
    খাদ্য বা টাকা: নির্ধারিত খাদ্যবস্তু বা সমপরিমান টাকা দেওয়া যাবে — যেটা সুবিধাজনক।
  4. ৪
    প্রাপক: যাদেরকে জাকাত দেওয়া যায়, তাদেরকেই ফিতরা দিন — গরিব, মিসকিন, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি।

পরিবারের কতজনের ফিতরা দিতে হবে?

একটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, শিশু-কিশোর, ভাই-বোন এবং পিতা-মাতাসহ মোট ৮ জন সদস্য থাকলে পরিবারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি সবার ফিতরা আদায় করবেন। প্রত্যেক সদস্যের জন্য আলাদা হিসাব করে মোট পরিমান দিতে হবে।

📊 উদাহরণ হিসাব

পরিবারে ৫ জন সদস্য থাকলে: ৫ × ১১৫ = ৫৭৫ টাকা (সর্বনিম্ন হারে) অথবা ৫ × ২৬৪০ = ১৩,২০০ টাকা (সর্বোচ্চ হারে)। সামর্থ্য অনুযায়ী যেকোনো হারে আদায় করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এবছর সর্বোচ্চ ফিতরার পরিমান হচ্ছে ২৬৪০ টাকা আর সর্বনিম্ন পরিমান হচ্ছে ১১৫ টাকা।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন

ফিতরা ও জাকাতের মধ্যে পার্থক্য কী?
জাকাত বছরে একবার সম্পদের নির্দিষ্ট অংশ (২.৫%) আদায় করতে হয়। ফিতরা হলো ঈদুল ফিতরের সাথে সংযুক্ত বিশেষ সদকা যা প্রতি ব্যক্তির জন্য নির্দিষ্ট পরিমানে আদায় করতে হয়। জাকাতের নিসাব না থাকলেও ফিতরার কিছু নিয়ম ভিন্ন।
ঈদের নামাজের পরে ফিতরা আদায় করলে হবে?
ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করা সুন্নত। নামাজের পরে আদায় করলে সাধারণ সদকা হিসেবে গণ্য হবে, ফিতরার সওয়াব পাওয়া যাবে না।
শিশু সন্তানের ফিতরা কে দেবেন?
শিশু সন্তানের ফিতরা পিতাকে দিতে হবে। পিতা সামর্থ্যবান হলে পরিবারের সকল সদস্য — স্ত্রী, ছেলে-মেয়ে — সকলের ফিতরা তিনি আদায় করবেন।
ফিতরার টাকা কি কোনো প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ, বিশ্বস্ত ইসলামিক প্রতিষ্ঠান বা মাদরাসায় ফিতরা দেওয়া যাবে, যদি সেই প্রতিষ্ঠান গরিব ও মিসকিনদের মধ্যে বিতরণ করে।
একই ব্যক্তিকে কি জাকাত ও ফিতরা উভয়ই দেওয়া যাবে?
হ্যাঁ, যে ব্যক্তি জাকাত পাওয়ার যোগ্য, সে ব্যক্তিকে ফিতরাও দেওয়া যাবে।

🤲 ফিতরা সময়মতো আদায় করুন

ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা আদায় করুন। এটি রোজার ত্রুটি-বিচ্যুতির কাফ্ফারা এবং গরিবদের জন্য ঈদের খুশি ভাগ করার সুযোগ। সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ পরিমানে আদায় করার চেষ্টা করুন।

রমজান ও ইবাদত সম্পর্কে আরো জানুন

শেষ আপডেট: মার্চ ২০২৬ | তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ইসলামি ফাউন্ডেশন, হাদিস গ্রন্থসমূহ

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.