ফুডপয়জনিং কি? গরমকালে ফুডপয়জিং হলে কি করবেন? প্রতিকার কিভাবে নিবেন

0

ফুডপয়জনিং কি? গরমকালে ফুডপয়জিং হলে কি করবেন? প্রতিকার কিভাবে নিবেন ইত্যাদি বিষয়ে জানাচ্ছেন রতন মিয়া।

ফুড পয়জনিং হলে কি করবেন


ফুডপয়জনিং বা খাদ্যে বিশক্রিয়া একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা হলেও এটিকে মামুলি মনে করা উচিৎ নয়। হতে পারে ফুডপয়জনিং থেকে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুকি হতে পারে আপনার জন্য। এজন্য সতর্ক হতে হবে খাবার দাবারে। বিষেশ করে যারা বাহিরে খাবার খান তাদের বেশি যত্নশীল হতে হবে খাবার খেতে।

ফুডপয়জনিং এর কারণসমূহ

সাধারণত ফুডপয়জনিং এ আক্রান্ত হয় যে সব খাবার গ্রহণে তা হচ্ছে- 
  • রাস্তা বা হোটেলের বাসি খাবর
  • পচা খাবার
  • অস্বাস্থ্যকর জীবাণুযুক্ত খাবার
  • অনেক সময় গরমে থাকার কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার
  • বন্যার সময় পনীয় জলের অভাব
  • হাওড়-বিলের মরে যাওয়া মাছ খাবার হিসাবে গ্রহণ ইত্যাদি
অনেক সময় নানান জীবাণু যুক্ত খাবার গ্রহণের ফলে ফুডপয়জনিং জটিল আঁকার ধারণ করে থাকে। এ অবস্থাকে পেটের পীড়া বলা হয়। বিজ্ঞানের পরিভাষায় ফুডপয়জনিং হচ্ছ কোন খাবার খেয়ে বারবার বমি, পাতলা পায়খানা, জ্বর, পেট ব্যাথা যদি শুরু হয় তাবে ফুডপয়জনিং বলে।

সকল বয়সের লোকের এ ধরণের সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে খাবার স্বাস্থ্য সম্মত থাকলেও খাবার পরিবেশ পত্রগুলো জীবাণুমুক্ত হয় না ।ফলে এসব পাত্রে খাবার পরিবেশন করা হলে ফুডপয়জনিং হতে পারে। গরমের সময় অনেকে পিপাসা মিঠানো জন্য রাস্তার তৈরি শরবত খেয়ে ফেলেন। ফলে ফুডপয়জনিং হতে পারে।

প্রচন্ড গরমের কারণে দেহের ভেতরে পানির চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যায়। ফলে অনেকে যত্রতত্র পানীয় খেয়ে পিপাসা মিটিয়ে থাকেন। এর ফলে ফুডপয়জনিং হতে পারে। এছাড়াও গরমে নিজের ঘরের খাবারও যদি অনেক্ষণ বাহিরে রাখা হয়, তাহলে তা নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং তা মাইক্রোওয়ভে গরম করা হলেও অনেক সময় জীবাণুমুক্ত হয় না। ফলে আপনার ফুডপয়জনিং হতে পারে। 

বিভিন্ন ধরণের জীবাণু দ্বারাও ফুডপয়জনিং  এ আক্রান্ত হতে পারেন। খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে মূলত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকবেন। তবে খাবারে বিশ ক্রিয়ার কার যাই থাকুক না কেন ফুড পয়জনিং এর লক্ষণগুলো অনেকটা একই থাকে।

এ রোগের কি কি লক্ষণ দেখা যায়

ফুডপয়জনিং হলে যে সব লক্ষাণ দেখা দেয় তা হচ্ছে-

  • পেটে ব্যাথা
  • হজমে সমস্যা
  • ডাইরিয়া
  • বমি
  • অনেক সময় জ্বর হতে পারে

অনেক সময় এমনও হয় যে ফুডপয়জনিং ও ডায়রিয়াকে আলাদা করা যায় না।

বিষক্রিয়া রোগের চিকিৎসা

ফুডপয়জনিং হলে প্রথমেই আপনাকে খাবার-দাবারে সতর্ক হতে হবে। নরম খাবার খাওয়া আপনার জন্য ভাল। এ ছাড়াও লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ। যেমন- জ্বর হলে প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, বমি ও পাতলা পায়খানা হলে খাবার স্যালাইন খাওয়া আপনার চিকিৎসা হতে পারে।

রোগের তীব্রতা অনুসারে উপযুক্ত অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশক ওষুধ সেবন করলে দ্রুত আরগ্র লাভ করতে পারেন। অনেক সময় এক ধরণের টক্সিন (এনথ্রাক্স, বোটুলিমিনাস টক্সিন) থেকেও এ রোগ হতে পারে আপনার।

আপনি যদি সময়মত এ রোগের চিকিৎসা না করেন তাহলে শরীরে তীব্র পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে । ফলে আপনার কিডনি অকেজো হতে পারে। এটা আপনার মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ফুডপয়জনিং প্রতিরোধের উপায়

এ রোগ খাবারে বিষক্রিয়ার মাধ্যমে হয়ে থাকে । তাই আপনি যদি খাবারে সতর্ক থাকুন তাহলে অনেকটা এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারেন। এছাড়া প্রতিরোধের যে উপায় গ্রহণ করতে পারেন-
  • রাস্তার খোলা খাবার না খাওয়া
  • পনি ফুটিয়ে খাওয়া
  • খাবারের পাত্র ভালভাবে ধুয়া
  • খাওয়ার আগে হাত ভালো করে ধুয়া
  • দুধ, কলা, ফলমূল বেশিদিন পুরোনো হযে গেলে তা না খাওয়া
  • গরমের সময় হোটেলে না খাওয়াই উত্তম। কেননা অনেক হোটেলে স্বাস্থ্য সম্মত খাবারে যত্নশীল থাকে না
  • টাটকা খাবার গ্রহণ করা । কয়েকদিন ধরে ফ্রিজে রাখা খাবার খাওয়া উচিৎ নয়
  • খাবার ভালভাবে ঢেকে রাখা তা না হলে বিভিন্ন কীটপতঙ্গ খাবারে বসে জীবাণু ছড়াত পারে
Tags

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)


#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !