অনলাইন শপিং প্রতারণা বন্ধের উপায়: কেনাকাটা অনলাইন শপ প্রতারিত হলে কি করবেন?

0

বর্তমান সময়ে অনলাইন শপিং দিন দিন অধিকহারে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাংলাদেশে ই কমার্স বেশ সুনামও অর্জন করেছে অল্প সময়ে। তবে এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারক চক্রও প্রতারণা করার জন্য মাঠে নেমে পড়েছে।ফলে ক্রেতারা বিভিন্নভাবে প্রতারিত হচ্ছেন। তাই আজকের ইনফো শেয়ার করা হলো অনলাইন শপিং প্রতারণা বন্ধের উপায় কিংবা কেনাকাটা অনলাইন শপ প্রতারিত হলে কি করবেন?

 

অনলাইন শপিং প্রতারণা বন্ধের উপায়: কেনাকাটা অনলাইন শপ প্রতারিত হলে কি করবেন?

বর্তমান পরিস্থিতিতে অনলাইনে কেনা কাটা স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বহুগুণ বেড়ে গেছে। ফলে ফেসবুক কেন্দ্রিক প্রচুর পরিমানে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নানান অভিযোগও রয়েছে, অনলাইনে চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে গ্রহকের কাছে নিম্নমানের পন্য পঠিয়ে থাকে। অনেক সময় প্রতারকরা প্রকৃত পণ্য না দিয়ে আলু, পটল, পেঁয়াজ বা সাবানের মতো পণ্য পাঠিয়ে গ্রহকের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়।

 

অনলাইনে পণ্যের মূল্য অগ্রিম পরিশোধ করে প্রতারণা

অনলাইনে যেমন ই কমার্স দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে সাথে সাথে আবার অন্যদিকে গ্রাহক বা ক্রেতাদের সাথে প্রতারণার ঘটনাও বেড়েই চলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারণার স্বীকার এক গ্রহক জানান, তার মেয়ের জন্য জামা অর্ডার করেন একটি ফেসবুক পেইজে। বিকাশের মাধ্যমে অগ্রিম মূল্য পরিশোধও করেন। দুই দিনের মধ্যে জামা তার ঠিকানায় চলে আসার কথা। কিন্তু ৫ দিনেও হাতে না পেয়ে বিক্রেতার ফ্যাশন হাউজে ফোন করেন।

 তারা আজ, কাল, পরশুর মধ্যে পণ্য হাতে পেয়ে যাবেন বলে ঘোরাতে থাকে। এভাবে কিছু দিন যেতেই থাকে কিন্তু পণ্য ডেলিভারী করে না। এক সময় তাদের অফিশিয়াল ফোন নম্বর বন্ধ ও ফেসবুক পেজটি নিষ্ক্রিয় হয়ে যায়।তাই ফেসবুকে পেইজ থেকে পণ্য ক্রয় করতে হলে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতারক কিনা তা পণ্য ক্রয় করার আগেই যাচাই করে নিতে হবে।

এছাড়াও প্রতারণার স্বীকার আরো একজন গ্রাহক জানান যে, তিনি একটি ই কমার্স সাইট থেকে একটি ঘড়ি অর্ডার করেন। হাতে পাওয়ার পর দেখেন ঘড়িটি কাজ করে না। ই কমার্স সাইটে ফোন করেও তারা কোন সমাধান দেয় নাই। তাই ক্রয় করার আগে রিটার্ন সুবিধা দেয় কিনা দেখে পণ্য ক্রয় করবেন।

 

অনলাইনে বিক্রেতা প্রতারণ কিনা কিভাবে বুঝবেন?

যার অনলাইনে নতুন কিংবা নতুন কোন অনলাইন শপিং থেকে পণ্য ক্রয় করেন তারাই মূলত প্রতারিত হয়ে থাকেন। উপরের দুটি উদাহরণে এমনটি বুঝা যায়। অনলাইনে পণ্য ক্রয় করার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ই কমার্সগুলো থেকে পন্য ক্রয় করলে প্রতারিত হওয়ার সম্ভবণা নেই। এছাড়াও যে বিষয়গুলো দেখবেন তা হচ্ছে- তাদের অফিসিয়াল কোয়ালীটি, পণ্য রিটার্ন সুবিধা, কতদিন ধরে ই কমার্স চালু রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ রয়েছে কিনা এবং পণ্য হাতে পেয়ে মূল্য পরিশোধ করা যায় কিনা ইত্যাদি।

 

স্থানীয় ই কমার্স হলে সরাসরি খোঁজ নিন আগে তারপর পণ্য অর্ডার করুন। প্রতিষ্ঠিত ও বিশ্বস্থ ই কমার্স ছাড়া অন্য কোন সাইটে পণ্য অর্ডার দিয়ে মূল্য পরিশোধ করলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। তাই অনলাইনে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সচেতন ও সতর্কতাই হতে পারে প্রতারণা থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।

 

প্রতারিত হলে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন?

কেউ কেনাকাটা অনলাইন শপ প্রতারিত হলে দেওয়ানি ও ফৌজদারি দুই ধরণের মামলা করতে পারে। দেওয়ানি আদালতে প্রয়োজনীয় নথিপত্রসহ ক্ষতিপূরণ মামলা করা যেতে পারে আর ফৌজদারি আদালতে ৪২০ ধারার আওতায় প্রতারণার মামলা করা যেতে পারে। এছাড়াও দ্য সেলস অব গুডস অ্যাক্টের আওতায় প্রতিকার পেতে পারেন্ চুক্তি আইনেও আশ্রয় গুহণ করে প্রতিকার পাওয়া যায়। এমনকি প্রতিটি জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ করেও প্রতিকার পেতে পারেন।

 

তবে সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ করা। আপনি যদি অনলাইনে প্রতারিত হয়ে থাকেন তাহলে সংশ্লিষ্ট গ্রুপ বা সাইটের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করতে হবে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে কিভাবে অভিযোগ করবেন নিচে আলোচনা করা হলো।

 

যেভাবে অভিযোগ দায়ের করবেন

আপনার অভিযোগটি অবশ্যই লিখিত হতে হবে। ফ্যাক্স, ই-মেইল কিংবা ওয়েবসাইট ইলেক্ট্রনিক মাধ্যম বা অন্য কোন উপায়ে অভিযোগ দায়ের করতে হবে। অভিযোগের সাথে পণ্য বা সেবা ক্রয়ের রশিদ সংযুক্ত করতে হবে। পণ্য ক্রয় করার তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে অভিযোগ করতে হবে।

আপনি অভিযোগকারী হলে আপনার পূর্ণ নাম, পিতা ও মাতার নাম, ঠিকানা, ফোন, ফ্যাক্স ও ইমেইল (যদি থাকে) এবং আপনার পেশ উল্লেখ করতে হবে।

অভিযোগ পত্রের নমুনা ফরম দেখতে এখানেক্লিক করুন

 

অনলাইনে প্রতারিত হলে যেখানে অভিযোগ দায়ের করবেন

  •     মহাপরিচালক, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, ১ কারওয়ান বাজার (টিসিবি ভবন-৮ম তলা), ঢাকা, ফোন: +৮৮০২ ৮১৮৯৪২৫
  •     জাতীয় ভোক্তা অভিযোগ কেন্দ্র,  টিসিবি ভবন- ৯ম তলা, ১ কারওয়ান বাজার ঢাকা, ফোন: ০১৭৭৭ ৭৫৩৬৬৮, ই-মেইল: nccc@dncrp.gov.bd 
  •     উপ পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি ভবন, বন্দরটিলা, চট্টগ্রাম, ফোন: ০৩১-৭৪১২১২
  •     উপ পরিচালক, রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, শ্রীরামপুর, রাজশাহী, ফোন: +৮৮০৭ ২১৭৭২৭৭৪
  •     উপ পরিচালক, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, টিসিবি ভবন, শিববাড়ী মোড়, খুলনা, ফোন: ০৪১-৭২২৩১১
  •     উপ পরিচালক, বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মহিলা ক্লাব ভবন, বরিশাল, ফোন: +৮৮০৪ ৩১৬২০৪২
  •     উপ পরিচালক, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়, সিলেট ফোন: ০৮২১-৮৪০৮৮৪
  •     উপ পরিচালক, রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিউ ইঞ্জিনিয়ার পাড়া, রংপুর, ফোন: ০৫২১-৫৫৬৯১
  •     প্রত্যেক জেলার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

উৎস: জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর

 

শেষকথাঃ

আশাকরি এই ইনফোটি আপনাকে অনলাইন শপিং প্রতারণা বন্ধের উপায়: কেনাকাটা অনলাইন শপ প্রতারিত হলে কি করবেন? জানতে সহায্য করবে। এই বিষয়ে আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। পরবর্তীতে আপনার কমেন্ট অনুযায়ী আপডেট করে শেয়ার করতে পাবেবো। এই ইনফোটি আপনার কাছে প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করে নিজের ওয়ালে রেখে দিন যাতে প্রয়োজনের সময় নিজের ওয়াল থেকেই সহজেই খুজে পান।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)

#buttons=(Accept !) #days=(20)

Our website uses cookies to enhance your experience. Learn More
Accept !