ফেসবুকে ফলোয়ার অপশন চালু করার নিয়ম: ফলো বাটন অন করবেন যেভাবে
এই লেখাটি এক বছরের বেশি আগে হালনাগাদ হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
অনেকের ফেসবুক প্রোফাইলে "Add Friend" বাটনের জায়গায় শুধু "Follow" বাটন দেখা যায়। আপনিও কি নিজের প্রোফাইলে এই ফলো বাটন চালু করতে চান? তাহলে এই গাইড আপনার জন্য।
এখানে জানবেন ফেসবুক ফলোয়ার কী, বন্ধু ও ফলোয়ারের পার্থক্য কী, মোবাইল ও কম্পিউটারে ফলোয়ার অপশন অন করার ধাপ এবং চালু করার আগে কী কী সতর্কতা মানা দরকার। প্রবাসী ভাই-বোনদের জন্য নিরাপত্তার বিষয়গুলোও আলাদা করে রাখা হয়েছে।
ফেসবুক ফলোয়ার কী?
ফেসবুক ফলোয়ার হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি আপনার সঙ্গে বন্ধুত্ব না করেও আপনার পাবলিক পোস্ট দেখতে চান। তিনি আপনার প্রোফাইলে "Follow" বাটনে ক্লিক করলেই আপনার পাবলিক পোস্ট তাঁর নিউজ ফিডে দেখতে পাবেন।
ফলোয়ার হওয়ার জন্য আপনার অনুমতি লাগে না। তবে ফলোয়ার শুধু আপনার "Public" করা পোস্টই দেখতে পান। বন্ধুদের জন্য সীমাবদ্ধ করা পোস্ট তাঁদের চোখে পড়ে না।
ফেসবুক বন্ধু ও ফলোয়ারের পার্থক্য
দুটির মধ্যে মূল পার্থক্য হলো সম্পর্কের ধরন ও দেখতে পারার সুযোগ।
- বন্ধু: দুই পক্ষ রাজি হলে বন্ধুত্ব হয়। বন্ধুরা একে অপরের শেয়ার করা বিষয় দেখতে পারেন এবং মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করতে পারেন। বন্ধু তালিকায় সর্বোচ্চ ৫ হাজার জন রাখা যায়।
- ফলোয়ার: এটি একমুখী সম্পর্ক। ফলোয়ার আপনার পাবলিক পোস্ট দেখেন, কিন্তু আপনি তাঁর পোস্ট নিউজ ফিডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পান না। ফলোয়ারের সংখ্যায় এই ৫ হাজারের সীমা নেই।
বন্ধুরা সাধারণত আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলোও করেন। অর্থাৎ ফলোয়ার অপশন চালু করলে বন্ধু ও অপরিচিত দুই ধরনের মানুষই আপনার পাবলিক পোস্ট দেখতে পারবেন।
ফলোয়ার অপশন কেন চালু করবেন?
নিচের ক্ষেত্রে ফলো বাটন কাজে আসতে পারে:
- আপনি পরিচিত নন এমন অনেকের সঙ্গে ভালো কনটেন্ট বা তথ্য শেয়ার করতে চান।
- বন্ধু তালিকা ব্যক্তিগত রেখে সবার জন্য খোলা কিছু পোস্ট দিতে চান।
- অপরিচিতদের কাছ থেকে অনাকাঙ্ক্ষিত ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট কমাতে চান।
- ব্যবসা, লেখালেখি বা সামাজিক কাজের জন্য বড় পরিসরে পৌঁছাতে চান।
তবে ফলোয়ার চালু করা বাধ্যতামূলক নয়। শুধু পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করলে এটি না করাই ভালো।
ফলোয়ার চালু করার আগে যা জানা দরকার
ফলো বাটন চালু করলে আপনার পাবলিক পোস্ট যে কেউ দেখতে পাবেন। তাই আগে নিজের পুরোনো পোস্ট ও প্রোফাইল তথ্য একবার দেখে নিন।
- কোন পোস্ট "Public" করা আছে, তা যাচাই করুন।
- ফোন নম্বর, ঠিকানা বা পরিবারের সদস্যদের তথ্য পাবলিক থাকলে তা সীমিত করুন।
- ভবিষ্যৎ পোস্টের ডিফল্ট প্রাইভেসি কী রাখবেন, তা ঠিক করে নিন।
- অচেনা কাউকে ব্লক করার সুবিধা থাকে, তাই প্রয়োজনে ব্লক লিস্ট ব্যবহার করুন।
ফেসবুকে ফলোয়ার অন করার নিয়ম (মোবাইল অ্যাপ)
ফেসবুকের মেনুর নাম ও অবস্থান সময়ের সঙ্গে বদলায়। তাই আপনার অ্যাপে নাম একটু ভিন্ন দেখালেও মূল ধাপগুলো একই থাকে।
ধাপ ১: সেটিংসে যান
মোবাইলে ফেসবুক অ্যাপ খুলুন। ডান পাশের নিচে বা উপরে থাকা মেনু (তিন দাগ) আইকনে ট্যাপ করুন। এরপর "Settings & privacy" থেকে "Settings" সিলেক্ট করুন।
ধাপ ২: পাবলিক পোস্ট বা প্রাইভেসি অংশে যান
সেটিংসে "Privacy" বা "Public posts" নামের অপশন খুঁজুন। সেখানে "Who can follow me" (কে আমাকে ফলো করতে পারবে) নামে একটি সেটিং পাবেন।
ধাপ ৩: "Who can follow me" সেটিং "Public" করুন
এই সেটিংয়ে "Friends" থাকলে শুধু বন্ধুরা ফলো করতে পারেন। সবাই ফলো করতে পারবে, এমন চাইলে "Public" বা "Everyone" নির্বাচন করুন।
ধাপ ৪: ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট সেটিং দেখুন
"Who can send you friend requests" সেটিংটি "Everyone" থাকলে প্রোফাইলে Add Friend ও Follow দুটোই দেখা যেতে পারে। অনেক গাইডে বলা হয়, এটি "Friends of friends" করলে অপরিচিতদের জন্য শুধু Follow বাটন থাকে। অ্যাকাউন্টভেদে এর আচরণ আলাদা হতে পারে।
ধাপ ৫: কমেন্ট ও নোটিফিকেশন ঠিক করুন
"Public post comments" সেটিংয়ে ঠিক করুন কে আপনার পাবলিক পোস্টে কমেন্ট করতে পারবে। এতে স্প্যাম ও অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য কমে। এই সুবিধা নিয়ে আরও জানতে পড়ুন আমাদের ফেসবুকের পাবলিক পোস্টে কমেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুবিধা লেখাটি।
কম্পিউটারে ফলোয়ার অপশন চালু করার নিয়ম
কম্পিউটার বা ল্যাপটপে ফেসবুকের চেহারা আলাদা হলেও সেটিংয়ের নাম প্রায় একই থাকে।
- Facebook.com-এ লগইন করুন।
- উপরে ডান কোণায় নিজের প্রোফাইল ছবিতে ক্লিক করুন।
- "Settings & privacy" থেকে "Settings" নির্বাচন করুন।
- বাঁ দিকের তালিকা থেকে "Privacy" বা "Public posts" খুঁজুন।
- "Who can follow me" সেটিংয়ে "Public" নির্বাচন করুন।
"Public" অপশন না পেলে কী করবেন?
কিছু অ্যাকাউন্টে "Who can follow me" সেটিংয়ে আর "Public" অপশন দেখা যায় না। সে ক্ষেত্রে ফেসবুকের "প্রফেশনাল মোড" (Professional mode, পরে নাম পাল্টে Pro mode) চালু করে অনুসারী পাওয়ার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে।
প্রোফাইল ছবির নিচে বা প্রোফাইলের অপশন মেনু থেকে এই মোড চালু করা যায়। তবে এটি চালু করলে প্রোফাইলের কিছু সেটিং বদলে যেতে পারে। তাই চালু করার আগে ফেসবুকের হেল্প সেন্টারের বর্তমান নির্দেশনা পড়ে নিন।
ফলো বাটন চালু হয়েছে কি না কীভাবে বুঝবেন?
সেটিং পরিবর্তনের পর নিশ্চিত হতে নিচের উপায় ব্যবহার করুন:
- অন্য কোনো বিশ্বস্ত বন্ধুকে দিয়ে আপনার প্রোফাইল দেখান, যিনি আপনার বন্ধু তালিকায় নেই (বা অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে নিজেই দেখুন)।
- প্রোফাইলে "Follow" বাটন দেখা গেলে সেটিং কাজ করছে বুঝবেন।
- ফেসবুক যদি "View as" সুবিধা দেয়, তা দিয়েও নিজের পাবলিক প্রোফাইলের চেহারা দেখে নিতে পারেন।
আপনার ফলোয়ার তালিকা কীভাবে দেখবেন?
নিজের প্রোফাইলে গিয়ে "Friends" ট্যাবে যান। সেখানে "Followers" অপশন পাবেন। এই তালিকায় সাধারণত তাঁরাই থাকেন, যাঁরা বন্ধু না হয়েও আপনাকে ফলো করছেন।
আপনার কোনো ফলোয়ার না থাকলে এই অপশনটি দেখা নাও যেতে পারে। কোনো ফলোয়ারকে চান না, এমন হলে তাঁকে ব্লক করে দিতে পারেন।
বিশেষ সতর্কতা (প্রবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ):
- ফলোয়ার চালু থাকলে আপনার পাবলিক পোস্ট অপরিচিতরাও দেখেন। তাই বাসার ঠিকানা, পরিবারের তথ্য বা কর্মস্থলের লোকেশন পাবলিক করবেন না।
- পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক কার্ড বা ইকামার ছবি কখনো পোস্ট করবেন না।
- "দেশে কবে যাচ্ছি", "বাসা ফাঁকা" ধরনের পোস্ট চুরি বা প্রতারণার ঝুঁকি বাড়ায়।
- অচেনা কেউ টাকা পাঠাতে, ওটিপি দিতে বা লিংকে ক্লিক করতে বললে সঙ্গে সঙ্গে ব্লক করুন।
- আপনার ছবি ও নাম ব্যবহার করে ভুয়া আইডি খোলা হলে দ্রুত রিপোর্ট করুন।
প্রোফাইল ফলোয়ার ও পেজ ফলোয়ারের পার্থক্য
ব্যক্তিগত প্রোফাইলের ফলোয়ার এবং ফেসবুক পেজের ফলোয়ার এক জিনিস নয়। দুটির তালিকা ও সেটিং আলাদা।
প্রোফাইলে ফলো বাটন চালু করতে হয় আপনার নিজের প্রাইভেসি সেটিং থেকে। আর পেজে যে কেউ সরাসরি ফলো করতে পারেন। ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের প্রচারের জন্য আলাদা একটি পেজ খুলে রাখাই সাধারণত বেশি নিরাপদ, কারণ তাতে ব্যক্তিগত প্রোফাইল ও পারিবারিক ছবি আলাদা থাকে।
ফলোয়ার চালু রাখার পর কিছু ভালো অভ্যাস
- মাঝে মাঝে নিজের পোস্টের প্রাইভেসি আইকন দেখে নিন, কোনটি "Public" আছে।
- অপরিচিত ফলোয়ারের প্রোফাইল সন্দেহজনক মনে হলে ব্লক করুন।
- পাবলিক পোস্টে ব্যক্তিগত বিষয়ের বদলে সাধারণ, উপকারী তথ্য শেয়ার করুন।
- ফেসবুকে কেউ নিজেকে সরকারি কর্মকর্তা, ব্যাংক বা দূতাবাসের প্রতিনিধি দাবি করলে অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করুন।
ফলোয়ার অপশন বন্ধ করার নিয়ম
ফলোয়ার অপশন চালু রাখতে না চাইলে একই জায়গায় গিয়ে "Who can follow me" সেটিং আবার "Friends" করে দিন। এতে নতুন করে অপরিচিতরা ফলো করতে পারবেন না।
আগের ফলোয়ারদের কী হবে, তা আপনার অ্যাকাউন্টের সেটিং ও ফেসবুকের বর্তমান নিয়মের ওপর নির্ভর করে। প্রয়োজনে অপছন্দের ফলোয়ারকে আলাদাভাবে ব্লক করুন।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ফেসবুকে ফলো করলে কি বন্ধু হয়ে যায়?
না। ফলো করা মানে শুধু পাবলিক পোস্ট দেখা। বন্ধু হতে হলে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে গ্রহণ হওয়া লাগে।
ফলোয়ার কি আমার প্রাইভেট পোস্ট দেখতে পাবে?
না। ফলোয়ার শুধু আপনার "Public" করা পোস্ট দেখতে পান। বন্ধুদের জন্য সীমাবদ্ধ বা "Only me" পোস্ট দেখা যায় না।
ফলোয়ার কি আমাকে মেসেজ করতে পারে?
মেসেজ পাঠানো আপনার মেসেজ সেটিংয়ের ওপর নির্ভর করে। অপরিচিতের মেসেজ নিয়ন্ত্রণে রাখতে মেসেঞ্জারের প্রাইভেসি সেটিং দেখে নিন।
ফেসবুকে ফলোয়ারের কি কোনো সীমা আছে?
বন্ধু তালিকায় ৫ হাজার জনের সীমা থাকলেও ফলোয়ারের সংখ্যায় এমন সীমা সাধারণত থাকে না।
কাউকে ফলো করে রেখে বন্ধু হয়ে গেলে কী হয়?
বন্ধু হয়ে গেলে সাধারণত তাঁর পোস্ট আপনার নিউজ ফিডে আসে এবং তিনিও আপনাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফলো করেন। চাইলে বন্ধুকে "Unfollow" করে বন্ধুত্ব রেখেই তাঁর পোস্ট কম দেখতে পারেন।
শেষকথা
ফেসবুকে ফলো বাটন চালু করা সহজ, তবে এর সঙ্গে আপনার পাবলিক তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়টি জড়িত। সেটিং বদলানোর আগে কোন পোস্ট ও তথ্য সবার জন্য খোলা, তা যাচাই করে নিন।
লেখাটি উপকারী মনে হলে শেয়ার করুন। কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানান।
আরও পড়ুন: ফেসবুক ও অনলাইন নিরাপত্তা
ফেসবুক ব্যবহার ও সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত আরও কিছু গাইড:
- ফেসবুক ছদ্মবেশী অ্যাকাউন্ট কী? শিকার হলে কী করবেন
- ফেসবুকের পাবলিক পোস্টে কমেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুবিধা
- ফেসবুক মার্কেটিং কীভাবে করবেন
- সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং কী
- মোবাইলে ফেসবুক ভিডিও ডাউনলোড করার নিয়ম
তথ্যসূত্র
- Dummies – How to Activate the Follow Button on a Facebook Personal Profile
- Technobezz – How to See Who Is Following You on Facebook
- LouiseM – Facebook Follow: Public Posts Settings
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই: