এই লেখাটি এক বছরের বেশি আগে হালনাগাদ হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
রোজা সঠিকভাবে
পালনকালে যাতে আপনি অসুস্থ হয়ে না যান সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। আর রমজান মাসে বিশেষ
করে রোজা রাখার সময় সুস্থ্য থাকতে পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। রমজানে
ইফতার ও সাহরিতে মানসম্পন্ন খাবার দিয়ে তালিকা করতে হবে। আজকে “রমজান মাসে যে সকল খাবার
আপনাকে সুস্থ্য থাকতে সাহায্য করবে” সেই বিষয়ে আলোচনা করা হলো।
খাবার খাওয়াতে
আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা সাহরিতে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার খেলে শরীরে নানা
রকম সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। অধিক শক্তিশালী খাবার খেলেই যে আপনার শরীর ভালো থাকবে
তা কিন্তু নয়। নিয়ম অনুযায়ী পুষ্টকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। নিচে এই বিষয়ে কিছু টিপস
দেওয়া হলো।
পানি জাতীয়
খাবার বেশি পরিমানে খাওয়া
রমজান মাসে পানি জাতীয় খাবার বেশি বেশি খাওয়া জরুরী। দীর্ঘক্ষণ খানা না খাওয়ার ফলে শরীরে যাতে পানি শূণ্যতা দেখা না দেয় সেজন্য বেশি পানি জাতীয় খাবার খেতে হবে। তবে এই ক্ষেত্রে বিশুদ্ধ পানি ও ফলের রস বেশি কাজে লাগে।
আরো জানুন:
ইফতার ঘরে তৈরি করে খাওয়া বেশি নিরাপদ। বেশি তেলে ভাজা বাজারের তৈরি শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বাসাতেই অর্গানিক খাবার তৈরি করে ইফতার করুন।
ফল ও খেজুর খাবার তালিকায় রাখুন
তৈলাক্ত খাবার, ভাজা পোড়া বর্জন করে খাবার তালিকায় রাখুন বিভিন্ন ধরণের ফল। সবুজ ফল ও খেজুর শরীরের পুষ্টি ও শক্তি যোগাবে।
ইফতারে ও সাহরিতে নিয়মিত খেজুর খেলে শরীর থাকবে ক্লান্তহীন এবং স্বাস্থ্য থাকবে ভালো।
আদর্শ খাবার গ্রহণ করুন
রোজায় সুস্থ্য থাকতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে আদর্শ খাবার গ্রহণ করতে হবে। সাধারণত আদর্শ খাবার হলো ভাত, ডাল, মাংস, শাক-সবজি ইত্যাদি।
সাহরিতে গুরুর মাংস না খাওয়াই ভালো। সেহরিতে খাবার তালিকায় মাংস রাখতে চাইলে মুরগি কিংবা খাসির মাংস রাখতে পারেন।
শরীরে শক্তি বাড়ায় এমন খাবার গ্রহণ করুন
যে সকল খাবার শরীরে শক্তি বাড়ায় তা পর্যাপ্ত পরিমানে খেতে হবে। যেমন- পানি, ফল, চিড়া, রুটি, ভাত, সবজি, ডাল, ডিম, হালকা ধরণের খিচুড়ি ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে।
শর্করা জাতীয় খাবার ও পুষ্টিকর খাবার শরীরের ভারসম্য ঠিক করে সুস্থ্য রাখে। আর এই সকল খাদ্য শরীরে শক্তি বাড়ায়।
খাবার নিয়মিত রাখুন
রমজানের আগে থেকে যে নিয়মিত খাবার গ্রহণ করেন রোজায়ও তাই করুন। রমজানে খাবার তালিকা পরিবর্তন করা ঠিক নয়। তবে সারাদিন রোজা পালন করে শেষে পানি খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমানে।
মনে রাখবেন, হঠাৎ করে খাদ্য তালিকা পরিবর্তন করলে নানা শারীরিক সমস্যা হতে পারে।
সহজেই হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করুন
রোজা পালন অবস্থায় সহজেই হজম হয় এমন খাবার গ্রহণ করতে হবে। আপনাকে বুঝতে হবে কোন খাবারগুলো সহজেই হজম হয়, সেই খাবারগুলোকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।
রোজায় স্যুপ শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করবে
রমজানে স্যুপ আপনার শরীরকে সতেজ রাখবে এবং হজম প্রক্রিয়া সচল রাখবে। তাই সারাদিন রোজা পালন করে স্যুপ খান।
এছাড়া শাক-সবজি, বাঁধাকপি বাদ দিয়ে ফুলকপির স্যুপ বা লেটুস পাতার স্যুপ অনেক উপকারী। মনে রাখবেন, লেটুস পাতায় কোন গ্যাস হয় না।
স্বাস্থ্যগত সমস্য থাকলে সতর্ক থাকতে হবে
আপনার যদি শারীরিক কোন সমস্য থাকে তাহলে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে যারা দুর্বলতা, ক্লান্তি, অ্যাসিটিডি, ডায়াবেটিস, হৃদরোধ বা কিডনি জটিলতায় ভুগছেন তাদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।
যে কোন রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ নিয়মিত খেতে হবে। চিকিৎসার কারণে রোজা ভাঙ্গার প্রয়োজন হলে ঈমানদার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে ভুলবেন না।
স্বীকারোক্তিঃ এই ইনফোতে ছবিগুলো অনলাইন থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।
কোন মন্তব্য নেই: