Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

doe.gov.bd: পরিবেশ ছাড়পত্র (ECC) আবেদনের নিয়ম ও সেবা

ট্রেড লাইসেন্স আর টিআইএন থাকলেই কারখানা বা শিল্প প্রকল্প শুরু করা যায় না। আইনে স্পষ্ট বলা আছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প গড়া বা চালু করা যাবে না। এই ছাড়পত্রের আবেদন থেকে শুরু করে দূষণের অভিযোগ জানানো পর্যন্ত বেশিরভাগ কাজের কেন্দ্র doe.gov.bd, অর্থাৎ পরিবেশ অধিদপ্তরের (DoE) অফিসিয়াল পোর্টাল।

আপনার ব্যবসা কোন ধরনের, সেটা আগে বুঝে নিতে চাইলে বাংলাদেশে কত ধরনের ব্যবসা রয়েছে লেখাটা দেখতে পারেন। এই গাইডে আমরা দেখব পরিবেশ অধিদপ্তর কী কাজ করে, পরিবেশ ছাড়পত্র (ECC) কোন ক্যাটাগরির জন্য কেমন, অনলাইনে আবেদন কীভাবে করবেন, ছাড়পত্র ছাড়া চললে কী হতে পারে, আর সাধারণ মানুষ দূষণের অভিযোগ কোথায় জানাবেন।

সংক্ষেপে উত্তর: পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা। এটি দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পকে পরিবেশগত ছাড়পত্র (ECC) দেয়। ছাড়পত্রের অনলাইন আবেদন হয় ecc.doe.gov.bd-তে। ক্যাটাগরি চারটি: সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল।
doe.gov.bd: পরিবেশ ছাড়পত্র (ECC) আবেদনের নিয়ম ও সেবা

পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE) ও doe.gov.bd পরিচিতি

পরিবেশ অধিদপ্তর (Department of Environment) কী?

১৯৯৫ সালের বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ৩ নম্বর ধারায় সরকার পরিবেশ অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করে, যার প্রধান মহাপরিচালক। পরিবেশ রক্ষা, পরিবেশের মান উন্নয়ন এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রশমনই এর মূল উদ্দেশ্য। এই আইনের ১২ নম্বর ধারা বলছে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে মহাপরিচালকের কাছ থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র না নিয়ে কোনো শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প স্থাপন বা শুরু করা যাবে না।

ছাড়পত্র দেওয়ার বিস্তারিত নিয়ম এখন পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ২০২৩-এ (ECR 2023) আছে। ২০২৩ সালের মার্চে জারি হওয়া এই বিধিমালা আগের ১৯৯৭ সালের বিধিমালার জায়গা নিয়েছে।

doe.gov.bd ওয়েবসাইটের উদ্দেশ্য

পোর্টালটি আইন-বিধি, ফরম, নোটিশ ও পরিবেশ বিষয়ক তথ্যের জন্য। পাশাপাশি এখানে আছে ছাড়পত্রের অনলাইন আবেদন, ল্যাব পরীক্ষার আবেদন, অনলাইন অভিযোগ দাখিল এবং রিয়েল-টাইম বায়ু মান সূচক (AQI)। জরুরি তথ্য-সেবার জন্য হোমপেজে ৩৩৩ কল সেন্টারের কথাও উল্লেখ করা আছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কাজ ও দায়িত্ব

আইনে মহাপরিচালককে পরিবেশ সংরক্ষণ, মান উন্নয়ন ও দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য প্রাসঙ্গিক কাজগুলো এরকম:

  • ছাড়পত্র প্রদান: শিল্প প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র দেওয়া এবং শর্ত মানা হচ্ছে কিনা তদারকি করা।
  • পরিদর্শন ও নমুনা সংগ্রহ: কারখানা বা জায়গায় ঢুকে পরিদর্শন করা এবং বাতাস, পানি, মাটির নমুনা নিয়ে বিশ্লেষণ করা।
  • নির্দেশনা ও বন্ধের আদেশ: কোনো শিল্প বা প্রক্রিয়া বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ দেওয়া। নির্দেশ না মানলে বিদ্যুৎ, গ্যাস বা পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দিতে পারে।
  • ক্ষতিপূরণ: পরিবেশ বা মানুষের ক্ষতির ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ ও সংশোধনমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ।
  • ক্ষতিকর পণ্য নিয়ন্ত্রণ: আইনের ৬ক ধারায় সরকার পলিথিন শপিং ব্যাগসহ ক্ষতিকর পণ্য নিষিদ্ধ করতে পারে। মহাপরিচালকের পরামর্শের ভিত্তিতেও এই সিদ্ধান্ত হয়।
  • ধোঁয়া নির্গমনকারী যানবাহন: মান ছাড়ানো ধোঁয়া বা গ্যাস ছাড়া যানবাহন পরীক্ষা ও জব্দ করার ক্ষমতা।

ডিওই-র পোর্টালে আইন-বিধির তালিকায় পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ২০২৩, বায়ুদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২২, কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা ২০২১, ই-ওয়েস্ট বিধিমালা এবং প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) বিষয়ক তথ্য দেখা যায়।

doe.gov.bd পোর্টালের প্রধান সেবা

পরিবেশগত ছাড়পত্র (ECC): চার ক্যাটাগরি

ECR 2023 অনুযায়ী প্রতিটি শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প পরিবেশের ওপর প্রভাব ও অবস্থান বিবেচনায় চার ভাগে পড়ে: সবুজ, হলুদ, কমলা ও লাল। সবুজে প্রভাব সবচেয়ে কম, লালে সবচেয়ে বেশি। ক্যাটাগরি ঠিক হয় বিধিমালার তফসিল-১ দেখে।

ক্যাটাগরি আগে অবস্থানগত ছাড়পত্র (LCC) লাগে? ECC কোন অফিস থেকে মেয়াদ (নবায়নেও একই)
সবুজ না, সরাসরি ECC আঞ্চলিক অফিস ৫ বছর
হলুদ হ্যাঁ আঞ্চলিক অফিস ২ বছর
কমলা হ্যাঁ তফসিলের ক্রম অনুযায়ী আঞ্চলিক অফিস বা প্রধান কার্যালয় ১ বছর
লাল হ্যাঁ প্রধান কার্যালয় ১ বছর

কমলা ও লাল ক্যাটাগরিতে পরিবেশগত সমীক্ষাও লাগে। লাল শ্রেণির সব প্রকল্পে এবং কমলা শ্রেণির কিছু প্রকল্পে পূর্ণাঙ্গ পরিবেশ প্রভাব সমীক্ষা (EIA) করতে হয়। একটি পিয়ার-রিভিউড গবেষণা প্রবন্ধের সারণি অনুযায়ী, ৫ থেকে ২৫ একর ভূমি উন্নয়ন বা ৫০ শয্যা পর্যন্ত হাসপাতাল কমলা শ্রেণির উদাহরণ। ২৫ একরের বেশি ভূমি উন্নয়ন বা ৫০ শয্যার বেশি হাসপাতাল লাল শ্রেণির উদাহরণ। আপনার প্রকল্প কোন ক্যাটাগরিতে পড়ে, তা তফসিল-১ থেকে মিলিয়ে নিন।

অন্যান্য অনলাইন সেবা

ডিওই-র পোর্টালের "অনলাইন সেবা" তালিকায় ছাড়পত্রের বাইরেও আছে:

  • অবস্থানগত ছাড়পত্র (Site Clearance Certificate) ও ছাড়পত্র নবায়ন
  • ToR অনুমোদন ও EIA অনুমোদন
  • Zero Discharge অনুমোদন
  • STP/ETP ডিজাইন অনুমোদন
  • ল্যাব পরীক্ষার প্রতিবেদন
  • ECC ফি ও ই-ল্যাব ফি-র অনলাইন পেমেন্ট
  • অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা (GRS) ও অনলাইন অভিযোগ দাখিল

ইটিপি (ETP) অনুমোদন ও বর্জ্য শোধনাগার

শিল্পকারখানার তরল বর্জ্য শোধনের জন্য ইটিপি বা এসটিপির ডিজাইন অনুমোদন ডিওই-র অনলাইন সেবার তালিকায় আছে। ECR 2023-এ ইটিপি শুধু বানালেই চলে না, ঠিকমতো চলছে কিনা তার নজরদারিও গুরুত্বপূর্ণ। এই বিষয়ে কারখানার পরিবেশ কনসালট্যান্ট বা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীর সঙ্গে আগে থেকে কথা বলে নেওয়া ভালো।

পলিথিন ও অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ

আইনের ৬ক ধারার আওতায় সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে পলিথিন শপিং ব্যাগ নিষিদ্ধ। আইনের শাস্তির তালিকা অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্য উৎপাদন, আমদানি বা বাজারজাত করলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। আর বিক্রি, মজুত বা বাণিজ্যিক ব্যবহারে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়। ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে আলাদা আইন আছে (ইট প্রস্তুত ও ইটভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩)। সর্বশেষ সংশোধনী ও প্রযোজ্য শর্ত অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নেবেন।

বায়ু মান সূচক (AQI) ও পরিবেশ তথ্য

ডিওই-র হোমপেজে রিয়েল-টাইম বায়ু মান সূচক (AQI) এবং বায়ুদূষণ সম্পর্কিত স্বাস্থ্য সুরক্ষামূলক পরামর্শ থাকে। বাইরে বের হওয়ার আগে বা শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বের হলে এই তথ্য কাজে লাগে।

অনলাইনে পরিবেশ ছাড়পত্র (ECC) আবেদনের ধাপ

ডিওই-র জেলা অফিসের সেবা তালিকায় ছাড়পত্র ও নবায়নের আবেদন ecc.doe.gov.bd-এর মাধ্যমে অনলাইনে নিষ্পত্তির কথা আছে। সাধারণ ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো। আপনার ক্যাটাগরি ও প্রকল্পভেদে খুঁটিনাটি বদলাতে পারে।

ধাপ ১: ক্যাটাগরি ঠিক করুন

আগে ECR 2023-এর তফসিল-১ দেখে নিশ্চিত হন আপনার শিল্প বা প্রকল্প সবুজ, হলুদ, কমলা না লাল। ভুল ক্যাটাগরি ধরলে আবেদন আটকে যেতে পারে।

ধাপ ২: অনলাইন সিস্টেমে প্রবেশ করুন

ecc-beta.doe.gov.bd পোর্টালে ঢুকে ছাড়পত্রের আবেদনের জন্য নিজের অ্যাকাউন্ট খুলুন বা লগইন করুন। ডিওই-র ওয়েবসাইটের "অভ্যন্তরীণ ই-সেবা" অংশ থেকেও এই সেবায় যাওয়া যায়।

ধাপ ৩: প্রথমে অবস্থানগত ছাড়পত্র, তারপর ECC

সবুজ ক্যাটাগরিতে সরাসরি ECC-র আবেদন হয়। হলুদ, কমলা ও লাল ক্যাটাগরিতে আগে অবস্থানগত ছাড়পত্র (LCC) নিতে হয়, তারপর ECC। অবস্থানগত ছাড়পত্র ছাড়া জমি উন্নয়ন বা অবকাঠামো নির্মাণ করা যায় না, আর এই তিন ক্যাটাগরির নতুন প্রতিষ্ঠানে গ্যাস, বিদ্যুৎ বা পানির সংযোগও পাওয়া যায় না। কমলা ও লালে এই ধাপে পরিবেশগত সমীক্ষার প্রতিবেদন (IEE/EIA) জমা দিতে হয়।

ধাপ ৪: ফরম পূরণ ও কাগজপত্র আপলোড

আবেদনের ফরম হলো ফরম-৩। নবায়নের জন্য অবস্থানগত ছাড়পত্রে ফরম-৪ এবং ECC-তে ফরম-৫, আর লাল শ্রেণির জন্য আলাদা ফরম-৬ (ঘোষণাপত্র) আছে। সাধারণত যেসব কাগজ লাগে:

এই তালিকা সাধারণ ধারণার জন্য। ডিওই-র ওয়েবসাইটে "ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র" নামে আলাদা পাতা আছে। আবেদনের আগে নিজের ক্যাটাগরির চলতি তালিকা সেখান থেকে মিলিয়ে নিন।

ধাপ ৫: সরকারি ফি ও ভ্যাট পরিশোধ

ছাড়পত্রের ফি নির্ধারিত হয় প্রকল্পের মূলধন অনুযায়ী, বিধিমালার তফসিল-৭ দেখে। ডিওই-র সেবা তালিকায় ECC ফির অনলাইন পেমেন্ট এবং স্বয়ংক্রিয় চালানের কথা আছে। ফির ওপর ১৫% ভ্যাট যোগ হয় বলে নবায়ন সেবার বিবরণে উল্লেখ আছে। নবায়নে সাধারণত নির্ধারিত ফির অর্ধেক লাগে। তবে নতুন আবেদনে সঠিক অঙ্ক পোর্টালের চালানে যা দেখাবে, সেটাই চূড়ান্ত ধরুন।

ধাপ ৬: পরিদর্শন ও সিদ্ধান্ত

আবেদনের পর ডিওই স্থান পরিদর্শন করে। কমলা ও লাল শ্রেণির ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র কমিটি প্রতিবেদন যাচাই করে মহাপরিচালককে সুপারিশ করে। বিধিমালার বিবরণ অনুযায়ী অবস্থানগত ছাড়পত্র পাওয়ার পর ECC আবেদন করলে অনুমোদনের পর আবেদনের ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে ছাড়পত্র দেওয়ার কথা। আবেদন নাকচ হলে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে কারণ জানানোর বিধান আছে। সবুজ ক্যাটাগরির প্রক্রিয়া সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত।

ধাপ ৭: ট্র্যাকিং ও সনদ ডাউনলোড

আবেদনের অবস্থা পোর্টালেই দেখা যায়। অনুমোদন হলে সেখান থেকেই ছাড়পত্রের সনদ ডাউনলোড করতে পারবেন। সনদে দেওয়া শর্ত মানা এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করা আপনার দায়িত্ব।

পরিবেশ দূষণের অভিযোগ কীভাবে করবেন

শব্দদূষণ, বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, অবৈধ কারখানা বা নদী ও জলাশয় দখল দেখলে সাধারণ নাগরিকও অভিযোগ করতে পারেন। আইনের ৮ নম্বর ধারায় দূষণে ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষতির আশঙ্কায় থাকা যে কেউ প্রতিকারের জন্য মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করতে পারেন।

হটলাইন: ৩৩৩-৪

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে চালু হওয়া নিয়মে জাতীয় তথ্য ও সেবা হেল্পলাইন ৩৩৩-এ কল করে ৪ চাপলে পরিবেশ বিষয়ক সেবা ও অভিযোগ পাওয়া যায়। এই বিভিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই লাইনে পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ, গাছ কাটা, বন্যপ্রাণী শিকার ও অবৈধভাবে বন বা পাহাড় ধ্বংসের অভিযোগ জানানো যায়। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে যায়, আর অভিযোগকারী এসএমএসে বা ৩৩৩-এ কল করে হালনাগাদ জানতে পারেন। নম্বর বা পদ্ধতি বদলে থাকতে পারে, তাই ডিওই-র ওয়েবসাইটে চলতি নম্বর দেখে নেবেন।

অনলাইন অভিযোগ দাখিল

ডিওই-র পোর্টালে "অনলাইন অভিযোগ দাখিল" ও অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থার (GRS) আলাদা লিংক আছে। সেখান থেকেও অভিযোগ জানাতে পারবেন।

অভিযোগ জানানোর সময় যা দিলে কাজ হয়

  • ঘটনার নির্দিষ্ট জায়গা, এলাকা ও সময়
  • কী ধরনের দূষণ (ধোঁয়া, বর্জ্য ফেলা, অতিরিক্ত শব্দ ইত্যাদি) এবং কতক্ষণ ধরে চলছে
  • সম্ভব হলে ছবি বা ভিডিও, এবং জানা থাকলে প্রতিষ্ঠানের নাম

জীবনের ঝুঁকি আছে এমন জরুরি পরিস্থিতিতে ৯৯৯-এ কল করতে হবে। শব্দদূষণসহ পরিবেশ বিষয়ক অভিযোগে বিভিনিউজ২৪-এর প্রতিবেদনও বলছে, এসবের জন্য ডিওই-র নিজস্ব লাইন ৩৩৩-৪ ব্যবহার করাই ভালো।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

পরিবেশ ছাড়পত্র (ECC) কত দিন পর পর নবায়ন করতে হয়?

ক্যাটাগরি অনুযায়ী মেয়াদ আলাদা। ECR 2023-এ সবুজ শ্রেণির ECC-র মেয়াদ ৫ বছর, হলুদ ২ বছর, আর কমলা ও লাল ১ বছর। মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ দিন আগে ফরম-৫ (ECC নবায়ন) ও নির্ধারিত ফিসহ আবেদন করা নিরাপদ।

ছাড়পত্র না নিয়ে কারখানা বা প্রজেক্ট শুরু করলে কী শাস্তি হতে পারে?

আইনের ১২ নম্বর ধারা লঙ্ঘন করলে ১৫ নম্বর ধারার শাস্তির তালিকা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ৩ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড হতে পারে। এছাড়া ECR 2023-এর ২৩ নম্বর বিধি অনুযায়ী মহাপরিচালক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন, শুনানির পর প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দিতে পারেন, আর পরিবেশের ক্ষতির ক্ষতিপূরণও আদায় করা যায়। কোম্পানির ক্ষেত্রে মালিক, পরিচালক বা ব্যবস্থাপকও দায়ী হতে পারেন। আইনটি সংশোধিত হতে পারে, তাই চূড়ান্ত পাঠ অফিসিয়াল গেজেট থেকে মিলিয়ে নিন।

অনলাইনে ছাড়পত্রের আবেদনে কত দিন সময় লাগে?

সময় ক্যাটাগরির ওপর নির্ভর করে। সবুজ শ্রেণিতে ধাপ কম বলে তুলনামূলক দ্রুত হয়। হলুদ, কমলা ও লালে আগে অবস্থানগত ছাড়পত্র লাগে, কমলা-লালে সমীক্ষা প্রতিবেদনও লাগে। ফলে সময় বেশি লাগে। ECC ধাপে বিধিমালায় ৩০ কার্যদিবসের একটি সময়সীমার উল্লেখ পাওয়া যায়। কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকলেই সাধারণত দেরি হয়।

ছোট ব্যবসা বা দোকানেও কি পরিবেশ ছাড়পত্র লাগে?

ছাড়পত্রের বাধ্যবাধকতা "শিল্প প্রতিষ্ঠান বা প্রকল্প"-এর জন্য, যা ECR 2023-এর তফসিলে ক্যাটাগরি অনুযায়ী তালিকাভুক্ত। আপনার কাজ তফসিলে পড়ে কিনা, সেটা আগে যাচাই করা জরুরি। নিশ্চিত না হলে স্থানীয় পরিবেশ অধিদপ্তর অফিসে বা ৩৩৩-৪-এ কল করে জেনে নিন।

ছাড়পত্রের আবেদন নাকচ হলে কী করবেন?

আইনের ১৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী নোটিশ, আদেশ বা নির্দেশের ৩০ দিনের মধ্যে সরকার গঠিত আপিল কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যায়। উপযুক্ত কারণ থাকলে আরও সর্বোচ্চ ৩০ দিন সময় বাড়ানোর সুযোগ আছে। আপিল সাধারণত ৩ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান আছে। বিষয়টি জটিল হলে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া ভালো।

উপসংহার

পরিবেশ অধিদপ্তর শুধু দূষণ ধরার সংস্থা নয়, নতুন শিল্প বা প্রকল্প আইনসম্মতভাবে শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপও। সবচেয়ে কাজের বিষয়গুলো মনে রাখুন: আপনার প্রকল্পের ক্যাটাগরি আগে ঠিক করুন, হলুদ থেকে লাল শ্রেণিতে অবস্থানগত ছাড়পত্র আগে নিন, মেয়াদ শেষের আগেই নবায়ন করুন, আর ছাড়পত্র ছাড়া চালু করার ঝুঁকি এড়িয়ে চলুন। দূষণ চোখে পড়লে ৩৩৩-৪ বা ডিওই-র অনলাইন অভিযোগ ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার ব্যবসা বা নতুন প্রকল্পের ক্ষেত্রে ছাড়পত্র নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্টে জানান। বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকলে সেটাও শেয়ার করতে পারেন। আর আবেদনের আগে doe.gov.bd-তে সর্বশেষ নির্দেশনা একবার দেখে নিন।

ডিসক্লেইমার: Home BD Info কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, আইনি বা পেশাদার পরামর্শ নয়। বিধিমালা, ফি, ফরম ও সময়সীমা বদলাতে পারে। ছাড়পত্রের আবেদনের আগে পরিবেশ অধিদপ্তরের অফিসিয়াল সাইটে ও স্থানীয় অফিসে যাচাই করে নিন। 

তথ্যসূত্র

এই লেখার তথ্য ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিচের সূত্রগুলো থেকে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.