RJSC কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন ২০২৬: roc.gov.bd-তে নাম ছাড়পত্র থেকে নিবন্ধন সনদ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ গাইড
এই লেখাটি এক বছরের বেশি আগে হালনাগাদ হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
সংক্ষেপে: বাংলাদেশে কোম্পানি, অংশীদারি ফার্ম বা সোসাইটি নিবন্ধনের দায়িত্বে আছে রেজিস্ট্রার অব জয়েন্ট স্টক কোম্পানিজ অ্যান্ড ফার্মস (RJSC)। পুরো কাজ শুরু হয় অফিসিয়াল পোর্টাল roc.gov.bd থেকে। একটা প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সরকারি খরচ অনুমোদিত মূলধনের ওপর নির্ভর করে। মূলধন ১০ লাখ টাকা হলে RJSC-র ফি পেজ অনুযায়ী মোট সরকারি ফি ও স্ট্যাম্প দাঁড়ায় ৪,৭০০ টাকা (ভ্যাট ও ব্যাংক চার্জ ছাড়া)। নিচে ধাপগুলো, খরচের হিসাব আর নিবন্ধনের পরে কী কী করতে হবে, সব কিছু বিস্তারিত জানতে পারবেন এখানে।
RJSC কী এবং ব্যবসার জন্য কেন দরকার
RJSC বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি সরকারি দপ্তর। এখানে নিবন্ধন না করলে আপনার ব্যবসা আইনের চোখে আলাদা কোনো সত্তা হিসেবে স্বীকৃত হয় না। কোম্পানি হিসেবে ব্যাংকে হিসাব খোলা, ঋণ নেওয়া, বড় কাজের টেন্ডারে অংশ নেওয়া বা বিনিয়োগ আনার মতো কাজে নিবন্ধন সনদ লাগে।
RJSC যে ধরনের প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন করে:
| প্রতিষ্ঠান | যে আইনে নিবন্ধিত হয় |
|---|---|
| প্রাইভেট কোম্পানি, পাবলিক কোম্পানি, বিদেশি কোম্পানি, ট্রেড অরগানাইজেশন | কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ |
| সোসাইটি | সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ |
| অংশীদারি ফার্ম | অংশীদারি আইন, ১৯৩২ |
একটা কথা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। আপনি যদি একা ছোট ব্যবসা করেন (মালিকানা ব্যবসা বা সোল প্রোপ্রাইটরশিপ), তাহলে RJSC-তে নিবন্ধন লাগে না। সেখানে সাধারণত সিটি কর্পোরেশন বা ইউনিয়ন পরিষদের ট্রেড লাইসেন্সই শুরুর জন্য যথেষ্ট। এ নিয়ে আমাদের ট্রেড লাইসেন্স গাইড আছে।
RJSC-র প্রধান সেবাগুলো
- নেম ক্লিয়ারেন্স (নাম ছাড়পত্র): প্রস্তাবিত নামটি অন্য কেউ ব্যবহার করছে কি না যাচাই করে অনুমোদন নেওয়া।
- কোম্পানি নিবন্ধন: মেমোরেন্ডাম, আর্টিকেলস ও নির্ধারিত ফরম জমা দিয়ে ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট নেওয়া।
- রিটার্ন ফাইলিং: নিবন্ধনের পর কোম্পানির বার্ষিক রিটার্নসহ বিভিন্ন নথি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া।
- সার্টিফাইড কপি: নিবন্ধন সনদ, মেমোরেন্ডাম বা অন্য নথির সত্যায়িত কপি তোলা।
কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান করবেন, কীভাবে বুঝবেন
- প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি: সবচেয়ে প্রচলিত। সাধারণত ২ থেকে ৫০ জন সদস্য থাকতে পারেন। শেয়ার খোলা বাজারে বিক্রি করা যায় না।
- ওয়ান পারসন কোম্পানি (OPC): একজন মালিক, কোম্পানির আইনি সুবিধা নিয়ে ব্যবসা করতে চাইলে।
- পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি: জনসাধারণের কাছে শেয়ার ছাড়তে চাইলে। সদস্য সংখ্যা ও শর্ত বেশি।
- অংশীদারি ফার্ম: দুই বা তার বেশি মানুষ চুক্তির ভিত্তিতে একসঙ্গে ব্যবসা করলে। কোম্পানির মতো আলাদা আইনি সত্তা পায় না।
- সোসাইটি: লাভের উদ্দেশ্য ছাড়া সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা শিক্ষামূলক কাজের সংগঠন।
সদস্যসংখ্যা আর শর্তের খুঁটিনাটি আইন সংশোধনে বদলাতে পারে। আবেদনের আগে পোর্টালের নির্দেশনা একবার মিলিয়ে নিন।
শুরুর আগে হাতে রাখুন
- তিনটি প্রস্তাবিত কোম্পানির নাম (একটা বাতিল হলে বিকল্প থাকবে)
- সব পরিচালক ও শেয়ারহোল্ডারের এনআইডি বা পাসপোর্ট, ছবি ও স্থায়ী ঠিকানা। এনআইডি না পেলে এনআইডি কার্ড ডাউনলোডের নিয়ম দেখে নিতে পারেন।
- নিবন্ধিত অফিসের ঠিকানা (ভাড়ার চুক্তি বা মালিকানার কাগজ হাতে রাখা ভালো)
- ব্যবসার উদ্দেশ্যের একটা পরিষ্কার তালিকা, যেটা মেমোরেন্ডামে যাবে
- অনুমোদিত মূলধন ও পরিশোধিত মূলধনের সিদ্ধান্ত
- অনলাইন ফি দেওয়ার জন্য ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সুবিধা
ধাপে ধাপে প্রাইভেট কোম্পানি রেজিস্ট্রেশন
পোর্টাল সময়ে সময়ে হালনাগাদ হয়, তাই ধাপের নাম বা ক্রমে ছোটখাটো পার্থক্য দেখলে পোর্টালের নির্দেশনাকেই চূড়ান্ত ধরুন।
ধাপ ১: পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে লগইন
roc.gov.bd থেকে RJSC-র অনলাইন সেবার অংশে গিয়ে ইউজার অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। মোবাইল নম্বর ও ইমেইল সচল রাখুন, কারণ যোগাযোগ ও বার্তা এখানেই আসে। কোনো কোনো সময় ব্রাউজার বা সার্ভারের কারণে পোর্টাল ধীর হয়। সরকারি ছুটির দিনে সার্ভার বন্ধ থাকতে পারে, তাই কাজের দিনে বসা ভালো।
ধাপ ২: নাম অনুসন্ধান ও নেম ক্লিয়ারেন্সের আবেদন
নতুন কোম্পানি গঠনের প্রথম এবং অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সঠিক ও ইউনিক নাম নির্বাচন করা। পোর্টালে গিয়ে প্রথমে প্রস্তাবিত নামটি সার্চ করে দেখে নিন যে একই নামের বা খুব কাছাকাছি কোনো কোম্পানি বা ফার্ম ইতিমধ্যে নিবন্ধিত আছে কি না। নাম মিলে গেলে RJSC থেকে তা বাতিল হতে পারে।
সার্চ করার পর আপনার পছন্দমতো প্রস্তাবিত নাম দিয়ে নাম ছাড়পত্রের (Name Clearance) জন্য অনলাইনে আবেদন করুন। RJSC-র ফি নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি প্রস্তাবিত নামের জন্য নাম ছাড়পত্রের আবেদন ফি নির্ধারিত রয়েছে (সাধারণত প্রতি নামের জন্য নির্দিষ্ট ফি এবং এর সাথে ভ্যাট ও অনলাইন সার্ভিস চার্জ যোগ হয়ে মোট অঙ্ক আসে, যা পেমেন্ট গেটওয়েতে দেখতে পাবেন)।
⚠️ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (মেয়াদকাল):
RJSC-র অফিশিয়াল নিয়ম অনুযায়ী সফলভাবে নাম ছাড়পত্র পাওয়ার পর এর প্রাথমিক বৈধতার মেয়াদ সাধারণত ৩০ দিন (1 Month) পর্যন্ত থাকে। এই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কোম্পানির নিবন্ধনের মূল আবেদন সম্পন্ন করতে হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শেষ করা না গেলে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে এর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। আপনার নির্দিষ্ট সার্টিফিকেটে মেয়াদ কত দিন রয়েছে, তা অফিশিয়াল কপি ও পোর্টালে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে—আবেদনের সময় বা সার্টিফিকেট হাতে পাওয়ার পর তা অবশ্যই দেখে নেবেন।
ধাপ ৩: মেমোরেন্ডাম (MOA) ও আর্টিকেলস (AOA) তৈরি
মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশনে থাকে কোম্পানির নাম, ঠিকানা, ব্যবসার উদ্দেশ্য ও মূলধন। আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশনে থাকে কোম্পানি ভেতরে কীভাবে চলবে: পরিচালকদের ক্ষমতা, শেয়ার হস্তান্তরের নিয়ম, সভার নিয়ম। উদ্দেশ্যের ধারাগুলো খুব সংকীর্ণ লিখবেন না, কারণ পরে নতুন ধরনের ব্যবসা যোগ করতে গেলে সংশোধন করতে হয়। কাঠামোটা কোনো কোম্পানি আইন জানা আইনজীবী বা চার্টার্ড সেক্রেটারিকে দিয়ে একবার দেখিয়ে নেওয়া নিরাপদ।
ধাপ ৪: ফরম পূরণ ও অনলাইনে ফি জমা
RJSC-র ফি পেজে প্রাইভেট কোম্পানির জন্য ৬টি ডকুমেন্টের কথা আছে: ৫টি পূরণ করা ফরম আর ১টি মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলস। সাধারণত যেসব ফরম লাগে সেগুলো হলো ফরম I (নিবন্ধনের ঘোষণা), ফরম VI (নিবন্ধিত অফিসের ঠিকানা), ফরম IX (পরিচালকের সম্মতি), ফরম X ও ফরম XII (পরিচালক ও কর্মকর্তাদের তালিকা)। তবে সঠিক তালিকা পোর্টালেই দেখে নিন, কারণ ফরম বদলাতে পারে। এরপর স্ট্যাম্প ও ফি অনলাইনে পরিশোধ করুন। পোর্টালে ফি হিসাবের কোনো টুল থাকলে সেটা ব্যবহার করুন, আর নিচের টেবিল দিয়ে মিলিয়ে দেখুন।
ধাপ ৫: ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট
RJSC কাগজপত্র যাচাই করে কোনো ভুল বা ঘাটতি পেলে পোর্টালেই জানায়। সব ঠিক থাকলে আপনি ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেট বা নিবন্ধন সনদ পাবেন। এটা সংরক্ষণ করুন, কারণ ব্যাংক, কর অফিস আর লাইসেন্সের জন্য বারবার লাগবে।
RJSC ফি: কত টাকা লাগে
নিচের অঙ্কগুলো RJSC-র অফিসিয়াল ফি পেজ থেকে নেওয়া, প্রাইভেট কোম্পানির জন্য।
| খাত | পরিমাণ |
|---|---|
| নেম ক্লিয়ারেন্স (প্রতিটি নাম) | ৫০০ টাকা |
| নেম ক্লিয়ারেন্সের সময় বাড়ানো (প্রতি আবেদন) | ২০০ টাকা |
| মেমোরেন্ডামে স্ট্যাম্প | ১,০০০ টাকা |
| আর্টিকেলসে স্ট্যাম্প, মূলধন ১০ লাখ পর্যন্ত | ২,০০০ টাকা |
| আর্টিকেলসে স্ট্যাম্প, ১০ লাখের বেশি থেকে ৩ কোটি পর্যন্ত | ৪,০০০ টাকা |
| আর্টিকেলসে স্ট্যাম্প, ৩ কোটির বেশি | ১০,০০০ টাকা |
| ডকুমেন্ট ফাইলিং ফি (৬টি ডকুমেন্ট, প্রতিটি ২০০ টাকা) | ১,২০০ টাকা |
| রেজিস্ট্রেশন ফি, মূলধন ১০ লাখ পর্যন্ত | ০ টাকা |
| রেজিস্ট্রেশন ফি, ১০ লাখের পর থেকে ৫০ লাখ পর্যন্ত | প্রতি ১ লাখে বা অংশে ৮০ টাকা |
| রেজিস্ট্রেশন ফি, ৫০ লাখের পরের অংশ | প্রতি ১ লাখে বা অংশে ১৩০ টাকা |
তিনটা উদাহরণ
নিচের হিসাব ওপরের টেবিল ধরে করা। এখানে একটা নামের ফি ধরা হয়েছে। ভ্যাট, ব্যাংক চার্জ, সার্টিফাইড কপি আর কোনো পেশাদার সেবার খরচ ধরা হয়নি।
| অনুমোদিত মূলধন | হিসাব | মোট |
|---|---|---|
| ১০ লাখ | ৫০০ + ১,০০০ + ২,০০০ + ১,২০০ + ০ | ৪,৭০০ টাকা |
| ৫০ লাখ | ৫০০ + ১,০০০ + ৪,০০০ + ১,২০০ + ৩,২০০ (৪০ লাখ × ৮০) | ৯,৯০০ টাকা |
| ১ কোটি | ৫০০ + ১,০০০ + ৪,০০০ + ১,২০০ + ৯,৭০০ (৩,২০০ + ৬,৫০০) | ১৬,৪০০ টাকা |
ফি পেজের তথ্য বদলে যেতে পারে। আবেদন করার সময় পোর্টালে যে অঙ্ক দেখাবে, সেটাই ধরবেন।
সময় লাগে কত, আর কেন আটকে যায়
কত দিন লাগবে তা নির্ভর করে নথি কতটা পরিষ্কার আর RJSC-র কাজের চাপের ওপর। কাগজপত্র পুরোপুরি ঠিক থাকলে ব্যাপারটা দ্রুত হয়। সাধারণত যে কারণগুলোতে দেরি হয়:
- নাম অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের নামের সঙ্গে খুব মিলে যাওয়া
- পরিচালকদের নাম, ঠিকানা বা এনআইডি তথ্য ফরমে আর কাগজে অমিল
- মেমোরেন্ডাম বা আর্টিকেলসে স্বাক্ষর ও তারিখের ভুল
- ফি জমা দেওয়ার পর রসিদ বা তথ্য ঠিকমতো আপলোড না হওয়া
- নেম ক্লিয়ারেন্সের মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়ার পরে আবেদন করা
নিবন্ধনের পরে করণীয়
সনদ হাতে পাওয়ার পর ব্যবসা চালু করতে সাধারণত এগুলো লাগে:
- ই-টিন (e-TIN): কোম্পানির নামে কর শনাক্তকরণ নম্বর। দেখুন ই-টিন করার নিয়ম।
- ভ্যাট নিবন্ধন (BIN): ব্যবসার ধরন ও টার্নওভার অনুযায়ী লাগতে পারে। দেখুন BIN সংগ্রহের গাইড।
- ট্রেড লাইসেন্স: সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা থেকে। দেখুন ট্রেড লাইসেন্সের নিয়ম।
- ব্যাংক হিসাব: কোম্পানির নামে চলতি হিসাব।
- আমদানি বা রপ্তানি করলে IRC ও ERC: দেখুন IRC ও ERC গাইড।
সরকারি ব্যবসায়িক সেবার সবগুলো লিংক এক জায়গায় পেতে দেখুন ব্যবসায়িক সেবা (G2B) পেজ।
অংশীদারি ফার্ম নিবন্ধন
অংশীদারি আইন, ১৯৩২ অনুযায়ী ফার্ম নিবন্ধন করা বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু নিবন্ধন না থাকলে চুক্তি নিয়ে বিরোধে অংশীদার বা তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে সমস্যা হয়। তাই ব্যবসা বড় হলে নিবন্ধন করে রাখাই ভালো।
- প্রস্তুতি: সব অংশীদারের সম্মতিতে একটি অংশীদারি চুক্তিনামা (পার্টনারশিপ ডিড) তৈরি করুন এবং নোটারি পাবলিক বা স্ট্যাম্প পেপারের মাধ্যমে তা আইনগতভাবে প্রস্তুত রাখুন। এতে থাকবে ফার্মের নাম, ব্যবসার ধরন, ঠিকানা, মূলধনের ভাগ, লাভ-ক্ষতির অনুপাত, অংশীদারের দায়িত্ব এবং কেউ বেরিয়ে গেলে কী হবে।
- আবেদন: RJSC-র ই-সেবা পোর্টালে গিয়ে নির্ধারিত ফরম-১ (Form-I) পূরণ করতে হয়। এতে ফার্মের নাম, প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানা, ব্যবসা শুরুর তারিখ এবং প্রতিটি অংশীদারের ব্যক্তিগত তথ্য ও মূলধনের পরিমাণ সঠিকভাবে দিতে হবে।
- খরচ: RJSC-র ফি পেজে অংশীদারি ফার্মের মূল রেজিস্ট্রেশন ফি ০ টাকা থাকলেও, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফাইলিং ফি এবং ভ্যাট সহ আনুষঙ্গিক কিছু সরকারি খরচ প্রযোজ্য হতে পারে, যা পেমেন্টের সময় পোর্টালে প্রদর্শিত হবে।
টিপস: অংশীদারি ফার্ম নিবন্ধনের জন্য মূল আবেদনটি RJSC পোর্টালে অনলাইন সিস্টেমের মাধ্যমেই করতে হয় এবং প্রধান ডকুমেন্ট হিসেবে ফরম-১ (Form-I) এবং নোটারি করা পার্টনারশিপ ডিড বা চুক্তিপত্রটি আপলোড বা জমা দিতে হয়।
সোসাইটি নিবন্ধন
সামাজিক সংগঠন, ক্লাব, শিক্ষা বা সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান সাধারণত সোসাইটি হিসেবে নিবন্ধিত হয়। সোসাইটিজ রেজিস্ট্রেশন অ্যাক্ট, ১৮৬০ (Societies Registration Act, 1860) অনুযায়ী এটি পরিচালিত হয়। এখানে লাভ ভাগ করার কোনো উদ্দেশ্য থাকে না।
- সদস্য: আইন অনুযায়ী সোসাইটি গঠনে কমপক্ষে সাতজন সদস্য বা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য থাকা বাধ্যতামূলক।
- কাগজপত্র: সংগঠনের মেমোরেন্ডাম অব অ্যাসোসিয়েশন (Memorandum of Association), গঠনতন্ত্র বা নিয়মাবলি (Bylaws), ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের তালিকা এবং প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের এনআইডি (NID) ও ছবি।
- অনলাইন আবেদন পদ্ধতি: বর্তমান নিয়م অনুযায়ী RJSC-র ই-সেবা পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে প্রথমে নাম ছাড়পত্র নিতে হয়। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (গঠনতন্ত্র, মেমোরেন্ডাম ও সদস্যের তালিকা) স্ক্যান করে অনলাইনে ফরম সাবমিট করতে হয়।
- ফি: RJSC-র ফি পেজ অনুযায়ী সোসাইটির রেজিস্ট্রেশন ফি ১৫,০০০ টাকা (এর সাথে প্রযোজ্য ফাইলিং ফি ও ভ্যাট যুক্ত হতে পারে)।
- নিবন্ধনের পরে: সফলভাবে যাচাই-বাছাই শেষে সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। এছাড়া প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে ব্যবস্থাপনা কমিটির আপডেট তালিকা ও রিটার্ন জমা দিতে হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার সোসাইটি যদি ভবিষ্যতে বিদেশি অনুদান বা ফান্ড গ্রহণ করতে চায়, তবে সে ক্ষেত্রে আলাদাভাবে এনজিও বিষয়ক ব্যুরো (NGOAB)-এর নিবন্ধন নিতে হবে।
RJSC-র অন্যান্য সেবা
বার্ষিক রিটার্ন ও অন্যান্য নথি জমা
নিবন্ধিত কোম্পানিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বার্ষিক রিটার্নসহ বিভিন্ন নথি RJSC-তে জমা দিতে হয়। ফি পেজ অনুযায়ী সময়ের মধ্যে জমা দিলে প্রতি ডকুমেন্টে ২০০ টাকা। সময় পার হয়ে গেলে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে জরিমানা, তবে একটি ডকুমেন্টে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা।
সার্টিফাইড কপি
ইনকর্পোরেশন সার্টিফিকেটের কপির ফি ১০০ টাকা, এর সঙ্গে স্ট্যাম্প ও কোর্ট ফি যোগ হয়। ব্যাংক বা বিদেশি অংশীদারের কাছে সত্যায়িত কপি লাগলে এটা তোলা হয়।
শেয়ার হস্তান্তর ও নাম পরিবর্তন
শেয়ার হস্তান্তর হয় আর্টিকেলসের নিয়ম মেনে, আর RJSC-তে নির্ধারিত ফরমে তথ্য জমা দিতে হয়। কোম্পানির নাম বদলাতে হলে সাধারণত সদস্যদের বিশেষ সিদ্ধান্ত নিতে হয় এবং RJSC-র অনুমোদন লাগে। দুটোর ফরম ও ফি পোর্টালে দেখে নেবেন। ভবিষ্যতে আমরা আলাদা পোস্টে এগুলো বিস্তারিত লিখব।
যোগাযোগ ও অফিস
আরজেএসসি (RJSC)-এর প্রধান কার্যালয় ঢাকায় অবস্থিত এবং এর পাশাপাশি বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তিনটি আঞ্চলিক অফিস রয়েছে। অফিশিয়াল তথ্য অনুযায়ী প্রধান ও বিভাগীয় কার্যালয়গুলোর ঠিকানা ও যোগাযোগের বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:
- প্রধান কার্যালয়, ঢাকা: টিসিবি ভবন (৭ম তলা), ১ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫।
ফোন: +৮৮ ০২ ৫৫০১৩৭৭৬, ইমেইল: [email protected] - চট্টগ্রাম আঞ্চলিক অফিস: সিডিএ এনেক্স ভবন (৬ষ্ঠ তলা), কোতোওয়ালী, চট্টগ্রাম।
ফোন: +৮৮ ০২৩৩৩৩৫৬২২৫, ইমেইল: [email protected] - খুলনা আঞ্চলিক অফিস: ট্রিবিউন টাওয়ার, ২বি, কেডিএ অ্যাভিনিউ, খুলনা।
ফোন: +৮৮ ০৪১৭২০২১৭, ইমেইল: [email protected] - রাজশাহী আঞ্চলিক অফিস: সাধারণ বীমা ভবন (৮ম তলা), কাজীহাটা, জিপিও-৬০০০, রাজশাহী।
ফোন: +৮৮ ০২৫৮৮৮৫৩৩৯৬, ইমেইল: [email protected]
প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা বা ফোন নম্বরে যেকোনো ধরনের পরিবর্তন বা আপডেট পেতে সর্বদা তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট roc.gov.bd ভিজিট করে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ রইল।
সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)
RJSC-তে প্রাইভেট কোম্পানি করতে সর্বনিম্ন কত টাকা লাগে?
RJSC-র ফি পেজ অনুযায়ী ১০ লাখ টাকা অনুমোদিত মূলধনে একটা নামের জন্য সরকারি ফি ও স্ট্যাম্প মিলিয়ে ৪,৭০০ টাকা। ভ্যাট, ব্যাংক চার্জ ও আইনজীবীর ফি আলাদা।
নিজে নিবন্ধন করা যায়, নাকি আইনজীবী লাগে?
পোর্টালের মাধ্যমে নিজেই আবেদন করা সম্ভব। তবে মেমোরেন্ডাম ও আর্টিকেলসের ভাষা পরে ঝামেলা তৈরি করতে পারে, তাই অন্তত খসড়াটা কোনো অভিজ্ঞ মানুষকে দিয়ে দেখিয়ে নেওয়া ভালো।
নেম ক্লিয়ারেন্সের ফি কত?
ফি পেজ অনুযায়ী প্রতিটি প্রস্তাবিত নামে ৫০০ টাকা। পেমেন্টের সময় ভ্যাট যোগ হতে পারে।
নেম ক্লিয়ারেন্সের সময় পার হয়ে গেলে কী করব?
সময় বাড়ানোর আবেদন করতে পারেন। ফি পেজ অনুযায়ী প্রতি আবেদনে ২০০ টাকা।
ছোট একজনের ব্যবসার জন্য কি RJSC লাগবে?
না, এককভাবে মালিকানা ব্যবসার জন্য সাধারণত ট্রেড লাইসেন্সই শুরুর জন্য যথেষ্ট। RJSC লাগে কোম্পানি, অংশীদারি ফার্ম বা সোসাইটির ক্ষেত্রে।
রেজিস্ট্রেশনের পর প্রথমে কী করব?
ই-টিন, ট্রেড লাইসেন্স আর ব্যাংক হিসাব দিয়ে শুরু করুন। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ভ্যাট নিবন্ধন বা IRC-ERC লাগতে পারে।
সূত্র
- RJSC অফিসিয়াল ফি পেজ: app.roc.gov.bd/psp/RJSC_Fees
- RJSC অফিসিয়াল পোর্টাল: roc.gov.bd
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। নিয়ম, ফি ও ফরম সময়ে সময়ে বদলাতে পারে। আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে চূড়ান্তভাবে মিলিয়ে নিন।
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।


কোন মন্তব্য নেই: