Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) কী? epb.gov.bd সেবা ও নিয়ম

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি বাড়ানোর দায়িত্বে থাকা সরকারি সংস্থা। রপ্তানির কথা উঠলে প্রায় সবার প্রথমে যে ওয়েবসাইটটির নাম আসে, সেটি epb.gov.bd। কিন্তু অনেকেই বুঝে উঠতে পারেন না, ইপিবি ঠিক কোন কাজটা করে আর কোন কাজটা করে না। কেউ ভাবেন ইপিবি থেকেই রপ্তানি লাইসেন্স মেলে, কেউ ভাবেন সব ধরনের Certificate of Origin সেখান থেকেই নিতে হয়। দুটোই পুরোপুরি ঠিক নয়।

এই লেখায় সহজ ভাষায় দেখব ইপিবি কী, কী কী সেবা দেয়, কারা কীভাবে কাজে লাগাতে পারেন, আর ২০২৬ সালের এই সময়ে এলডিসি (LDC) গ্র্যাজুয়েশন রপ্তানিকারকদের জন্য কী বদলাতে পারে।

একনজরে: ইপিবি রপ্তানির প্রচার, নীতি-সহায়তা, বাণিজ্য মেলা, REX রেজিস্ট্রেশন ও কিছু অরিজিন সনদের কাজ করে। আমদানি-রপ্তানি নিবন্ধন (ERC/IRC) এবং সাধারণ Certificate of Origin ইপিবির কাজ নয়।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) কী? epb.gov.bd সেবা ও নিয়ম

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) এবং epb.gov.bd পরিচিতি

ইপিবি (Export Promotion Bureau) কী?

ইপিবি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা। ১৯৭৭ সালের Export Promotion Bureau Ordinance-এর আওতায় এটি প্রতিষ্ঠিত। ব্যুরোর পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান বাণিজ্যমন্ত্রী, আর প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী প্রধান ভাইস চেয়ারম্যান।

ইপিবির নিজস্ব পোর্টালে দেওয়া দায়িত্বের তালিকা থেকে মূল কাজগুলো এরকম:

  • রপ্তানি বাড়ানোর নীতি ও কর্মসূচি তৈরিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করা
  • জাতীয় রপ্তানি কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ
  • বিদেশে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বাজার খোঁজা
  • বাণিজ্য-তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া
  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণের আয়োজন
  • প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ও জরিপ পরিচালনা

২০২০ সালে হালনাগাদ হওয়া ইপিবির দায়িত্ব ও কাঠামো পাতা অনুযায়ী প্রধান কার্যালয় ঢাকায়। এছাড়া চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে আঞ্চলিক অফিস এবং সিলেট, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে শাখা অফিস আছে। অফিসের তালিকা বদলে থাকতে পারে, তাই সেবা নেওয়ার আগে ওয়েবসাইটে যাচাই করে নেবেন।

epb.gov.bd ওয়েবসাইটের মূল উদ্দেশ্য

ওয়েবসাইটটি কয়েকটা কাজে লাগে: নোটিশ ও নীতিমালা (যেমন Export Policy) পাওয়া, মেলার খবর জানা, ফরম ডাউনলোড করা এবং অনলাইন সেবার আবেদন। ইপিবির নিজস্ব সেবা তালিকায় আছে SAFTA/SAPTA/GSP-এর আবেদন, নগদ প্রণোদনার সুপারিশপত্রের আবেদন, ন্যাশনাল এক্সপোর্ট ট্রফি ও সিআইপির আবেদন, রপ্তানিকারক নিবন্ধন এবং Export Tracker।

EPB-এর কাজ কী: প্রধান সেবাসমূহ

প্রেফারেন্সিয়াল সার্টিফিকেট অফ অরিজিন (GSP, SAFTA, SAPTA)

প্রথমে একটা পার্থক্য বুঝে নেওয়া দরকার, কারণ Certificate of Origin নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তি এখানেই।

  • Preferential সনদ: নির্দিষ্ট বাণিজ্য চুক্তি বা সুবিধার আওতায় শুল্ক ছাড় পেতে লাগে। এর কাজ ইপিবির পরিধিতে পড়ে।
  • Non-preferential (সাধারণ) সনদ: শুল্ক ছাড়ের জন্য নয়, শুধু পণ্যের উৎস প্রমাণ করতে লাগে। ইপিবি এটা দেয় না। বাংলাদেশে এটা দেয় চেম্বার অব কমার্সগুলো, যেমন ঢাকা চেম্বার (DCCI), মেট্রোপলিটন চেম্বার (MCCI) ও চট্টগ্রাম চেম্বার (CCCI)।

তাই আপনার বায়ার কোন ধরনের সনদ চাইছেন, সেটা আগে ঠিক করে নিন। কোন চেম্বার আপাতত অনুমোদিত, তা বদলাতে পারে। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট চেম্বারের সাইট দেখে নেওয়া ভালো।

ইউরোপীয় ইউনিয়নে রপ্তানির জন্য REX রেজিস্ট্রেশন

আগে ইইউ-তে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে ইপিবি থেকে GSP Form A নিতে হতো। এখন নিয়ম বদলেছে। ইউরোপীয় কমিশনের Registered Exporter (REX) ব্যবস্থায় রপ্তানিকারক নিজেই পণ্যের উৎস ঘোষণা (statement on origin) দেন। শর্ত একটাই, আগে নিজের দেশের "competent authority"-র কাছে নিবন্ধিত হতে হবে। বাংলাদেশে সেই কর্তৃপক্ষ ইপিবি।

ব্যবস্থাটা ২০১৭ সাল থেকে ইইউ-র GSP স্কিমে (Standard GSP, GSP+ ও Everything But Arms) চালু। বাংলাদেশে ইপিবি ২০১৯ সালের জুলাইয়ে প্রথম দশটি প্রতিষ্ঠানকে REX নম্বর দিয়ে নিবন্ধন শুরু করে। ইইউ-র পাশাপাশি নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও তুরস্কের GSP স্কিমেও এই ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়। ইউকে-র জন্য নিয়ম আলাদা, তাই ওটা আলাদাভাবে যাচাই করুন।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় (International Trade Fair) অংশ নেওয়ার সুযোগ

ইপিবি দেশের ভেতরে ও বিদেশে মেলার আয়োজন করে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২৭টি দেশে ৫০টি আন্তর্জাতিক মেলায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। লক্ষ্য ১২টি অগ্রাধিকার খাত। একই বৈঠকে ৩১তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা (DITF) ২০২৭-এর সম্ভাব্য শুরুর তারিখ ধরা হয়েছে ১ জানুয়ারি ২০২৭।

জাতীয় রপ্তানি ট্রফি ও সিআইপি (CIP) নির্বাচন

রপ্তানিতে ভালো করা প্রতিষ্ঠানকে ন্যাশনাল এক্সপোর্ট ট্রফি দেওয়া হয়, আর সিআইপি (রপ্তানি) মর্যাদা দেওয়া হয় ব্যবসায়ীদের। ২০২৫-২৬ সালের ট্রফি ও ২০২৭ সালের সিআইপির জন্য আবেদন নেওয়া হয়েছিল ১ থেকে ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত, শুধু অনলাইনে। ট্রফিতে ২৯টি ক্যাটাগরি আর সিআইপিতে ৩৫টি খাত। প্রতিটি ক্যাটাগরিতে ন্যূনতম রপ্তানি আয়ের শর্ত আছে, আর রপ্তানি আয় যাচাই হয় বাংলাদেশ ব্যাংকের অনলাইন এক্সপোর্ট মনিটরিং সিস্টেমের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে।

রপ্তানি তথ্য ও মার্কেট রিসার্চ সাপোর্ট

ইপিবি রপ্তানির পরিসংখ্যান সংকলন ও প্রকাশ করে, বাজার বিশ্লেষণ করে এবং রপ্তানি নীতি (যেমন Export Policy 2024-2027) ওয়েবসাইটে রাখে। নতুন কোন দেশে পণ্য পাঠানোর আগে এই তথ্য কাজে আসে।

কারা epb.gov.bd ব্যবহার করবেন এবং কী সুবিধা পাবেন?

নতুন ও অভিজ্ঞ রপ্তানিকারক

ইইউ-তে পণ্য পাঠালে REX নিবন্ধন প্রায় অপরিহার্য। এর বাইরে নীতিমালা, নোটিশ ও মেলার তালিকা নিয়মিত দেখা দরকার। নিয়ম, নীতি আর প্রণোদনার শর্ত বদলায় বলে পুরোনো ব্লগ বা ফেসবুক পোস্টের ওপর ভরসা না করাই ভালো।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ই-কমার্স উদ্যোক্তা

বিদেশে পণ্য পাঠানোর কথা ভাবছেন, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন বুঝছেন না? তাহলে এই ক্রমটা ধরতে পারেন:

  1. বৈধ ব্যবসার ভিত্তি তৈরি করুন: ট্রেড লাইসেন্স, ই-টিন, প্রয়োজনে কোম্পানি নিবন্ধন।
  2. রপ্তানির জন্য ERC নিন (পরের সেকশনে বিস্তারিত)।
  3. অনলাইনে বিক্রি করলে ডিজিটাল কমার্স আইডি (DBID) এবং ই-কমার্স ওয়েবসাইট তৈরির বিষয়গুলো দেখে নিন।
  4. তারপর ইপিবির মেলা ও বাজার-তথ্য কাজে লাগিয়ে বায়ার খুঁজুন।

খুব ছোট আকারে শুরু করা উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রফি-সিআইপি আপাতত দূরের বিষয়। আগে ধীরে ধীরে রপ্তানির রেকর্ড তৈরি হোক।

সিঅ্যান্ডএফ (C&F) এবং শিপিং এজেন্ট

আপনার ক্লায়েন্টের কোন কাগজ লাগবে (REX statement, preferential সনদ, নাকি সাধারণ CO), সেটা আগে থেকে জানা থাকলে শিপমেন্ট আটকে যাওয়ার ঝুঁকি কমে। কাস্টমসের দিকটা বুঝতে বাংলাদেশ কাস্টমস পোর্টাল নির্দেশিকা কাজে লাগবে।

প্রবাসে দেশীয় পণ্যের বাজার খুঁজছেন যে ব্যবসায়ী

বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার খুঁজলে ইপিবির মেলার তালিকা আর রপ্তানি তথ্য একটা ভালো শুরু। পাশাপাশি নীতিগত তথ্যের জন্য Bangladesh Trade Portal দেখতে পারেন।

বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানির নিয়ম: ধাপে ধাপে

রপ্তানির আগে যা লাগে: ERC

ইপিবি ERC দেয় না। রপ্তানিকারক হিসেবে নিবন্ধন (ERC) দেয় প্রধান নিয়ন্ত্রকের (CCI&E) কার্যালয়, যার আবেদন এখন OLM পোর্টালে হয়। বিস্তারিত পাবেন এই দুটো লেখায়:

ব্যবসা শুরুর পুরো প্রক্রিয়া এক জায়গায় দেখতে চাইলে BIDA OSS পোর্টালের গাইডটি কাজে লাগবে। ভ্যাট নিবন্ধন লাগলে BIN নিয়ে এই লেখা দেখুন।

REX রেজিস্ট্রেশন করার সঠিক পদ্ধতি

ইউরোপীয় কমিশনের REX পাতা অনুযায়ী ইইউ-র বাইরের রপ্তানিকারকদের একটা অনলাইন Pre-Application ফরম আছে। সাধারণ ধাপগুলো এরকম:

  • ফরমে প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, যোগাযোগের তথ্য, কার্যক্রম (উৎপাদন নাকি ট্রেডিং) এবং কোন ধরনের পণ্য রপ্তানি করবেন তার বিবরণ দিন।
  • ফরম প্রিন্ট করে স্বাক্ষর করুন এবং জমা দিন ইপিবির কাছে।
  • ইপিবি যাচাই করে নিবন্ধন দিলে আপনি একটি REX নম্বর পাবেন।
  • এই নম্বর বসিয়ে আপনি নিজেই statement on origin দিতে পারবেন।

একটা সতর্কতা: ইপিবির নিজস্ব REX নির্দেশিকা ও ফরমও আছে, আর ধাপ বা কাগজপত্র বদলাতে পারে। তাই আবেদনের আগে epb.gov.bd-তে সর্বশেষ নির্দেশনা মিলিয়ে নিন। ইইউ-র পাতায় আরও লেখা আছে, রেজিস্ট্রেশনের সময় আপনি চাইলে আপনার তথ্য পুরোপুরি প্রকাশ না করার অপশনও নিতে পারেন।

আন্তর্জাতিক মেলার নোটিশ ও ফরম

মেলায় অংশ নিতে চাইলে ইপিবির নোটিশ বোর্ড নিয়মিত দেখুন। ডিআইটিএফ-এর মতো মেলায় স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের আবেদন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইনে হয়েছে। বিদেশের মেলায় অংশগ্রহণের তালিকা অর্থবছরভিত্তিক, তাই কোন মেলা আপনার খাতের জন্য প্রযোজ্য তা নোটিশ থেকে যাচাই করুন।

পেমেন্টের দিকটা ভুলবেন না

নতুন বায়ারের সঙ্গে লেনদেনের ঝুঁকি কমাতে এলসি একটা পরিচিত পদ্ধতি। এলসি (Letter of Credit) কী ও কীভাবে করতে হয়, সে বিষয়ে আলাদা গাইড আছে।

এলডিসি (LDC) গ্র্যাজুয়েশন ও রপ্তানিকারকদের জন্য এর অর্থ

এই সেকশনের তথ্য ২০ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে।

  • বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের নির্ধারিত তারিখ ২৪ নভেম্বর ২০২৬।
  • সরকার এই সময়সীমা তিন বছর, অর্থাৎ ২৪ নভেম্বর ২০২৯ পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছে। জাতিসংঘের ইকোসক (ECOSOC) বিষয়টি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সাধারণ পরিষদে (UNGA) পাঠিয়েছে। ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঐকমত্য না হলে ভোটে দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন লাগবে।
  • এই লেখা তৈরির সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের নিশ্চিত খবর পাওয়া যায়নি। তাই "কী হলো" জানতে সর্বশেষ সংবাদ দেখে নিন।

ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যবহারিক কথা: ইইউ সাধারণত গ্র্যাজুয়েশনের পর তিন বছরের ট্রানজিশন দেয়, ফলে EBA সুবিধা কিছুদিন বহাল থাকার কথা। তবে সেই সময়ের পর শুল্ক-সুবিধা কেমন থাকবে, তা আলোচনাধীন। এজন্য পণ্যের উৎস-নিয়ম (rules of origin) ঠিকঠাক মেনে চলা এবং REX নিবন্ধন হালনাগাদ রাখা এখন আরও জরুরি।

বাংলাদেশ থেকে পণ্য রপ্তানি বাড়াতে EPB-এর ভূমিকা

বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রচার

ইপিবির মেলা ও প্রচারণা মূলত নতুন পণ্য ও নতুন বাজার খুঁজে বের করতে সাহায্য করে। তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চামড়া, কৃষিপ্রক্রিয়াজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল ইত্যাদি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার কথা সরকারি পর্যায়েও বলা হচ্ছে।

রপ্তানি নীতি ও সুবিধা যাচাই

কোন পণ্যে কী সহায়তা পাওয়া যায়, তা সবসময় ইপিবির প্রকাশিত নীতিমালা ও সর্বশেষ নোটিশ থেকে দেখে নিন। নগদ প্রণোদনার হার ও শর্ত সময়ের সঙ্গে বদলায়, কাজেই পুরোনো তথ্যে সিদ্ধান্ত নেবেন না।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

ইপিবি কি রপ্তানি লাইসেন্স (ERC) দেয়?

না। ERC দেয় প্রধান নিয়ন্ত্রকের (CCI&E) কার্যালয়, আবেদন হয় OLM পোর্টালে। ইপিবির কাজ রপ্তানির প্রচার, নীতি-সহায়তা, REX নিবন্ধন ও কিছু preferential সনদ। ERC-র নিয়ম এখানে দেখুন।

Certificate of Origin কোথা থেকে নেব?

সাধারণ (non-preferential) CO দেয় অনুমোদিত চেম্বার অব কমার্স, যেমন ডিসিসিআই, এমসিসিআই ও সিসিসিআই। Preferential সনদের (GSP, SAFTA, SAPTA) বিষয়টি ইপিবির আওতায়। ইইউ-তে গেলে এখন REX স্ব-ঘোষণা চলে।

ইপিবিতে নিবন্ধন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

সাধারণত বৈধ ট্রেড লাইসেন্স, টিআইএন ও ERC-র মতো মৌলিক কাগজ লাগে। তবে নিবন্ধনের নির্দিষ্ট কাগজপত্রের তালিকা সময়ের সঙ্গে বদলায়। তাই আবেদনের আগে epb.gov.bd-তে চলতি নির্দেশনা দেখে নিন।

সাধারণ ব্যবসায়ী কি সরাসরি আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নিতে পারেন?

দেশে আয়োজিত ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় স্থানীয় উৎপাদক, রপ্তানিকারক ও সাধারণ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্টল নেয়, বরাদ্দ ইদানীং অনলাইনে হয়েছে। বিদেশের মেলায় ইপিবির তালিকাভুক্ত অগ্রাধিকার খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো বেশি সুযোগ পায়। নিজের পণ্য কোন তালিকায় পড়ে, সেটা নোটিশ থেকে যাচাই করুন।

epb.gov.bd আর Bangladesh Trade Portal-এর পার্থক্য কী?

ইপিবি একটি সংস্থা, যার কাজ রপ্তানি প্রচার ও কিছু সেবা। Bangladesh Trade Portal বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি তথ্যভান্ডার, যেখানে আমদানি-রপ্তানির আইন, পদ্ধতি, ফি ও ফরমের তথ্য আছে। একটায় সেবা ও প্রচার, অন্যটায় নিয়মকানুনের তথ্য।

উপসংহার

সংক্ষেপে, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (EPB) রপ্তানির প্রচার ও সহায়তার সংস্থা। এখান থেকে পাবেন নীতিমালা, মেলার সুযোগ, REX নিবন্ধন, কিছু preferential সনদ এবং ট্রফি-সিআইপির আবেদন। কিন্তু ERC আর সাধারণ CO আলাদা জায়গা থেকে নিতে হয়। আর এলডিসি উত্তরণের সিদ্ধান্ত এখনো অপেক্ষায়, তাই কাগজপত্র ও উৎস-নিয়মে এখন থেকেই গুছিয়ে থাকা ভালো।

পণ্য রপ্তানি বা ইপিবির সেবা নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্টে জানান। যেসব প্রশ্ন বারবার আসে, সেগুলো এই লেখায় যোগ করে দেব।

ডিসক্লেইমার: Home BD Info কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নয়। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। নিয়ম, ফি ও কাগজপত্র পরিবর্তন হতে পারে, তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অফিসিয়াল সাইটে যাচাই করে নিন। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২০ অক্টোবর ২০২৬।

তথ্যসূত্র

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.