আইইএলটিএস (IELTS= International English Language Testing System) কি? কাদের জন্য কেন প্রয়োজন?

যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখেন কিংবা বিদেশে ক্যারিয়ার গড়তে চান, তাদের জন্য মূলত আজকের ইনফোটি। আইইএলটিএস (IELTS= International English Language Testing System) কি, কেন এর ভালো স্কোর প্রয়োজন হয়? পরীক্ষা পদ্ধতি কি ইত্যাদি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে এখানে।

আইইএলটিএস (IELTS= International English Language Testing System) কি? কাদের জন্য প্রয়োজন?
ছবি: আইডিপি ও বিট্রিশ কউন্সিল ওয়েবসাইটের

যাদের মাতৃভাষা ইংরেজি নয়, ইংরেজি প্রধান দেশে পড়াশুনা, পেশাজীবী উচ্চশিক্ষা কিংবা চাকরি ও ইমিগ্রেশনের জন্য ইংরেজি ভাষায় তাদের দক্ষতা যাচাই করার প্রয়োজন হয়।

সুতরাং আপনি যদি বিদেশে উচ্চশিক্ষা, চাকরি কিংবা ইমিগ্রেশনের জন্য যেতে চান তাহলে আপনাকে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা প্রমাণের জন্য (IELTS/TOEFL/PTE) পরীক্ষা দিয়ে স্কোর অর্জন করতে হবে। ইতিমধ্যে আমরা টোফেল কি? কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করা হয়? প্রশ্নের ধরন কি কি? ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছি। আজকে “আইইএলটিএস(IELTS)” নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

 

আইইএলটিএস কি? What is IELTS?

IELTS এর পুরো অর্থ হচ্ছে - International English Language Testing System অর্থাৎ আইইএলটিএস (The International English Language Testing System) হলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই করা সনদ। যা ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি কর্তৃক পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে প্রদান করা হয়।

ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি: IELTS (আইইএলটিএস) অস্ট্রেলিয়া ও কেমব্রিজ ইংলিশ ল্যাংগুয়েজ অ্যাসেসমেন্ট কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত হয়। বাংলাদেশে আইইএলটিএস পরীক্ষা পরিচালনাকারী অন্যতম প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ব্রিটিশ কাউন্সিল।

আইইএলটিএস ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি প্রধানত যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য অপরিহার্যা ছিল। বর্তমানে উত্তর আমেরিকাসহ ইউরোপের বেশির ভাগ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো IELTS স্কোর গ্রহণ করে থাকে।


কারা কারা আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে?

এই পরীক্ষায় সবাই অংশ নিতে পারবে। কেননা IELTS পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য শিক্ষাগত সনদ প্রয়োজন হয় না। এখানে বয়সেরও কোন বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সাধারণত ১৬ বছরের নিচে অর্থাৎ প্রার্থীকে ১৬ বছর কিংবা তার বেশি হওয়া প্রয়োজন।

অর্থাৎ যে কোন বয়সের যে কেউ আইইএলটিএস পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সনদ গ্রহণ করতে পারবে। এই সনদ বিদেশে ক্যারিয়ারে কাজে লাগাতে পারেন।

 

আইইএলটিএস পরীক্ষা পদ্ধতি

এই পরীক্ষা পদ্ধতির দুটি মডিউল রয়েছে। একটি হচ্ছে একাডেমিক আইইএলটিএস (Academic IELTS) অপরটি হচ্ছে জেনারেল ট্রেনিং আইইএলটিএস (General Training IELTS)। যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা করার জন্য আবেদন করতে চান তারা একাডেমিক আইইএলটিএস (Academic IELTS) মডিউলে পরীক্ষা দিবেন। আর যদি লেখাপড়া ভিন্ন কোন উদ্দেশ্যে অর্থাৎ ইমিগ্রেশন, চাকরি, কারিগরি প্রশিক্ষণ ইত্যাদির জন্য বিদেশে যান তাহলে জেনারেল ট্রেনিং আইইএলটিএস (General Training IELTS) পরীক্ষা দিতে হবে।

আইইএলটিএস এর উভয় মডিউলে পরীক্ষার চারটি সেকশন রয়েছে। সেকশন ৪টি হচ্ছে, লিসেনিং (Listening), রিডিং (Reading), রাইটিং (Writing) ও স্পিকিং (Speaking)। নিচে সেকশনগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।


১) লিসেনিং (Listening) সেকশন

এই অংশে আপনাকে ইংরেজি ভাষার শুনার দক্ষতা যাচাই করার পরীকা দিতে হবে। অর্থাৎ ইংরেজি বক্তব্য বা কথোপকথন শুনে আপনাকে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

এই সেকশনে ৪০ টি প্রশ্ন থাকে এবং মোট সময় থাকে ৪০ মিনিট। ৩০ মিনিট আপনাকে ইংরেজি অডিও শুনতে হবে এবং ১০ মিনিট সময় পাবেন উত্তর লেখার জন্য। অডিওগুলো চারটি বিভাগে বিভক্ত। অর্থাৎ ৩০ মিনিটে চারটি অংশে IELTS-Listening পরীক্ষা নেওয়া হয়।

একাডেমিক ও জেনারেল আইইএলটিএস  উভয় লিসেনিং পরীক্ষা একই ধরণের হয়। অডিওগুলো মাত্র একবার শুনতে পারবেন। এই অংশে ভাল স্কোর পেতে হলে ইংরেজি শুনে বুঝার দক্ষতা ভাল করতে হবে।

 

২) রিডিং (Reading) সেকশন

ইংরেজি পড়ে কতটুকু দক্ষতা অর্জন করেছেন তাই এই সেকশনে যাচাই করা হয়। ৩টি প্যাসেজ পড়তে দেওয়া হবে। প্যাসেজগুলো পড়ে উত্তর লিখতে হবে। তিনটি বিভাগে মোট ৪০টি প্রশ্ন থাকবে এবং মোট সময় বরাদ্ধ থাকবে ৬০ মিনিট।

প্রশ্নের ধরণ হবে বাক্য পূরণ করা, সংক্ষিপ্ত উত্তর ও সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা ইত্যাদি। মনে রাখবেন উত্তর লেখার জন্য সময় আলাদা করে দেওয়া হবে না।

প্যাসেজগুলোর ক্ষেত্রে লক্ষণীয় যে, একাডেমিক আইইএলটিএস অপেক্ষা জেনারেল ট্রেনিং আইইএলটিএস সহজ হয়ে থাকে। অর্থাৎ Academic IELTS- Reading প্যাসেজগুলো সাধারণত বই, জার্নাল, আর্টিকেল, রিসার্স পেপার কিংবা নিউজপেপার থেকে আসে।

অন্যদিকে General Training IELTS- Reading প্যাসেজগুলো বই, জার্নাল, নোটিশ, কোম্পানীর হ্যান্ডবুক, অফিসিয়াল ডকুমেন্ট ইত্যাদি থেকে তুলে দেওয়া হয়। সাধারণত দৈনন্দিন জীবনে মুখোমুখি হতে হয় এমন বিষয় জেনারেলে রিডিং প্যাসেজগুলো থাকে।

একাডেমিক প্যাসেজগুলো সাধারণত গবেষণা কিংবা বিজ্ঞান বিষায়ক হয়। অর্থাৎ জেনারেল অপেক্ষা কঠিন হয়ে থাকে।

 

৩) রাইটিং (Writing) সেকশন

পরীক্ষার এই অংশে যাচাই করা হবে আপনি ইংরেজিতে লেখার দক্ষতা কতটুকু অর্জন করেছেন। এখানে দুই প্যাসেজ লেখতে হবে। প্রথমটিতে ২০ মিনিট সময় পাবেন, কমপক্ষে ১৫০ ওয়ার্ডের একটি প্যাসেজ লিখতে হবে। দ্বিতীয়টিতে সময় পাবেন ৪০ মিনিট, লিখতে হবে কমপক্ষে ২৫০ ওয়ার্ড।

সুতরাং এই সেকশনে মোট সময় বরাদ্ধ থাকে ৬০ মিনিট। প্রশ্নের ধরন হচ্ছে- প্রথম প্রশ্নে একটি গ্রাফ, ডায়াগ্রাম, চার্ট, অথবা ম্যাপ দেওয়া থাকবে, যেটাকে নিজের ভাষায় ইংরেজিতে বিশ্লেষণ করতে হবে।

আর দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে একটি আর্গুমেন্ট অথবা স্টেটমেন্ট দেওয়া হবে, সেটার উপর মতামত এবং পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে হবে। অথবা কোন সমস্যা দেওয়া থাকবে সেটার সমাধান করতে হবে।

এখানে লক্ষণীয় যে, একাডেমিক IELTS এবং জেনারেল IELTS এর রাইটিং এর প্রথম প্রশ্নে কিছুটা পার্থক্য আছে। অর্থাৎ জেনারেলের রাইটিং এর প্রথম প্রশ্নের ক্ষেত্রে, ডায়াগ্রাম, চার্ট, ম্যাপ ইত্যাদির জায়গায় একটি চিঠি লিখতে হবে।

জেনারেলের এই চিঠিটি ফরমাল, ইনফরমাল কিংবা ব্যাক্তিগত হতে পারে। আর রাইটিং এর দ্বিতীয় প্রশ্নটির ক্ষেত্রে একাডেমিক ও জেনারেল আইইএলটিএস প্রায় একই রকম হয়ে থাকে।

 

৪) স্পিকিং (Speaking) সেকশন

আইইএলটিএস এর স্পিকিং (Speaking) পরীক্ষা সাধারণত ফেস টু ফেস তিনটি অংশে ১১ থেকে ১৫ মিনিটে হয়ে থাকে। অর্থাৎ স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে সরাসরি পরীক্ষকের কাছে প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

প্রথম অংশে সাধারণ কিছু প্রশ্ন যেমন- পড়ালেখা, কাজ, পরিবার, বন্ধ ইত্যাদি বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। দ্বিতীয় অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর  দুই তিন মিনিট কথা বলতে হবে। প্রস্ততির জন্য এক মিনিট সময় পাবেন। আর তৃতীয় অংশে দ্বিতীয় অংশের বিষয়ের উপর পরীক্ষকের সাথে কথোপকথন করতে হবে। অর্থাৎ আপনাকে কিছু ফলো আপ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।

 

আইইএলটিএস (IELTS) পরীক্ষার মাধ্যম

সাধারণত দুটি মাধ্যমে এই পরীক্ষা হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে পেপার বেসড আইইএলটিএস এবং অপরটি হচ্ছে কম্পিউটার বেসড আইইএলটিএস। এ দুটি মাধ্যমের পার্থক্য কি তা নিচে দেওয়া হলো।

 

পেপার বেসড-IELTS vs কম্পিউটার বেসড-IELTS

পেপার বেসড পরীক্ষা সাধারণত দুই দিনে সম্পূর্ণ হয়। একদিন লিসেনিং, রাইটিং ও রিডিং পরীক্ষা হয় আর স্পিকিং পরীক্ষা হয় অন্যান্য মডিউল গুলোর আগে বা পরে যে কোন দিন।

অর্থাৎ স্পিকিং (Speaking) টেস্ট দেওয়ার জন্য আলাদা একদিন পরীক্ষার হলে উপস্থিত হয়ে ফেস টু ফেস পরীক্ষা দিতে হবে।

অপরপক্ষে কম্পিউটার বেসড এ পরীক্ষার সবগুলো মডিউল একই দিনে দিতে হয়। অর্থাৎ লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিং সবগুলো একই দিনে দিতে হবে। তবে এক্ষেত্রে স্পিকিং টেস্ট হয় ফেস টু ফেস পেপার বেসড পরীক্ষার মতই আর বাকিগুলো হয় কম্পিউটার স্ক্রীনে।

মনে রাখুন, কম্পিউটার বেসড পরীক্ষা দিতে অবশ্যই আপনার কম্পিউটার টাইপিং স্পিড ভাল হতে হবে।

 

আইইএলটিএস(IELTS) পরীক্ষা কোথায় দিবেন?

বাংলাদেশে দুটি প্রতিষ্ঠান আইইএলটিএস(IELTS) পরীক্ষা নিলেও পরীক্ষা পদ্ধতি, নাম্বার দেওয়ার শর্ত সবকিছু একই রকম।

আইইএলটিএস পরীক্ষা গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান দুটি হচ্ছে- ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি। আপনি আপনার সুবিধা মতো যে কোন প্রতিষ্ঠানে রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিতে পারেন।

রেজিস্ট্রেশন হওয়ার জন্য নির্ধারিত ফি এবং বৈধ পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র লাগবে।

 

আইইএলটিএস-IELTS এ কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন?

সাধারণত দুভাবে আইইএলটিএস পরীক্ষার জন্য রেজিস্ট্রেশন করা হয়। লোকাল ভাবে আইইএলটিএস সেন্টারে উপস্থিত হয়ে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন হওয়া।

অপরদিকে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করে রেজিস্ট্রেশন হতে পারেন। নিচে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করার লিংক দেওয়া হলো।

ব্রিটিশ কাউন্সিল অনলাইন লিংক- https://www.britishcouncil.org.bd/en/exam/ielts/book-test

আইডিপি অনলাইন লিংক- https://www.idp.com/bangladesh/ielts/online-test-registration/

 

আবেদন পদ্ধতি ও নির্ধারিত ফি

আপনি যদি বিদেশে স্নাতক, স্নাতকোত্তর কিংবা পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশুনার জন্য IELTS দিতে চান, তাহলে Academic-IELTS দিতে হবে।

আর যদি কারিগরি বিষয় বা প্রশিক্ষণ কিংবা চাকরি, ইমিগ্রেশনের জন্য আইইএলটিএস দিতে চান তাহলে General Training IELTS এ রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষা দিবেন।

 আবেদনের জন্য আইডিপি (IDP) কিংবা ব্রিটিশ কাউন্সিল (British Council) যেকোন একটির অধিনে আবেদন করতে হবে। ঢাকা, রাজশাঞী, চট্রগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশাল ও কুমিল্লা জেলায় ব্রিটিশ কাউন্সিল ও আইডিপি সেন্টার রয়েছে। সেগুলোতে উপস্থিত হয়ে কিংবা অনলাইনে আবেদন করতে পারেন।

রেজিস্ট্রেশন ফি: আইইএলটিএস একডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং – ১৬,৭৫০/- টাকা এবং IELTS ফর UKVI (একাডেমিক ও জেনারেল ট্রেনিং) – ২১,১০০/- টাকা । মনে রাখবেন নির্ধারিত এই ফি পরিবর্তন হতে পারে, তাই অফিসে গিয়ে কিংবা অফিসিয়াল ওয়েবসাইনে আপডেট তথ্য জানুন। 

IELTS অফিসিয়াল ওয়েবসাইট- www.ielts.org


আইইএলটিএস পরীক্ষার হলে যা যা নিতে পারবেন?

আইইএলটিএস পরীক্ষার হলে প্রবেশের ক্ষেত্রে মনে রাখুন যে, পরীক্ষার হলে শুধুমাত্র কলম, পেন্সিল, শার্পনার ও পাসপোর্ট নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন, এছাড়া সাথে অন্য কিছু নিতে পারবেন না। এমনকি স্কেল নিয়েও হলে ঢুকতে পারবেন না।

অন্যান্য সব জিনিসপত্র রাখার জন্য পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোতে আলাদা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পরীক্ষার হলে আপনাকে একটি পেন্সিল, রাবার, শার্পনার দেওয়া হবে।

পরীক্ষার শেষে প্রয়োজনীয় টুকিটাকি নেওয়ার জন্য আপনাকে একটি ব্যগও দেওয়া হবে।

 

আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফল (IELTS-Exam Result)

IELTS এর পরীক্ষার ফলাফল সাধারণত পেপার বেসড এর ক্ষেত্রে ১৩ দিন পর প্রকাশ করা হয়, আর কম্পিউটার বেসড পরীক্ষার ফলাফল ৫ দিন পর প্রকাশ করা হয়।

আপনি ব্রিটিশ কাউন্সিল (British Council) কিংবা আইডিপি (IDP) যেখানে পরীক্ষা দিয়েছেন তাদের ওয়েবসাইটে IELTS-Exam Result পেয়ে যাবেন।

মনে রাখুন আপনি যদি অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করেন তাহলে টেস্ট ফরম নিতে হবে বিট্রিশ কাউন্সি কিংবা আইডিপির প্রধান শাখায় । অর্থাৎ মেইন অফিস থেকে টেস্ট ফরম সংগ্রহ করতে হবে।

আর যদি কোন সেন্টারে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করেন তাহলে সেই সেন্টার থেকে টেস্ট ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন।

 

IELTS পরীক্ষার ফলাফল পূনরায় মূল্যায়নের আবেদন করবেন কিভাবে?

আইইএলটিএস পরীক্ষার রেজাল্ট দেখার পর যদি আপনার সন্দেহ হয় যে, ফলাফল আশানুরুপ নয় তাহলে পূনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারেন। এর জন্য কিছু কাজের প্রয়োজন হবে।

অর্থাৎ পূরর্মূল্যায়নের আবেদনের জন্য প্রয়োজন ই.ও.আর (Enquiry on Result) ফরম, টেস্ট রেপোর্ট এবং আবেদন ফি।

আবেদন ফি: আপনি যদি একটি সেকশনের জন্য পূনর্মূল্যায়নে আবেদন করেন তাহলে ফি দিতে হবে ১০,০০০/- (দশ  হাজার) টাকা। আর যদি সবগুলো ৪টি সকশনের ফলাফল মূল্যায়ন করার আবেদন করেন তাহলে ১০,৫০০/- টাকা ফি জমা দিতে হবে।

পূনর্মূল্যায়নের আবেদন করার পর দুই-চার সপ্তাহের মধ্যে আপনাকে ইমেইল করে ফলাফল জানানো হবে।

মনে রাখুন, আপনার ফলাফল পরিবর্তন হলে আবেদন ফি বাবদ পুরো টাকাটা ফেরত পাবেন। আর যদি আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে কোন ব্যন্ড স্কোর পরিবর্তন না হয় তাহলে আবেদন ফি ফেরত পাবেন না।

 

আইইএলটিএস ফলাফল কতদিন কার্যকর থাক?

সাধারণত এই পরীক্ষার ফলাফল পরীক্ষার দিন থেকে দুই বছরের জন্য বৈধ বলে বিবেচনা করা হয়। যদি আপনার IELTS টেস্ট ফরম দুই বছরের বেশি পুরানো হয়, তাহলে আর একটি টেস্ট রেপোর্ট ফরম পেতে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হবে।

এখানে লক্ষনীয় বিষয় হচ্ছে- আপনার হাতে একটি মাত্র পরীক্ষার টেস্ট ফরম দিবে। আপনার যদি একধিক টেস্ট ফরম প্রয়োজন হয়। যেমন- আপনি যদি বিদেশে একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য আবেদন করেন তাহলে একাধিক টেস্ট ফরম প্রয়োজন হবে।

সেক্ষেত্রে ব্রিটিশ কাউন্সিল অফিসে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করতে হবে। ব্রিটিশ কাউন্সিল ঐ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টেস্ট রেপোর্টে ফরম পাঠিয়ে দিবে। আপনার হাতে একের অধিক টেস্ট ফরম দিবে না। প্রতিটি টেস্ট রেপোর্ট এর জন্য আলাদা আলাদা ফি নির্ধারিত প্রয়োজ্য হবে।

 

IELTS পরীক্ষার প্রস্ততি কিভাবে নিবেন?

অনেকেই আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য কোচিং করে থাকেন। আসল কথা হচ্ছে এই পরীক্ষা কোচিং নির্ভরশীল নয়। কোচিং এ সাধারণত কিছু টেকনিক শেখানো হয়। আর স্কোর অর্জনের পুরো বিষয়টি নিজের উপর নির্ভর করে।

ভালো স্কোর পাওয়ার জন্য শুধু দরকার ইচ্ছা কিংবা কমিটমেন্ট। নিজেকে এই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার জন্য নিচের বিষয়গুলো বিবেচনা করুন।

** সর্বপ্রথম একটি বই (Cambridge IELTS Book) ক্রয় করে নিয়মিত অধ্যায়ণসহ প্রতিদিন একটি করে টেস্ট দিন।

** প্রথমেই মডেল টেস্ট দিয়ে দেখুন আপনার কোন কোন মডিউলে কি কি বিষয়ের ওপর দুর্বলতা রয়েছে এবং সেই অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করুন।

** ইংরেজি নিউজপেপার, গল্প-উপন্যাস, ম্যাগাজিন যা ভালো লাগে নিয়মিত পড়ুন। নতুন শব্দগুলো অবশ্যই নোট করুন এবং প্রতিদিন রিভিশন করতে থাকুন।

** ইংরেজিতে শোনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে ইংলিশ মুভি, সিরিয়াল, ডকুমেন্টারি, গান কিংবা টিক টক ভিডিও দেখে কথাগুলো বুঝার চেষ্টা করুন।

** ইংরেজিতে ভাল লাগা বিষয়ের উপর ইংরেজিতে রিভিউ লিখুন নিয়মিত। বিশেষ করে মুভি, আর্টিকেল কিংবা ভিডিও যাই দেখেন না কেন রিভিউ লিখে ফেলুন, এতে আপনার রাইটিং স্কিল বৃদ্ধি পাবে।

** ইংরেজি ভাল স্পিকিং বন্ধুর সাথে প্রতিদিন ১০ মিনিট করে কথা বলুন।

** ইংরেজি বেসিকে দুর্বল থাকলে প্রথমে “A passage to the English Grammar” – S.M. Zakir Hossaib বইটি আয়ত্ব করুন।

** রুটিন মাফিক প্রতিদিন পড়াশুনা করুন। এতে ভাল স্কোর আপনার জন্য বাধ্য হবে।


আইইএলটিএস পরীক্ষা সহায়ক কিছু গ্রন্থ

** The Official Cambridge Guide to IELTS

** Cambridge English Vocabulary for IELTS

** Practical English Usage by Swan

** TOEFL by Cliffs ইত্যাদি।

এছাড়াও আইএলটিএস- IELTS এর সবগুলো টেস্ট অনুশীলন করার জন্য অনলাইনে অনেক ওয়েব সাইট রয়েছে। নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য ইউটিউবেও নানা কোর্স ও টিপস পাবেন। IELTS- সহায়ক কিছু লিংক নিচে দেওয়া হলো।

https://www.britishcouncil.org.bd/en/exam/ielts/prepare

https://www.ielts.org/for-test-takers/how-to-prepare

https://ieltsliz.com/

https://ielts.magoosh.com/

আরো জানুন: পিটিই কি? What is PTE?

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.