Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

প্রবাসীদের আয়কর ও ট্যাক্স রিটার্ন: রেমিটেন্সে কর আছে কি, রিটার্ন কখন ও কীভাবে দেবেন

বিদেশে বসে মাসের পর মাস কাজ করার পর অনেক প্রবাসীর মনেই একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খায়, দেশে টাকা পাঠালে কি কর দিতে হবে? আবার যাঁদের দেশে জমি, বাড়ি বা ব্যাংক হিসাব আছে, তাঁরা ভাবেন আয়কর রিটার্ন না দিলে কোনো ঝামেলা হবে কি না।

উত্তরটা ভয়ের নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে স্বস্তির। তবে নিয়মগুলো না জানলে অকারণ দুশ্চিন্তা বা ভুল সিদ্ধান্তের ঝুঁকি থাকে। এই গাইডে আমরা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রবাসীদের আয়কর ও রিটার্ন সহজ ভাষায় বুঝে নেব।

প্রবাসীদের আয়কর ও ট্যাক্স রিটার্ন: রেমিটেন্সে কর আছে কি, রিটার্ন কখন ও কীভাবে দেবেন
দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি শুধু তথ্যমূলক, কোনো কর বা আইনি পরামর্শ নয়। করের হার, সীমা ও সময়সীমা প্রতি বছর অর্থ আইনে বদলাতে পারে। সিদ্ধান্তের আগে এনবিআর বা আপনার এলাকার কর অফিস থেকে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করুন।

প্রথমে বুঝুন: আপনি কর-আইনে "নিবাসী" নাকি "অনিবাসী"?

বাংলাদেশের আয়কর আইনে একজন ব্যক্তি নিবাসী হবেন কি না, তা নির্ভর করে তিনি আয়বর্ষে কত দিন দেশে ছিলেন তার ওপর। আয়বর্ষ হলো ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়।

  • আয়বর্ষে প্রায় ছয় মাস বা তার বেশি (১৮২ বা ১৮৩ দিন) বাংলাদেশে থাকলে আপনি সাধারণত নিবাসী।
  • অথবা আয়বর্ষে কমপক্ষে ৯০ দিন থাকলে এবং আগের চার বছরে মোট ৩৬৫ দিন বা তার বেশি থাকলেও নিবাসী গণ্য হতে পারেন।
  • এই শর্ত পূরণ না করলে সাধারণভাবে আপনি অনিবাসী (non-resident) বাংলাদেশি বা NRB।

সূত্রভেদে ১৮২ ও ১৮৩ দিন, দুই ধরনের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাই ছুটিতে দেশে বেশি দিন থাকার পরিকল্পনা করলে ১৮০ দিনের কাছাকাছি যাওয়ার আগে কর অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

বিদেশে আয় করা টাকা ও রেমিটেন্সে কি আয়কর দিতে হয়?

এটিই প্রবাসীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এনবিআর-এর সচরাচর জিজ্ঞাসায় করমুক্ত আয়ের তালিকায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো বাংলাদেশি নাগরিক বিদেশে যে আয় করেন এবং বৈদেশিক রেমিটেন্স সংক্রান্ত বিদ্যমান আইন অনুযায়ী দেশে নিয়ে আসেন, তা মোট আয়ের অন্তর্ভুক্ত হয় না।

সহজ কথায়, বৈধ ব্যাংকিং পথে আসা বিদেশি আয় করমুক্ত। শর্তটি হলো "বৈধ আইনি পথ", তাই হুন্ডির টাকার ক্ষেত্রে এই সুরক্ষা প্রযোজ্য নয়। বৈধ পথে টাকা পাঠানোর ধাপগুলো জানতে পড়ুন বৈধ উপায়ে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর সহজ নিয়ম ও প্রবাসীদের সুবিধা গাইডটি।

প্রবাসী বন্ডের আয়ও করমুক্ত

একই তালিকায় ওয়েজ আর্নারস ডেভেলপমেন্ট বন্ড এবং ইউএস ডলার, ইউরো ও পাউন্ড স্টারলিং প্রিমিয়াম বা ইনভেস্টমেন্ট বন্ড থেকে পাওয়া আয়ও করমুক্ত আয়ের মধ্যে উল্লেখ আছে। এসব বন্ডে কীভাবে বিনিয়োগ করবেন, তা জানতে দেখুন ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড: প্রবাসীদের জন্য সরকারি বন্ড ও সঞ্চয়পত্রের গাইড।

বাংলাদেশে কোন আয়ে প্রবাসীর কর লাগতে পারে?

অনিবাসী ব্যক্তি সাধারণত শুধু বাংলাদেশে অর্জিত বা প্রাপ্ত আয়ের ওপর করযোগ্য হন। অর্থাৎ বিদেশের বেতন নয়, বরং দেশে থাকা সম্পদ বা ব্যবসা থেকে পাওয়া আয়ই মূল বিবেচ্য।

  • দেশে থাকা বাড়ি বা দোকানের ভাড়া থেকে আয়
  • কৃষিজমি বা ব্যবসা থেকে আয়
  • ব্যাংকের সুদ বা মুনাফা, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা (প্রবাসী বন্ড বাদে)
  • শেয়ারের লভ্যাংশ বা মূলধনি লাভ
  • সম্পত্তি বিক্রি থেকে প্রাপ্ত লাভ

এনবিআর-এর তথ্য অনুযায়ী অনিবাসী বাংলাদেশিসহ প্রত্যেক ব্যক্তি করদাতার ক্ষেত্রে একটি নির্ধারিত করমুক্ত আয়ের সীমা আছে। সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকায় সাধারণ ব্যক্তির জন্য এই সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, এরপর আয়ের ধাপ অনুযায়ী ৫ থেকে ২৫ শতাংশ হারে কর প্রযোজ্য। নারী, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব এবং প্রতিবন্ধী করদাতার জন্য সীমা ভিন্ন।

করমুক্ত সীমার ওপরে আয় থাকলে এলাকাভেদে একটি ন্যূনতম করও দিতে হয়। হার ও সীমা বছরের অর্থ আইনে বদলাতে পারে, তাই সর্বশেষ সংখ্যা এনবিআর থেকে দেখে নিন।

প্রবাসীদের কি আয়কর রিটার্ন দিতেই হবে?

প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এনবিআর সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। এমনকি যে বছর সব স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য অনলাইন রিটার্ন বাধ্যতামূলক ছিল, সেখানেও বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের ছাড় দেওয়া হয়েছে।

তবে ইচ্ছা করলে প্রবাসীরা স্বেচ্ছায় রিটার্ন জমা দিতে পারেন, এবং বাস্তবে হাজারো প্রবাসী তা করছেনও। রিটার্ন জমা দিলে আপনি একটি আনুষ্ঠানিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও কর সনদ পান, যা ভবিষ্যতে ঋণ, জমি লেনদেন বা অন্য কোনো আর্থিক প্রয়োজনে কাজে আসতে পারে।

কোন কোন ক্ষেত্রে রিটার্ন বা তার প্রমাণ লাগতে পারে?

আয়কর আইনের ধারা ২৬৪ অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখাতে হয়। এনবিআর-এর তালিকায় ৫০টির বেশি ক্ষেত্র আছে, তার মধ্যে প্রবাসীদের ক্ষেত্রে তুলনামূলক প্রাসঙ্গিক কিছু উদাহরণ:

  • সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা বা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের জমি, বিল্ডিং বা অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রয়, হস্তান্তর বা আমমোক্তারনামা নিবন্ধন
  • ৫ লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র ক্রয়
  • ১০ লাখ টাকার বেশি মেয়াদি আমানত খোলা বা বহাল রাখা
  • ২০ লাখ টাকার বেশি ঋণ গ্রহণ
  • ক্রেডিট কার্ড গ্রহণ ও মোটরযান নিবন্ধনের মতো কিছু সেবা

তবে একই ধারার শর্তাংশে বলা আছে, যাঁদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়, তাঁদের ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হয় না। প্রবাসীদের জন্য এটি কীভাবে কাজ করে, তা পরিস্থিতিভেদে আলাদা হতে পারে। তাই দেশে বড় লেনদেনের আগে কর অফিস বা সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। দলিল নিবন্ধনের প্রস্তুতি জানতে পড়ুন দলিল রেজিস্ট্রেশনের নিয়ম: কাগজপত্র, সময়সীমা ও করণীয়।

প্রবাসীরা কীভাবে ই-টিআইএন (TIN) নেবেন?

রিটার্ন দিতে বা কর নিবন্ধনের জন্য প্রথমে একটি কর শনাক্তকরণ নম্বর বা TIN লাগে। ই-টিআইএন ১২ অঙ্কের একটি নম্বর, যা ঘরে বসে অনলাইনে নেওয়া যায়।

  • যাঁদের NID আছে: নাম, জন্ম তারিখ এবং বৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর (NID অনুযায়ী) দিয়ে আবেদন করা যায়।
  • যাঁদের NID নেই: এনবিআর-এর তথ্য অনুযায়ী পাসপোর্ট নম্বর ও ইস্যুর তারিখ, ভিসা নম্বর ও ইস্যুর তারিখ এবং পাসপোর্ট সাইজের ছবি (সফট কপি) লাগে।

ই-টিআইএন নেওয়ার বিস্তারিত ধাপ ও সনদ ডাউনলোডের নিয়ম জানতে পড়ুন ই-টিন (e-TIN) সার্টিফিকেট করার নিয়ম। আর বিদেশ থেকে NID বা ভোটার তথ্যের জন্য দেখুন প্রবাসীদের এনআইডি কার্ড করার নিয়ম।

ধাপে ধাপে: বিদেশ থেকে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার নিয়ম

নিয়মিত অনলাইন রিটার্নের জন্য সাধারণত TIN এবং নিজের নামে বায়োমেট্রিক নিবন্ধিত বাংলাদেশি মোবাইল নম্বর লাগে। বিদেশে থাকা প্রবাসীদের জন্য এনবিআর একটি আলাদা সহজ পথ রেখেছে।

  1. ই-টিআইএন প্রস্তুত রাখুন: আগে থেকে না থাকলে উপরের নিয়মে ই-টিআইএন করে নিন।
  2. ই-মেইলে আবেদন করুন: প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রবাসী করদাতারা নিজের পাসপোর্ট নম্বর, NID নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা এনবিআর-এর নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানা [email protected]এ পাঠান।
  3. ওটিপি ও লিংক গ্রহণ করুন: এনবিআর আপনার ই-মেইলে একটি ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড এবং নিবন্ধনের লিংক পাঠায়।
  4. ই-রিটার্ন সিস্টেমে নিবন্ধন করুন: লিংকে গিয়ে পাসওয়ার্ড ঠিক করে নিবন্ধন সম্পন্ন করুন।
  5. তথ্য পূরণ করুন: সিস্টেম ধাপে ধাপে আয়, বিনিয়োগ, ব্যয় এবং সম্পদ ও দায়ের তথ্য চাইবে। আয়ের খাত সঠিকভাবে বাছাই করুন।
  6. কর পরিশোধ করুন (প্রযোজ্য হলে): কর দিতে হলে ই-রিটার্ন সিস্টেম থেকেই ব্যাংক ট্রান্সফার, কার্ড বা মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহার করে দেওয়া যায়।
  7. জমা দিয়ে রসিদ নিন: রিটার্ন সাবমিট করলেই অ্যাকনলেজমেন্ট স্লিপ ও ট্যাক্স সার্টিফিকেট তৈরি হয়। এগুলো ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করুন।

এনবিআর-এর তথ্যে এও বলা আছে, বিদেশে অবস্থানকালে রিটার্ন সংশ্লিষ্ট দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসেও দাখিল করা যায়। দূতাবাসের যোগাযোগ জানতে সৌদি প্রবাসীরা দেখতে পারেন সৌদি আরব প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা ও ফোন নম্বর।

সহায়তা দরকার হলে এনবিআর-এর ই-রিটার্ন হটলাইন ০৯৬৪৩ ৭১৭১৭১ নম্বরে যোগাযোগ করা যায়। সরকারি ফি বা কর অনলাইনে দেওয়ার নিয়ম জানতে পড়ুন A Challan সিস্টেম কি? কিভাবে সরকারি ফি পরিশোধ করবেন?

রিটার্ন জমার সময়সীমা ও না দিলে কী হয়?

  • সাধারণ সময়সীমা: স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার জন্য প্রতি বছর ৩০ নভেম্বর।
  • বিদেশে অবস্থানরতদের জন্য ভিন্ন তারিখ: এনবিআর-এর তথ্য অনুযায়ী অর্থ উপার্জনের উদ্দেশ্যে বৈধ ভিসা ও পারমিট নিয়ে বিদেশে থাকা করদাতার ক্ষেত্রে দেশে ফেরার দিন থেকে ৯০তম দিন পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটি বা প্রেষণে থাকলেও একই সুবিধা আছে।
  • বিলম্বে দাখিল: আইনে এখন জরিমানা দিয়ে সারা বছরই রিটার্ন দেওয়া যায়, আলাদা সময়ের আবেদন লাগে না।
  • জরিমানা: যাঁদের জন্য রিটার্ন বাধ্যতামূলক, তাঁরা না দিলে সর্বশেষ নির্ধারিত করের ১০ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা) জরিমানা এবং ব্যর্থতা চলতে থাকলে দৈনিক ৫০ টাকা হারে অতিরিক্ত জরিমানা হতে পারে।

কখন জমা দিচ্ছেন, তার ওপর ভিত্তি করে কর প্রণোদনা বা অতিরিক্ত করের ব্যবস্থাও থাকতে পারে। প্রতি বছরের নিয়ম আলাদা, তাই সময়সূচি এনবিআর থেকে দেখে নিন।

রিটার্নে কোন কোন তথ্য ও কাগজ লাগবে?

অনলাইন রিটার্নে এখন কাগজপত্র আপলোড করতে হয় না। তবে তথ্য নির্ভুলভাবে পূরণের জন্য নিচের কাগজগুলো কাছে রাখুন এবং ভবিষ্যতের জন্য সংরক্ষণ করুন।

  • দেশে ভাড়া থাকলে ভাড়ার চুক্তিপত্র ও পৌরকরের রসিদ
  • ব্যাংক সুদ বা সঞ্চয়পত্রের মুনাফার সনদ এবং উৎসে কর কাটার সনদ
  • শেয়ার লভ্যাংশের ওয়ারেন্ট
  • জমি বা সম্পদ কেনাবেচার চুক্তিপত্র ও রসিদ
  • বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিটেন্সের ব্যাংক রসিদ বা রেকর্ড
  • বছরের সম্পদ, দায় এবং পারিবারিক ব্যয়ের হিসাব

কর রেয়াত: বিনিয়োগ করলে সুবিধা

এনবিআর-এর তালিকা অনুযায়ী কিছু বিনিয়োগ ও দানে কর রেয়াত পাওয়া যায়, যেমন জীবন বিমার প্রিমিয়াম, ডিপিএস, নির্দিষ্ট সিকিউরিটিজ, শেয়ার, যাকাত তহবিল ও অনুমোদিত দান। রেয়াত পেতে হলে আপনার কর দায় থাকতে হয়। বিনিয়োগ সম্পর্কে জানতে পড়ুন ইন্সুরেন্স বা বীমা কি? কেন করবেন? এবং শেয়ার বাজার কী এবং কীভাবে কাজ করে?

ভুল ধারণা ও প্রতারণা থেকে সাবধান

  • "রেমিটেন্সে ট্যাক্স কাটবে" গুজব: বৈধ পথে পাঠানো রেমিটেন্সের ওপর আয়কর বা ভ্যাট নেই বলে এনবিআর আগেও প্রকাশ্যে জানিয়েছে। গুজবে কান না দিয়ে বৈধ পথেই টাকা পাঠান।
  • করমুক্ত মানেই রিটার্ন লাগবে না নয়: বাংলাদেশে অর্জিত আয় থাকলে করযোগ্য সীমা ও রিটার্নের বিধান আলাদাভাবে প্রযোজ্য হতে পারে।
  • দেশের কর ও ভূমি কর আলাদা: জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর আয়কর নয়। এ বিষয়ে জানতে দেখুন অনলাইনে জমির খাজনা দেওয়ার নিয়ম।
বিশেষ সতর্কতা: "কর মওকুফ করে দেব" বা "টিআইএন করে দেব" বলে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক হোন। কর শুধু এনবিআর-এর অফিশিয়াল পোর্টাল বা অনুমোদিত চ্যানেলে দিন এবং কাউকে আপনার ওটিপি, পাসওয়ার্ড বা ব্যাংকিং পিন দেবেন না। ফিশিং ই-মেইল চেনার উপায় জানতে পড়ুন ফিশিং ইমেইল কি? কিভাবে সনাক্ত করবেন?

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

প্রবাসীরা দেশে টাকা পাঠালে কি আয়কর দিতে হয়?

না। এনবিআর-এর তালিকা অনুযায়ী বিদেশে উপার্জিত যে আয় বৈধ রেমিটেন্স আইন মেনে দেশে আনা হয়, তা করমুক্ত আয়ের মধ্যে পড়ে। তবে বৈধ ব্যাংকিং পথে পাঠানো জরুরি।

বিদেশে থাকলে কি আয়কর রিটার্ন দেওয়া বাধ্যতামূলক?

এনবিআর সূত্রের তথ্য অনুযায়ী বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতাদের রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক নয়। তবে চাইলে স্বেচ্ছায় দেওয়া যায়। দেশে অর্জিত করযোগ্য আয় থাকলে আলাদা করে কর অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

ই-টিআইএন কি NID ছাড়া করা যায়?

হ্যাঁ। NID না থাকলে পাসপোর্ট নম্বর ও ইস্যুর তারিখ, ভিসার তথ্য এবং ছবি দিয়ে আবেদন করা যায়, এনবিআর-এর তালিকা অনুযায়ী।

দেশে জমি বা ফ্ল্যাট কেনার সময় কি রিটার্নের প্রমাণ লাগে?

কিছু ক্ষেত্রে ধারা ২৬৪ অনুযায়ী রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ লাগে, যেমন শহর এলাকায় ১০ লাখ টাকার বেশি মূল্যের সম্পত্তি হস্তান্তর বা আমমোক্তারনামা নিবন্ধন। প্রবাসীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্যতা পরিস্থিতিভেদে আলাদা, তাই লেনদেনের আগে নিবন্ধন অফিস বা কর অফিস থেকে নিশ্চিত হোন।

রিটার্ন জমার শেষ তারিখ কবে?

সাধারণভাবে ৩০ নভেম্বর। বৈধ ভিসা ও পারমিট নিয়ে বিদেশে থাকা করদাতার ক্ষেত্রে দেশে ফেরার ৯০তম দিন পর্যন্ত সময় পাওয়া যায়। সরকার মাঝে মাঝে সময়সীমা বাড়ায়, তাই বছরের ঘোষণা দেখে নিন।

উপসংহার

প্রবাসীদের কর-ব্যবস্থা প্রথমে জটিল মনে হলেও মূল কথাগুলো সহজ। বৈধ পথে পাঠানো রেমিটেন্স ও প্রবাসী বন্ডের আয় করমুক্ত, আর দেশে অর্জিত আয় থাকলে নির্দিষ্ট সীমা ও রিটার্নের নিয়ম প্রযোজ্য হয়।

তাই বৈধ পথে টাকা পাঠান, একটি ই-টিআইএন করে রাখুন এবং প্রয়োজনে সময়মতো রিটার্ন দিন। সব রসিদ ও সনদ সংরক্ষণ করলে ভবিষ্যতে ঋণ, জমি লেনদেন বা দেশে ফেরার পর অনেক ঝামেলা এড়ানো যাবে।

তথ্যসূত্র

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.