সৌদি আরব প্রবাসীদের গাইড: যাওয়ার আগে যাচাই, বিপদে করণীয় ও দূতাবাসের নম্বর
এই লেখাটি এক বছরের বেশি আগে হালনাগাদ হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
সৌদি আরব বাংলাদেশের শ্রমিকদের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষ সেখানে কাজ করতে যান, আর সঙ্গে সঙ্গে প্রতারণা, চুক্তিভঙ্গি, আকামা (আবাসিক অনুমতি) না পাওয়া বা বেতন আটকে যাওয়ার অভিযোগও আসে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (BMET) তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ সালে প্রবাসী শ্রমিকদের ৯০ শতাংশের বেশি অভিযোগ ছিল সৌদি আরবে কাজ নিয়ে (দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন)। এই লেখায় সৌদিতে যাওয়ার আগে কী যাচাই করবেন, গিয়ে প্রথম দিকে কী করবেন, আর সমস্যায় পড়লে কোথায় যোগাযোগ করবেন, সেসব পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে। রিয়াদ দূতাবাস ও জেদ্দা কনস্যুলেটের হালনাগাদ যোগাযোগের তথ্যও আছে।
সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬। দূতাবাসের ঠিকানা, ফোন নম্বর, ফি ও নিয়ম বদলাতে পারে। জরুরি প্রয়োজনে যোগাযোগের আগে নম্বর ও নিয়ম অফিসিয়াল ওয়েবসাইট বা হটলাইনে মিলিয়ে নিন।
জরুরি নম্বর এক নজরে (সৌদি আরবে): পুলিশ ৯৯৯ বা ৯১১, অ্যাম্বুলেন্স ৯৯৭, সিভিল ডিফেন্স ৯৯৮, শ্রম মন্ত্রণালয়ের (MHRSD) অভিযোগ ও তথ্য লাইন ১৯৯১১, বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং (টোল ফ্রি) ৮০০১০০০১২৫।
সৌদিতে যাওয়ার আগে যা যাচাই করবেন
বিদেশে যাওয়ার সাধারণ চেকলিস্ট আমাদের আলাদা লেখায় আছে: বিদেশ যাওয়ার আগে কী কী নিশ্চিত করবেন। এখানে সৌদি আরবের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো দেওয়া হলো।
১. বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি বেছে নিন
শুধু BMET-এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যান। এজেন্সির লাইসেন্স আছে কি না, তা BMET-এর ওয়েবসাইট বা আপনার জেলার জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ অফিসে (DEMO) গিয়ে যাচাই করুন। এজেন্সিকে টাকা দিলে নগদ নয়, চেক, পে-অর্ডার বা ব্যাংক ড্রাফটের মাধ্যমে দিন এবং রসিদ রাখুন। দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে টাকা দেবেন না, কারণ প্রতারণা বা মানব পাচারের ঝুঁকি বাড়ে।
২. ভিসা ও চাকরির চাহিদাপত্র যাচাই করুন
সৌদিতে "ফ্লোটিং ভিসা" ও ভিসা বাণিজ্য নিয়ে বহুদিন ধরে অভিযোগ আছে, যা অভিবাসন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। কাজ ও নিয়োগকর্তার তথ্য মিলিয়ে ভিসা সত্যিকারের কি না যাচাই করুন। ধাপগুলো দেখতে পড়ুন সৌদি আরবের ভিসা চেক করার নিয়ম। সৌদি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ভিসা নিয়ে কড়াকড়ি করছে বলে সংবাদমাধ্যমে এসেছে, তাই আগে থেকে সব তথ্য নিশ্চিত করা আরও জরুরি।
৩. দক্ষতা সনদ (Takamol Skill Verification) লাগবে কি না জানুন
সৌদি আরব ধাপে ধাপে স্কিল ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম চালু করেছে। টিবিএস নিউজ ও ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী অনেক পেশায় কাজ পেতে "তাকামুল" ব্যবস্থায় নিবন্ধন করে পরীক্ষা দিয়ে দক্ষতা সনদ নিতে হয়, যা পাঁচ বছর বৈধ থাকে। বাংলাদেশে BMET বিভিন্ন কেন্দ্রে এই পরীক্ষা নিচ্ছে। আপনার পেশার জন্য সনদ লাগবে কি না এবং কোথায় পরীক্ষা দেবেন, তা BMET বা জেলা জনশক্তি অফিস থেকে জেনে নিন। কম্পিউটার দোকান বা দালালকে বাড়তি টাকা দিয়ে পরীক্ষার নিবন্ধন করাবেন না।
৪. চুক্তিপত্র ভালো করে পড়ুন
চুক্তিতে কাজের ধরন, মাসিক বেতন, কর্মঘণ্টা, থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা ও চুক্তির মেয়াদ লেখা আছে কি না দেখুন। যা বুঝতে পারছেন না, সই করার আগে জেনে নিন। সৌদিতে পৌঁছানোর পর চুক্তি যেন নিয়োগকর্তা সরকারি প্ল্যাটফর্ম "কিওয়া" (Qiwa) ব্যবস্থায় ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করেন, সেটাও খেয়াল রাখুন। সৌদি শ্রম সংস্কার কর্মসূচির (LRI) অধীনে এই ডিজিটাল চুক্তির ওপর আপনার চাকরি বদল ও অন্যান্য অধিকার অনেকটা নির্ভর করে।
৫. সরকার নির্ধারিত ব্যয় জানুন
BMET সৌদি আরবের জন্য সর্বোচ্চ অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল, যার মধ্যে বিমান ভাড়া, পাসপোর্ট ও কল্যাণ ফি ধরা আছে। সংবাদ প্রতিবেদনে বারবার এসেছে, বাস্তবে অনেককে এর চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। সংখ্যাটি পরিবর্তিত হয়েছে কি না, তা যাওয়ার আগে BMET-এর সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি থেকে মিলিয়ে নিন। কেউ বেশি চাইলে লিখিতভাবে কারণ জানতে চান।
৬. BMET বহির্গমন ছাড়পত্র
কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যেতে BMET-এর বহির্গমন ছাড়পত্র (স্মার্ট কার্ড) লাগে। ছাড়পত্র ছাড়া বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পার হওয়া যায় না। নিবন্ধন ও ছাড়পত্রের পদ্ধতি সম্প্রতি বদলাচ্ছে (ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও জেলা পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণ), তাই BMET-এর অফিসিয়াল নোটিশ ও আপনার জেলার জনশক্তি অফিস থেকে সর্বশেষ নিয়ম জানুন। অবৈধ পথে (সমুদ্র বা স্থল) বিদেশ যাওয়া জীবনের ঝুঁকি, শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং মানব পাচারের ফাঁদে পড়ার সম্ভাবনা বাড়ায়।
৭. পাসপোর্ট ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ
ভ্রমণের জন্য বৈধ ই-পাসপোর্ট দরকার। আবেদনের নিয়ম জানতে দেখুন ই-পাসপোর্টের আবেদন ও ফি। দক্ষতা বাড়াতে চাইলে নিকটস্থ কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (TTC) থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, আর ঘরে বসে কারিগরি প্রশিক্ষণ নেওয়ার উপায় লেখাটিও কাজে লাগতে পারে।
বিমানবন্দরে ও বিমানে চলার নিয়মকানুন নিয়ে আলাদা লেখা আছে, দেখুন বিমান যাত্রার আদব-কায়দা। সাধারণভাবে ভ্রমণের কাগজপত্র ও টাকা হাতব্যাগে রাখুন, আর অপরিচিত কারও দেওয়া কোনো জিনিস বহন করবেন না।
সৌদিতে পৌঁছে প্রথম সপ্তাহে কী করবেন
- যোগাযোগের তথ্য সংগ্রহ করুন: বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের নম্বর, নিকটস্থ হাসপাতাল ও পুলিশ স্টেশনের ঠিকানা, নিয়োগকর্তা ও কর্মস্থলের পুরো ঠিকানা লিখে রাখুন।
- পরিবারকে জানান: কর্মস্থলের ঠিকানা, নিয়োগকর্তার নাম ও ফোন নম্বর দেশের পরিবারকে দিয়ে রাখুন।
- আকামার খোঁজ রাখুন: আকামা বা আবাসিক অনুমতি পেতে দেরি হচ্ছে কি না, নিয়োগকর্তাকে স্পষ্টভাবে জিজ্ঞাসা করুন। আকামা না পাওয়া অভিযোগের একটি বড় কারণ। দেরি বা অসংগতি দেখলে শ্রম কল্যাণ উইংকে জানান।
- নিজের কাগজ নিজের কাছে রাখুন: পাসপোর্ট, আকামা ও টাকাপয়সা অন্য কারও হাতে দেবেন না। কেউ জোর করে রেখে দিলে বা ফেরত না দিলে শ্রম উইং বা ১৯৯১১-এ জানান।
- চুক্তি ও বেতন যাচাই করুন: যে চুক্তিতে সই করেছিলেন, তার সঙ্গে সৌদির কাজ ও বেতন মিলছে কি না দেখুন। না মিললে লিখে রাখুন, ছবি তুলে রাখুন এবং শ্রম উইংকে জানান।
- নিজের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: বেতন নিজের অ্যাকাউন্টে পাচ্ছেন কি না খেয়াল রাখুন। দেশে টাকা পাঠাতে বৈধ পথ ব্যবহার করুন। দেখুন বৈধ উপায়ে বাংলাদেশে টাকা পাঠানোর নিয়ম এবং NRB ব্যাংক অ্যাকাউন্ট।
- বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন: বিশ্বস্ত সহকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যদের নম্বর রাখুন।
আপনার শ্রম অধিকার: সৌদি শ্রম সংস্কার কর্মসূচি (LRI) যা বলে
২০২১ সালের মার্চ থেকে চালু হওয়া সৌদি শ্রম সংস্কার কর্মসূচিতে বেসরকারি খাতের প্রবাসী শ্রমিকদের জন্য কিছু সুযোগ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) ২০২৫ সালের প্রতিবেদন ও সৌদি মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী:
- চাকরি বদল: নির্দিষ্ট শর্তে (যেমন চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বা এক বছর কাজ করার পর, নোটিশসহ) নিয়োগকর্তার সম্মতি ছাড়া নতুন নিয়োগকর্তার কাছে চাকরি বদলানো যায়। এই বদল "কিওয়া" প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হয়।
- বেতন বিলম্বিত হলে: ILO-র প্রতিবেদন অনুযায়ী বেতন আটকে গেলে নিয়োগকর্তার সম্মতি ছাড়াই চাকরি বদলের সুযোগ আছে। কত দিন বিলম্ব হলে এই সুযোগ আসে এবং কীভাবে আবেদন করবেন, তা শ্রম উইং বা ১৯৯১১ থেকে জেনে নিন।
- এক্সিট ও রি-এন্ট্রি ভিসা: নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই সৌদি সরকারের "আবশির" (Absher) ব্যবস্থায় আবেদন করা যায়।
- সতর্কতা: চুক্তির মাঝপথে নিজে থেকে ফাইনাল এক্সিট নিলে সৌদিতে আবার ঢোকা নিষিদ্ধ (ব্ল্যাকলিস্ট) হতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে শ্রম উইংয়ের পরামর্শ নিন।
- কারা এর বাইরে: গৃহকর্মীরা সৌদি শ্রম আইনের এই সুবিধার আওতার বাইরে, তাঁদের জন্য আলাদা নিয়ম আছে।
এই নিয়মগুলো বিস্তারিত ও শর্তসাপেক্ষ, আর সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন হয়। কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং বা সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের ১৯৯১১ থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।
সৌদিতে নিজের ব্যবসা বা অন্য কারও নামে ব্যবসা চালানোর ক্ষেত্রেও কঠোর আইন আছে। এ বিষয়ে পড়ুন সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের ব্যবসা: অ্যান্টি-কনসিলমেন্ট (তাসাত্তুর) আইন কী ও শাস্তি কী।
সমস্যায় পড়লে কার কাছে যাবেন?
| সমস্যা | কোথায় যোগাযোগ করবেন |
|---|---|
| বেতন না পাওয়া, চুক্তি ভঙ্গ, কাজের শর্ত বদলে ফেলা | বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের শ্রম কল্যাণ উইং; সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের ১৯৯১১ |
| জরুরি বিপদ, সহিংসতা, জীবনের ঝুঁকি | সৌদি পুলিশ ৯৯৯ বা ৯১১; অ্যাম্বুলেন্স ৯৯৭; তারপর দূতাবাসের টোল ফ্রি নম্বর |
| পরিবারে সহিংসতা বা শিশু নির্যাতনের ঘটনা | সৌদি সরকারের ১৯১৯ (শিশু নির্যাতন ও পারিবারিক সহিংসতা) |
| মানবাধিকার লঙ্ঘন | সৌদি মানবাধিকার কমিশন: ০১১ ৪১৮ ৫১০০ |
| পাসপোর্ট বা ইকামা সংক্রান্ত সমস্যা | সৌদি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (জাওয়াজাত) ৯৯২; বাংলাদেশ দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা উইং ৮০০১০০০১২৬ |
| দেশে এজেন্সি বা দালালের প্রতারণা | প্রবাসবন্ধু কল সেন্টার ১৬১৩৫ (বিদেশ থেকে +৮৮০৯৬১০১০২০৩০); BMET ও জেলা জনশক্তি অফিস; প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন অভিযোগ মডিউল |
| দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত সহায়তা | বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং |
রিয়াদ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইংয়ের অফিসিয়াল পেজ অনুযায়ী উইংটি কর্মসংস্থান চুক্তির সত্যায়ন ও যাচাই, নিয়োগকর্তার সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তিতে পরামর্শ ও সহায়তা, শ্রম আদালতে আইনি দাবি আদায়ে সহায়তা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিবন্ধন ও মরদেহ প্রেরণ, ক্ষতিপূরণ আদায়ের সহায়তা দিয়ে থাকে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের যোগাযোগ
নিচের তথ্য অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও প্রবাসী কল্যাণ বোর্ডের পেজ থেকে নেওয়া। পুরোনো একটি ঠিকানা ও কয়েকটি নম্বর বদলে গেছে, তাই আগের লেখার তথ্য ব্যবহার করবেন না।
রিয়াদ: বাংলাদেশ দূতাবাস
- ঠিকানা: 8039 Dareen Street, Diplomatic Quarter, Riyadh
- ফোন: +৯৬৬ ১১ ৪১৯ ৫৩০০
- টোল ফ্রি (সৌদির ভেতর): ডিপ্লোম্যাটিক উইং ৮০০১০০০১২৪, শ্রম কল্যাণ উইং ৮০০১০০০১২৫, পাসপোর্ট ও ভিসা উইং ৮০০১০০০১২৬
- শ্রম উইং (কাউন্সেলর কার্যালয়): +৯৬৬ ১১ ৪৫৫ ০৪০৬, ইমেইল: [email protected]
- অনলাইনে সেবা অনুরোধ ও অভিযোগ: দূতাবাসের অনলাইন সার্ভিস রিকোয়েস্ট (SRS)
- অন্যান্য তথ্য: দূতাবাসের যোগাযোগ পেজ, শ্রম কল্যাণ উইংয়ের সেবা
জেদ্দা: বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল
- ফোন: +৯৬৬ ১২ ৬৮৭ ৮৪৬৫
- ইমেইল: [email protected]
- ঠিকানা: Al-Nazlah Al-Sharqiyah এলাকা, Jeddah, P.O. Box 31085। অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (bcgjeddah.com) সর্বশেষ ঠিকানা ও অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য দেখে নিন, কারণ আমরা সরাসরি সাইট থেকে ঠিকানা মিলিয়ে নিতে পারিনি।
- শ্রম উইং (কাউন্সেলর কার্যালয়): +৯৬৬ ১২ ৬৮৯ ৬২৭৬ (এক্সটেনশন ১৩১), ইমেইল: [email protected]
দুটি অফিসেই সাধারণত আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিয়ে যেতে হয়। অফিস সময় ও ছুটির দিন যাওয়ার আগে ওয়েবসাইটে দেখে নিন। যেসব নম্বর দেওয়া হয়েছে, তা আমরা নিজে ফোন করে যাচাই করিনি।
প্রবাসে সঞ্চয় ও সুরক্ষা নিয়ে আরও পড়ুন
- সার্বজনীন প্রবাস পেনশন স্কিম
- ওয়েজ আর্নার্স ডেভেলপমেন্ট বন্ড
- প্রবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের জন্য ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড বৃত্তি
- বিদেশ যাওয়ার আগে কী কী নিশ্চিত করবেন
- প্রবাসীদের এনআইডি করার নিয়ম
- বিদেশে পাসপোর্ট হারিয়ে ফেললে করণীয়
প্রশ্নোত্তর
সৌদি যেতে সরকার নির্ধারিত খরচ কত?
BMET সৌদি আরবের জন্য সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। সর্বশেষ সংখ্যা আপনি BMET-এর অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তিতে দেখে নিন।
দালাল ছাড়া সৌদি যাওয়ার সবচেয়ে নিরাপদ উপায় কী?
BMET-এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত এজেন্সি বেছে নিন, ভিসা ও চুক্তি যাচাই করুন, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন করুন, আর BMET ছাড়পত্র নিয়ে যাত্রা করুন।
সৌদিতে কাজ পছন্দ না হলে কি চাকরি বদলানো যায়?
নির্দিষ্ট শর্তে যায়। শ্রম সংস্কার কর্মসূচির অধীনে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে বা এক বছর কাজ করার পর নোটিশসহ কিওয়ার মাধ্যমে চাকরি বদলানো সম্ভব। শর্ত ও প্রক্রিয়া শ্রম উইংয়ের কাছ থেকে জেনে নিন।
বেতন না পেলে কী করব?
বেতনের হিসাব ও চুক্তির ছবি বা কপি জমা রাখুন। তারপর দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং বা সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের ১৯৯১১-এ অভিযোগ করুন।
আমার ভিসা সত্যি কি না কীভাবে বুঝব?
সৌদি সরকারের অনলাইন যাচাই ব্যবস্থায় ভিসা মিলিয়ে নিন। ধাপগুলো পাবেন আমাদের ভিসা যাচাইয়ের লেখায়। সন্দেহ হলে BMET বা জেলা জনশক্তি অফিসে জানান।
শেষ কথা
সৌদি আরবে কাজের সুযোগ বড়, কিন্তু ঝুঁকিও কম নয়। যাওয়ার আগে এজেন্সি, ভিসা, চুক্তি ও খরচ ভালোভাবে যাচাই করুন। পৌঁছানোর পর দূতাবাস ও শ্রম উইংয়ের নম্বর সঙ্গে রাখুন, আর কোনো সমস্যা দেখলে দেরি না করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান।
সূত্র:
- রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস: যোগাযোগ ও শ্রম কল্যাণ উইং
- ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড: বিদেশস্থ মিশনের শ্রম উইং ও কর্মকর্তাদের তালিকা (অক্টোবর ২০২৫ হালনাগাদ)
- ILO Governing Body, 355th Session: সৌদি আরব সংক্রান্ত প্রতিবেদন
- The Business Standard: সৌদি ভিসা কড়াকড়ি ও স্কিল ভেরিফিকেশন
- Dawn: সৌদি আরবের তাকামুল স্কিল ভেরিফিকেশন ও বাংলাদেশি শ্রমিক
- The Daily Star: সৌদি আরবের জন্য সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়
- দ্য ডেইলি স্টার বাংলা: প্রবাসবন্ধু হটলাইন ১৬১৩৫
- সৌদি সরকারের হটলাইন তালিকা (MHRSD, পুলিশ, মানবাধিকার কমিশন)
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, আইনি পরামর্শ নয়। সৌদি আরবের শ্রম আইন ও ভিসা নীতি এবং বাংলাদেশের অভিবাসন নিয়ম বদলাতে পারে। যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে BMET, বাংলাদেশ দূতাবাস বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই: