Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

NID Card সংশোধন করার নিয়ম ২০২৬: অনলাইনে নাম, জন্ম তারিখ ও ঠিকানা

জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি কার্ডে নাম, বাবা-মায়ের নাম বা জন্ম তারিখে ভুল থাকলে ব্যাংক হিসাব, পাসপোর্ট, সিম নিবন্ধন ও বিভিন্ন সরকারি সেবায় সমস্যা হতে পারে। এই ভুল নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করে সংশোধন করা যায়। এই লেখায় ধাপে ধাপে জানবেন এনআইডি কার্ড সংশোধন করার নিয়ম, কী কী কাগজ লাগে, ফি কত এবং আবেদন বাতিল হলে কী করবেন।

সংক্ষেপে জেনে নিন

  • সংশোধনের আবেদন করতে হয় NID সার্ভিস পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে।
  • নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানাসহ বিভিন্ন তথ্য সংশোধনের আবেদন করা যায়, তবে প্রতিটির জন্য আলাদা প্রমাণপত্র লাগে।
  • কার্ডের তথ্য সংশোধনের মূল ফি প্রথমবার ২০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা এবং পরের বার ৪০০ টাকা।
  • আবেদন কতদিনে নিষ্পত্তি হবে তা সংশোধনের ধরনের ওপর নির্ভর করে। জন্ম তারিখের মতো জটিল সংশোধনে বেশি সময় লাগতে পারে।
  • প্রমাণপত্র অস্পষ্ট বা দুর্বল হলে আবেদন বাতিল হতে পারে।

সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ সালে এনআইডি সংশোধন সম্পর্কে যা জানা দরকার

  • নভেম্বরে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন সংশোধন সেবা সাময়িক স্থগিত করেছিল। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে সংশোধন কার্যক্রম আবার পুরোদমে চালু হয় এবং ঝুলে থাকা আবেদন নিষ্পত্তির কথা জানানো হয় (আইটিভি বিডি)।
  • ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ নতুন এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) জারি হয়েছে। এতে জন্ম তারিখসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের আবেদন এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছে (যুগান্তর)।

নিয়ম দ্রুত বদলায়, তাই আবেদনের আগে পোর্টালের সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নিন।

এনআইডি কার্ডে কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়?

পোর্টালের মাধ্যমে সাধারণত নিচের তথ্যগুলো সংশোধনের আবেদন করা যায়। কোন তথ্য সংশোধনযোগ্য তা পোর্টালে এডিট অপশনে দেখা যায়।

  • ব্যক্তিগত তথ্য: নিজের নাম (বাংলা ও ইংরেজি), জন্ম তারিখ, রক্তের গ্রুপ, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা
  • পারিবারিক তথ্য: বাবার নাম, মায়ের নাম, স্বামী বা স্ত্রীর নাম
  • ঠিকানা: বর্তমান বা স্থায়ী ঠিকানা

এনআইডি সংশোধনের ধাপসমূহ

১. পোর্টালে অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন

services.nidw.gov.bd পোর্টালে "রেজিস্ট্রেশন" ক্লিক করুন। এনআইডি নম্বর (বা ফরম নম্বর) ও জন্ম তারিখ দিন এবং চাওয়া তথ্য পূরণ করে এগিয়ে যান।

২. ফেস ভেরিফিকেশন ও পাসওয়ার্ড সেট

রেজিস্ট্রেশনের সময় মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ফেস ভেরিফিকেশন লাগতে পারে। পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অ্যাপ (NID Wallet) ইনস্টল করে মুখমণ্ডল যাচাই করুন। এরপর পাসওয়ার্ড সেট করে লগইন করুন।

৩. তথ্য সংশোধনের জন্য এডিট করুন

ড্যাশবোর্ডের প্রোফাইল অংশে এডিট অপশনে গিয়ে যে তথ্য পরিবর্তন করবেন তা নির্বাচন করুন এবং সঠিক তথ্য লিখুন। বানান ও তারিখ প্রমাণপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

৪. প্রমাণপত্র আপলোড

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজ পরিষ্কারভাবে স্ক্যান বা ছবি তুলে আপলোড করুন। কাগজপত্রের তালিকা নিচে দেওয়া হয়েছে।

৫. ফি পরিশোধ

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী ফি দিতে হয়। বিকাশসহ ডিজিটাল মাধ্যমে ঘরে বসেই ফি দেওয়া যায়। ধাপে ধাপে নিয়ম দেখুন বিকাশ দিয়ে NID ফি পরিশোধ করার নিয়ম গাইডে।

৬. আবেদন সাবমিট ও অবস্থা দেখা

সব তথ্য আবার মিলিয়ে সাবমিট করুন। এরপর পোর্টালের আবেদনের অবস্থা অংশে অগ্রগতি দেখতে পারবেন। অনুমোদন হলে পোর্টাল থেকে সংশোধিত তথ্যের কপি ডাউনলোড করা যায়। প্লাস্টিক স্মার্ট কার্ড নতুন করে পেতে চাইলে রি-ইস্যুর নিয়ম ও ফি প্রযোজ্য কি না স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে জেনে নিন।

এনআইডি সংশোধনের ফি কত?

নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত মূল ফি নিচে দেওয়া হলো। পেমেন্টের সময় ভ্যাটসহ অঙ্ক কিছুটা বেশি দেখাতে পারে। স্ক্রিনে দেখানো অঙ্কই চূড়ান্ত।

সংশোধনের ধরনপ্রথমবারদ্বিতীয়বারতৃতীয় বা পরবর্তী বার
কার্ডের তথ্য সংশোধন (ফরম-২ এর তথ্য, যেমন নাম, বাবা-মায়ের নাম, জন্ম তারিখ)২০০ টাকা৩০০ টাকা৪০০ টাকা
অন্যান্য তথ্য (তথ্য-উপাত্ত) সংশোধন১০০ টাকা২০০ টাকা৩০০ টাকা

হারানো কার্ড, নবায়ন ও অন্যান্য সেবার পূর্ণাঙ্গ ফি তালিকা দেখুন NID সার্ভিস ফি: সংশোধন, নবায়ন ও হারানো কার্ডের ফি কত? পোস্টে। নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় ফি পরিবর্তন করতে পারে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

সংশোধনের ধরন অনুযায়ী প্রমাণপত্র ভিন্ন হয়। যত শক্তিশালী ও সুস্পষ্ট প্রমাণ দেবেন, আবেদন অনুমোদনের সম্ভাবনা তত বেশি। নিচের তালিকা সাধারণ উদাহরণ, আপনার ক্ষেত্রে কী লাগবে তা পোর্টালের নির্দেশনা বা স্থানীয় নির্বাচন অফিসে নিশ্চিত হয়ে নিন।

  • নাম ও জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষার সনদ, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন সনদ বা অন্যান্য সরকারি প্রমাণপত্র। নিবন্ধন সংক্রান্ত তথ্য ভুল থাকলে দেখুন অনলাইনে জন্ম নিবন্ধন নাম সংশোধন করবেন কিভাবে গাইড।
  • বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের জন্য: তাঁদের এনআইডি বা জন্ম নিবন্ধন সনদ এবং আবেদনকারীর সনদ বা সহায়ক কাগজ।
  • ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য: বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিলের কপি, ভূমি কর রসিদ বা খতিয়ান জাতীয় ঠিকানার প্রমাণ।
  • স্বামী বা স্ত্রীর নাম সংশোধনের জন্য: কাবিননামা বা নিকাহনামা এবং স্বামী বা স্ত্রীর এনআইডি কপি।

জন্ম নিবন্ধন সনদ ঠিক করা না থাকলে আগে সেটি ঠিক করে নিন। এনআইডির তথ্যের সঙ্গে জন্ম সনদের তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে।

আবেদনের ক্যাটাগরি ও কে নিষ্পত্তি করেন?

এনআইডি সংশোধনের আবেদন চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়। বিষয়টি পরিষ্কার হলে কেন কোনো আবেদন দ্রুত হয় আর কোনোটিতে বেশি সময় লাগে তা বোঝা যায়। ২০২৪ সালের একটি সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী (এমটিনিউজ২৪, শিক্ষক বাতায়নে পুনঃপ্রকাশিত):

  • ক ক্যাটাগরি: নাম সংশোধনের মতো ছোট আবেদন, যা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারেন।
  • খ ক্যাটাগরি: এসএসসি সনদের সঙ্গে মিল রেখে বয়স সংশোধন, যা জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নিষ্পত্তি করতে পারেন।
  • গ ক্যাটাগরি: নামের আমূল পরিবর্তন বা বয়স কমানো বা বাড়ানোর মতো আবেদন, যেখানে আঞ্চলিক কর্মকর্তা ও প্রধান কার্যালয়ের তদন্ত লাগে।
  • ঘ ক্যাটাগরি: জটিল আবেদন, যা এনআইডি মহাপরিচালক তদন্ত প্রতিবেদনসহ নিষ্পত্তি করেন।

উপরে উল্লেখ করা ২০২৬ সালের এসওপি অনুযায়ী জন্ম তারিখ সংক্রান্ত আবেদন এখন ঘ ক্যাটাগরিতে মহাপরিচালক পর্যায়ে নিষ্পত্তি হচ্ছে, তাই জন্ম তারিখের সংশোধনে সময় বেশি লাগতে পারে।

কত দিনে আবেদন নিষ্পত্তি হয়?

নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। সহজ ও পরিষ্কার প্রমাণসহ ছোট সংশোধন তুলনামূলক দ্রুত হয়, আর জটিল আবেদনে কয়েক সপ্তাহ বা মাস লাগতে পারে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজনে যথাযথ কারণ ও কাগজপত্র থাকলে আবেদন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয় (রাইজিংবিডি)। অনেক দিন পেন্ডিং থাকলে জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন বা কমিশনের হটলাইন ১০৫-এ অফিস চলাকালীন সময়ে ফোন করুন।

আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ ও করণীয়

রাইজিংবিডির প্রতিবেদন অনুযায়ী সাড়ে ছয় বছরে প্রায় ৬৪ লাখ সংশোধনের আবেদনের মধ্যে ৪০ লাখের বেশি অনুমোদিত এবং প্রায় ১৩ লাখ বাতিল হয়েছে। বাতিলের সাধারণ কারণ:

  • অস্পষ্ট, অপর্যাপ্ত বা অমিল প্রমাণপত্র
  • সনদের তথ্যের সঙ্গে আবেদনের তথ্যের অমিল
  • ভুয়া বা অসত্য তথ্যের প্রমাণ পাওয়া গেলে

আবেদন বাতিল হলে কী করবেন, কোথায় আপিল করবেন, তা জানতে দেখুন NID সংশোধনের আবেদন বাতিল হলে আপিলের সুযোগ লেখাটি।

আবেদনের আগে যা মনে রাখবেন

  • সংশোধনের আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় প্রোফাইলে অন্য আবেদন করা না-ও যেতে পারে, তাই সব ভুল একসঙ্গে ঠিক করে আবেদন করুন।
  • আবেদনের সংখ্যা বাড়লে ফিও বাড়ে, তাই প্রতিবার ভালোভাবে যাচাই করে সাবমিট করুন।
  • দালালকে টাকা দেবেন না। আবেদন নিজেই করা যায়।
  • নতুন ভোটার হতে চাইলে দেখুন অনলাইনে ভোটার হওয়ার নিয়ম এবং ভোটার হতে কী কী লাগে।

সচরাচর জিজ্ঞাসা (FAQ)

এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে কত টাকা লাগে?

কার্ডের তথ্য সংশোধনে প্রথমবার ২০০ টাকা, দ্বিতীয়বার ৩০০ টাকা এবং তৃতীয় বা পরবর্তী বার ৪০০ টাকা মূল ফি। অন্যান্য তথ্য সংশোধনে ফি ১০০, ২০০ ও ৩০০ টাকা। ভ্যাটসহ চূড়ান্ত অঙ্ক পেমেন্টের স্ক্রিনে দেখা যায়।

এনআইডি সংশোধনে কত দিন লাগে?

নির্দিষ্ট সময় বলা কঠিন। সংশোধনের ধরন ও প্রমাণপত্রের ওপর নির্ভর করে। ছোট সংশোধন দ্রুত হতে পারে, জন্ম তারিখের মতো জটিল সংশোধনে বেশি সময় লাগতে পারে। অনেক দিন পেন্ডিং থাকলে জেলা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করুন।

শিক্ষাগত সনদ না থাকলে কি জন্ম তারিখ সংশোধন করা যায়?

জন্ম নিবন্ধন সনদ বা অন্য সরকারি প্রমাণপত্র দিয়ে আবেদনের চেষ্টা করা যায়। তবে এ ধরনের আবেদন জটিল ক্যাটাগরিতে পড়তে পারে এবং তদন্ত বা শুনানি লাগতে পারে। তাই আগে স্থানীয় নির্বাচন অফিসে পরামর্শ নিন।

আবেদন বাতিল হলে কী করব?

বাতিলের কারণ জেনে সঠিক ও পরিষ্কার প্রমাণসহ প্রয়োজন হলে আপিল বা নতুন করে আবেদন করুন। স্থানীয় নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করলে কারণ জানা যায়।

সংশোধন ফি কিভাবে দেওয়া যায়?

বিকাশ অ্যাপের Pay Bill থেকে সরকারি ফি অংশে NID Service বেছে এনআইডি নম্বর দিয়ে ফি দেওয়া যায়।

শেষকথা

এনআইডি সংশোধনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক প্রমাণপত্র ও নির্ভুলভাবে আবেদন করা। ভুল তথ্য বা অমিল কাগজ দিলে সময় ও টাকা দুটোই নষ্ট হতে পারে। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও প্রক্রিয়া যেকোনো সময় বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে অফিসিয়াল পোর্টাল বা স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। আমরা কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠান নই।

তথ্যসূত্র

অন্যান্য ইনফো পড়ুন


সর্বশেষ হালনাগাদ: অক্টোবর ২০২৬

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.