ইকামা জটিলতা, হুরুব ও ফ্রি ভিসার প্রতারণা: প্রবাসীরা যেভাবে নিজেকে বাঁচাবেন
এই লেখাটি এক বছরের বেশি আগে হালনাগাদ হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সরকারি বা অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন।
দালালের কথায় লাখ লাখ টাকা খরচ করে সৌদি আরবে পৌঁছালেন, কিন্তু কাজ নেই। কিংবা কাজ আছে, তবু মাসের পর মাস ইকামা মেলে না। আবার কেউ কেউ কাজের চাপ বা বেতন না পাওয়ার কারণে মালিকের কাছ থেকে সরে এসে দেখেন, তাঁর নামে "হুরুব" রিপোর্ট হয়ে গেছে।
এই তিনটি সমস্যাই প্রবাসীদের জীবনে সবচেয়ে বড় আতঙ্কের নাম। কিন্তু ভয়ের চেয়ে বেশি দরকার সঠিক তথ্য, কারণ নিয়ম জানা থাকলে এসব পরিস্থিতিতে বৈধ পথে বের হয়ে আসার সুযোগ থাকে। এই গাইডে আমরা সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (HRSD) এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদ-সূত্রের ভিত্তিতে সহজ ভাষায় বিষয়গুলো বুঝব।
দ্রষ্টব্য: এই লেখাটি শুধু তথ্যমূলক, কোনো আইনি পরামর্শ নয়। সৌদি আরবের শ্রম ও ইকামা সংক্রান্ত নিয়ম দ্রুত বদলায়, তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কিওয়া (Qiwa) ও আবশার (Absher)-এ নিজের অবস্থা যাচাই করুন এবং দরকার হলে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ের সঙ্গে কথা বলুন। এই লেখা প্রাইভেট খাতের কর্মীদের জন্য, গৃহকর্মীদের নিয়ম (মুসানাদ) আলাদা।
তিনটি শব্দ আগে বুঝে নিন
- ইকামা: সৌদি আরবে বসবাস ও কাজের অনুমতিপত্র। এটি সাধারণত আপনার নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইস্যু ও নবায়ন হয়।
- হুরুব: প্রচলিত নাম। সরকারি ভাষায় একে "কাজে অনুপস্থিত" (Absent from Work) বলা হয়, যা নিয়োগকর্তা কিওয়া প্ল্যাটফর্মে দাখিল করেন।
- ফ্রি ভিসা: সরকারি কোনো ভিসার ধরন নয়। প্রবাসী বাংলাদেশি ও দালালদের মুখে প্রচলিত একটি নাম, যার আড়ালে প্রায়ই প্রকৃত কাজ ছাড়া ভিসা বিক্রি হয়।
ফ্রি ভিসার প্রতারণা কীভাবে ঘটে?
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী ২০২৬ সালের শুরুতে সৌদি কর্তৃপক্ষ কর্মী নিয়োগের ভিসা ইস্যু কমিয়ে দিয়েছে। কারণ দেশটিতে যাওয়ার পর অনেক কর্মী প্রতিশ্রুত কাজ বা ইকামা পাচ্ছিলেন না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক নিয়োগকর্তা প্রকৃত চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও ভুয়া চাহিদাপত্র জমা দিয়েছিলেন।
বিএমইটির তথ্যের বরাতে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর অভিবাসী কর্মীদের করা অভিযোগের ৯০ শতাংশই ছিল সৌদি আরবে কর্মসংস্থানসংক্রান্ত। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল ইকামা না পাওয়া, কর্মহীন থাকা এবং বকেয়া বেতন।
প্রতারণার সাধারণ লক্ষণ
- ভিসায় অস্পষ্ট বা ভুয়া পদ: সৌদিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূতের বক্তব্য অনুযায়ী অনেক সময় ক্লিনার, হেল্পার বা লোডারের মতো পদের কথা বলে ভিসা দেওয়া হয়, কিন্তু পৌঁছানোর পর সেই পদের কোনো অস্তিত্ব থাকে না।
- অতিরিক্ত খরচ: প্রতিবেদন অনুযায়ী সৌদিতে যেতে অনেক কর্মীর ৩ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা খরচ হয়, অথচ সরকার-নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয় ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা।
- "কাজ নিজে খুঁজে নিতে হবে" ধরনের প্রস্তাব: নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তার কাজ না থাকা মানে ইকামা পেতে ও বৈধ থাকতে ঝুঁকি।
- লিখিত চুক্তি বা রসিদ না দেওয়া: যে দালাল শুধু মুখের কথায় সব বলে, তার কাছে টাকা দেওয়া বিপজ্জনক।
- ভিসার তথ্য যাচাই করতে না দেওয়া: সততা থাকলে ভিসার স্পনসর ও পেশার তথ্য আপনাকে দেখতে দেওয়া হবে।
বিদেশে যাওয়ার আগে অবশ্যই যা যাচাই করবেন
- এজেন্সির লাইসেন্স: শুধু সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত ও বিএমইটি-নিবন্ধিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যান।
- ভিসা ও পেশা মিলিয়ে দেখুন: সাবেক রাষ্ট্রদূতের মতে সৌদির ডিজিটাল ভিসা ব্যবস্থায় স্পনসর ও কাজের ধরন অনলাইনে যাচাই করার সুযোগ আছে। পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ভিসা চেক করার নিয়ম জানতে পড়ুন সৌদি আরবের ভিসা চেক করবেন কিভাবে?
- দক্ষতা যাচাই: সৌদির স্কিল ভেরিফিকেশন কর্মসূচির আওতায় অনেক পেশায় নিয়োগের আগে সনদ লাগে। আপনার পেশা এর আওতায় আছে কি না জেনে নিন।
- লিখিত চুক্তি: বেতন, কাজের ধরন, থাকা-খাওয়া ও কর্মঘণ্টা স্পষ্ট লেখা চুক্তি সংগ্রহ করুন।
- টাকার রসিদ: প্রতিটি টাকার হিসাব ও রসিদ রাখুন। সরকার-নির্ধারিত ব্যয়ের বেশি দাবি করলে সতর্ক হোন।
- প্রস্তুতির চেকলিস্ট: বিস্তারিত তালিকা দেখুন বিদেশ যাওয়ার আগে কী কী নিশ্চিত করবেন? BMET ছাড়পত্রসহ চেকলিস্ট লেখায়।
মনে রাখুন: প্রকৃত চাকরির অফার ছাড়া "ফ্রি ভিসা" নামে যে ভিসা বিক্রি হয়, তার জন্য টাকা দেওয়া মানে নিজেকে ঝুঁকিতে ফেলা। ভিসা যত সস্তা বা সহজ মনে হোক, কাজ ও ইকামার নিশ্চয়তা না থাকলে তা প্রতারণার ঝুঁকি বহন করে।
ইকামা না পেলে বা মেয়াদ ফুরালে কী করবেন?
ইকামা সৌদি আরবে আপনার বৈধ থাকার মূল প্রমাণ। এটি না থাকলে চলাফেরা, চিকিৎসা, ব্যাংকিং এমনকি আইনি সুরক্ষাও ঝুঁকিতে পড়ে। তাই সমস্যাটি দেরি না করে সমাধানের চেষ্টা করুন।
- আবশার ও কিওয়া-য় নিজের অবস্থা দেখুন: ইকামার মেয়াদ, চুক্তির অবস্থা এবং আপনার নামে কোনো রিপোর্ট আছে কি না, সরকারি অ্যাপে যাচাই করুন।
- নিয়োগকর্তাকে লিখিতভাবে জানান: মুখে বলার পাশাপাশি মেসেজ বা ই-মেইলে জানিয়ে রাখুন। এতে পরে প্রমাণ থাকে।
- প্রমাণ সংরক্ষণ করুন: চুক্তি, ভিসার কপি, বেতনের রসিদ, মেসেজের স্ক্রিনশট ও কাজের তারিখ গুছিয়ে রাখুন।
- অভিযোগ করুন: সমস্যা না মিটলে সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের চ্যানেলে এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে অভিযোগ জানান। দেশে ফেরার পর বিএমইটিতেও অভিযোগ করা যায়।
- ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এড়িয়ে চলুন: ইকামা বৈধ না থাকলে অন্যত্র গোপনে কাজ করা বিপদ বাড়ায়।
একটি আইনি সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিওয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী ইকামা বা কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ শেষ হলে নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বর্তমান নিয়োগকর্তার সম্মতি বা নোটিশ পিরিয়ড ছাড়াই স্থানান্তর সম্ভব হতে পারে। এই সুযোগ আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কি না, তা নিশ্চিত হতে কিওয়া বা দূতাবাস থেকে জেনে নিন।
হুরুব কী এবং কখন নিয়োগকর্তা রিপোর্ট করতে পারেন?
সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী নিয়োগকর্তা তখনই কাজে অনুপস্থিতির রিপোর্ট দিতে পারেন, যখন কর্মী বৈধ কারণ ছাড়া চুক্তিবছরে ৩০ দিনের বেশি অথবা টানা ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকেন।
২০২৫ সালে কিওয়া এই প্রক্রিয়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছে। গালফ বিজনেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী এখন নিয়োগকর্তা রিপোর্ট করতে পারেন তখনই, যখন কর্মীর ইকামা অন্তত ৬০ দিন বৈধ থাকে এবং রিপোর্টের সময় কর্মীর কোনো সক্রিয় চুক্তি থাকে না।
রিপোর্টের পর ৬০ দিনের সুযোগ
- রিপোর্ট হলে কর্মী ও নিয়োগকর্তা, দুজনেই এসএমএস পান।
- কর্মীর তথ্য ওই প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
- মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী কর্মী ৬০ দিনের মধ্যে অন্য নিয়োগকর্তার কাছে স্থানান্তর অথবা আবশারের মাধ্যমে চূড়ান্ত প্রস্থান (ফাইনাল এক্সিট) করতে পারেন। স্থানান্তরের জন্য সৌদিতে প্রবেশের পর অন্তত ১২ মাস হওয়ার শর্ত উল্লেখ আছে।
- ২০২৫ সালের হালনাগাদে আরেকটি ধাপ যোগ হয়েছে: কর্মীর অবস্থা প্রথমে "কাজ বন্ধ" (work discontinued) হিসেবে চিহ্নিত হয় এবং তিনি ৬০ দিনের মধ্যে অন্য নিয়োগকর্তার কাছে যেতে, দেশ ছাড়তে বা একই নিয়োগকর্তার সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে পারেন। কিছুই না করলে অবস্থা "কাজে অনুপস্থিত" হয়ে যায়।
সতর্কতা: ৬০ দিনের মধ্যে কিছু না করলে আপনার অবস্থা "কাজে অনুপস্থিত" থেকে যায় এবং সিস্টেম চূড়ান্ত প্রস্থান বা স্থানান্তর, কোনোটিই গ্রহণ করে না। এতে আপনি আইনভঙ্গের ঝুঁকিতে পড়েন। তাই সময়সীমা মিস করবেন না।
হুরুব রিপোর্ট হলে ধাপে ধাপে করণীয়
- শান্ত থাকুন এবং আবশার যাচাই করুন: প্রথমে নিশ্চিত হোন রিপোর্টটি আসলেই হয়েছে কি না এবং কবে হয়েছে। ৬০ দিনের হিসাব রিপোর্টের তারিখ থেকে শুরু হয়।
- কারণ বুঝুন: আপনি কি আসলেই অনুপস্থিত ছিলেন, নাকি বেতন বা চুক্তি নিয়ে বিরোধের পর রিপোর্ট হয়েছে?
- ভুল বা অন্যায় রিপোর্ট হলে প্রমাণ জোগাড় করুন: হাজিরা, বেতনের রসিদ, মেসেজ ও চুক্তি। একটি সূত্র অনুযায়ী কাজের দিনে উপস্থিত থাকার প্রমাণ বা আগে থেকে অভিযোগ করার তথ্য থাকলে রিপোর্ট দূষিত বলে বিবেচিত হয়েছে। দূষিত প্রমাণিত হলে মন্ত্রণালয় তা বাতিল করতে পারে এবং নিয়োগকর্তা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
- মীমাংসা হলে নিয়োগকর্তাকে দিয়ে রিপোর্ট বাতিল করান: তিনি নিজে কিওয়া বা আবশার বিজনেস থেকে এটি বাতিল করতে পারেন। মুখে সম্মতি দিলেই হয় না, বাস্তবে বাতিল হয়েছে কি না নিজে যাচাই করুন।
- নতুন নিয়োগকর্তা পেলে কিওয়া-য় স্থানান্তর করুন: নতুন নিয়োগকর্তা আবেদন পাঠাবেন, আপনি কিওয়া-য় সম্মতি দেবেন, তারপর মন্ত্রণালয় অনুমোদন করবে। অনুমোদনের পর ১৫ দিনের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, নইলে আবেদন বাতিল হয়।
- দেশে ফিরতে চাইলে ফাইনাল এক্সিট নিন: আবশারে আপনার অ্যাকাউন্ট থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আবেদন করুন।
- সহায়তা চান: প্রয়োজনে বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে যোগাযোগ করুন। সৌদি আরবে থাকলে দূতাবাসের ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য পাবেন সৌদি আরব প্রবাসীদের জন্য বাংলাদেশ দূতাবাসের ঠিকানা ও ফোন নাম্বার পোস্টে।
নতুন নিয়োগকর্তার কাছে স্থানান্তরের সময় সাধারণত বকেয়া কাজের অনুমতিপত্রের ফি নতুন নিয়োগকর্তাকে দিতে হয়, এমন তথ্য একাধিক সূত্রে পাওয়া যায়। সুনির্দিষ্ট ফি ও শর্ত কিওয়া-য় দেখে নিন।
"কাফালা বিলুপ্ত" শুনে বিভ্রান্ত হবেন না
২০২৫ সালে সৌদি আরব শ্রমিকদের চলাচল ও কাজ বদলের সুযোগ সহজ করার সংস্কারের কথা ঘোষণা করে, আর অনেক সংবাদে এটিকে "কাফালা ব্যবস্থার বিলুপ্তি" বলা হয়েছে। তবে সব বিশ্লেষণে বিষয়টিকে এভাবে দেখা হয়নি। কিছু সূত্র বলছে, ইকামা এখনও নিয়োগকর্তা-ভিত্তিক এবং বদলেছে মূলত স্থানান্তরের শর্ত।
প্রবাসীদের জন্য মূল কথা হলো, শিরোনাম নয়, আপনার নিজের চুক্তি, ইকামা ও কিওয়া-য় অবস্থার ওপর নজর রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ। অন্য কারও কথায় ভরসা না করে সরকারি অ্যাপে নিজেই দেখে নিন।
সৌদি ছাড়া অন্য দেশে থাকলে
এই লেখার আইনি অংশ সৌদি আরবের নিয়মের ওপর ভিত্তি করে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত বা মালয়েশিয়ার ইকামা-সমতুল্য অনুমতিপত্র ও অনুপস্থিতির নিয়ম আলাদা। তবে মূল পরামর্শ একই: লিখিত চুক্তি রাখুন, নিজের বৈধতা সরকারি পোর্টালে যাচাই করুন এবং বিপদে পড়লে দেরি না করে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে যোগাযোগ করুন।
বিশেষ সতর্কতা: "টাকা দিলে হুরুব উঠিয়ে দেব" বা "ইকামা ছাড়াই বেশি বেতনে কাজ" ধরনের প্রস্তাব পেলে সাবধান হোন। কাউকে আপনার আবশার বা কিওয়া-র পাসওয়ার্ড, ওটিপি বা পাসপোর্ট দেবেন না। বৈধ পথের বাইরে কোনো "সহজ সমাধান" আপনাকে আরও বড় বিপদে ফেলতে পারে। সন্দেহ হলে দূতাবাসের শ্রম উইংয়ে জানান।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
ফ্রি ভিসা কি সরকারি কোনো ভিসা?
না। এটি সরকারিভাবে কোনো ভিসার ধরন নয়। প্রবাসী ও দালালদের মধ্যে প্রচলিত একটি নাম, যার আড়ালে প্রায়ই প্রকৃত কাজ ছাড়া ভিসা বিক্রি হয়। এই ভিসায় গেলে কাজ ও ইকামা না পাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
নিয়োগকর্তা কত দিন অনুপস্থিত থাকলে হুরুব রিপোর্ট করতে পারেন?
মন্ত্রণালয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী বৈধ কারণ ছাড়া চুক্তিবছরে ৩০ দিনের বেশি অথবা টানা ১৫ দিনের বেশি অনুপস্থিত থাকলে। ২০২৫ সালের হালনাগাদে রিপোর্টের জন্য ইকামার অন্তত ৬০ দিন বৈধ থাকা এবং সক্রিয় চুক্তি না থাকার শর্ত যোগ হয়েছে।
হুরুব রিপোর্ট হলে কত দিনের মধ্যে কাজ করতে হবে?
রিপোর্টের তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে অন্য নিয়োগকর্তার কাছে স্থানান্তর বা আবশারের মাধ্যমে ফাইনাল এক্সিট নিতে হয়। এই সময়ে কিছু না করলে অবস্থা "কাজে অনুপস্থিত" থেকে যায়।
নিয়োগকর্তা মিথ্যা হুরুব রিপোর্ট করলে কী করব?
হাজিরা, বেতন ও মেসেজের প্রমাণ সংগ্রহ করে মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করুন এবং দূতাবাসের শ্রম উইংকে জানান। রিপোর্ট দূষিত প্রমাণিত হলে মন্ত্রণালয় তা বাতিল করতে পারে এবং নিয়োগকর্তা শাস্তির মুখে পড়তে পারেন।
ইকামা না পেলে কি বিদেশে গিয়েও অভিযোগ করা যায়?
হ্যাঁ। সৌদিতে থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম উইং ও সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয়ের চ্যানেলে অভিযোগ করা যায়। দেশে ফিরে এসেও বিএমইটিতে অভিযোগ জানানো যায়।
উপসংহার
ইকামা, হুরুব আর ফ্রি ভিসার সমস্যা প্রবাসীদের জন্য ভয়ংকর মনে হলেও সঠিক তথ্য ও সময়মতো পদক্ষেপ অনেক বিপদ এড়াতে পারে। যাওয়ার আগে ভিসা ও এজেন্সি যাচাই করুন, থাকার সময় লিখিত চুক্তি ও প্রমাণ সংরক্ষণ করুন এবং বিপদে পড়লে ৬০ দিনের সময়সীমা মনে রেখে বৈধ পথে এগোন।
মনে রাখবেন, আপনি একা নন। দূতাবাসের শ্রম উইং, সৌদি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং বিএমইটি আপনাকে সহায়তা করতে প্রস্তুত। দেরি না করে তাদের কাছে যান।
তথ্যসূত্র
- Procedural Guide: Absence from Work (Qiwa), Ministry of Human Resources and Social Development, Saudi Arabia
- Workplace policy: Saudi updates key employment regulations, Gulf Business
- সৌদি আরবের ভিসা কড়াকড়িতে কমছে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড (বাংলা)
এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই: