Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

ব্যাংক একাউন্ট খোলা ও রক্ষণাবেক্ষণ ফি ২০২৬: বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত চার্জ ও ঋণের ফি

ব্যাংকে হিসাব খুলতে, হিসাব চালু রাখতে, চেক বই বা সনদ নিতে কিংবা ঋণ নিতে গেলে নানা ধরনের ফি ও চার্জ দিতে হয়। এই ফি যেন অযৌক্তিক না হয়, সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিটি সেবার চার্জের সর্বোচ্চ সীমা বেঁধে দিয়েছে। বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১ (১০ জুন ২০২১) নামের এই "মাস্টার সার্কুলার অন শিডিউল অব চার্জেস" এখনো ব্যাংকগুলোর চার্জ নির্ধারণের মূল ভিত্তি।[১]

এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার থাকা দরকার: কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেটি ঠিক করেছে সেটি সর্বোচ্চ সীমা। কোনো ব্যাংক এর চেয়ে কম ফি নিতে পারে, কিন্তু বেশি নিতে পারে না। তাই সব ব্যাংকের ফি হুবহু এক হবে এমন নয়; আপনার ব্যাংকের চার্জ তালিকা এই সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।

আজকের ইনফোতে হিসাব খোলা ও রক্ষণাবেক্ষণ, বিভিন্ন সনদ, পে-অর্ডার, ঋণ এবং আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত প্রধান ফিগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো। শেষে ২০২৬ সালে ব্যাংকগুলোর পক্ষ থেকে দেওয়া নতুন ফি আরোপের প্রস্তাবের বর্তমান অবস্থাও জানানো হয়েছে।

ব্যাংক একাউন্ট খোলাসহ রক্ষণাবেক্ষণ ও যাবতীয় ফি

আরো জানুন:

ঘরে বসে সোনালী ব্যাংকের একাউন্ট খোলার উপায়

ইসলামী ব্যাংকের "সেলফিন" হাতের মুঠোয় ব্যাংকিং সেবা কিভাবে ব্যবহার করবেন?

ডিজিটাল ব্যাংকিং বা ইন্টারনেট ব্যাংকিং কি?

নগদ ব্যাংকিং এর অজানা তথ্য

এক নজরে প্রধান ফি (সর্বোচ্চ সীমা)

সেবাসর্বোচ্চ ফি / শর্ত
সঞ্চয়ী হিসাব খোলা৫০০ টাকা জমা
চলতি হিসাব খোলা১,০০০ টাকা জমা
সঞ্চয়ী হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণ ফিগড় স্থিতি ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত কোনো ফি নেই; এর বেশি হলে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা (ষান্মাসিক)
চলতি হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণ ফিপ্রতি ছয় মাসে ৩০০ টাকা
এসএনডি হিসাবের রক্ষণাবেক্ষণ ফিপ্রতি ছয় মাসে ৫০০ টাকা
হিসাব বন্ধ করাসঞ্চয়ী ২০০, চলতি ৩০০, এসএনডি ৩০০ টাকা
অন্য শাখায় হিসাব স্থানান্তরএকই জেলায় ৫০, অন্য জেলায় ১০০ টাকা
সলভেন্সি সনদপ্রতিবার ২০০ টাকা
চেক ফেরতপ্রতিবার ৫০ টাকা
ঋণ আবেদন ফিনেই

ব্যাংকের ব্যক্তিগত হিসাব পরিচালনা ফি

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সার্কুলার অনুযায়ী হিসাব খোলা ও পরিচালনার ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলো যেসব ফি নিতে পারে তা নিচে দেওয়া হলো।[১]

১. হিসাব খোলার জন্য জমা: সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে ৫০০ টাকা এবং চলতি হিসাব খুলতে ১,০০০ টাকা জমা দিয়ে নিজ নামে হিসাব খোলা যায়। তবে বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাবে ন্যূনতম জমার বাধ্যবাধকতা নেই (বিস্তারিত নিচে)।

২. হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ ফি: সঞ্চয়ী হিসাবে গড় স্থিতি ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হলে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ফি নেওয়া যাবে না। এর বেশি হলে প্রতি ছয় মাসে সর্বোচ্চ যা নেওয়া যাবে:

সঞ্চয়ী হিসাবের গড় স্থিতিষান্মাসিক সর্বোচ্চ ফি
১০,০০০ টাকা পর্যন্তফি নেই
১০,০০০ টাকার বেশি, ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত১০০ টাকা
২৫,০০০ টাকার বেশি, ২ লাখ টাকা পর্যন্ত২০০ টাকা
২ লাখ টাকার বেশি, ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত২৫০ টাকা
১০ লাখ টাকার বেশি৩০০ টাকা

লক্ষ্য করুন, এখানে হিসাব করা হয় একদিনের জমা নয়, গড় স্থিতি ধরে। চলতি হিসাবে প্রতি ছয় মাসে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা এবং স্পেশাল নোটিশ ডিপোজিট (এসএনডি) হিসাবে প্রতি ছয় মাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা নেওয়া যায়। বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাবে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ফি নেই। সাধারণত জুন ও ডিসেম্বর মাসে এই ফি কাটা হয়।[৩]

পুরনো তথ্য নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে: কোভিড পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত গড় স্থিতির সঞ্চয়ী হিসাবে বছরে দুবারের বদলে একবার ফি নেওয়ার নির্দেশনা ছিল। সেটি শুধু ২০২১ পঞ্জিকা বছরের জন্য প্রযোজ্য ছিল।[২]

৩. অন্য শাখায় হিসাব স্থানান্তর: একই ব্যাংকের এক শাখা থেকে অন্য শাখায় হিসাব নিলে একই জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ ৫০ টাকা এবং অন্য জেলায় সর্বোচ্চ ১০০ টাকা নেওয়া যাবে।

৪. নিষ্ক্রিয় (ডরম্যান্ট) সঞ্চয়ী হিসাব সচল করা: যেকোনো ধরনের সঞ্চয়ী হিসাব দীর্ঘদিন অচল থাকার পর আবার সচল করতে কোনো ফি নেওয়া যাবে না।

৫. মেয়াদপূর্তির আগে নগদায়ন: মাসিক সঞ্চয়ী হিসাব (ডিপিএস), এফডিআর বা অন্য কোনো মেয়াদী আমানত মেয়াদের আগে ভাঙালে নগদায়ন ফি বা এ ধরনের কোনো ফি নেওয়া যাবে না।

৬. হিসাব বন্ধ করা: হিসাব বন্ধের ক্ষেত্রে সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ ২০০ টাকা, চলতি হিসাবে ৩০০ টাকা এবং এসএনডি হিসাবে ৩০০ টাকা। বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাব বন্ধ করতে কোনো ফি নেই।

৭. চেক বই: চেক বই ইস্যুর ফি হবে প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে। চেক বই হারিয়ে গেলে নতুন চেক বইয়ের প্রকৃত খরচের বাইরে বাড়তি চার্জ বা প্রসেসিং ফি নেওয়া যাবে না।

৮. যেসব ফি একেবারেই নেওয়া যাবে না: সঞ্চয়ী ও চলতি যেকোনো হিসাবে ন্যূনতম ব্যালেন্স ফি, ইনসিডেন্টাল চার্জ, লেজার ফি, সার্ভিস চার্জ, কাউন্টার ট্রানজেকশন ফি বা এই ধরনের কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই।

বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাব কাদের জন্য?

দেশের আর্থিক সেবা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিংয়ের আওতায় আনতে এই হিসাবের ব্যবস্থা। এগুলো ১০, ৫০ বা ১০০ টাকায় খোলা যায় এবং এতে রক্ষণাবেক্ষণ ফি ও বন্ধ করার ফি নেই। সার্কুলারে এর আওতায় যাদের নাম আছে:[১]

  • কৃষক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা
  • দুঃস্থ জনগোষ্ঠী
  • ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী
  • পথশিশু এবং কর্মজীবী শিশুকিশোর
  • ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির সুবিধাভোগী
  • তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিক
  • পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতকারী ক্ষুদ্র কারখানার কারিগর
  • স্কুল ব্যাংকিং হিসাবধারী

সনদ, পে-অর্ডার ও ডিডি-টিটির ফি

সেবাসর্বোচ্চ ফি
স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ (ব্যালেন্স কনফার্মেশন সার্টিফিকেট, হিসাব বিবরণীসহ)ষান্মাসিক ও বার্ষিক ভিত্তিতে বছরে দুবার বিনামূল্যে; এর বেশি হলে প্রতিবার ১০০ টাকা
সচ্ছলতা সনদ (সলভেন্সি সার্টিফিকেট)প্রতিবার ২০০ টাকা
বিও সনদ (বিও একাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে)১০০ টাকা
চেক ফেরতপ্রতিবার ৫০ টাকা
অর্থ প্রদান নির্দেশনা স্থগিত করা (স্টপ পেমেন্ট)প্রতিবার অনুরোধে ১০০ টাকা
স্টপ পেমেন্ট নির্দেশনা বাতিলপ্রতিবার অনুরোধে ৫০ টাকা
পে-অর্ডার ইস্যু১,০০০ টাকা পর্যন্ত ২০; ১,০০১ থেকে ১ লাখ পর্যন্ত ৫০; ১ লাখের বেশি ১০০ টাকা
পে-অর্ডার বাতিলপ্রতিবার ৫০ টাকা
ডিমান্ড ড্রাফট (ডিডি), টেলিগ্রাফিক ট্রান্সফার (টিটি), মেইল ট্রান্সফার (এমটি) ইস্যু (টাকায়)১,০০০ পর্যন্ত ২০; ১,০০১–১ লাখ ৫০; ১ লাখ–৫ লাখ ১০০; ৫ লাখ–১০ লাখ ২০০; ১০ লাখের বেশি ৩০০ টাকা
ডিডি/টিটি/এমটি বাতিলপ্রতিবার ৫০ টাকা

এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর নিয়ম ও চার্জ (বিইএফটিএন, আরটিজিএস, এনপিএসবি) নিয়ে আলাদা বিস্তারিত গাইড পড়তে পারেন: এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে টাকা পাঠানোর নিয়ম।

ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার খরচ বা নির্ধারিত ফি

ঋণ নিলে ব্যাংক কোন কোন খাতে কত ফি নিতে পারবে, সে বিষয়েও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আছে:[১]

১. ঋণ আবেদন ফি: "ঋণ আবেদন ফি" নামে কোনো ফি নেওয়া যাবে না।

২. ঋণ প্রসেসিং ফি: ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণে মঞ্জুরকৃত ঋণের সর্বোচ্চ ০.৫০%, তবে অঙ্ক ১৫,০০০ টাকার বেশি হবে না। ৫০ লাখ টাকার বেশি ঋণে সর্বোচ্চ ০.৩০%, তবে অঙ্ক ২০,০০০ টাকার বেশি হবে না।

৩. ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন ফি: কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি এন্টারপ্রাইজ (সিএমএসএমই) এবং কৃষি খাতের ঋণ পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনে প্রসেসিং, পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন ফি বাবদ কোনো ফি, চার্জ বা কমিশন নেওয়া যাবে না। এই দুই খাতের বাইরে অন্য খাতের ঋণে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন ফি সর্বোচ্চ ০.২৫%, তবে ১০,০০০ টাকার বেশি নয়।

৪. প্রকৃত খরচের ভিত্তিতে যা নেওয়া হয়: ডকুমেন্টেশন ফি, সিআইবি চার্জ, স্ট্যাম্প চার্জ এবং আইনি ও জামানত মূল্যায়ন ফি প্রকৃত ব্যয় অনুযায়ী ধার্য হবে।

৫. যে ফি নেওয়া যাবে না: রপ্তানি ঋণসহ যেকোনো ঋণে সুদ বা মুনাফার হারের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ, ঋণ ব্যবস্থাপনা ফি, মনিটরিং বা সুপারভিশন চার্জ, ঝুঁকি প্রিমিয়াম বা অন্য যেকোনো নামে বাড়তি চার্জ, ফি বা কমিশন নেওয়া যাবে না।

৬. মেয়াদের আগে ঋণ পরিশোধ: নির্দিষ্ট মেয়াদের আগে ঋণ পরিশোধ করলে বকেয়া ঋণের সর্বোচ্চ ০.৫০% আর্লি সেটেলমেন্ট ফি নেওয়া যায়। কটেজ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র খাতের ঋণ এবং চলতি বা ডিমান্ড লোনের ক্ষেত্রে এই ফি প্রযোজ্য নয়।

ঋণ নেওয়ার আগে শর্ত ও খরচ যাচাই করতে চাইলে পড়ুন: ইসলামী ব্যাংক লোন পদ্ধতি কি? এবং প্রবাসীদের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন আবেদন করার নিয়ম ২০২৬।

আমদানি-রপ্তানি ও এলসি সংক্রান্ত প্রধান চার্জ

ব্যবসায়ীদের জন্য এলসি, গ্যারান্টি ও বৈদেশিক বাণিজ্যের কিছু প্রধান চার্জও সার্কুলারে নির্ধারিত আছে (সবই সর্বোচ্চ সীমা):[১]

সেবাসর্বোচ্চ চার্জ
১০০% নগদ মার্জিনে এলসি খোলার কমিশনপ্রতি ত্রৈমাসিকে ০.২৫%
ডেফার্ড/ইউজান্স এলসি খোলার কমিশনপ্রতি ত্রৈমাসিকে ০.৫০%
সাইট ও ব্যাক-টু-ব্যাকসহ অন্যান্য এলসি খোলার কমিশনপ্রতি ত্রৈমাসিকে ০.৪০%
এলসি অ্যাডভাইসিং, অ্যামেন্ডমেন্ট ও ট্রান্সফার চার্জসর্বমোট ৭৫০ টাকা
এলসি অ্যাকসেপ্টেন্স চার্জপ্রতি ত্রৈমাসিকে ০.৪০%
এলসি কনফার্মেশন চার্জপ্রতি ত্রৈমাসিকে ০.২০%
রপ্তানি বিল নেগোসিয়েশন ও কালেকশন কমিশন০.১৫%
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি, সিএন্ডএফ ও রপ্তানি মূল্য আদায়ের (পিআরসি) সনদ ইস্যু৫০০ টাকার বেশি নয়
ব্যাংক গ্যারান্টি কমিশনপ্রতি ত্রৈমাসিকে ০.৫০%, ন্যূনতম ১,০০০ টাকা
বৈদেশিক মুদ্রায় ডিডি/টিটি/এমটি ইস্যু (টাকার সমপরিমাণ)১ লাখ পর্যন্ত ১০০; ১ লাখ–৫ লাখ ২০০; ৫ লাখ–১০ লাখ ৩০০; ১০ লাখের বেশি ৫০০ টাকা; বাতিলে ২০০ টাকা

ফরেন করেসপন্ডেন্ট চার্জের স্থানীয় অংশ, ডাটা ম্যাক্স, হ্যান্ডলিং চার্জ, কপি ডকুমেন্ট এনডোর্সমেন্ট চার্জ এবং মেয়াদোত্তীর্ণ অব্যবহৃত এলসির জন্য কোনো চার্জ নেওয়া যাবে না। এলসি সম্পর্কে গোড়া থেকে জানতে পড়ুন এলসি (LC) কি? কেন, কোথায় ও কিভাবে করবেন?

ব্যাংকের ফি তালিকা কোথায় পাবেন?

সার্কুলার অনুযায়ী প্রতিটি ব্যাংককে তাদের চার্জের পূর্ণ তালিকা প্রধান কার্যালয়, সব শাখা, উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের দৃশ্যমান স্থানে বা নোটিশ বোর্ডে এবং ওয়েবসাইটের হোম পেজে প্রদর্শন করতে হয়। ঘোষিত তালিকার বাইরে কোনো চার্জ, ফি বা কমিশন নেওয়া যায় না। প্রতি বছর জুন ও ডিসেম্বরের ভিত্তিতে ব্যাংককে পরবর্তী ছয় মাসের চার্জ তালিকা বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হয়, আর কোনো চার্জ বদলালে তা সঙ্গে সঙ্গে প্রদর্শন ও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে হয়।[১]

মনে রাখবেন, সরকারের আবগারি শুল্ক এবং ভ্যাট ব্যাংকের নিজস্ব ফি নয়; এগুলো আলাদাভাবে প্রযোজ্য হয় এবং কোনো ব্যাংক ফি মওকুফ করলেও এসব সরকারি পাওনা মওকুফ হয় না।[৬]

২০২৬ সালে নতুন ফি আরোপের প্রস্তাব: বর্তমান অবস্থা

২০২৬ সালের জুলাইয়ে ব্যাংকগুলোর সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশ (এবিবি) বাংলাদেশ ব্যাংকে কিছু নতুন ফি আরোপ ও বিদ্যমান ফি বাড়ানোর প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রস্তাবে অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:[৪]

  • নিষ্ক্রিয় হিসাব সচল করতে ৫০০ টাকা ফি
  • কাউন্টার থেকে মাসে তিনবারের বেশি টাকা তুললে প্রতিবার ফি (চতুর্থ থেকে দশমবার পর্যন্ত ১০০ টাকা, এরপর ৩০০ টাকা)
  • সঞ্চয়ী হিসাবে ফি-মুক্ত গড় স্থিতির সীমা ১০,০০০ থেকে কমিয়ে ৫,০০০ টাকা করা
  • ঋণ প্রসেসিং ফির সর্বোচ্চ সীমা ০.৫০% থেকে বাড়িয়ে ২%, আর্লি সেটেলমেন্ট ফি ০.৫০% থেকে ২% করা

গুরুত্বপূর্ণ: এগুলো শুধুই প্রস্তাব, কার্যকর নিয়ম নয়। এই লেখা হালনাগাদের সময় (৮ নভেম্বর ২০২৬) পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদনের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, আমানতকারীদের ওপর অযৌক্তিক চাপ তৈরি হয় এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না।[৫] তাই আজকের দিনে প্রযোজ্য সীমা উপরের তালিকাতেই আছে। নতুন সার্কুলার এলে আমরা এই লেখা আবার হালনাগাদ করব।

ব্যাংক হিসাব খোলার আগে আপনার করণীয়

যে ব্যাংকেই হিসাব খুলুন না কেন, আগে সেই ব্যাংকের ফি ও চার্জের তালিকা চেয়ে নিন বা ওয়েবসাইট থেকে দেখে নিন। এতে আপনি জানবেন আপনার ব্যাংক সর্বোচ্চ সীমার কত কাছাকাছি চার্জ নিচ্ছে।

কোনো লেনদেন না করলেও অনেক সময় হিসাব থেকে চার্জ কাটা যায়। তাই হিসাবের ধরন বুঝে নিন, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাবের যোগ্য হলে সেটি খুলুন এবং গড় স্থিতি ১০,০০০ টাকার ওপরে হলে কত ফি কাটা হবে তা আগেই জেনে রাখুন। তালিকার বাইরে বা সীমার বেশি কোনো চার্জ কাটা হলে প্রথমে ব্যাংকের গ্রাহকসেবা বিভাগে এবং সমাধান না হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রাহক স্বার্থ সংরক্ষণ কেন্দ্রে অভিযোগ জানাতে পারেন।

সাধারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর

সঞ্চয়ী হিসাবে কত টাকা থাকলে রক্ষণাবেক্ষণ ফি লাগে না?
গড় স্থিতি ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত হলে কোনো রক্ষণাবেক্ষণ ফি নেওয়া যায় না।

ব্যাংক কি ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখলে জরিমানা করতে পারে?
না। ন্যূনতম ব্যালেন্স ফি, সার্ভিস চার্জ, লেজার ফি বা কাউন্টার ট্রানজেকশন ফি নেওয়ার সুযোগ নেই।

বছরে কতবার স্থিতি নিশ্চিতকরণ সনদ বিনামূল্যে পাওয়া যায়?
বছরে দুবার ফ্রি। এর বেশি নিলে প্রতিবার সর্বোচ্চ ১০০ টাকা লাগে।

ব্যাংক হিসাব বন্ধ করতে কত টাকা লাগে?
সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ ২০০ এবং চলতি বা এসএনডি হিসাবে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা। বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত হিসাব বন্ধে কোনো ফি নেই।

ঋণ আবেদনের জন্য কি ফি দিতে হয়?
না। ঋণ আবেদন ফি নেওয়ার সুযোগ নেই; তবে মঞ্জুরির পর সর্বোচ্চ ০.৫০% (৫০ লাখ পর্যন্ত) প্রসেসিং ফি লাগতে পারে।

উপসংহার:

ব্যাংকের ফি সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে অযথা চার্জ কাটা থেকে বাঁচা যায় এবং নিয়মের বাইরে কিছু কাটা হলে প্রতিবাদ করা সহজ হয়। আশা করি আজকের ইনফোটি কাজে লাগবে। প্রয়োজনীয় মনে হলে শেয়ার করে রাখুন, যাতে পরে সহজে খুঁজে পান, এবং অন্যদেরও জানান।

Home BD info এর অন্যান্য ইনফো







তথ্যসূত্র ও টীকা:

[১] বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরপিডি সার্কুলার নং-১১, ১০ জুন ২০২১, "Master Circular on Schedule of Charges" [https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/brpd/jun102021brpd11.pdf]
[২] বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরপিডি সার্কুলার লেটার নং-২১, ১১ এপ্রিল ২০২১ (শুধু ২০২১ সালের জন্য প্রযোজ্য ছিল) [https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/brpd/apr112021brpdl21.pdf]
[৩] বাংলাদেশ ব্যাংক, বিআরপিডি সার্কুলার নং-১২, ১৩ মে ২০২৪, কোর ব্যাংকিং সলিউশন নির্দেশিকা (রক্ষণাবেক্ষণ ফি জুন ও ডিসেম্বরে আদায়) [https://www.bb.org.bd/mediaroom/circulars/brpd/may132024brpd12e.pdf]
[৪] শেয়ারনিউজ২৪, "গ্রাহকদের জন্য নতুন চাপ! ব্যাংকের ১৪ সেবায় ফি বসানোর প্রস্তাব", ১২ জুলাই ২০২৬ [https://sharenews24.com/article/120702/index.html]
[৫] বিভিনিউজ২৪, "ব্যাংক থেকে মাসে তিনবারের বেশি টাকা তুললেই অতিরিক্ত ফির প্রস্তাব!" [https://www.bvnews24.com/economy/news/210006]
[৬] পূবালী ব্যাংক পিএলসি, Schedule of Charges (ভ্যাট ও আবগারি শুল্ক মওকুফ হয় না মর্মে নোট) [https://www.pubalibangla.com/assets/download/Schedule_of_Charges_11_2025.pdf]

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ নভেম্বর ২০২৬। প্রকৃত ফি ব্যাংকভেদে সর্বোচ্চ সীমার মধ্যে ভিন্ন হতে পারে; সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার ব্যাংকের সর্বশেষ চার্জ তালিকা দেখে নিন।

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.