Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

ই-পর্চা খতিয়ান ডাউনলোড ও আবেদনের নিয়ম ২০২৬: ফি, সার্টিফাইড কপি ও স্ট্যাটাস চেক

ঘরে বসে জমির খতিয়ান ডাউনলোড বা সার্টিফাইড কপির আবেদন এখন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল ভূমি রেকর্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (DLRMS) পোর্টালেই করা যায়। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে আবেদন কীভাবে করবেন, ফি কীভাবে দেবেন, অনলাইন কপি আর সার্টিফাইড কপির পার্থক্য কী এবং আবেদনের অবস্থা কোথায় দেখবেন।

ই-পর্চা খতিয়ান ডাউনলোড ও আবেদনের নিয়ম ২০২৬: ফি, সার্টিফাইড কপি ও স্ট্যাটাস চেক

সর্বশেষ হালনাগাদ: ৮ অক্টোবর ২০২৬

গুরুত্বপূর্ণ: আগে ই-পর্চার ঠিকানা ছিল eporcha.gov.bd। এখন এই সেবাগুলো ভূমি মন্ত্রণালয়ের land.gov.bd পোর্টাল হয়ে, অথবা সরাসরি dlrms.land.gov.bd ঠিকানায় পাওয়া যাচ্ছে। "ই-পর্চা" নামে সার্চ করলে অনেক বেসরকারি সাইট আসে, যারা সরকারি সাইটের মতো দেখতে হলেও আসলে সরকারি নয়। ফি বা ব্যক্তিগত তথ্য শুধু .gov.bd ডোমেইনের সাইটেই দেবেন।

আবেদনের আগে যে তথ্য হাতে রাখবেন

পোর্টালে খতিয়ান খুঁজতে জমির ঠিকানাসংক্রান্ত কিছু তথ্য লাগে। এগুলো আগে থেকে গুছিয়ে রাখলে আবেদন কয়েক মিনিটেই হয়ে যায়:

  • বিভাগ, জেলা ও উপজেলা বা থানা
  • মৌজার নাম অথবা জেএল নম্বর
  • খতিয়ানের ধরন: সার্ভে খতিয়ান (সিএস, এসএ, আরএস, বিএস, সিটি জরিপ) অথবা নামজারি খতিয়ান
  • খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর, অথবা মালিকের নাম
  • পোর্টালে একবার নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নম্বর ও একটি সচল মোবাইল নম্বর

খতিয়ান নম্বর বা দাগ নম্বর জানা না থাকলে আগে খতিয়ান খুঁজে বের করতে হবে। সেটা কীভাবে করবেন তা আলাদা করে লেখা আছে এই গাইডে: ই-পর্চা খতিয়ান অনুসন্ধানের নিয়ম।

খতিয়ান ডাউনলোড ও আবেদনের ধাপ

  1. পোর্টালে যান ও নিবন্ধন করুন। ব্রাউজারে land.gov.bd বা dlrms.land.gov.bd লিখে সরকারি পোর্টালে ঢুকুন। মোবাইল ব্রাউজার থেকেও কাজ হয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এনআইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একবার নিবন্ধন করলেই খতিয়ানসহ বিভিন্ন সেবা নেওয়া যায়। নিবন্ধন করা থাকলে লগইন করুন।
  2. খতিয়ানের ধরন বেছে নিন। সার্ভে খতিয়ান বা নামজারি খতিয়ান অপশন থেকে আপনার প্রয়োজনেরটা নির্বাচন করুন।
  3. জমির ঠিকানা দিন। বিভাগ, জেলা, উপজেলা এবং মৌজা পরপর নির্বাচন করুন। সার্ভে খতিয়ানের ক্ষেত্রে খতিয়ানের ধরন (যেমন আরএস বা বিএস) আলাদা করে বেছে নিতে হয়।
  4. খতিয়ান খুঁজুন। খতিয়ান নম্বর, দাগ নম্বর বা মালিকের নাম দিয়ে অনুসন্ধান করুন।
  5. খতিয়ান নির্বাচন করে আবেদন করুন। তালিকায় আপনার খতিয়ান পেলে সেটির ওপর ডাবল ক্লিক করুন। বিস্তারিত তথ্য দেখার পর "খতিয়ান আবেদন" বাটনে ক্লিক করুন।
  6. আবেদন ফরম পূরণ করুন। আবেদনকারীর তথ্য এবং কপির ধরন (অনলাইন কপি বা সার্টিফাইড কপি) ঠিকভাবে দিন। সার্টিফাইড কপি ডাকযোগে নিলে ঠিকানা সতর্কতার সঙ্গে লিখুন।
  7. ফি পরিশোধ করুন। পোর্টাল যে পেমেন্ট অপশন দেখায়, সেটি দিয়ে ফি দিন।
  8. আবেদন আইডি সংরক্ষণ করুন। আবেদন সম্পন্ন হলে যে আইডি বা ট্র্যাকিং তথ্য পাবেন, সেটি লিখে বা স্ক্রিনশট নিয়ে রাখুন। পরে এটা দিয়েই অবস্থা দেখতে হবে।

ই-পর্চা খতিয়ানের ফি কত

খতিয়ানের ফি সরকার নির্ধারণ করে এবং সময়ে সময়ে বদলায়। সম্প্রতি কিউআর কোডসহ অনলাইন কপি এবং সার্টিফাইড কপি দুটোর জন্যই ১২০ টাকার উল্লেখ দেখা যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত অঙ্ক সবসময় আবেদনের শেষ ধাপে পোর্টাল যা দেখায় সেটাই। পেমেন্ট করার আগে সেই অঙ্ক একবার মিলিয়ে নিন।

ফি পরিশোধ করা যায় মোবাইল ব্যাংকিং বা অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। কোন কোন মাধ্যম চালু আছে তা পেমেন্ট পেজেই দেখতে পাবেন। অন্যান্য সরকারি সেবার ফি দেওয়ার প্রক্রিয়া জানতে পারেন ই-চালানের গাইডে।

অনলাইন কপি আর সার্টিফাইড কপির পার্থক্য

অনেকে ভাবেন একটা কপি নামালেই সব কাজ হয়ে যাবে। আসলে কাজের ধরন অনুযায়ী কোন কপি লাগবে, তা আলাদা হতে পারে।

বিষয় অনলাইন কপি সার্টিফাইড কপি
কীভাবে পাবেন আবেদন ও ফি দেওয়ার পর পোর্টাল থেকে সরাসরি ডাউনলোড আবেদনের পর ডাকযোগে বা অফিস থেকে সংগ্রহ
যাচাই কিউআর কোড থাকে (সরকারি "ভূমি" অ্যাপে যাচাই করুন) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সিল ও স্বাক্ষর থাকে
সময় তাৎক্ষণিক ডাক বা অফিসের প্রক্রিয়ার জন্য বেশি সময় লাগে
কখন লাগতে পারে নিজে তথ্য দেখা, প্রাথমিক যাচাই আদালত, ব্যাংক, রেজিস্ট্রি অফিস বা অন্য দপ্তরে জমা দেওয়া

জমি কেনাবেচা, ব্যাংক ঋণ বা মামলার কাজে কোন কপি গ্রহণযোগ্য, সেটা অফিসভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট অফিস বা আইনজীবীকে আগে জিজ্ঞেস করে নেওয়া ভালো।

নকল খতিয়ান থেকে সাবধান: কিউআর কোড যাচাই করবেন যেভাবে

জানুয়ারি ২০২৬-এ ভূমি মন্ত্রণালয় এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ভূমি সেবা সিস্টেমের মতো কিউআর কোড বসিয়ে একটি প্রতারক চক্র নকল দাখিলা, খতিয়ান ও ডিসিআর বানাচ্ছে। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই হাতে পাওয়া বা কারও কাছ থেকে আসা খতিয়ান নিজে যাচাই করে নেওয়া জরুরি।

  1. মন্ত্রণালয়ের "ভূমি (Bhumi)" মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন। অ্যান্ড্রয়েডের জন্য লিংক land.gov.bd/bhumi_android, আইফোনের জন্য land.gov.bd/bhumi_ios।
  2. অ্যাপের কিউআর কোড যাচাই ফিচার দিয়ে খতিয়ানের কিউআর কোড স্ক্যান করুন।
  3. অ্যাপে দেখানো তথ্য কাগজের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিন।

মন্ত্রণালয় বলেছে, যাচাইয়ের জন্য অন্য কোনো কিউআর স্ক্যানার ব্যবহার না করতে। কোনো অস্পষ্টতা থাকলে বা কপিটি নকল সন্দেহ হলে হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে ফোন করুন।

আবেদনের অবস্থা কীভাবে দেখবেন

আবেদন করার পর পোর্টালের আবেদনের অবস্থা বা নির্দেশিকা অংশে গিয়ে আবেদন আইডি দিয়ে অনুসন্ধান করুন। সেখানে দেখা যাবে আপনার কপি প্রস্তুত হয়েছে কি না। ডাকযোগে নেওয়ার ক্ষেত্রে পোস্টাল তথ্যও সেখানে থাকতে পারে। ফি পরিশোধ বা তথ্য যাচাইয়ের জটিলতায় আবেদন আটকে যেতে পারে, তাই দু-এক দিন পর পর একবার দেখে নেওয়া ভালো।

সমস্যা হলে কী করবেন

  • খতিয়ান খুঁজে পাচ্ছেন না: মৌজা ও জেলা ঠিক আছে কি না দেখুন, মালিকের নামের বানান বদলে চেষ্টা করুন। বিস্তারিত আছে খতিয়ান অনুসন্ধানের গাইডে।
  • খতিয়ানের তথ্যে ভুল আছে: সংশোধনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসে আবেদন করতে হয়।
  • নামজারি বাকি আছে: জমি কেনার পর মালিকানা হালনাগাদ করতে হলে অনলাইনে নামজারির নিয়ম দেখুন এবং নামজারির ফি সম্পর্কে জেনে নিন।
  • এনআইডিতে ভুল: তথ্য মেলাতে সমস্যা হলে আগে এনআইডি সংশোধন করে নিন।
  • অন্য কোনো সমস্যা: ভূমি সেবা হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে ফোন করা যায়।

খতিয়ান হাতে পাওয়ার পর মালিকানা মিলিয়ে দেখতে চাইলে পড়ুন জমির মালিকানা যাচাইয়ের নিয়ম।

সচরাচর জিজ্ঞাসা

ই-পর্চা কি এখনও eporcha.gov.bd সাইটেই পাওয়া যায়?

না। একাধিক সূত্র অনুযায়ী এই সেবা এখন dlrms.land.gov.bd পোর্টালে চলে এসেছে। পুরোনো নামটা এখনও মানুষ সার্চে ব্যবহার করে, তাই "ই-পর্চা" বললে আসলে এই পোর্টালের খতিয়ান সেবাকেই বোঝানো হয়।

খতিয়ান আবেদনে কি এনআইডি লাগে?

ভূমি মন্ত্রণালয়ের গণবিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী land.gov.bd পোর্টালে এনআইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে একবার নিবন্ধন করতে হয়। এরপর খতিয়ানসহ বিভিন্ন সেবা নেওয়া যায়। শুধু খতিয়ান অনুসন্ধানে কী তথ্য চাইবে, তা পোর্টালের পর্দায় দেখে নিন। নিয়ম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে।

খতিয়ান ডাউনলোড করতে কত সময় লাগে?

অনলাইন কপি আবেদন ও ফি পরিশোধের পর সাধারণত সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যায়। সার্টিফাইড কপি ডাকযোগে বা অফিস থেকে আসে, তাই বেশি সময় লাগে। আবেদনের অবস্থা পোর্টালে দেখে নিন।

প্রবাসে থেকে কি আবেদন করা যায়?

পোর্টালটি অনলাইন, তাই বিদেশ থেকেও ঢোকা যায়। তবে ফি পরিশোধের মাধ্যম এবং সার্টিফাইড কপি পাঠানোর ঠিকানা সম্পর্কে পোর্টালের বর্তমান নিয়ম দেখে নিতে হবে।

আবেদন করার পর ভুল তথ্য দিয়েছি বুঝতে পারলে কী করব?

পোর্টালের সাপোর্ট বা ভূমি সেবা হটলাইন ১৬১২২ নম্বরে যোগাযোগ করুন। আবেদন আইডি হাতের কাছে রাখবেন।


এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও পোর্টালের ঠিকানা বদলাতে পারে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আইনি কাজের আগে অফিসিয়াল পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট অফিসে যাচাই করে নিন।

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.