শিশুর ডায়াপার বা বাচ্চাদের প্যাম্পাস ক্রয় করার সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়?

অনেকেই তার শিশুর জন্য ডায়াপার বা বাচ্চাদের ক্যাম্পাস ক্রয় করার সময় চিন্তায় পড়ে যান। আসলে কোন ব্যান্ডের ডায়াপার তার শিশুর জন্য আরামদায়ক। কিংবা কোন ব্যান্ডের ডায়াপার বা প্যাম্পাস ক্রয় করলে তার শিশুর জন্য কোন ক্ষতি হবে না ।  কেননা ডায়াপারের মান ভালো না হলে আপনার শিশু ভুগতে পারে নানা রকম সমস্যা।

শিশুর ডায়াপার বা বাচ্চাদের প্যাম্পাস ক্রয় করার সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়?

খারাপ মানের ডায়াপার বা প্যাম্পাস আপনার শিশুর জন্য বিভিন্ন ক্ষতি করতে পারে। যেমন শিশুর ত্বকে রেস বা এলার্জির প্রকোপ হতে পারে, যার ফলে চুলকানি, জ্বালাপোড়ার মত সমস্যায় ভুগতে পারে আপনার শিশু।

শিশুর ডায়াপারের নিচে, গোপন-ঢাকা জায়গাগুলোতে মূলত এই সমষ্ট রোগের ঘোরাফেরা অনেক বেশি। ইস্ট (ছত্রাক), ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস কিংবা এলার্জির সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদান (সাবান বা পারফিউম) থেকেও এরকম হতে পারে।

শিশুর ঢাকার নিচে ত্বকে যদি লাল গুটির মতো দেখতে পাযন, তাহলে অবশ্যই বুঝে নেবেন ডায়াপার রেস হয়েছে। ডায়াপার এলার্জির ফলে শিশুর কোমল ত্বক লালচে আঁশযুক্ত হয়ে পড়ে। অনেক সময় জায়গাটি সামান্য গরম হয়ে থাকে।  

কখনো কখনো এই এলার্জি শিশুকে পেট, থাই পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। তাই শিশুর জন্য ডায়াপার বা প্যাম্পাশ ক্রয় করার জন্য বিশেষ কিছু বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে।


ডায়াপার কেনার সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হয়?

ডায়াপার বা প্যাম্পাস কেনার সময় কি কি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে তা নিয়ে আজকে আমরা এই ইনফোটি সাজিয়েছি। এখানে ডায়াপার ক্রয় করার সময় সাতটি বিষয় বিবেচনা করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ডায়াপার কেনার সময় এই ৭ টি বিষয় বিবেচনা করুন

১) কোমল আর নমনীয় (extra soft)

শক্ত, আটোসাটো ডায়াপার ব্যবহারের ফলে শিশুর কোমর ও আশপাশে দাগ হয়ে যেতে পারে। তাই প্যাম্পাস বা ডায়াপার কেনার আগেই দেখে নিন সেটা নরম এবং আরামদায়ক কিনা।

কোমল আর নমনীয় আরামদায়ক ডায়াপার শিশুকে রক্ষা করবে। নরম আর স্ট্রেচেবল ডায়াপার শিশুকে আরাম দিবে।


২) হাওয়া খেলার জায়গা (breathable materials)

শিশুর শরীর সাধারণত অনেক সংবেদনশীল হয়ে থাকে। তাই শিশুকে এমন কিছু পোড়ানো উচিত হবে না, যাতে তার কষ্ট হয়। আপনাকে এমনই ডায়াপার নিতে হবে যাতে আছে বাড়তি হাওয়া খেলার জায়গা।

এরকম ডায়াপার আপনার শিশুকে রাতভর শুকনো আর তরতাজা রাখবে। আর তার ঘুমও হবে নিশ্চিন্তভাবে।


৩) ওয়েটনেস ইন্ডিকেটর থাকা ডায়াপার (weightless indicator)

কিছু আধুনিক ডায়াপার এ আবার ওয়েটনেস ইন্ডিকেটর রয়েছে। এই ডায়াপারগুলো বদলানোর সময় হলে নিজ থেকেই রং পাল্টে হলদে থেকে নীল হয়ে যায়।

ডায়াপারের শোষণক্ষমতা উপচে যাওয়ার এই বিশেষ ইন্ডিকেটর শিশুর ত্বকে রক্ষা করে থাকে ভালোভাবে। এর ফলে শিশুর দেহ রেস, অসস্তি থেকে রেহাই পায়। কেননা এই ডায়াপার পরানো হলে সেটি কখন পাল্টাতে হবে তা আপনাকে জানিয়ে দিবে যে, এটি এখন আর শোষণ করতে পারছে না।


৪) ডিসপোজাল টেপ (Disposals tape)

ডায়াপার কেনার সময় আরেকটি জরুরী বিষয় হচ্ছে, ডায়াপার ঠিকঠাক ভাবে ডিসপোজ করা যাচ্ছে কিনা তা দেখে নেওয়া।

আপনাকে এমন ডায়াপার কিনতে হবে, যাতে ডিসপোজাল টেপ থাকে।ব্যবহৃত ডায়াপার যাতে সহজেই মুড়ে ফেলা যায় এবং ফেলার পরও সেই ভাজ যেন খুলে না যায়।


৫) এলোভেরা জেল আছে কিনা দেখে নেওয়া

Baby lotion with aloe vera: শিশুর ত্বকে অস্বস্তি দূর করতে এলোভেরার চেয়ে ভালো কিছু সাধারণত হয় না। আপনার ক্রয় করা পছন্দের ডায়াপারে এলোভেরা জেল থাকলে শিশুর কোমল ত্বক আরাম পাবে।

Baby lotion with aloe vera বা এলোভেরা জেল থাকলে আপনার শিশুর অহেতুক এলার্জি হবে না।


৬) ডায়াপারের শোষণক্ষমতা (absorbing channels)

ডায়াপার ক্রয় করার সময় আরেকটি জরুরী শর্ত হচ্ছে, ক্রয়করা ডায়াপারটি কতটা তরল শোষণ করতে পারে। ডায়াপার বেঁচে নেওয়ার মূল শর্ত এটি।

কেননা এই কারণেই মূলত আমরা শিশুর জন্য ডায়াপার ক্রয় করে থাকি। তিন-তিনটি absorbing  চ্যানেল ওয়ালা ডায়াপার শিশুর ত্বক শুকনো রাখতে সাহায্য করে। ফলে ফুসকুড়ি, অস্বস্তি থেকে শিশুর রেহাই পায়।


৭)ডায়াপার প্যান্টের মতো কিনা

সাধারণত শিশুর কাছে প্যান্টের মত ডায়াপারই বেশি পছন্দ। সাধারণ ডায়াপারের তুলনায় প্যান্টের মতো ডায়াপারই শিশুকে অনেক সহজেই পড়ানো যায়।

অর্থাৎ প্যান্টের মতো ডায়াপার শিশুর শরীরে সহজেই ফিট করা যায়। তাই আপনি যে ডায়াপার বা প্যাম্পাসটি কিনছেন সেটা প্যান্ট স্টাইল কিনা দেখে নিন।


বাজারের সবচেয়ে সেরা ডায়াপার কোনটি?

শিশুর প্যারেন্ট সাধারণত সর্বোচ্চ আরামদায়ক ডায়াপার ক্রয় করার জন্য বাজারের সবচেয়ে সেরা ডায়াপার খুঁজে থাকেন। কিন্তু কোন ব্যান্ডের ডায়াপার সবচেয়ে বেশি আরামদায়ক এবং সুবিধাজনক তা ব্যবহার করার আগে জানা সম্ভব হয় না।

তবে অনেকেই বাচ্চার জন্য কিডজ ডায়াপার ক্রয় করেন। এটি জার্মান প্রযুক্তি এবং জাপানি কাঁচামাল ব্যবহার করে তৈরি করা। অনেকেই মনে করে থাকেন কিডজ ডায়াপার মান, আস্তা এবং প্রতিশ্রুতি বদ্ধতার দিক থেকে সেরা।

সারাদেশে এটি অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ডায়াপারের কিছু বৈশিষ্ট্য নিচে তুলে ধরা হলো।


কিডজ ডায়াপারের বৈশিষ্ট্য

* ৩৬০ ডিগ্রী ইলাস্টিক ওয়েস্ট ব্যান্ড, ফলে এটি আপনার শিশুর কোমরের জন্য উপযুক্ত।

* এটি জাপানি সুমিটমো ব্যান্ডের শোষণকারী কাগজ ব্যবহার করে, যা শোষণকে ত্বরান্বিত এবং শুষ্ক রাখে।

* এই ডায়াপারটিতে ত্রিমাত্রার লিক গার্ড রয়েছে, ফুলের সহজে নিকেজ বা ফটো হয় না।

* ওয়েটনেস ইন্ডিকেটর বা আদ্রতা সূচক: শিশুর ডায়াপার কখন পরিবর্তন করতে হবে তা নির্ধারণ করতে এটি আপনাকে সহায়তা করে।

* কিডজ ডায়াপারের কাঁচামাল খুব ব্যয়বহুল। কাঁচামালের খরচ অন্যান্য ব্যান্ড গুলোর চেয়ে তিন গুণ বেশি। আর এই ব্যান্ডটি কখনোই গুণগত মান এবং স্বস্তির সাথে আপোষ করে না।

* এটি শিশুদের মধ্যে rash বা ফুসকুড়ি সৃষ্টি করেনা।

* এই ব্যান্ডের ডায়াপার অতি পাতলা এবং নরম যা বাচ্চাদের আরাম দিয়ে থাকে।

* ক্লোরিন মুক্ত: ক্লোরিন একটি কঠোর রাসায়নিক যা ব্যাকটেরিয়া নিধনে ব্যবহৃত হয়। বাজারে অনেক দয়া করে কোনদিন পাওয়া যায় দয়া করে কোনদিন বাচ্চাদের ফুসকুড়ি সৃষ্টি করে। আর কিডজ ডায়াপার ক্লোরিন মুক্ত ১০০% এবং পরিবেশ বান্ধব। এটি শিশুর জন্য অনেক ভালো।

 কিডজ ডায়াপায় সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন : kidzdiaper.com


কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.