বাংলাদেশ কাস্টমস পোর্টাল (customs.gov.bd) — আমদানি, রপ্তানি ও অনলাইন সেবার সম্পূর্ণ গাইড ২০২৫-২৬
আপনি যদি বাংলাদেশে আমদানি বা রপ্তানি ব্যবসার সাথে যুক্ত থাকেন, কিংবা বিদেশ থেকে কোনো পণ্য আনতে চান — তাহলে customs.gov.bd ওয়েবসাইটটির সাথে পরিচিত হওয়া আপনার জন্য অপরিহার্য। বাংলাদেশ কাস্টমসের এই অফিসিয়াল পোর্টালটি হলো দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ডিজিটাল প্রবেশদ্বার। এখানে শুধু তথ্য নেই, বরং বিল অব এন্ট্রি ট্র্যাকিং থেকে শুরু করে অনলাইন ট্যারিফ চেক, কুরিয়ার ট্র্যাকিং পর্যন্ত অনেক কাজ এখান থেকে করা সম্ভব।
এই গাইডে আমরা পোর্টালের প্রতিটি বিভাগ, প্রতিটি সেবা এবং কীভাবে আপনি এগুলো ব্যবহার করবেন — সব কিছু বিস্তারিতভাবে আলোচনা করব। নতুন ব্যবসায়ী হোক বা অভিজ্ঞ সি এন্ড এফ এজেন্ট — এই আর্টিকেলটি সবার কাজে আসবে।
বাংলাদেশ কাস্টমস কী এবং কীভাবে কাজ করে?
বাংলাদেশ কাস্টমস হলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR)-এর অধীনে পরিচালিত একটি সরকারি সংস্থা। এটি মূলত দেশে আমদানি ও রপ্তানি হওয়া পণ্যের উপর শুল্ক (Customs Duty) ও কর আদায় করে এবং অবৈধ পণ্য দেশে প্রবেশ ঠেকায়।
NBR হলো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের (IRD) অধীনে। কাস্টমসের নীতিনির্ধারণ, শুল্ক আরোপ এবং আদায়ের পুরো প্রক্রিয়াটি NBR-এর কাস্টমস উইং পরিচালনা করে।
বাংলাদেশের প্রধান কাস্টমস হাউসগুলো হলো:
- চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস — সমুদ্রপথে দেশের সবচেয়ে বড় আমদানি-রপ্তানি বন্দর
- ঢাকা কাস্টম হাউস (হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর) — বিমানপথে পণ্য আনা-নেওয়ার প্রধান কেন্দ্র
- বেনাপোল কাস্টম হাউস — ভারতের সাথে স্থলপথে প্রধান বাণিজ্য কেন্দ্র
- মংলা কাস্টম হাউস — খুলনা বিভাগের সমুদ্রবন্দর
- সিলেট কাস্টম হাউস — উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বায়ু ও স্থল বন্দর
এছাড়াও দেশে অসংখ্য স্থলবন্দর কাস্টমস স্টেশন (Land Customs Stations - LCS) আছে যেগুলো সীমান্ত এলাকায় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করে।
customs.gov.bd পোর্টালের মূল পরিচিতি
customs.gov.bd হলো বাংলাদেশ কাস্টমসের প্রধান অনলাইন পোর্টাল। এটি ASYCUDA World সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে তৈরি। ASYCUDA (Automated System for Customs Data) হলো UNCTAD উন্নত একটি আন্তর্জাতিক সফটওয়্যার যা বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশে কাস্টমস ব্যবস্থাপনার জন্য ব্যবহৃত হয়।
পোর্টালটিতে প্রবেশ করলে আপনি মূলত যা পাবেন:
- সাম্প্রতিক ঘোষণা ও ম্যানিফেস্টের তথ্য
- মুদ্রা বিনিময় হার (Currency Exchange Rate)
- জাহাজ ও ফ্লাইটের তথ্য
- অনলাইন সেবাসমূহ (ট্র্যাকিং, ট্যারিফ, পেমেন্ট ইত্যাদি)
- বাজেট সংক্রান্ত নথিপত্র
পোর্টালের অনলাইন সেবাসমূহ — বিস্তারিত আলোচনা
customs.gov.bd-এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো এর Online Services বিভাগ। এখানে একাধিক সেবা পাওয়া যায় যেগুলো আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং এজেন্ট এবং সি এন্ড এফ এজেন্টরা নিয়মিত ব্যবহার করেন।
১. User Page (ব্যবহারকারী পাতা)
এটি হলো লগইন করার পরে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত ড্যাশবোর্ড। এখান থেকে নিবন্ধিত ব্যবহারকারীরা তাদের ঘোষণাপত্র (Declaration), ম্যানিফেস্ট, ট্র্যাকিং ইত্যাদি সব কিছু একসাথে পরিচালনা করতে পারেন।
User Page ব্যবহার করতে হলে আপনাকে কাস্টমস পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। এটি সাধারণত সি এন্ড এফ এজেন্ট, শিপিং এজেন্ট এবং কর্পোরেট আমদানিকারকদের জন্য।
২. Upload e-Manifest (ই-ম্যানিফেস্ট আপলোড)
বাংলাদেশে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্টদের সবার আগে Import General Manifest (IGM) জমা দিতে হয়। এটি একটি দলিল যেখানে জাহাজে থাকা সব পণ্যের তালিকা থাকে।
সমুদ্রপথে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে শিপিং এজেন্ট এই ম্যানিফেস্ট ইলেকট্রনিক্যালি ASYCUDA World সিস্টেমে সাবমিট করেন। স্থলপথে ট্রাকের মাধ্যমে আসা পণ্যের ক্ষেত্রে ট্রাক কোম্পানি বা ড্রাইভার ম্যানুয়ালি IGM জমা দেন।
e-Manifest আপলোডের জন্য customs.gov.bd পোর্টালে XML ফরম্যাটে ফাইল আপলোড করার সুবিধা রয়েছে। শিপিং এজেন্টরা এই ফিচারটি ব্যবহার করে সহজেই ম্যানিফেস্ট জমা দিতে পারেন।
৩. Online Tariff (অনলাইন ট্যারিফ)
এটি পোর্টালের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত সেবাগুলোর একটি। অনলাইন ট্যারিফ ব্যবহার করে আপনি যেকোনো পণ্যের HS Code খুঁজে বের করতে পারবেন এবং সেই পণ্যের উপর কত শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য তা জানতে পারবেন।
HS Code হলো Harmonized System Code — এটি একটি আন্তর্জাতিক পদ্ধতি যেখানে প্রতিটি পণ্যকে একটি নির্দিষ্ট কোড দিয়ে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। বাংলাদেশে আমদানি বা রপ্তানির সময় সঠিক HS Code ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। ভুল HS Code ব্যবহার করলে জরিমানা এবং মামলার মুখোমুখি হতে পারেন।
Online Tariff পেজে গিয়ে আপনি:
- পণ্যের নাম দিয়ে HS Code খুঁজতে পারবেন
- HS Code দিয়ে পণ্যের শুল্ক হার জানতে পারবেন
- কাস্টমস ডিউটি, VAT, Supplementary Duty এবং অন্যান্য লেভির হিসাব দেখতে পারবেন
৪. Prepaid Account (প্রিপেইড অ্যাকাউন্ট)
কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সময় বিভিন্ন ফি ও চার্জ পরিশোধ করতে হয়। এই প্রিপেইড অ্যাকাউন্ট সুবিধার মাধ্যমে সি এন্ড এফ এজেন্ট বা আমদানিকারক আগে থেকে টাকা জমা রেখে পরবর্তীতে ক্লিয়ারেন্স ফি দ্রুত দিতে পারেন। এতে সময় বাঁচে এবং কাজ সহজ হয়।
ডকুমেন্ট ট্র্যাকিং সেবা — কীভাবে ব্যবহার করবেন?
customs.gov.bd পোর্টালের Document Tracking বিভাগটি আমদানিকারক ও সি এন্ড এফ এজেন্টদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে দুটি ট্র্যাকিং সুবিধা আছে।
Bill of Lading ট্র্যাকিং
Bill of Lading (B/L) হলো শিপিং এজেন্ট কর্তৃক ইস্যু করা একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল যা প্রমাণ করে যে পণ্য জাহাজে তোলা হয়েছে। এই ট্র্যাকিং সুবিধায় আপনি আপনার B/L নম্বর দিয়ে জানতে পারবেন পণ্যটি কোথায় আছে, ম্যানিফেস্ট জমা হয়েছে কিনা ইত্যাদি।
Bill of Entry / Export ট্র্যাকিং
Bill of Entry (B/E) হলো আমদানি পণ্যের কাস্টমস ঘোষণাপত্র। আমদানিকারক বা সি এন্ড এফ এজেন্ট ASYCUDA World-এ B/E সাবমিট করার পর তা কাস্টমস কর্তৃক বিভিন্ন ধাপে প্রক্রিয়া করা হয়।
Bill of Entry ট্র্যাকিং পেজে গিয়ে আপনি B/E নম্বর বা Registration নম্বর দিয়ে জানতে পারবেন:
- B/E-টি Registered হয়েছে কিনা
- Assessment (শুল্ক নির্ধারণ) সম্পন্ন হয়েছে কিনা
- Payment সম্পন্ন হয়েছে কিনা
- Release Order ইস্যু হয়েছে কিনা
পোর্টালের হোমপেজেই আপনি Recent Declarations বিভাগে সাম্প্রতিক কাস্টমস ঘোষণার তথ্য লাইভ দেখতে পাবেন, যেখানে অফিস কোড, রেজিস্ট্রেশন নম্বর এবং তারিখ উল্লেখ থাকে।
Container Tracking-CTMS এবং Courier Tracking
কনটেইনার ট্র্যাকিং
সমুদ্রপথে আসা কনটেইনার ট্র্যাক করার জন্য CTMS (Container Tracking Management System) ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য। আপনার কনটেইনার নম্বর দিয়ে জানতে পারবেন কনটেইনারটি বন্দরের কোথায় আছে, কতদিন থেকে আছে ইত্যাদি।
এই তথ্য জানা জরুরি কারণ বন্দরে অতিরিক্ত দিন পড়ে থাকলে Detention Charge বা Demurrage লাগতে পারে, যা ব্যয়বহুল।
কুরিয়ার ট্র্যাকিং
বিদেশ থেকে কুরিয়ারে পাঠানো পার্সেল বা ছোট পণ্যের কাস্টমস স্ট্যাটাস জানার জন্য Courier Tracking সুবিধাটি ব্যবহার করুন। আপনার ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে জানতে পারবেন পার্সেলটি কাস্টমসে আটকে আছে কিনা বা ছাড় হয়ে গেছে কিনা।
অনেকেই বিদেশ থেকে অনলাইনে কেনাকাটা করেন বা আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে পার্সেল পান। এই ক্ষেত্রে পার্সেলটির কাস্টমস স্ট্যাটাস জানা জরুরি। কুরিয়ার কোম্পানির সাইটে ট্র্যাক করলে শুধু লজিস্টিক তথ্য পাবেন, কিন্তু কাস্টমস পোর্টালে ট্র্যাক করলে শুল্ক পরিশোধ ও ছাড়ের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন।
Summary বিভাগ — পরিসংখ্যান দেখুন
কাস্টমস পোর্টালে Summary বিভাগে দুটি পরিসংখ্যান সেকশন আছে:
BE Summary (Bill of Entry Summary)
এখানে নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়কালের জন্য মোট কতটি Bill of Entry জমা হয়েছে, কতটি অ্যাসেসড হয়েছে ইত্যাদির পরিসংখ্যান পাওয়া যায়।
Manifest Summary
মোট কতটি ম্যানিফেস্ট জমা হয়েছে, কোন বন্দরে কত সংখ্যক ম্যানিফেস্ট প্রসেস হয়েছে তার তথ্য এখানে পাবেন।
এই পরিসংখ্যানগুলো গবেষক, সাংবাদিক এবং ব্যবসায়িক বিশ্লেষকদের কাজে আসে।
Search Company — কোম্পানি তথ্য অনুসন্ধান
কোনো নির্দিষ্ট আমদানিকারক বা রপ্তানিকারক কোম্পানির তথ্য জানতে চাইলে Search Company ফিচারটি ব্যবহার করুন। এখানে কোম্পানির নাম বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে সার্চ করলে কোম্পানিটির কাস্টমস রেজিস্ট্রেশন তথ্য পাওয়া যায়।
এটি মূলত ব্যবসায়িক যাচাইয়ের (due diligence) কাজে ব্যবহৃত হয়। নতুন কোনো সাপ্লায়ার বা ক্রেতার সাথে ব্যবসা করার আগে তাদের কাস্টমস নিবন্ধন আছে কিনা যাচাই করা ভালো অভ্যাস।
বাজেট বিভাগ — ট্যারিফ, SRO ও অন্যান্য নথি
প্রতি অর্থবছরে নতুন বাজেট ঘোষণার পর কাস্টমস সংক্রান্ত নথিপত্র এই বিভাগে প্রকাশিত হয়। বর্তমানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের নথিপত্র পাওয়া যাচ্ছে।
Customs Operative Tariff
এটি বাংলাদেশ কাস্টমসের প্রধান ট্যারিফ বই। এখানে সব ধরনের পণ্যের HS Code এবং প্রযোজ্য শুল্ক হার বিস্তারিতভাবে দেওয়া আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এই নথিটি PDF আকারে ডাউনলোড করা যায়।
Budget Speech
অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় পাওয়া যায়। এটি বাজেটের সার্বিক দিকনির্দেশনা সম্পর্কে ধারণা দেয়।
Finance Bill
অর্থ বিল হলো বাজেটের আইনি দলিল। এখানে নতুন করারোপ ও কর পরিবর্তনের আইনি ভিত্তি থাকে।
Customs SRO (Statutory Regulatory Order)
SRO হলো বিভিন্ন পণ্যে বিশেষ ছাড় বা অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সরকারি আদেশ। এই নথিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনেক সময় কোনো বিশেষ খাত বা শিল্পের জন্য সরকার আলাদা সুবিধা দেয়, যা SRO-এর মাধ্যমে কার্যকর হয়।
First Schedule
কাস্টমস আইনের প্রথম তফসিলে সব পণ্যের HS Code এবং শুল্ক হার সংযুক্ত থাকে। এটি মূলত আইনি দলিল।
Industrial IRC (আমদানি নিবন্ধন সনদ)
শিল্প কারখানার জন্য বিশেষ শুল্ক সুবিধা পেতে Industrial IRC (Import Registration Certificate) থাকা জরুরি। এই বিভাগে Industrial IRC হোল্ডারদের তালিকা এবং SRO বাস্তবায়নের নির্দেশাবলি পাওয়া যায়।
মুদ্রা বিনিময় হার — কাস্টমসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন?
customs.gov.bd-এর হোমপেজে প্রতি মাসে আপডেট করা মুদ্রা বিনিময় হার দেওয়া থাকে। এই হারটি শুধু তথ্যের জন্য নয় — এটি কাস্টমস অ্যাসেসমেন্টের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
যখন কোনো পণ্যের মূল্য বিদেশি মুদ্রায় (যেমন USD, EUR, GBP) ঘোষণা করা হয়, তখন সেটাকে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করে শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ NBR নির্ধারিত এই মুদ্রা হার ব্যবহার করে।
২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের হিসাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রার বিনিময় হার:
- ১ USD = ১২২.৭৪ টাকা
- ১ EUR = ১৪৪.৫৫ টাকা
- ১ GBP = ১৬৬.২৮ টাকা
- ১ AED = ৩৩.৫৮ টাকা
- ১ SGD = ৯৬.৯৬ টাকা
- ১ CNY = ১৭.৯১ টাকা
- ১ INR = ১.৩৫ টাকা
এই হারগুলো প্রতি মাসে পরিবর্তন হয় তাই সর্বশেষ হার সবসময় পোর্টাল থেকে চেক করুন।
Payment বিভাগ — A-Challan দিয়ে পেমেন্ট
কাস্টমস শুল্ক পরিশোধের জন্য বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। customs.gov.bd পোর্টালে Payment বিভাগে দুটি অপশন আছে:
A-Challan Payment
সরকারি রাজস্ব পরিশোধের জন্য A-Challan সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। কাস্টমস শুল্ক পরিশোধ করতে এই লিংক ব্যবহার করুন। এটি আপনাকে সরাসরি achallan.gov.bd সাইটে নিয়ে যাবে যেখানে ব্যাংকের মাধ্যমে বা সরাসরি পেমেন্ট গেটওয়ে ব্যবহার করে কাস্টমস ডিউটি ও ট্যাক্স পরিশোধ করা যায়।
A-Challan Verification
পেমেন্ট করার পর সেই চালানটি সঠিক আছে কিনা যাচাই করতে A-Challan Verification ব্যবহার করুন। এটি নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে আমদানির সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া — ধাপে ধাপে
আমদানির পুরো প্রক্রিয়াটি বোঝা না থাকলে customs.gov.bd সঠিকভাবে ব্যবহার করা কঠিন। তাই এখানে আমদানির পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হলো।
ধাপ ১: Import Registration Certificate (IRC) নেওয়া
বাণিজ্যিকভাবে পণ্য আমদানি করতে হলে আমদানিকারককে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে Chief Controller of Imports and Exports (CCI&E)-এর কাছ থেকে IRC নিতে হয়। শিল্প প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে BIDA বা BEPZA থেকে নিবন্ধন নেওয়া যায়।
ধাপ ২: Letter of Credit (L/C) খোলা
ব্যাংকের মাধ্যমে L/C খুলতে হয়। L/C হলো আমদানিকারকের পক্ষে ব্যাংকের প্রতিশ্রুতি যে পণ্য সঠিকভাবে পাঠালে বিদেশি সরবরাহকারীকে পেমেন্ট করা হবে।
ধাপ ৩: পণ্য জাহাজীকরণ ও IGM জমা
বিদেশ থেকে পণ্য জাহাজ বা বিমানে পাঠানোর পর শিপিং এজেন্ট Import General Manifest (IGM) ASYCUDA World সিস্টেমে ইলেকট্রনিক্যালি জমা দেন।
ধাপ ৪: Bill of Entry (B/E) সাবমিশন
IGM জমার পর সি এন্ড এফ এজেন্ট বা আমদানিকারক নিজেই ASYCUDA World-এ Bill of Entry সাবমিট করেন। B/E-তে পণ্যের বিবরণ, পরিমাণ, মূল্য, HS Code, উৎপত্তি দেশ ইত্যাদি তথ্য থাকে। এটি Single Administrative Document (SAD) ফরম্যাটে জমা দিতে হয়।
B/E-র সাথে জমা দিতে হয় এমন কিছু মূল দলিল:
- Letter of Credit (L/C)
- Bill of Lading বা Airway Bill
- Commercial Invoice
- Packing List
- Certificate of Origin
- Inspection Certificate (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
- BSTI সনদ (নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য)
- Radioactivity Test Report (খাদ্যপণ্যের জন্য)
- Intellectual Property Certificate (ব্র্যান্ডেড পণ্যের জন্য)
ধাপ ৫: কাস্টমস অ্যাসেসমেন্ট
কাস্টমস কর্মকর্তারা B/E পর্যালোচনা করে শুল্ক নির্ধারণ করেন। ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পণ্যের শারীরিক পরীক্ষাও হতে পারে। ASYCUDA World-এ পণ্যের শ্রেণি অনুযায়ী তিন ধরনের চ্যানেল আছে:
- Green Lane — নথি ও পণ্য পরীক্ষা ছাড়া সরাসরি ছাড়
- Yellow Lane — শুধু নথি পরীক্ষা করা হয়
- Red Lane — নথি ও পণ্য উভয়ই শারীরিকভাবে পরীক্ষা করা হয়
ধাপ ৬: শুল্ক পরিশোধ
অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হলে নির্ধারিত শুল্ক ও কর পরিশোধ করতে হয়। পরিশোধের পর কাস্টমস Release Order ইস্যু করে।
ধাপ ৭: পণ্য খালাস
Release Order পাওয়ার পর বন্দরের কাজ সম্পন্ন করে পণ্য গুদাম বা কারখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির প্রক্রিয়া
রপ্তানির ক্ষেত্রেও customs.gov.bd পোর্টাল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রপ্তানির সময় নিচের দলিলগুলো Bill of Export-এর সাথে জমা দিতে হয়:
- Export L/C বা রপ্তানি চুক্তি বা Purchase Order
- Commercial Invoice
- Packing List
- EXP Form (Authorized Dealer কর্তৃক সনদকৃত)
- Certificate of Origin (EPB বা চেম্বার অব কমার্স কর্তৃক ইস্যুকৃত)
- VAT রেজিস্ট্রেশন সনদ
- TIN সনদ
কিছু বিশেষ পণ্যের জন্য অতিরিক্ত দলিল লাগে। যেমন — পাট ও চায়ের জন্য ERC (Export Registration Certificate), চায়ের জন্য Bangladesh Tea Board-এর এক্সপোর্ট পারমিট, তৈরি পোশাকের জন্য Utilization Declaration ইত্যাদি।
রপ্তানি ঘোষণাপত্র অনুমোদিত হলে পণ্য কনটেইনারে ভরে জাহাজে তোলা হয় এবং জাহাজ ছাড়ার পর রপ্তানি সম্পন্ন বলে ধরা হয়।
আমদানি নিষিদ্ধ ও সীমাবদ্ধ পণ্যের তালিকা
বাংলাদেশে কিছু পণ্য আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং কিছু পণ্যের আমদানিতে বিশেষ অনুমতি লাগে। Customs Act, 2023 এবং Import Policy Order অনুযায়ী এগুলো নির্ধারিত।
সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ পণ্য (কিছু উদাহরণ):
- অবৈধ মাদকদ্রব্য
- অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ (সরকারি অনুমতি ছাড়া)
- অশ্লীল উপকরণ
- নকল মুদ্রা ও পণ্য
- শূকর ও শূকরজাত পণ্য
- ব্যবহৃত অফিস সরঞ্জাম (পুনর্নবীকরণকৃত ফটোকপিয়ার, টাইপরাইটার ইত্যাদি)
- নিম্নমানের পুনর্নবীকরণকৃত পণ্য
বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন এমন পণ্য:
- সব ধরনের অস্ত্র — প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাগবে
- ওষুধের কাঁচামাল ও মোড়কসামগ্রী — ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগবে
- খাদ্যপণ্য, পশু ও পোলট্রি খাদ্য — বিশেষ নথিপত্র লাগবে
- পোষা প্রাণী — ইমপোর্ট পারমিট ও স্বাস্থ্য সনদ লাগবে
- টেক্সটাইল পণ্য — পরিষ্কার সনদ লাগবে
বিনামূল্যে আনা যায় এমন পণ্য (যাত্রীদের জন্য):
- ২০০টি সিগারেট বা ৫০টি চুরুট বা ২২৫ গ্রাম তামাক
- ২৫০ মিলি পারফিউম
- সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা মূল্যের উপহার সামগ্রী
- অমুসলিম যাত্রীদের জন্য — ২ বোতল অ্যালকোহলিক পানীয় (পর্যটন উদ্দেশ্যে ভ্রমণকারীর জন্য)
Import Export Hub — বাংলাদেশ কাস্টমসের নতুন তথ্যভান্ডার
customs.gov.bd পোর্টালের পাশাপাশি hub.bangladeshcustoms.gov.bd হলো আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এটি HS Code ভিত্তিক একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার যেখানে যেকোনো পণ্যের আমদানি ও রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় সব তথ্য পাওয়া যায়।
Import Export Hub থেকে পাওয়া যায়:
- HS Code ভিত্তিক পণ্যের বিবরণ
- আমদানি ও রপ্তানির জন্য প্রয়োজনীয় সনদপত্রের তালিকা
- প্রযোজ্য শুল্ক হার সহ মোট কর ভার (Total Tax Incidence)
- পণ্যের জন্য প্রযোজ্য সুবিধা ও ছাড়ের তথ্য
- শুল্ক হিসাব করার সুবিধা
- নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা (Customs Act, 2023 অনুযায়ী)
এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো HS Code ভিত্তিক এতটা বিস্তারিত তথ্য এক জায়গায় পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য এটি সত্যিই একটি বড় পদক্ষেপ।
Navigate বিভাগ — গুরুত্বপূর্ণ লিংকসমূহ
customs.gov.bd পোর্টালের Navigate মেনুতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পোর্টালের লিংক দেওয়া আছে। এগুলো জানা থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়।
- National Board of Revenue (nbr.gov.bd) — NBR-এর মূল সাইট, কর সংক্রান্ত সব তথ্যের জন্য
- National Single Window (bswnbr.gov.bd) — আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত সব সরকারি অনুমোদন এক জায়গায় পেতে
- Bangladesh Customs (bangladeshcustoms.gov.bd) — কাস্টমসের আরেকটি তথ্যপোর্টাল
- Customs Bond Management (cusbond.gov.bd) — বন্ডেড ওয়্যারহাউসের জন্য
- Customs User Management (ums.bdcustoms.gov.bd) — কাস্টমস সিস্টেমে ব্যবহারকারী ব্যবস্থাপনা
- Customs Agent Management (bdcams.bdcustoms.gov.bd) — সি এন্ড এফ এজেন্টদের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনা
- Customs Record Management (cevgazette.bdcustoms.gov.bd) — কাস্টমসের রেকর্ড ও গেজেট
- Customs e-Auction — পরিত্যক্ত পণ্যের ই-নিলামের জন্য
- Import Export Hub (hub.bangladeshcustoms.gov.bd) — HS Code ভিত্তিক তথ্যভান্ডার
National Single Window কী?
National Single Window হলো এমন একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম যেখানে আমদানি-রপ্তানিকারকরা একটি মাত্র জায়গা থেকে একাধিক সরকারি সংস্থার অনুমোদন নিতে পারবেন। আগে আলাদা আলাদা দপ্তরে গিয়ে অনুমতি নিতে হতো, এখন অনলাইনেই এক জায়গা থেকে করা সম্ভব হচ্ছে। এটি বাংলাদেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ASYCUDA World — বাংলাদেশ কাস্টমসের প্রযুক্তির মেরুদণ্ড
বাংলাদেশ কাস্টমসের পুরো অটোমেশন ব্যবস্থাটি ASYCUDA World-এর উপর নির্মিত। ASYCUDA হলো Automated System for Customs Data। এটি UNCTAD (United Nations Conference on Trade and Development) পরিচালিত একটি সফটওয়্যার যা বিশ্বের ৯০টিরও বেশি দেশ ব্যবহার করে।
বাংলাদেশে ASYCUDA World ব্যবহার করে:
- সি এন্ড এফ এজেন্টরা নিজ অফিস থেকে Bill of Entry সাবমিট করতে পারেন
- শিপিং এজেন্টরা ম্যানিফেস্ট ইলেকট্রনিক্যালি জমা দিতে পারেন
- কাস্টমস কর্মকর্তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করে পণ্যের চ্যানেল নির্ধারণ করতে পারেন
- শুল্ক নির্ধারণ ও পরিশোধ ডিজিটালি সম্পন্ন হয়
ASYCUDA World-এ প্রবেশ করতে customs.gov.bd পোর্টাল থেকে সরাসরি লগইন করা যায়। তবে এর জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ব্যবহারকারী ID ও পাসওয়ার্ড লাগবে।
MIS বিভাগ — কাস্টমসের ডেটা অ্যানালিটিক্স
customs.gov.bd পোর্টালে MIS (Management Information System) লিংকটি কাস্টমসের তথ্য বিশ্লেষণ পোর্টালে নিয়ে যায়। এখানে কাস্টমস আয়, আমদানি-রপ্তানির পরিসংখ্যান এবং বিভিন্ন বন্দরের কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়।
এই তথ্যগুলো সরকারি পর্যায়ে নীতিনির্ধারণের কাজে ব্যবহৃত হয়। গবেষক, সাংবাদিক ও বিশ্লেষকরাও এই পোর্টাল থেকে উপকৃত হতে পারেন।
ব্যক্তিগত যাত্রীদের জন্য কাস্টমস নিয়মাবলি
শুধু ব্যবসায়ীরা নন, সাধারণ যাত্রীদের জন্যও বাংলাদেশ কাস্টমসের বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
মুদ্রা আনা-নেওয়ার নিয়ম:
- বাসিন্দারা সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা দেশীয় মুদ্রা সাথে রাখতে পারবেন
- অনিবাসীরাও একই পরিমাণ দেশীয় মুদ্রা আনতে পারবেন এবং সর্বোচ্চ ১,০০০ USD বিদেশি মুদ্রা আনতে পারবেন
- ১৫০ USD-এর বেশি বিদেশি মুদ্রা আনলে কাস্টমসে ঘোষণা করতে হবে
- বাসিন্দারা বিদেশে সর্বোচ্চ ২৫ USD-এর সমপরিমাণ দেশীয় মুদ্রা নিয়ে যেতে পারবেন
Embarkation Tax:
বিদেশে উড়ে যাওয়ার আগে সব যাত্রীকে ৩০০ টাকা Embarkation Tax দিতে হয়।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের পণ্য:
যুক্তিসংগত ব্যক্তিগত ব্যবহারের জিনিসপত্র (ল্যাপটপ, ক্যামেরা, পোশাক ইত্যাদি) সাধারণত শুল্কমুক্তভাবে আনা যায়। তবে অস্বাভাবিক পরিমাণে বা বাণিজ্যিক ব্যবহারের উদ্দেশ্যে হলে শুল্ক লাগবে।
কাস্টমস শুল্কের ধরন — কোন ট্যাক্স কী?
বাংলাদেশে পণ্য আমদানিতে একাধিক ধরনের কর ও শুল্ক প্রযোজ্য হতে পারে। এগুলো একসাথে Total Tax Incidence (TTI) বলা হয়।
- Customs Duty (CD) — মূল আমদানি শুল্ক, পণ্যভেদে ০% থেকে ২৫% বা তার বেশি হতে পারে
- Regulatory Duty (RD) — দেশীয় শিল্প রক্ষার জন্য অতিরিক্ত শুল্ক
- Supplementary Duty (SD) — বিলাসবহুল বা ক্ষতিকর পণ্যের উপর অতিরিক্ত শুল্ক
- Value Added Tax (VAT) — সাধারণত ১৫%
- Advance Income Tax (AIT) — আগাম আয়কর, পণ্যভেদে ৩% থেকে ৫%
- Advance Trade VAT (ATV) — বাণিজ্য পর্যায়ে অগ্রিম VAT
এই সব ট্যাক্স মিলিয়ে অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে মোট কর ভার আমদানি মূল্যের ৫০% বা তার বেশি হতে পারে। তাই আমদানি করার আগে Online Tariff ব্যবহার করে মোট খরচ হিসাব করা জরুরি।
কাস্টমস বন্ড (Customs Bond) — কী এবং কীভাবে কাজ করে?
রপ্তানিমুখী শিল্পের জন্য বাংলাদেশে একটি বিশেষ সুবিধা আছে — Customs Bond বা বন্ডেড ওয়্যারহাউস। বিশেষত তৈরি পোশাক (RMG) শিল্পের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Customs Bond-এর মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠান শুল্কমুক্তভাবে কাঁচামাল আমদানি করতে পারে, শর্ত হলো ওই কাঁচামাল দিয়ে তৈরি পণ্য অবশ্যই রপ্তানি করতে হবে। যদি রপ্তানি না হয়, তাহলে সেই শুল্ক পরিশোধ করতে হবে।
Customs Bond Management System পরিচালনার জন্য cusbond.gov.bd একটি আলাদা পোর্টাল আছে যার লিংক customs.gov.bd থেকে পাওয়া যায়।
সি এন্ড এফ এজেন্ট — কারা এবং কেন দরকার?
C&F Agent মানে Clearing and Forwarding Agent। বাংলাদেশে আমদানি বা রপ্তানির সময় কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের জন্য সাধারণত একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত সি এন্ড এফ এজেন্ট প্রয়োজন হয়।
সি এন্ড এফ এজেন্টরা:
- ASYCUDA World-এ Bill of Entry সাবমিট করেন
- প্রয়োজনীয় দলিলপত্র প্রস্তুত ও জমা দেন
- কাস্টমস কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন
- শুল্ক পরিশোধের ব্যবস্থা করেন
- বন্দর থেকে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করেন
সি এন্ড এফ এজেন্টদের নিবন্ধন ও ব্যবস্থাপনার জন্য bdcams.bdcustoms.gov.bd পোর্টালটি ব্যবহার করা হয়।
Customs e-Auction — পরিত্যক্ত পণ্যের নিলাম
কাস্টমস হাউসে বহুদিন পড়ে থাকা বা দাবিহীন পণ্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিলামে বিক্রি করা হয়। এই e-Auction সিস্টেমের মাধ্যমে অনলাইনে নিলামে অংশ নেওয়া সম্ভব।
যারা সাশ্রয়ী মূল্যে মালামাল কিনতে চান, তারা এই নিলামে অংশ নিতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, নিলামের পণ্যের গুণগত মান সম্পর্কে নিশ্চয়তা সীমিত, তাই আগে পরিদর্শন করে নেওয়া ভালো।
কাস্টমস আইন ২০২৩ — নতুন কী আছে?
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে ১৯৬৯ সালের পুরনো কাস্টমস আইন চালু ছিল। ২০২৩ সালে নতুন Customs Act, 2023 প্রণীত হয়েছে যা এই পুরনো আইনকে প্রতিস্থাপন করেছে।
নতুন কাস্টমস আইনের প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হলো:
- আমদানি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড — সব ঘোষণাপত্র ASYCUDA World-এ ইলেকট্রনিক্যালি জমা দিতে হবে
- Risk-based Inspection — ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পণ্য পরীক্ষা করা হবে, সব পণ্য পরীক্ষা করা হবে না
- নিষিদ্ধ ও সীমাবদ্ধ পণ্যের তালিকা আরও স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে
- কাস্টমস মূল্যায়ন পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হয়েছে (WTO Customs Valuation Agreement অনুযায়ী)
- কঠিন কমপ্লায়েন্স প্রয়োজনীয়তা
Import Export Hub-এ নতুন Customs Act, 2023 অনুযায়ী নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা বাংলা ও ইংরেজি উভয় ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে।
ব্যবহারকারীদের সাধারণ সমস্যা ও সমাধান
সমস্যা ১: পোর্টালে লগইন করতে পারছেন না
সমাধান: customs.gov.bd পোর্টালের লগইন সুবিধা শুধুমাত্র কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের জন্য। সাধারণ জনগণ লগইন ছাড়াই ট্র্যাকিং, ট্যারিফ চেক এবং মুদ্রা হার দেখতে পারবেন।
সমস্যা ২: Bill of Entry ট্র্যাক করতে পারছেন না
সমাধান: সঠিক Registration Number বা B/E নম্বর দিয়ে সার্চ করুন। নম্বরটি আপনার সি এন্ড এফ এজেন্টের কাছ থেকে নিন।
সমস্যা ৩: কুরিয়ার আটকে আছে, কী করবেন?
সমাধান: Courier Tracking ব্যবহার করে স্ট্যাটাস দেখুন। যদি কাস্টমসে আটকে থাকে, প্রয়োজনীয় দলিল জমা দিয়ে কিংবা শুল্ক পরিশোধ করে ছাড় নিন। আটকে থাকার কারণ না বুঝলে কুরিয়ার কোম্পানির সাথে যোগাযোগ করুন।
সমস্যা ৪: HS Code খুঁজে পাচ্ছেন না
সমাধান: Online Tariff-এ পণ্যের ইংরেজি নাম দিয়ে সার্চ করুন। পাশাপাশি Import Export Hub-এও খুঁজে দেখুন। তারপরও না পেলে একজন অভিজ্ঞ সি এন্ড এফ এজেন্টের পরামর্শ নিন।
সমস্যা ৫: শুল্কের হিসাব বুঝছেন না
সমাধান: Import Export Hub-এ HS Code দিয়ে সার্চ করলে সেই পণ্যের সব ধরনের শুল্ক ও কর একসাথে দেখাবে। মোট কর ভার (TTI) হিসাব করার সুবিধাও আছে।
কাস্টমসে যোগাযোগ করার উপায়
customs.gov.bd পোর্টালের Contact Us বিভাগে বিভিন্ন কাস্টমস হাউসের যোগাযোগ তথ্য পাওয়া যায়। আপনার পণ্য যে বন্দর দিয়ে আসবে বা যাবে, সেই বন্দরের কাস্টমস হাউসে যোগাযোগ করতে হবে।
সাধারণ অভিযোগ বা তথ্যের জন্য NBR-এর সাথেও যোগাযোগ করা যায়। NBR ওয়েবসাইটে (nbr.gov.bd) হেল্পলাইন নম্বর পাওয়া যায়।
পোর্টালটি কীভাবে আরও ভালোভাবে ব্যবহার করবেন — টিপস
- আমদানির আগে HS Code ও শুল্ক যাচাই করুন — Online Tariff ও Import Export Hub ব্যবহার করে পণ্যের মোট আমদানি খরচ আগে থেকে হিসাব করুন।
- নিয়মিত মুদ্রা হার চেক করুন — মুদ্রার হার পরিবর্তন হলে শুল্কের পরিমাণও পরিবর্তিত হয়, তাই সর্বশেষ হার পোর্টাল থেকে দেখুন।
- পণ্য জাহাজে ওঠার পর B/E ট্র্যাক করুন — B/E ট্র্যাকিং ব্যবহার করে প্রতিটি ধাপের আপডেট পান।
- বাজেটের নতুন SRO ও ট্যারিফ পরিবর্তন অনুসরণ করুন — প্রতি বছর জুলাই থেকে নতুন অর্থবছরের ট্যারিফ কার্যকর হয়, নতুন SRO ডাউনলোড করে রাখুন।
- সি এন্ড এফ এজেন্ট লাইসেন্স যাচাই করুন — Customs Agent Management সিস্টেমে আপনার এজেন্টের লাইসেন্স বৈধ কিনা চেক করুন।
- নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা জেনে নিন — আমদানির আগে Import Export Hub-এ নিষিদ্ধ পণ্যের তালিকা দেখুন, না হলে পণ্য বাজেয়াপ্ত ও জরিমানা হতে পারে।
শেষ কথা
customs.gov.bd পোর্টালটি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে ডিজিটাল যুগে নিয়ে আসার একটি বড় পদক্ষেপ। আগে যেখানে সব কাজের জন্য কাস্টমস হাউসে সশরীরে যেতে হতো, এখন অনেক কাজ ঘরে বসে করা সম্ভব।
তবে পোর্টালটি এখনও পুরোপুরি পরিপক্ক নয়। তথ্যের আপডেট মাঝে মাঝে ধীরগতিতে হয়, কিছু পেজ ঠিকমতো লোড না হওয়ার অভিযোগ আছে। এসব সীমাবদ্ধতার মাঝেও পোর্টালটি আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, সি এন্ড এফ এজেন্ট এবং শিপিং এজেন্টদের দৈনন্দিন কাজকে অনেক সহজ করে দিচ্ছে।
যদি আপনার ব্যবসায়িক কাজে customs.gov.bd পোর্টাল নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়, তাহলে এই গাইডটি বুকমার্ক করে রাখুন। কোনো প্রশ্ন বা মতামত থাকলে নিচে কমেন্টে জানান।
রেফারেন্স লিংক
- মূল পোর্টাল: https://customs.gov.bd
- অনলাইন ট্যারিফ: https://customs.gov.bd/portal/services/tariff
- Bill of Entry ট্র্যাকিং: https://customs.gov.bd/portal/services/billTracking/billTracking.jsf
- Bill of Lading ট্র্যাকিং: https://customs.gov.bd/portal/services/manifestTracking/billofLading.jsf
- কুরিয়ার ট্র্যাকিং: https://customs.gov.bd/portal/services/courierTracking/courierTracking.jsf
- Import Export Hub: https://hub.bangladeshcustoms.gov.bd
- National Single Window: https://bswnbr.gov.bd
- NBR: https://nbr.gov.bd
- A-Challan পেমেন্ট: https://www.achallan.gov.bd
- Customs Bond: https://cusbond.gov.bd
অন্যান্য বিষয়ে জানুন
সড়ক দুর্ঘটনায় সরকারি ক্ষতিপূরণ
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারি সহায়তার নিয়মাবলী জানুন।
বিস্তারিত পড়ুনঅনলাইন রেজিস্ট্রেশন ফি
বিভিন্ন সরকারি সেবার অনলাইন রেজিস্ট্রেশন করতে কত টাকা ফি দিতে হয়?
বিস্তারিত পড়ুনপ্রবাসীদের ভোটার ও এনআইডি নিবন্ধন
বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীরা কিভাবে ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন তার গাইড।
বিস্তারিত পড়ুনএনআইডি কার্ড সংশোধন ও ডাউনলোড
জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সকল সমস্যার সমাধান ও অনলাইন কপি ডাউনলোড।
বিস্তারিত পড়ুনই-চালান পেমেন্ট পদ্ধতি
echallan.gov.bd এর মাধ্যমে সরকারি ফি জমা দেওয়ার সঠিক নিয়ম।
বিস্তারিত পড়ুনজমির মালিকানা যাচাই
অনলাইনে জমির খতিয়ান এবং মালিকানা যাচাই করার সহজ উপায়।
বিস্তারিত পড়ুনএকপে (Ekpay) পেমেন্ট গাইড
একপে ব্যবহার করে সকল ইউটিলিটি বিল প্রদানের বিস্তারিত প্রক্রিয়া।
বিস্তারিত পড়ুনহোল্ডিং ট্যাক্স ক্যালকুলেটর
পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স অনলাইন পেমেন্ট ও তথ্য।
বিস্তারিত পড়ুন%20%E2%80%94%20%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF,%20%E0%A6%B0%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%20%E0%A6%93%20%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%20%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE.webp)