Home BD Infoনাগরিক সেবা, ব্যাংকিং ও প্রযুক্তির বাংলা গাইড

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের পদ্ধতি: BO অ্যাকাউন্ট থেকে প্রথম বিনিয়োগ পর্যন্ত গাইড ২০২৬

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ অনেকের কাছে সম্পদ বাড়ানোর একটি পরিচিত পথ, কিন্তু এখানে মুনাফার কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (BSEC) তাদের ওয়েবসাইটে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেয়: পুঁজিবাজার ঝুঁকিপূর্ণ, জেনে ও বুঝে বিনিয়োগ করুন। এই গাইডে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের পদ্ধতি ধাপে ধাপে দেখব: ব্রোকার বাছাই, BO অ্যাকাউন্ট খোলা, কোম্পানি বাছাইয়ের হিসাব, ২০২৬ সালের ডিভিডেন্ড ট্যাক্সের নিয়ম আর প্রতারণা থেকে বাঁচার উপায়।

শেয়ার, স্টক এক্সচেঞ্জ আর বাজার কীভাবে কাজ করে, সেই মৌলিক ধারণার জন্য আলাদা লেখা আছে: শেয়ার বাজার কী এবং কীভাবে কাজ করে। এখানে আমরা সরাসরি বিনিয়োগ শুরু করার ব্যবহারিক দিকটা দেখব।

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগের পদ্ধতি
সংক্ষেপে উত্তর: বাংলাদেশে শেয়ার কিনতে হলে প্রথমে BSEC-নিবন্ধিত একটি ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে BO (Beneficiary Owner) অ্যাকাউন্ট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এরপর ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিয়ে ব্রোকারের প্ল্যাটফর্ম বা অ্যাপে কেনার অর্ডার দেওয়া যায়। বিনিয়োগে মুনাফার কোনো নিশ্চয়তা নেই, মূলধনও হারাতে পারেন।

শুরুর আগে যা ঠিক করে নেবেন

শেয়ারবাজারে নামার আগে কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর নিজের কাছে পরিষ্কার করে নিন:

  • কোন টাকায় বিনিয়োগ করছেন? শুধু সেই টাকা, যেটা হারালেও আপনার দৈনন্দিন খরচ, চিকিৎসা বা সন্তানের পড়াশোনা আটকে যাবে না। জরুরি তহবিল আলাদা রাখুন।
  • সময়কাল কত? শেয়ারের দাম রোজ ওঠানামা করে। যাঁরা কয়েক বছরের জন্য বিনিয়োগ করেন, তাঁদের জন্য ঝুঁকি সাধারণত কম থাকে।
  • ঋণ নিয়ে বিনিয়োগ করবেন না। দাম পড়লে ঋণের সুদ ও কিস্তি ঠিকই চলতে থাকে, আর লোকসান বাড়ে।
  • কতটুকু ঝুঁকি নিতে পারবেন? বাজার পড়লে রাতের ঘুম নষ্ট হবে এমন পরিমাণ টাকা ঢালবেন না।

অবসর বা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বীমা, সঞ্চয় বা প্যাসিভ আয়ের অন্য পথ সম্পর্কেও ধারণা রাখা ভালো। এ বিষয়ে প্যাসিভ ইনকাম কী ও কীভাবে শুরু করবেন লেখাটা কাজে লাগতে পারে।

বিনিয়োগ শুরুর ধাপ: ব্রোকার থেকে প্রথম অর্ডার

ধাপ ১: BSEC-নিবন্ধিত ব্রোকার বেছে নিন

শেয়ার বাজারে সরাসরি কেনাবেচা করা যায় না, ব্রোকারেজ হাউস (TREC হোল্ডার) হয়ে করতে হয়। BSEC-র ওয়েবসাইটে sec.gov.bd "Registered Entities" অংশে DSE ও CSE-র নিবন্ধিত ব্রোকারদের তালিকা, ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টদের (DP) তালিকা এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কবার্তা ও অভিযোগের ফরম আছে। অ্যাকাউন্ট খোলার আগে আপনার বাছাই করা ব্রোকার এই তালিকায় আছে কিনা মিলিয়ে নিন।

ব্রোকার বাছাইয়ে দেখুন: অনলাইনে অ্যাকাউন্ট খোলা যায় কিনা, মোবাইল ট্রেডিং অ্যাপ আছে কিনা, কমিশন ও অন্যান্য ফি স্পষ্টভাবে জানানো আছে কিনা, আর গ্রাহকসেবা কেমন।

ধাপ ২: BO অ্যাকাউন্ট ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলুন

অনেকে BO অ্যাকাউন্টকে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো ভাবেন। আসলে তিনটি আলাদা জিনিস আছে:

অ্যাকাউন্ট কাজ কার কাছে থাকে
BO অ্যাকাউন্ট আপনার কেনা শেয়ার ইলেকট্রনিক আকারে জমা থাকে (কাগুজে সনদের ডিজিটাল রূপ) CDBL (সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ), ব্রোকারের মাধ্যমে খোলা হয়। ১৬ সংখ্যার BO আইডি পাবেন
ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট শেয়ার কেনা-বেচার জন্য টাকা জমা রাখা ও অর্ডার দেওয়া আপনার ব্রোকারেজ হাউস
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্রোকারের কাছে টাকা পাঠানো ও মুনাফা বা ডিভিডেন্ড গ্রহণ আপনার ব্যাংক

BO অ্যাকাউন্ট খুলতে সাধারণত যা লাগে: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, পাসপোর্ট সাইজ ছবি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের চেকের পাতা বা স্টেটমেন্ট, আর নমিনির পরিচয়পত্র ও ছবি। অ্যাকাউন্ট একক বা যৌথ নামে হতে পারে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না থাকলে ঘরে বসেই খোলা যায়: সোনালী ই-সেবা ও ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন নিয়ে আমাদের গাইড আছে।

খরচের ব্যাপারে মনে রাখুন: অ্যাকাউন্ট খোলার ফি ব্রোকারভেদে আলাদা, আর CDBL-এর বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ ফি সময়ের সঙ্গে বদলেছে। বিভিন্ন ব্রোকারের প্রকাশিত তথ্যে এই অঙ্ক কয়েকশ টাকার মধ্যে দেখা যায়। খোলার আগে ব্রোকারের কাছ থেকে লিখিত ফি তালিকা চেয়ে নিন। কিছু ব্রোকার ট্যাক্স শনাক্তকরণ নম্বর (e-TIN) চায় না, কিছু চায়। e-TIN করার নিয়ম আগেই জেনে রাখলে ঝামেলা কমে।

ধাপ ৩: ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দিন

ব্রোকারের নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে হয়। ব্যাংক থেকে ব্যাংকে পাঠানোর পদ্ধতি বুঝতে BEFTN, RTGS ও NPSB-র নিয়ম দেখুন। একজনের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্যজনের নামে টাকা পাঠাবেন না, কারণ ব্রোকারকে আপনার নিজের নামের অ্যাকাউন্ট থেকেই টাকা নিতে হয়। টাকা জমা হয়ে ক্লিয়ার হওয়ার পর ট্রেডিং শুরু করা যায়।

ধাপ ৪: কোম্পানি যাচাই করে অর্ডার দিন

কোন কোম্পানি কিনবেন, সেটা ঠিক করতে নিচের সেকশনের হিসাব ব্যবহার করুন। সিদ্ধান্ত নিলে ব্রোকারের অ্যাপ বা ওয়েবে কোম্পানির কোড, কত শেয়ার ও কত দামে কিনবেন তা দিয়ে অর্ডার দিন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণত রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা ২:৩০টা পর্যন্ত লেনদেন চলে। সময়সূচি বদলাতে পারে, তাই এক্সচেঞ্জের সর্বশেষ বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।

ধাপ ৫: নিয়মিত পোর্টফোলিও যাচাই করুন

শেয়ার কেনার পর তা আপনার BO অ্যাকাউন্টে জমা হয়। নিয়মিত ব্রোকারের রিপোর্টের সঙ্গে CDBL-এর পাঠানো স্টেটমেন্ট মিলিয়ে দেখুন। ব্রোকারের নিজস্ব হিসাব ও CDBL-এর হিসাবে অমিল থাকলে সঙ্গে সঙ্গে ব্রোকারকে লিখিতভাবে জানান।

IPO ও সেকেন্ডারি মার্কেট: পার্থক্য ও ঝুঁকি

  • প্রাথমিক শেয়ার বা IPO: কোনো কোম্পানি প্রথমবার জনসাধারণের কাছে শেয়ার ছাড়লে তাতে আবেদন করা যায়। BO অ্যাকাউন্ট লাগে। বরাদ্দ লটারির মাধ্যমে হয় এবং ফলাফল BSEC-র সাইটের "IPO Lottery Result" অংশে পাওয়া যায়।
  • সেকেন্ডারি মার্কেট: কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর স্টক এক্সচেঞ্জে যে শেয়ার কেনাবেচা চলে।

একটা প্রচলিত ভুল ধারণা আছে যে প্রাথমিক শেয়ারে লোকসান নেই। এটা ঠিক নয়। তালিকাভুক্তির পর শেয়ারের দাম বাজারদরের ওপর ওঠানামা করে, আর IPO-র দামের নিচেও নামতে পারে। তাই IPO-তে আবেদন করার আগেও কোম্পানির ব্যবসা, আর্থিক অবস্থা ও প্রসপেক্টাস যাচাই করুন।

কোম্পানি বাছাইয়ের হিসাব

DSE-র ক্যাটাগরি দেখুন

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে কয়েকটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে। এটি বিনিয়োগের আগে কোম্পানির নিয়মকানুন মানার অবস্থা বোঝার একটা সূচক:

ক্যাটাগরি কী বোঝায়
A নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (AGM) করেছে এবং গত বছর অন্তত ১০% ডিভিডেন্ড দিয়েছে
B AGM নিয়মিত করেছে কিন্তু ১০% ডিভিডেন্ড দিতে পারেনি
G গ্রিনফিল্ড কোম্পানি, বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগেই তালিকাভুক্ত
N নতুন তালিকাভুক্ত কোম্পানি, পরে ডিভিডেন্ডের ভিত্তিতে ক্যাটাগরি বদলায়
Z AGM করেনি, ডিভিডেন্ড দেয়নি, ধারাবাহিকভাবে ৬ মাস উৎপাদন বন্ধ, বা সঞ্চিত লোকসান পরিশোধিত মূলধনের বেশি (ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি)

Z ক্যাটাগরির শেয়ারে DSE ব্রোকার ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোকে মার্জিন ঋণ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল, এমন খবরও দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে এসেছে। ক্যাটাগরির মানদণ্ড ও নিয়ম বদলাতে পারে, তাই সর্বশেষ নিয়ম DSE ও BSEC-র সাইট থেকে মিলিয়ে নিন। নতুনদের জন্য সাধারণত A ক্যাটাগরির কোম্পানি দিয়ে শুরু করাই বেশি নিরাপদ মনে করা হয়। তবে ক্যাটাগরি একা যথেষ্ট না, দামও দেখতে হয়।

কয়েকটি মূল হিসাব

  • EPS (শেয়ারপ্রতি আয়): কোম্পানির নিট মুনাফাকে মোট শেয়ার সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে পাওয়া যায়। ধারাবাহিকভাবে বাড়লে ভালো লক্ষণ, তবে এককভাবে এটা দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না।
  • P/E অনুপাত: শেয়ারের দাম আর EPS-এর অনুপাত। একই খাতের অন্য কোম্পানির সঙ্গে তুলনা করলে বোঝা যায়, শেয়ারটি দামি নাকি সস্তা।
  • NAV (শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য): কোম্পানির সম্পদের মূল্য শেয়ারপ্রতি কত। দাম NAV-এর তুলনায় অনেক বেশি হলে কারণ খুঁজে দেখুন।
  • ডিভিডেন্ডের ইতিহাস: গত কয়েক বছর নিয়মিত ডিভিডেন্ড দিয়েছে কিনা, আর তা ক্যাশ নাকি স্টক।
  • ঋণের বোঝা ও নগদ প্রবাহ: কোম্পানি ঋণে ডুবে আছে কিনা, ব্যবসা থেকে আসলে নগদ আসছে কিনা।
  • খাত ও ব্যবসার ধরন: কোম্পানি কী বানায় বা বেচে, তা আপনি বোঝেন কিনা।

এই তথ্য কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়। কোনো ব্যক্তির কথা বা সোশ্যাল মিডিয়ার "টিপস" দেখে শেয়ার কিনবেন না।

বিনিয়োগের কৌশল ও ভুল এড়ানো

  • একটি কোম্পানিতে সব টাকা নয়। কয়েকটি কোম্পানি ও কয়েকটি খাতে ভাগ করে বিনিয়োগ করলে একটি কোম্পানির পতনের ক্ষতি কমে। এটাকে ডাইভার্সিফিকেশন বলে।
  • রাতারাতি লাভের আশায় নয়। দিনের মধ্যে কেনাবেচা (ডে ট্রেডিং) অনেক নতুনের লোকসানের কারণ হয়। স্বল্পমেয়াদি ওঠানামা অনুমান করা কঠিন।
  • দাম বাড়ছে দেখে হুড়োহুড়ি করে কিনবেন না। উত্তেজনার সময় কিনলে সাধারণত চড়া দামে ঢুকে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
  • মার্জিন ঋণ নিয়ে সতর্ক থাকুন। ব্রোকার বা মার্চেন্ট ব্যাংক বিনিয়োগকারীকে কেনার জন্য ঋণ দিতে পারে, যাকে মার্জিন ঋণ বলে। দাম পড়লে ঋণের কারণে লোকসান বহুগুণ বাড়ে। নতুনদের জন্য এটা এড়ানোই নিরাপদ।
  • লোকসান নিয়ে ধৈর্য ও পরিকল্পনা। কোম্পানির শেয়ারের দাম কমলে আতঙ্কিত হয়ে বিক্রি না করে আগে কারণ বুঝুন। কোম্পানির ব্যবসা সত্যিই খারাপ হলে অপেক্ষা করাই সবসময় সমাধান নয়। কারণ যাচাই করে সিদ্ধান্ত নিন।
  • বিকল্প হিসেবে মিউচুয়াল ফান্ড। নিজে কোম্পানি বাছাইয়ে সময় না দিতে পারলে মিউচুয়াল ফান্ড একটি বিকল্প। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে মিউচুয়াল ফান্ডে করছাড়ের ৫ লাখ টাকার সীমা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ফান্ডেও ঝুঁকি আছে, তাই NAV ও ফান্ড ম্যানেজারের রেকর্ড দেখে নিন।

ডিভিডেন্ড ও করের নিয়ম (২০২৬)

শেয়ারে আয় মূলত দুই ভাবে আসে: দাম বাড়লে বিক্রি করে মূলধনী মুনাফা, আর কোম্পানি ডিভিডেন্ড দিলে সেই আয়।

  • ডিভিডেন্ডে কর: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থ বিল সংসদে পাস হওয়ার পর খুচরা বিনিয়োগকারীর ডিভিডেন্ড আয়ে কর হয়েছে ফ্ল্যাট ১৫%, যা চূড়ান্ত করদায় হিসেবে ধরা হবে। এটি জানিয়েছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। কর্পোরেট বিনিয়োগকারীর ক্ষেত্রে হার ২০%।
  • মূলধনী মুনাফা: তালিকাভুক্ত শেয়ার বিক্রির মুনাফার করের নিয়ম আলাদা এবং সীমা ও ছাড় সময়ে সময়ে বদলায়। চলতি নিয়ম জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) সর্বশেষ নির্দেশনা বা কর পরামর্শক থেকে জেনে নিন।
  • আয়কর রিটার্ন: শেয়ার থেকে আয় থাকলে রিটার্নে তা দেখাতে হতে পারে। করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (e-TIN) লাগবে। কর পরিশোধের অনলাইন পদ্ধতি দেখতে পারেন NBR ও সোনালী ব্যাংকের ই-পেমেন্ট পোর্টাল লেখায়।

কর নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে একজন কর পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলা ভালো, কারণ ব্যক্তিগত আয়ের ধরন অনুযায়ী হিসাব আলাদা হয়।

প্রতারণা থেকে সতর্কতা

  • "নিশ্চিত মুনাফা" দাবি করলেই সন্দেহ করুন। কোনো বৈধ বিনিয়োগেই মুনাফার নিশ্চয়তা নেই।
  • টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুক গ্রুপের "টিপস" থেকে সাবধান থাকুন। অনেক সময় দাম বাড়ানোর পর বিক্রি করে দেওয়ার ফাঁদ (পাম্প অ্যান্ড ডাম্প) এভাবে চলে।
  • কোনো ব্যক্তির কাছে টাকা বা BO তথ্য দেবেন না। টাকা শুধু নিবন্ধিত ব্রোকারের অফিসিয়াল অ্যাকাউন্টে, নিজের নামের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠান।
  • ব্রোকার ও DP নিবন্ধিত কিনা যাচাই করুন BSEC-র সাইটে।
  • ব্যাংক বা ব্রোকারের নামে আসা ফোন, এসএমএস বা লিংকে ওটিপি দেবেন না। প্রতারণার শিকার হলে করণীয় জানতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ে প্রতারণার শিকার হলে কী করবেন লেখাটি দেখুন।
  • ব্রোকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে BSEC-র "Investor's Information" অংশে "Format for Investor Complaint" ও অভিযোগ জমার ব্যবস্থা আছে।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ শুরু করতে কত টাকা লাগে?

এর কোনো সর্বজনীন ন্যূনতম পরিমাণ নেই। ব্রোকারভেদে অ্যাকাউন্ট খোলার ও ট্রেডিং শুরু করার শর্ত আলাদা। শুরুতে কম অঙ্ক দিয়ে ঝুঁকি বুঝে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

BO অ্যাকাউন্ট ছাড়া কি শেয়ার কেনা যায়?

না। তালিকাভুক্ত শেয়ার কিনতে BO অ্যাকাউন্ট ও ব্রোকারের ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দুটোই লাগে। BO অ্যাকাউন্ট সরাসরি CDBL থেকে নয়, ব্রোকার বা ডিপোজিটরি পার্টিসিপেন্টের মাধ্যমে খুলতে হয়।

প্রাথমিক শেয়ারে (IPO) কি কোনো লোকসান হয় না?

হয়। IPO-তে বরাদ্দ পাওয়া শেয়ারও তালিকাভুক্তির পর দাম পড়ে গেলে লোকসান হতে পারে। তাই IPO-র আগেও কোম্পানির আর্থিক অবস্থা যাচাই করুন।

শেয়ারে বিনিয়োগ করলে কি নিশ্চিত মুনাফা হয়?

না। শেয়ারের দাম বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। কোম্পানি ডিভিডেন্ড না দিলে বা ব্যবসা খারাপ হলে বিনিয়োগের মূল্য কমে যেতে পারে। BSEC-ও বিনিয়োগকারীদের জেনে ও বুঝে বিনিয়োগ করার কথা বলে।

ডিভিডেন্ডে কত কর দিতে হয়?

২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থ আইন অনুযায়ী খুচরা বিনিয়োগকারীর ডিভিডেন্ড আয়ে ফ্ল্যাট ১৫% কর ধরা হয়েছে, যা চূড়ান্ত করদায়। কর্পোরেট বিনিয়োগকারীর হার ২০%। সর্বশেষ নিয়ম NBR থেকে মিলিয়ে নিন।

উপসংহার

শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করতে হলে নিবন্ধিত ব্রোকার বেছে BO ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট খুলুন, কোম্পানির আর্থিক অবস্থা যাচাই করে ভাগ করে বিনিয়োগ করুন, আর ঋণ নিয়ে বা গুজবে বিশ্বাস করে ঝুঁকি বাড়াবেন না। মুনাফার চেয়ে মূলধন রক্ষাকে আগে রাখলে টিকে থাকা সহজ হয়। শেয়ার বাজার নিয়ে আপনার প্রশ্ন বা অভিজ্ঞতা থাকলে কমেন্টে জানান।

ডিসক্লেইমার: Home BD Info কোনো লাইসেন্সপ্রাপ্ত বিনিয়োগ উপদেষ্টা, ব্রোকার বা কর পরামর্শক নয়। এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য, বিনিয়োগ বা কর পরামর্শ নয়। কোনো শেয়ার কেনা বা বিক্রির সুপারিশ করা হচ্ছে না। বিনিয়োগে মূলধন হারানোর ঝুঁকি আছে। নিয়ম, ফি ও করের হার বদলাতে পারে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে BSEC, স্টক এক্সচেঞ্জ ও নিবন্ধিত পেশাদারের কাছ থেকে যাচাই করে নিন। সর্বশেষ হালনাগাদ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬।

তথ্যসূত্র

এই লেখার তথ্য ২৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নিচের সূত্র থেকে মিলিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এই লেখা সাধারণ তথ্যের জন্য। সরকারি নিয়ম, ফি ও সেবা বদলাতে পারে; স্বাস্থ্য বা আইনি বিষয়ে সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা অফিসিয়াল সূত্রে যাচাই করে নিন।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.