টুনির গল্প (গর্ভধারণী একজন মা) পর্ব-১

ভালবাসার গল্প
মা বাবা আজ অনেক অনেক খুশি। পরিবারে সবার মাঝে আনন্দ বিরাজ করছে। তারা যখন খুশি থাকে তখন সবাই আনন্দ পায়। দাদা-দাদি ও বাবা-মা সবাই গর্ব করে আলোচনা করছেন। সকল বাবা মা খুশি হয়, গর্ববোধ করে, আনন্দ পায়, আপ্লিত হয়, প্রশান্তিতে তাদের মন ভরে উঠে, বক্ষ প্রশস্থ হয়, যখন সন্তান কোন ভাল কাজ করে ফেলে।

দুই বৎসর পূর্ণ হতে এখনো দুই মাস বাকি। এত ছোট বয়সে স্পষ্ট করে কথা বলতে পারা সবার ভাগ্যে জুটে না। সৃষ্টিকর্তার বিশেষ অনুগ্রহ ছাড়া এটা সম্ভব নয়। এটার জন্য মা বাবার বিষেশ অবদান রয়েছে। মা যখন তাকে গর্ভধারণ করেছে, আল্লাহর হুকুমের বাহিরে কোন কাজ তিনি করেননি। কোন বেগানা পরুষ তাকে দৃষ্টিপাত করতে পারে নাই। তিনিও কোন পর পরুষের দিগে কু নজরে দৃষ্টিপাত করেননি। তিনি পালন করতেন পবিত্র কুরআনের নিম্ন আয়াতখানি- সূরা নুর আয়াত নং-৩১ঃ

وَقُل لِلمُؤمِنٰتِ يَغضُضنَ مِن أَبصٰرِهِنَّ وَيَحفَظنَ فُروجَهُنَّ وَلا يُبدينَ زينَتَهُنَّ إِلّا ما ظَهَرَ مِنها ۖ وَليَضرِبنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلىٰ جُيوبِهِنَّ ۖ وَلا يُبدينَ زينَتَهُنَّ إِلّا لِبُعولَتِهِنَّ أَو ءابائِهِنَّ أَو ءاباءِ بُعولَتِهِنَّ أَو أَبنائِهِنَّ أَو أَبناءِ بُعولَتِهِنَّ أَو إِخوٰنِهِنَّ أَو بَنى إِخوٰنِهِنَّ أَو بَنى أَخَوٰتِهِنَّ أَو نِسائِهِنَّ أَو ما مَلَكَت أَيمٰنُهُنَّ أَوِ التّٰبِعينَ غَيرِ أُولِى الإِربَةِ مِنَ الرِّجالِ أَوِ الطِّفلِ الَّذينَ لَم يَظهَروا عَلىٰ عَورٰتِ النِّساءِ ۖ وَلا يَضرِبنَ بِأَرجُلِهِنَّ لِيُعلَمَ ما يُخفينَ مِن زينَتِهِنَّ ۚ وَتوبوا إِلَى اللَّهِ جَميعًا أَيُّهَ المُؤمِنونَ لَعَلَّكُم تُفلِحونَ

অর্থঃ (হে নবি ঈমানদার নারীদেরকে) বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

And tell the believing women to lower their gaze (from looking at forbidden things), and protect their private parts (from illegal sexual acts) and not to show off their adornment except only that which is apparent (like both eyes for necessity to see the way or outer dress like veil, gloves, head-cover, apron, etc.), and to draw their veils all over Juyubihinna (i.e. their bodies, faces, necks and bosoms,) and not to reveal their adornment except to their husbands, or their fathers, or their husband's fathers, or their sons, or their husband's sons, or their brothers or their brother's sons, or their sister's sons, or their (Muslim) women (i.e. their sisters in Islâm), or the (female) slaves whom their right hands possess, or old male servants who lack vigour, or small children who have no sense of the feminine sex. And let them not stamp their feet so as to reveal what they hide of their adornment. And all of you beg Allâh to forgive you all, O believers, that you may be successful

গর্ভধারণী একজন মা যখন জীবন পরিচালনার জন্য পবিত্র কুরআন অনুসরণ করেন, আল্লাহ তায়ালা বিষেশ অনুগ্রহ তার গর্ভে দান করেন। সেই সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মা বাবার মুখ উজ্জল করেন। তাদের মন প্রশান্তিতে ভরপুর করেন। সমাজে নিজ বংশের গৌরব প্রতিষ্ঠা করেন। লোকজন তাকে এবং তার মা বাবার জন্য দুয়া করেন। মা বাবার জন্য এর চেয়ে বড় নিয়ামত আর কি হতে পারে? এরকম মা হওয়াও সৌভাগ্যের ব্যাপার। সকল ময়েরা সন্তান জম্ম দিতে পারলেও আল্লাহর বিষেশ অনুগ্রহ লাভ করতে পারেন না। একমাত্র চরিত্রবান ও যাদের অন্তর আল্লাহর ভয়ে প্রকম্পিত হয় সেই সকল মায়েরাই শুধু আল্লাহর দেওয়া এই বিষেশ অনুগ্রহ লাভ করতে পারেন।

মা বাবা কন্যা সন্তানের নাম রেখেছেন নাইমা। দাদু তাকে ভীষণভাবে আদর স্নেহ করতেন এবং টুনি মা বলে ডাকতেন। দাদুর দেখা দেখি পরিবারের সবাই তাকে আদর করে টুনি বলে কোলে নিয়ে সোহাগ নিতেন। বাবা-মা, দাদা-দাদি সবাই টুনিকে ভীষণ রকমের আদর স্নেহ করতেন। টুনির বয়স এখন দুই বৎসরের কম। কথা বলতে ও হাটতে পারার শিক্ষানবিশ সময় তার চলছে।

মা নিয়মিত ঘুম থেকে ভোরে উঠে তাহাজ্জুত নামাজ পড়ে নিজের ভুলভ্রান্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চান। আল্লাহর কাছেও আকুতি মিনতি করে প্রার্থনা করেন। বাবাও নিয়মিত তাহাজ্জুত নামাজ পড়তেন। মায়ের ভাল একটি অভ্যাস ছিল। তিনি ফজরের নামাজ পড়ে প্রতিদিন নিম্নস্বরে কুরআন তেলোয়াত করতেন। কুরাআন তেলোয়াত শুনে ছোট টুনি পাশে বসে মায়ের মুখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে শ্রবন করতেন। মায়ের নামায পড়া দেখে তাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করে টুনি। যে বয়সে দুষ্টামি করার কথা; নামাযে ঘারে/মাথায় উঠে খেলা করার কথা; স্থির দাড়িয়ে মা যখন নামাযরত থাকেন তখন কোলে উঠার জন্য কান্না করা কিংবা তাকে ধরে টানাটানি/খেল তামসা ইত্যাদি করার কথা ছিল কিন্তু সেই বয়সে টুনি মাকে অনুসরন করে নামায পড়ার চেষ্টা করছে।

এত ছোট বয়সে স্পষ্ট করে সব কথা বলতে পারায় পরিবারের সবাই টুনিকে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারীনি মনে করেন। সেই ধারণা আজকে বাস্তবে পরিণত হলো। প্রতিটা শিশুই প্রথম কথা বলা থেকে শুরু করে প্রাথমিক জ্ঞান মায়ের কাছ থেকেই লাভ করে। এ জন্য প্রতিটা মাকে যত্নশীল হওয়া অত্যান্ত জরুরি। কোন মা যদি পরকিয়া কিংবা অন্য কোন অপরাধে জড়িয়ে পড়েন তাহলে তার গর্ভের সন্তান কোনভাবেই ভাল মানুষ হতে পারবে না। পৃথিবীতে যত বিখ্যাত মানুষ এসেছেন তাদের সবার মা ছিল অত্যান্ত ভাল মানুষ এবং পর্দানশীন।

পর্দানশীন সেই মহিলাকে বলা হয়, যে মহিলাকে কেউ কু-নজরে তাকাতে পারেনি এবং তিনিও কোন পর পরুষকে কু নজরে দেখেননি। মায়েরা যাতে ভাল মানুষ গর্বধারণ করতে পারেন সে জন্য আল্লাহ তায়ালা তাদের উপর পর্দা ফরজ করেছেন। ভাল মানুষ পৃথিবীতে আসার একমাত্র রাস্তা হচ্ছে পর্দানশীন মা। এ ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। এজন্য মায়েদের যত্নশীল হওয়া অত্যান্ত জরুরি।

অনেক মা এমন রয়েছেন যারা হতাশাগ্রস্থ । তারা ভাবেন বিয়ের আগে বা পরে যত অপকর্ম করেছি আল্লাহ তা কোন দিন ক্ষমা করে দিবেন না। আবার অনেকে এমনও ধারণা করেন যে, অবৈধ শারিরিক সম্পর্ক করে বিয়ে হয়েছে, বিবাহ অবৈধভাবে হয়েছে কিংবা নানা ধরনের অপকর্ম করে তারা নিরাশ হয়ে যাচ্ছেন। সন্তানও তাদের ভাল হবে না। তারা চোর, ডাকাত, গুন্ডা-পান্ডা, চাঁদাবাজ-টেন্ডারবাজ, মদ-মাতাল, নেশাখোর বদমাইস ইত্যাদি হবে।

এই রকম ধারণা করা মারাত্মক ভুল। ইসলামে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কেউ যদি আকাশ পরিমান পাপ কাজ করে ফেলে এবং এই পাপের কথা চিন্তা করে অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে তওবা করে। জীবনে আর কোন দিন পাপ কাজ না করার ওয়াদা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইলে আল্লাহ তায়ালা খুশি হয়ে বান্দাকে ক্ষমা করে দেন। তিনি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন -

۞ قُل يٰعِبادِىَ الَّذينَ أَسرَفوا عَلىٰ أَنفُسِهِم لا تَقنَطوا مِن رَحمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغفِرُ الذُّنوبَ جَميعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الغَفورُ الرَّحيمُ

অর্থঃ বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে কখনোই নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

Say: "O 'Ibâdî (My slaves) who have transgressed against themselves (by committing evil deeds and sins)! Despair not of the Mercy of Allâh, verily Allâh forgives all sins. Truly, He is Oft-Forgiving, Most Merciful

আয়াতটি পড়ে মনে হচ্ছে, আমার জন্যই নাযিল করা হয়েছে। আমি যখন পৃথিবী ভর্তি পাপের বুঝা মাথায় নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছি। কিভাবে আমার অপকর্মের ক্ষমা পাব সেই চিন্তায় অস্থির হয়ে পড়ছি। ঠিক সেই মূহুর্তে যেন আল্লাহ আমাকে বলছেন তুম সকল অপকর্ম ছেড়ে দিয়ে আমার কাছে আস; আমি তোমার সকল গোনাহ মাফ করে দিব।

কোন মন্তব্য নেই:

Blogger দ্বারা পরিচালিত.